রাজনীতি
গাবতলী বিএনপির সদস্য থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে তারেক রহমান
অবেশেষে দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর নির্বাসন থেকে দেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুল আলোচিত-সমালোচিত এবং চর্চিত ওয়ান ইলেভেন বা ১/১১‘র সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের বিশেষ সরকারের সময় তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান ক্যান্টনমেন্টের শহীদ মঈনুল রোডের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন।
গ্রেফতারের সময় তারেক ছিলেন সুস্থ ও স্বাভাবিক ৪২ বছরের একজন তারুণ্যদীপ্ত যুবক। কিন্তু কারাগারে যাওয়ার পর তাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠে। আটকের পর একে একে তার নামে বিভিন্ন অভিযোগে ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। সেই সব মামলায় রিমান্ডে নিয়ে তাকে নির্যাতন করা হয় বলে আদালতে অভিযোগ করেন তার আইনজীবী ও তৎকালীন বিএনপির মহাসচিব প্রয়াত খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। এরপর এ্যাম্বুলেন্স ও ট্রেচারে করেও তাকে বিভিন্ন মামলায় আদালতে উপস্থাপন করা হত।
অবশেষে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আদালত তাকে জামিন দেয়। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও একমাত্র কন্যা জায়মা রহমানকে নিয়ে তিনি চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডন চলে যান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে না গেলেও তখনকার সেনা নেতৃত্বের সঙ্গে এক ধরনের সমঝোতার মাধ্যমেই তারেক রহমান মুক্তি পেয়েছিলেন বলে প্রচার রয়েছে।
সেই থেকে তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর যাবত তারেক রহমান লন্ডনে ILR ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (স্থায়ীভাবে বসবাস করার বৈধ অনুমতি) স্ট্যাটাসে বসবাস করেন। অবশেষে ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর দেশের মাটিতে ফিরলেন দেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র আগামীর নেতৃত্ব তারেক রহমান।
১৯৮৮ সালে তারেক রহমান পিতৃজেলা বগুড়ার গাবতলী উপজেলা সদস্য হিসেবে নিজেকে পিতা দেশের সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া রাজনৈতিক দল বিএনপির রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এরপর কয়েক বছরের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের পদ গ্রহণ করে দলীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখেন।
লন্ডনে দীর্ঘবছর নির্বাসিত থাকার পর তারেক রহমানের শেষ পর্যন্ত দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে তাকে ঘিরে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে তৈরি হওয়া উদ্বেগের অবসান ঘটল।
তার দেশে ফেরার বাধা হিসেবে বিএনপি অনেক আগে থেকেই আওয়ামী লীগ সরকারকে বাধা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি দেশে ফিরলেন সেই আওয়ামী সরকারের পতনেরও পনেরো মাস পর।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমান তার দেশে ফেরার বিষয়ে নিজেই যে উদ্বেগ তৈরি করেছিলেন, তার অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরাটা তার দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের কাছে অনেকটা ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো’, যা দলের জন্য স্বস্তি বয়ে নিয়ে এসেছে বলে মনে করেন তারা।
তারেকের দেশে ফেরার মাধ্যমে সাবেক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দলটি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংগঠিত ও জনপ্রিয় হওয়ার পর আবার একটি সমস্যা-সঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়ে তাদের জ্যেষ্ঠ সন্তানের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার সময়ে পদার্পণ করলো।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দলকে নেতৃত্ব দেবেন। তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০শে নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষে করে আশির দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু তিনি সেখানে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন কি-না সেই সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিএনপির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মায়ের সাথে রাজপথের আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন এবং ওই সময় ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির গাবতলী উপজেলা ইউনিটের সদস্য হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিক বিএনপিতে সক্রিয় হন।
