আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা চায় না ভারত: রাজনাথ সিং
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূসকে নিজের বিবৃতির শব্দ চয়ন নিয়ে ‘সতর্ক থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা চায় না ভারত।
গতকাল ভারতীয় সাংবাদিক এবং দেশটির সংবাদমাধ্যম নেটওয়ার্ক ১৮ গ্রুপের শীর্ষ সম্পাদক রাহুল জোশিকে একটি এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন রাজনাথ। আর সেই সাক্ষাৎকারের একটি অংশ জুড়ে ছিল ভারত-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সম্পর্ক।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে উত্তেজনা চাই না। তবে ইউনূসের (বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূস) উচিত হবে নিজের বিবৃতির শব্দ চয়ন নিয়ে সতর্ক থাকা। আমি আর একটি কথা এখানে বলতে চাই— ভারত যে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম; কিন্তু তারপরও আমাদের মূল লক্ষ্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।’
২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে শুরু থেকেই টানাপোড়েন চলছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের। এর মধ্যে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এই টানাপোড়েন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি ঢাকায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফস কমিটি (সিজিসিএসসি)-এর চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা এবং তুরস্কের পার্লামেন্টের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন ড. মুহম্মদ ইউনূস। উভয় দেশের সঙ্গেই ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক তিক্ত।
তুর্কি পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন তুরস্কের এমপি মেহমেত আকিফ ইলমাজ। গত সপ্তাহের শুরুর দিকে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের। সাক্ষাৎ শেষে তুর্কি প্রতিনিধিদলের সব সদস্যকে এক কপি করে ‘আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ নামের একটি বই উপহার দিয়েছেন মুহম্মদ ইউনূস।
‘আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়কার এবং এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ছবি, গ্রাফিতির সংকলন। তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১৮- এর অভিযোগ— এই সংকলনগ্রন্থে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ নামের একটি মানচিত্রের ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামকে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউজ ১৮-এর দাবি— আসাম দখল বিষয়ক যুদ্ধ পরিকল্পনা এবং যুদ্ধ পরবর্তী অবস্থায় কীভাবে আসামের প্রশাসন পরিচালনা করা হবে, তারও বিবরণ আছে আট অব ট্রায়াম্ফ সংকলনগ্রন্থটিতে।
আন্তর্জাতিক
মার্কিন হামলায় ইরানের ত্রাণ সংগ্রহকারী বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত
ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার হয়েছে একটি বেসামরিক বিমান। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লিতে ত্রাণ সংগ্রহে যাওয়ার আগে হামলার শিকার হয় ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থা মাহান এয়ার-এর বিমানটি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথবাহিনীকে হামলার জন্য দায়ী করে তেহরান বলেছে, “এই হামলার ফলে একটি পরিকল্পিত মানবিক মিশনের উদ্দেশ্যে বেসামরিক ফ্লাইট ব্যাহত হয়েছে।”
দিল্লি থেকে ওই বিমানটির ১১ টন মানবিক সাহায্য (ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং খাদ্য) আনার কথা ছিল বলে জানিয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকার। এই ঘটনার জেরে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় প্রায় ১৬-১৭টি বাণিজ্যিক যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান ধ্বংস হয়েছিল। সেই হামলার সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল যে ওই উড়োজাহাজগুলো গোপনে নিয়ন্ত্রণ করত ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) এবং কুদস ফোর্স এসব উড়োজাহাজ ব্যবহার করে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ (পিএমএফ) এবং আশাব আল-কাহ্ফ, ইয়েমেনের হুথির মতো পশ্চিম এশিয়ার শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করত।
তবে পশ্চিমা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রচারিত স্যাটেলাইটচিত্রে দাবি করা হয়েছে সেগুলি সাধারণ যাত্রিবাহী ও পণ্যবাহী বিমান ছিল। এ বার ইসরায়েল দাবি করেছে যে ইরানের সেনা এয়ার ইরান এবং মাহান এয়ারের মতো বাণিজ্যিক যাত্রিবাহী ফ্লাইট ব্যবহার করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার জন্য অস্ত্র পরিবহণ করছে।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত ১৮ মার্চ ইরানে প্রথম মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল ভারত। সেই সাহায্যকে ‘দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সভ্যতাগত ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক’ বলেছিল ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সে বারেও ইরানের বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমেই মানবিক সাহায্য পাঠিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার।
সূত্র : এএফপি
আন্তর্জাতিক
জ্বালানি সাশ্রয়ে নতুন কৌশল, পাকিস্তানে শিগগিরই লকডাউন
মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সংঘাতের কারণে গভীর সংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি ব্যবহার কমানোর জন্য পাকিস্তান সংকোচনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি দেশব্যাপী ‘স্মার্ট লকডাউন’ জারির পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে দেশটির ফেডারেল সরকার। প্রধান অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর যে কোনো সময় লকডাউনের চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।
প্রতিবেদন অনুসারে, প্রস্তাবিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাজার ও শপিংমল রাত সাড়ে ৯টায় বন্ধ করতে হবে। কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে সর্বোচ্চ ২০০ জন অতিথি থাকতে পারবে, এক পদের খাবার পরিবেশন করা হবে এবং রাত ১০টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। এই বিধিনিষেধের উদ্দেশ্য হলো বড় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা ও রাতে বিদ্যুৎ খরচ কমানো।
সরকারি অফিসগুলোতে চালু করা হবে হাইব্রিড কর্মপদ্ধতি। সরকারি দপ্তরে সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন দিন সশরীরে অফিস, বাকি দুই দিন হোম অফিস করাতে হবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ছয় দিন খোলা পরিষেবা বিভাগগুলো চার দিন অফিসে, দুই দিন অনলাইনে কাজ করবে। উপস্থিতি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, ৫০ শতাংশ রোটা পদ্ধতিও (শিফট সিস্টেম) কার্যকর করা হবে।
