জাতীয়
১৬ পৃষ্ঠার বই ৫০০ টাকায় কিনতে সরকারের নির্দেশ
মাত্র ১৬ পৃষ্ঠার বই, ‘জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান স্মৃতিস্মারক’। শুভেচ্ছা মূল্য ৫০০ টাকা। প্রকাশ না হলেও বইটির প্রচার-প্রসারে নির্দেশ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। এরপর এটি কিনতে সরকারি কর্মকর্তারা আদাজল খেয়ে নেমেছেন। অর্থ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা দপ্তর– সবখানে বইটি কেনার অনুরোধে চলছে চিঠি চালাচালি।
মজার ব্যাপার, বইটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘জুলাই চেতনা পাবলিকেশন’। এটির কর্ণধার আশরাফুল আলম। জুলাই চেতনা পাবলিকেশনের অফিস পর্যন্ত নেই। সরকারি দপ্তরের নিবন্ধনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বইটি এখনো প্রকাশ হয়নি বলে স্বীকার করেন জুলাই চেতনা পাবলিকেশনের কর্ণধার আশরাফুল আলম। প্রকাশের আগেই কিনতে সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৮৪৪ শহীদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো একটি সামাজিক দায়িত্ব। সরকার একা সব কাজ করতে পারবে না। এজন্য আমরা সহযোগী হিসেবে কাজ করছি।’
আইনি বৈধতা ছাড়া এভাবে ভুঁইফোঁড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান খুলে বই বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে আশরাফুল রেগে যান। প্রতিবেদক জুলাইয়ের চেতনা ধারণ (ওন) করেন কিনা প্রশ্ন ছুড়ে তিনি বলেন, ‘শহীদদের প্রতি হৃদয় থেকে আবেগ থাকলে ছাপানোর আগেই উদ্যোগ নেওয়া যায়।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগের আমলে এমন চিত্র ছিল বেশ চেনা। বইয়ের পাতায় শেখ মুজিবুর রহমান বা তাঁর পরিবারের কেউ থাকলেই সরকারি দপ্তরে সেটি কেনার হিড়িক পড়ত। মান বা দাম দেখা হতো না। রাষ্ট্রীয় অর্থে অনেক ভুঁইফোঁড় প্রকাশনী রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের পরে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এমনটি কাম্য নয়।
কথাসাহিত্যিক জিয়া হাশান বলেন, দুঃখজনক হলো, আওয়ামী আমলের মতোই জুলাই নিয়ে বাণিজ্য শুরু হয়েছে। বাজারেই আসেনি, সেই বই কীভাবে মন্ত্রণালয় কেনার নির্দেশ দেয়?
অপ্রকাশিত বই কিনতে সরকারি তোড়জোড়
সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছে একটি ‘অত্যন্ত জরুরি’ চিঠি। তার বিষয় হিসেবে লেখা, ‘জুলাই ২০২৪ গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতিস্মারক’ নামের একটি বিশেষ বই কেনা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদ স্বীকার করেছেন, তিনি অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বইটি কেনার জন্য চিঠি দিয়েছেন। তবে কাজী শরীফ বইটি দেখেছেন কিনা, কত কপি কিনতে বলেছেন– প্রশ্নে উত্তর না দিয়ে কল কেটে দেন। একাধিকবার কল করলেও রিসিভ হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সারমিন সুলতানা এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির যুগ্ম পরিচালক ফরিদুল হকের সই করা পৃথক চিঠিতে বইটি কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে অদৃশ্য বই কেনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বেশ কয়েকবার ফোন দিলেও দুজনের কেউই রিসিভ করেননি।
অবশ্য জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো প্রস্তাব মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো মন্ত্রণালয় থেকে তাদের কাছে আসেনি।
যেভাবে এলো নির্দেশনা
জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ‘জুলাই চেতনা পাবলিকেশন’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দেয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ধরে রাখতে বইটি গুরুত্বপূর্ণ। এতে ৮৪৪ শহীদের ছবি, পরিচয় ও তথ্য থাকবে। বলা হয়, এটি দেশের শিক্ষার্থী, গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি ‘মূল্যবান দলিল’ হবে।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বইটি কেনার জন্য ‘ডিও লেটার’ (আধা সরকারিপত্র) ইস্যু করেন। তাঁর নির্দেশের পরপরই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা সম্পর্কিত সব দপ্তরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বইটি কিনে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সূচিপত্রের কর্ণধার সাঈদ বারী বলেন, যে বই এখনো ছাপা হয়নি, তা কিনতে তোড়জোড় কেন, বুঝতে পারছি না। অপ্রকাশিত বই কিনতে উপদেষ্টার নির্দেশনা খুবই খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।
তিনি আরও বলেন, এভাবে বই কেনার নিয়মও বোধ হয় নেই। বই তারা জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র বা এ রকম প্রতিষ্ঠানে দিতে পারতো। সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে এমন নির্দেশনা ভালো হলো না।
এমকে
জাতীয়
‘জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে’
জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সতর্ক নজর রাখছে। জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, দাম সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
সোমবার (৩০ মার্চ) জ্বালানি বিভাগের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশজুড়ে অবৈধভাবে মজুদ করা ২ লাখ ৮৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি সতর্ক করেছেন, জনগণের মধ্যে এখনও অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং অনেকেই বাড়িতে অতিরিক্ত তেল মজুদ করছেন।
মনির হোসেন চৌধুরী আরও জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে মোট ১ লাখ ৩৩ হাজার টন জ্বালানি তেল মজুদ রয়েছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও দুইটি কার্গো আসছে। এপ্রিলে মোট ১ লাখ ৫৪ হাজার টন জ্বালানি তেল কয়েকটি জাহাজের মাধ্যমে দেশে পৌঁছাবে, যার মধ্যে একটি জাহাজ আজ এবং আরেকটি ৩ এপ্রিল পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এভাবে সরবরাহ নিশ্চিত করলে বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং জনগণকে অতিরিক্ত মজুদের জন্য উদ্বুদ্ধ হওয়া রোধ করা যাবে।
জাতীয়
ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় ৩৯৪ প্রাণহানি
পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ১০৪৬ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত, ২২৩ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ০৮টি দুর্ঘটনায় ০৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ০৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত ও ১২৮৮ জন আহত হয়েছে।
গণমাধ্যম বিশ্লেষণে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। একই সময়ে জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২১৭৮ জন ভর্তি হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই তথ্য তুলে ধরেন।
ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিগত ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ১০৪৬ জন আহত হয়েছে। বিগত ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হয়েছিল। বিগত বছরের সাথে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ, আহত ২১.০৫ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল।
এবারের ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত, ১১৪ জন আহত হয়েছে। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ এবং আহতের ১০.৮৯ শতাংশ প্রায়।
এই সময় সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৭১ জন চালক, ৫৫ জন শিশু, ৫৪ জন পথচারী, ৫১ জন নারী, ৪২ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন পরিবহন শ্রমিক, ০৭ জন শিক্ষক, ০৪ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য, ০৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ০৩ জন প্রকৌশলী, ০২ জন সাংবাদিক, ০১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ০১ জন চিকিৎসকের পরিচয় মিলেছে।
সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ১৬.২২ শতাংশ বাস, ১৫.২৮ শতাংশ ব্যাটারীচালিত রিক্সা, ৮.৪৯ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৭.৭৩ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৭.৩৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।
দুর্ঘটনার ৩৫.৮৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৩৬ শতাংশ পথচারীকে গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা, ২২.২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায়, ০.৫৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনে, ০.৫৭ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ও ৮.৩৮ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারণে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪৩.০৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৫ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২১.৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এ ছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.০৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.২৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকার শপথ গ্রহণের ০২ দিন পরে রমজান শুরু, এক মাসের মাথায় ঈদযাত্রা। নতুন সরকারের ব্যর্থতা খুঁজতে নয়; বরং সরকারকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার মানসে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ঈদযাত্রায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান তুলে ধরছি।
তিনি আরও বলেন, সরকার নতুন হলেও পুরনো আমলা, পূর্বের মাফিয়া নেতাদের অনুসারী বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের বর্তমান সরকার সমর্থিত নেতাদের চাপে আওয়ামী লীগ সরকারের মতো এবারও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, বিআইডব্লিউটিএসহ পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সস্থার ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় লাখো যাত্রীর পক্ষে কথা বলার মতো যাত্রী ও নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। মালিকরা একচেটিয়া সুবিধা লুফে নিতে এমন অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন প্রভাবমুক্ত থাকায় ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছিল, যা সর্বমহলে প্রশংসা পেয়েছে। এবারের ঈদে বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবের কারণে ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা, পরিবহনের বিশৃঙ্খলা অতীতের দুটি ঈদের তুলনায় বেড়েছে। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল বাস মালিক সমিতি নিয়ন্ত্রিত। ফলে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পদ্ধতি অনুসরণের কারণে সড়ক পরিবহন সেক্টরে সরকারের কিছু কিছু কর্মকাণ্ড ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
দুর্ঘটনার কারণসমূহ
দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা অবাধে চলাচল। জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকা, রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ বাস উঠে আসা। সড়কে মিডিয়ামে রোড ডিভাইডার না থাকা, অন্ধবাঁকে গাছপালায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি। মহাসড়কের নির্মান ত্রুটি, যানবাহনের নানাবিধ ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন। অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন। বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং একজন চালক অতিরিক্ত সময় ধরে যানবাহন চালানো। ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের কারণে বাসের ছাদে, খোলা ট্রাক ও পিকআপে, ট্রেনের ছাদে, বাসের ইঞ্জিন বনাটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত।
দুর্ঘটনার প্রতিরোধে সুপারিশসমূহ
সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতি চালু করা। মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা আমদাদি ও নিবন্ধন বন্ধ করা। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতে অবাধে চলাচলের জন্য আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা। দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ, যানবাহনের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস প্রদান। বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের সরকার ঘোষিত ৬০ ঘণ্টা ইনক্লুসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা। পরিবহন সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা। গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা। সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা।
মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা, রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা। উন্নতমানের আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করা।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট চালু করা। ঈদযাত্রা একসাথে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ঢাকার ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর দাবি জানানো হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন যাত্রী কল্যাণ সমিতি অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সদস্য আলমগীর কবির, মনজুর হোসেন ঈসা, ড্রাইভার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি বাদল আহমেদ, মনজুর হোসেন, আজাদ হোসেন টিপু প্রমুখ।
জাতীয়
হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আবু তাহের নদভীর ইন্তেকাল
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি, জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়ার মহাপরিচালক এবং ইত্তিহাদুল মাদারিসিল কওমিয়া বাংলাদেশের সভাপতি দেশের শীর্ষ আলেমে দ্বীন পীরে কামেল আল্লামা আবু তাহের নদভী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে তিনি বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
তার ইন্তেকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়খ সাজিদুর রহমান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।
বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মুফতি কিফয়াতুল্লাহ আজহারী গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত জানিয়েছেন।
ওই শোকবার্তায় হেফাজত নেতারা বলেন, আল্লামা আবু তাহের নদভী ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ আলেম, দক্ষ সংগঠক এবং দ্বীনের একনিষ্ঠ রাহবার। তার ইলমি অবদান, ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে নিরলস প্রচেষ্টা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তার ইন্তেকালে দেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ আলেম ও অভিভাবককে হারাল। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন, যেন তিনি মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন, তার কবরকে প্রশস্ত ও নূরে ভরপুর করে দেন এবং তার সব ভুলত্রুটি মাফ করে দেন।
এছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তারা বলেন, মহান আল্লাহ যেন তাদের এই শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন।
উল্লেখ্য, মরহুমের জানাজা সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া মাদ্রাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয়
আগামী সপ্তাহে ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আগামী ৭ এপ্রিল দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই কোনো বাংলাদেশি মন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই সফর কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিক থেকেই নয়, আঞ্চলিক কূটনীতির ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। সফরের অংশ হিসেবে তিনি পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠিতব্য ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে অংশ নেবেন। দিল্লি হয়ে তাঁর মরিশাস যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সফরে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির তাঁর সঙ্গে থাকবেন।
সফরের প্রথম দিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ভারত সরকারের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকের সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়েও আলোচনা চলছে।
সূত্র জানায়, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হারদ্বীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেবে। বিশেষ করে বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা—এসব বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
জাতীয়
রপ্তানি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ
রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক কূটনীতির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়নে সরকার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদ বাবুর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রশ্নের জবাব দেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও বহুমাত্রিক করে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বেগবান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের আলোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি তথা অর্থনৈতিক কূটনীতির সফল প্রয়োগের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কোন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, ইউরোপ, আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি দেশি পণ্যের নতুন নতুন বাজার অনুসন্ধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে।
সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (পিটিএ) এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে আমাদের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে সহায়ক হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও জোরদার হবে। এ প্রসঙ্গে আমরা পুনরায় মহান সংসদ ও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই দর্শনকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার এসব চুক্তি সম্পন্ন করতে বদ্ধপরিকর।