বিএনপির রাজনীতিতে তারেক রহমান সক্রিয়তার পাশাপাশি জোরালো প্রভাব শুরু হয় ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয়ী হয় এবং সরকার গঠন করে। পরে ২০০২ সালের ২২শে জুন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ তৈরি করে তাকে ওই পদে অধিষ্ঠিত করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে হাওয়া ভবন নেয়া হয়েছিলো নির্বাচনী অফিস হিসেবে ব্যবহার করে প্রচার প্রচারণা চালানো ও নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কাজ করার জন্য, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তারেক রহমান। নির্বাচনে জয়লাভের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার হলো। কিন্তু হাওয়া ভবন থেকে গেলো এবং এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলো। এরপর ওয়ান ইলেভেনের পর গ্রেফতার, নির্যাতন ও কারাভোগ শেষে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হলো।
অবশ্য দলীয় রাজনীতিতে প্রভাববিস্তারের পাশাপাশি তারেক রহমান বিএনপির সংগঠন গোছানোর কাজে আত্মনিয়োগ করেন এবং দলের তৃণমূলে ব্যাপক যোগাযোগ তৈরি করেন। এরপর ২০০৯ সালে দলের সম্মেলনে তাকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পরপরই তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করে বিএনপি।
বিএনপির রাজনীতিতে এটা পরিষ্কার যে, মা খালেদা জিয়ার পর তারেক রহমানই হবেন দলের পরবর্তি চেয়ারম্যান।
এমকে
রাজনীতি
চ্যালেঞ্জ বিশাল হলেও জয়ের ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী
জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনে সবার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ বড় হলেও নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের অবসানের পর দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারেক রহমান।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করা দরকার, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে। নির্বাচিত হলে দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা মোকাবিলা করাও তাদের অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে থাকবে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, মেগা প্রকল্পের নামে আমরা মেগা দুর্নীতি দেখেছি। অল্প কিছু ব্যক্তি ধনী হয়েছে, কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ কিছুই পায়নি।
অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকার। ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেলে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চেয়ে ভালো করার চেষ্টা করবেন বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান।
ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করেছে।
বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা আশা করি, জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব— একটি বড় ম্যান্ডেট। তিনি আরও বলেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন তারা নিজেরাই পাবে বলে আশা করছেন; নতুন কোনো জোটের প্রয়োজন দেখছেন না।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও দেশের স্বার্থই সবার আগে বিবেচনায় থাকবে।
এ ছাড়া আইন করে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন বলে জানান তারেক রহমান। তবে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করার পক্ষে মত দেন তিনি।
এমএন
রাজনীতি
নন্দীগ্রামে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: নেতার চোখ হারানোর খবরে মায়ের মৃত্যু
ভোটের মাঠের উত্তেজনা এবার রূপ নিল চরম সহিংসতায়। বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার একটি চোখ হারানোর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা হাজেরা বেগম (৭০)।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এর আগে সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নন্দীগ্রামে উপজেলার পারশুন গ্রামে ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করে বিএনপির কর্মীরা। পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করে। এতে মাসুদ রানা গুরুতর আহত হন এবং তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।