বেসরকারি অফিসগুলোর জন্যও একই ধরনের হোম বা রিমোট অফিসের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এ ছাড়াও সরকারি যানবাহন ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবে পাকিস্তান সরকার। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জ্বালানি বা যানবাহন বাজেয়াপ্ত করার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য সম্মিলিত পরিবহন ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।
জ্বালানি সংরক্ষণেও জোর দেওয়া হয়েছে প্রস্তাবিত ওই পরিকল্পনায়। সরকারি অফিসে সকাল সাড়ে ১০টার আগে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি খাতের অন্তত ৫০ শতাংশ ভবন সৌরশক্তিতে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সমন্বয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ভাতা কমানো, সম্পত্তি ও যানবাহন লেনদেনের কর পরিবর্তন, টোল ট্যাক্স বৃদ্ধি এবং গণপরিবহনের ভাড়া কমিয়ে ব্যবহার উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো এমন এক সময়ে নেওয়া হলো যখন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে পেট্রোল লিটারপ্রতি ৩২১ রুপি (পাকিস্তানি মুদ্রায়) এবং ডিজেল ৩৩৫ রুপির উপরে উঠেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তান বৈদেশিক তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি দেশের রিজার্ভ ও চলতি হিসাবের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
এর আগে, গত ২৪ নভেম্বর পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান প্রদেশ সিন্ধুর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নাসির হুসেন জানান, ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক তেল সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি সাশ্রয়ের উপায় হিসেবে সরকার স্মার্ট লকডাউন জারির কথা বিবেচনা করছে। প্রাদেশিক সরকার সরকারি যানবাহনের জ্বালানি খরচ ভাতা ৬০ শতাংশ কমিয়েছে। প্রদেশের স্কুলগুলো ১৬ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
ইরাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তা
ইরাকের জনগণকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সমর্থন দেয়ার জন্য লিখিত এক বার্তায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
রোববার (২৯ মার্চ) ইরানি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে বলে এএফপির বরাত দিয়ে করা এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এনডিটিভি।
মোজতবা খামেনির প্রকাশ্যে না আসা নিয়ে তার শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে জোর জল্পনা চলছে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং দেশটির কিছু কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি বিমান হামলায় আহত হলেও সুস্থ হয়ে উঠছেন।
সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, মোজতবা খামেনি ‘ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেয়া এবং তেহরানের প্রতি সমর্থন জানানোর জন্য ইরাকের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এবং জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেছেন। এখানে ইরাক-ভিত্তিক গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানির কথা উল্লেখ করেছেন মোজতবা খামেনি।
সংবাদ সংস্থাটি জানায়, শিয়া দল ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইরাক এবং বাগদাদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মধ্যে বৈঠকের পর এই বার্তাটি দেয়া হয়। তবে বার্তাটি কীভাবে পাঠানো হয়েছে সে বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
আন্তর্জাতিক
ইরানের হামলায় ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে আহত হয়ে হাসপাতালে ২৩২ জন
ইরানের নিক্ষিপ্ত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রে রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলে আহত হয়েছেন ২৩২ জন। এই আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা গুরুতর, ৮ জন মাঝারি মাত্রার আহত এবং ২১৫ জন আশঙ্কামুক্ত।
বাকি ৭ জন ব্যাপকমাত্রায় মানসিক উদ্বেগ ও ভীতিতে ভুগছেন। তাদেরও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে পশ্চিমা বিশ্বের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ মার্চ— এক মাসে ইরানের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৬ হাজার ৮ জন ইসরায়েলি। তাদের মধ্যে ১২১ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক
জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত ফিলিপাইন, বন্ধ শত শত ফুয়েল স্টেশন
ফিলিপাইনে চলমান জ্বালানি সংকটের কারণে দেশজুড়ে শত শত পেট্রোল পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৩৬৫টি ফুয়েল স্টেশন বর্তমানে কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে, ফলে পরিবহন ও সাধারণ জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশ জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির মূল কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে তেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংকট শুরুর পর থেকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশটিতে জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিবহন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল আক্রমণ করতে পারে, এমন খবরে আজ সোমবার (৩০ মার্চ) বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ১১৬ ডলার ১০ সেন্টে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যে দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৬৬শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২ ডলার ৩০ সেন্ট। খবর বিবিসির।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তেল-গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে গ্যাসের দামও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে প্রতি গ্যালন গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯৮ ডলার।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে সংঘাতে যোগ এবং ইরান বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বাড়িতে প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দেওয়ার পর জ্বালানির তেলের দাম বাড়ল।
অনিক্স ক্যাপিটাল গ্রুপের সিইও গ্রেগ নিউম্যান বলেন, পরিস্থিতির প্রকৃত প্রভাব এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তার ভাষায়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ একটি নির্দিষ্ট চক্রে চলে। ইউরোপে এই ঘাটতির প্রভাব পুরোপুরি বুঝতে প্রায় তিন সপ্তাহ লাগে।
তিনি আরও বলেন, ব্রেন্ট এখন বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত করতে শুরু করেছে। আমরা মনে করি ধীরে ধীরে দাম ১২০ ডলার বা তারও বেশি হবে।
এমএন