তবে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের জামায়াত-বিএনপি প্রার্থী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া প্রেসক্লাবে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আহত মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম জানান, হামলার ঘটনার পর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাবার চোখ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ওই চোখটি ভালো করা যাবে না এমন আশঙ্কার কথা বলেন। এই খবরটি জানার পর দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। গতকাল রাত ৯টায় গ্রামের বাড়িতে দাদীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তার বাবা মাসুদ রানাকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে করা সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল মজিদসহ দুইজনকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আটক করেন। একে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। আবদুল মজিদ আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে জামায়াতের হয়ে কাজ করছেন। গত রাতে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী নিয়ে তিনি পারশুন গ্রামে এক ভোটারের বাড়িতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে টাকা বিতরণ করতে গিয়েছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি কর্মীরা দুজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশকে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে শত শত জামায়াত সমর্থক সেখানে পৌঁছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালান। তারা ভাঙচুর করেন এবং মজিদসহ দুইজনকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মাসুদকে মারধর করেন, তার একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলেন এবং তার ভাইকেও মারধর করেছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের এক ঘণ্টা পর বিকেল ৪টায় প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল বলেন, নন্দীগ্রামে দুটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। জুলাই যোদ্ধা আসাদুল্লাহ আল গালিব ও আমাদের কর্মী ফারুকসহ কয়েকজনের ওপর হামলা এবং আমাদের লোকজনদের আটকে রাখা।
ফয়সালের দাবি, গণভোট প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি কর্মীরা গালিবের ওপর হামলা করেন।
এছাড়া ফারুকসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালান বিএনপি নেতা মাসুদ রানা ও তার ভাই রবিউল ইসলাম। আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিএনপি নেতার একটি বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
এমএন
রাজনীতি
ইসলামী ব্যাংকের সন্দেহভাজন লেনদেন, ভোট কেনার অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে নাটোরে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থের ‘সন্দেহভাজন’ লেনদেন এবং তা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এই অভিযোগ তোলেন।
মঙ্গলবার (১০ই ফেব্রুয়ারী) পুরে নাটোর শহরের আলাইপুরে নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে দুলু বলেন, নাটোর সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় ইসলামী ব্যাংকের নামে একটি অ্যাকাউন্টে ঢাকা থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে।নাটোর সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় অতীতে এ ধরনের বড় অঙ্কের লেনদেনের নজির নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
ভোটের ঠিক একদিন আগে হঠাৎ করে এমন লেনদেন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, তার আশঙ্কা—এই অর্থ দিয়ে জামায়াতের প্রার্থীরা ভোট কেনাবেচায় ব্যবহার হতে পারে। এ কারণে তিনি ভোটের আগে ওই অর্থ লেনদেন বন্ধ এবং বিষয়টি তদন্তের দাবিতে নাটোরের রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে নাটোর ইসলামী ব্যাংকের এক এভিপি বলেন, ৪ কোটি টাকা লেনদেন তাদের ব্যাংকের জন্য বড় কোনো বিষয় নয়। ভোটের সময় ব্যাংক বন্ধ থাকায় এটিএম বুথ সচল রাখার জন্য এই অর্থ উত্তোলনের প্রয়োজন হয়েছে বলে জানান তিনি। এ লেনদেনকে সন্দেহভাজন মনে করার কোনো কারণ নেই বলেও দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।
এদিকে নাটোর সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার এজিএম উজ্জ্বল কুমার জানান, লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সন্দেহভাজন লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ম্যানেজারকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এমএন
রাজনীতি
নাহিদ-আখতারসহ এনসিপির শীর্ষ নেতারা যেসব কেন্দ্রে ভোট দিবেন
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা কোন কেন্দ্রে ভোট দেবেন, তা নিশ্চিত করেছে দলটির মিডিয়া সেল। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলটির মিডিয়া সেল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এদিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনিসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডা থানার বেরাইদ এলাকার ১৬২. এ.কে.এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিবেন। এছাড়া সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনের কাউনিয়া উপজেলার টেপা মধুপুর এলাকার ভায়েরহাট সেন্টারে তার মাকে নিয়ে ভোট দিবেন।
এছাড়া এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা-১০ আসনের নিউমার্কেট এলাকায় গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল কেন্দ্রে, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সার্জিস আলম পঞ্চগড়-২ আসেনর মনকুমার রাখালদেবীহাট হাইস্কুল কেন্দ্রে, দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ কুমিল্লা-৪ আসনের ৩ নং রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোট দিবেন।
নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী সারোয়ার তুষার ঘোড়াশাল পাইলট স্কুল কেন্দ্রে, নোয়াখালী-৬ আসনের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসুদ হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর শহীদ আলী আহমেদ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে, ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী জাভেদ রাসিন দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭১ নং ওয়ার্ডের মারকাজুল উলুম মাদ্রাসায় ভোট দিবেন।
এমএন
রাজনীতি
জামায়াত নেতা শফিকুর রহমান: যার সঙ্গে সবাই এখন দেখা করতে চায়
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। যে জামায়াতে ইসলামী ও তার শীর্ষ নেতাদের কিছুদিন আগেও দেশি অভিজাত শ্রেণি ও বিদেশি কূটনীতিকরা এড়িয়ে চলতেন, এখন তারাই দলটির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে ভিড় করছেন। গত বুধবার দলের আমির শফিকুর রহমান একটি উচ্চাভিলাষী নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইশতেহারে মূল প্রতিশ্রুতি ছিল—দল ক্ষমতায় এলে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ২ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ভিত্তি তৈরি করা। রাজনীতিক ও কূটনীতিকদের সামনে দেওয়া বক্তব্যে ৬৭ বছর বয়সী শফিকুর রহমান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ইশতেহারে স্লোগান বেশি, বিশদ পরিকল্পনা কম। বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বের কাছে ইশতেহার আর্থিক হিসাবের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার বিষয়েই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতকে এমন একটি দল হিসেবে তুলে ধরেছেন, যারা ধর্মীয় মতাদর্শে এতটাই আবদ্ধ যে, একটি তরুণ, বৈচিত্র্যময় ও আধুনিক সমাজ পরিচালনায় তারা অক্ষম। কিন্তু নতুন ইশতেহারদলটিতে এমন একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছে, যারা ধর্মীয় পরিচয় ও আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার মধ্যে কোনও বিরোধ দেখছে না।
দলটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ব্যক্তিদের তালিকাও ছিল সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, অভিজাত শ্রেণি ও বিদেশি কূটনীতিকরা তাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে যোগাযোগ এড়িয়ে চলতেন, কিংবা গোপনে সীমিত যোগাযোগ রাখতেন। এখন তাদের সঙ্গে সে যোগাযোগ প্রকাশ্যেই হচ্ছে।
গত কয়েক মাসে ইউরোপীয়, পশ্চিমা এমনকি ভারতীয় কূটনীতিকরাও ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক সময় যে নেতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায় ‘অস্পৃশ্য’ মনে করা হতো, সে নেতার সঙ্গেই এখন সবাই কথা বলতে চাইছেন। যে নেতার দল দুইবার নিষিদ্ধ হয়েছিল, সবশেষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের সময়—তার সামনে আসন্ন নির্বাচন এমন একটি প্রশ্ন আসছে, যা এক বছর আগেও কেউ উচ্চারণ করতে সাহস করতেন না। আর তা হলো, শফিকুর রহমান কি বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন?
‘মানুষের জন্য লড়ব’
জামায়াতে ইসলামী ও দলের শীর্ষ নেতার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির এ পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে তৈরি হওয়া শূন্যতা। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটায়নি, বরং দেশের রাজনৈতিক কাঠামোকেই নাড়িয়ে দেয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দীর্ঘদিনের দ্বিমুখী রাজনীতির কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ে।
আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠ থেকে কার্যত উধাও হয়ে গেছে। বিএনপি একমাত্র বড় দল হিসেবে টিকে থাকায় অনেকেই ভেবেছিলেন ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) সে শূন্যতা পূরণ করবে। বাস্তবে সে জায়গা দখল করে নিয়েছে দীর্ঘদিন কোনঠাসা হয়ে থাকা জামায়াত।
নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত এখন দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তির একটি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিছু জরিপে দলটি বিএনপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। এ রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান, বলছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
শফিকুর রহমান ২০১৯ সালে জামায়াতের নেতৃত্বে আসেন, তখন দলটি নিষিদ্ধ ছিল। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে মধ্যরাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ‘জঙ্গিবাদে সহায়তার’ অভিযোগে। ১৫ মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। ২০২৫ সালের মার্চে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মামলার আসামির তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।
এরপর থেকেই আবেগঘন কিন্তু হিসেবি জনসমাবেশে শফিকুর রহমান ব্যাপক আলোচনায় আসেন। গত জুলাইয়ে ঢাকার এক বিশাল সমাবেশে তীব্র গরমে দুবার মঞ্চে অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষা করে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আল্লাহ যতদিন হায়াৎ দেবেন, ততদিন আমি মানুষের জন্য লড়ব। জামায়াত ক্ষমতায় এলে আমরা মালিক নয়, খাদেম হব। কোনও মন্ত্রী প্লট নেবে না, করমুক্ত গাড়ি নেবে না। চাঁদাবাজি হবে না, দুর্নীতি হবে না। তরুণদের স্পষ্ট করে বলতে চাই—আমরা তোমাদের সঙ্গেই আছি।’
জামায়াতের ভাবমূর্তি গড়ার চেষ্টা
সমর্থকদের কাছে শফিকুর রহমান একজন সহজপ্রাপ্য, নৈতিকতায় দৃঢ় নেতা—যিনি ঘরে থাকার চেয়ে বাইরে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পছন্দ করেন। টানা তৃতীয় মেয়াদে দলের আমির হিসেবে তিনি জামায়াতের ভেতরে দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে এখন তার চ্যালেঞ্জ শুধু নির্বাচন নয়, ভাবমূর্তি রক্ষারও।
দলে নতুন সমর্থকদের টানতে গিয়ে তিনি জামায়াতকে ধর্মীয় দল থেকে ‘সুশাসন, শৃঙ্খলা ও পরিবর্তনের বাহন’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। এ পরিবর্তন কতটা বাস্তব আর কতটা কৌশলগত—সেটাই ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ পুনর্গঠনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ১৯৭১ সালের ভূমিকা। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ও পরবর্তী যুদ্ধাপরাধ বিচারের বিষয়টি আজও দলটির পিছু ছাড়েনি।
ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক সময়ে ‘অতীতের ভুল’ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন, তবে নির্দিষ্ট করে দায় স্বীকারের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। দলটির সমর্থকদের মতে, এটি রাজনৈতিক বাস্তবতা, আর সমালোচকদের মতে এটি ইচ্ছাকৃত অস্পষ্টতা।
নারী নেতৃত্ব
জামায়াতের সীমাবদ্ধতা সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে নারী নেতৃত্ব প্রসঙ্গে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারীর পক্ষে দলের শীর্ষ পদে থাকা সম্ভব নয়। আল্লাহ সবাইকে আলাদা স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একজন পুরুষ সন্তান জন্ম দিতে বা বুকের দুধ খাওয়াতে পারে না। শারীরিক সীমাবদ্ধতা আছে।
তার এই বক্তব্য নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নারীদের অগ্রণী ভূমিকার পর এমন অবস্থান জামায়াতের জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, এটি নতুন কিছু নয়—জামায়াত কখনও সাধারণ আসনে নারী প্রার্থী দেয়নি।
‘দাদু’ শফিকুর
তরুণ সমর্থকদের কাছে এসব বিতর্কের চেয়ে বড় হয়ে উঠেছেন শফিকুর রহমান নিজেই। প্রচারণায় তরুণদের অনেকেই তাকে ডাকছেন ‘দাদু’ বলে। চট্টগ্রামে আইনের এক তরুণ শিক্ষার্থী বলেন, ‘তিনি আমাদের সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলেন। অন্য নেতারা তরুণদের তুচ্ছ করেন, কিন্তু শফিকুর রহমান তা করেন না।’
সামনে কী অপেক্ষা করছে?
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু প্রার্থী দিয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগও বাড়িয়েছে। ভারতীয় হাইকমিশনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েছে। সবমিলিয়ে, নির্বাচনে জিতুক বা হারুক—বাংলাদেশের রাজনীতিতে ডা. শফিকুর রহমান এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।
রাজনৈতিক ইতিহাসবিদ মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, ‘তার রাজনৈতিক দর্শন এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, কিন্তু দলের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ নিঃসন্দেহে দৃঢ়।’
এমএন



