সারাদেশ
উত্তর তারাবুনিয়া ছাত্রকল্যাণ সংগঠনের উপবৃত্তি পরীক্ষা সম্পন্ন
শিক্ষার মানোন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে উত্তর তারাবুনিয়া ছাত্রকল্যাণ সংগঠন। এর ধারাবাহিকতায় শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার উত্তর তারাবুনিয়া আব্বাস আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো সংগঠনটির ২০তম উপবৃত্তি পরীক্ষা–২০২৫।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়। এবারের উপবৃত্তি পরীক্ষায় উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন ও আশপাশের ৩০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরীক্ষার ফলাফল আজই প্রকাশ করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন আসামি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মনির খাঁন, সভাপতি তরিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক বি. এম. রিদাউল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বুয়েটের শিক্ষার্থী রায়হান মাহমুদ, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুকসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, উত্তর তারাবুনিয়া ছাত্রকল্যাণ সংগঠন শিক্ষার প্রসার ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই উপবৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
প্রধান অতিথি আক্তার হোসেন আসামি তাঁর বক্তব্যে বলেন, তোমরা সবাই মিলে একটি সংগঠন গঠন করো— এমন একটি সংগঠন, যার মাধ্যমে আমাদের এলাকার উন্নয়ন ঘটবে। আজ আমি দীর্ঘদিনের যে আশা মনে মনে লালন করেছি, সেই আশা পূরণের প্রতিচ্ছবি এই ছাত্রকল্যাণ সংগঠন। অনেক সময় নানা সংগঠনের কারণে আমরা বিভ্রান্তিতে পড়ি, তাই আমি আজ সবাইকে আহ্বান জানাই — যারা মেধাবী ছাত্র আছেন, তারা একত্র হয়ে এমন একটি সংগঠন তৈরি করো, যা শিক্ষার আলো আরও জাগ্রত করবে এবং আমাদের এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখবে।
সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মনির খাঁন বলেন, আমরা চাই উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নসহ পুরো ভেদরগঞ্জ উপজেলায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ুক। মেধাবী শিক্ষার্থীরাই হবে আগামী দিনের নেতৃত্বের মূল চালিকা শক্তি।
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শুভকামনা জানিয়ে আয়োজকরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সারাদেশ
স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে টাকা বিতরণকালে আটক ৩ কর্মীর কারাদণ্ড ও জরিমানা
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান শুভর পক্ষে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের সময় তিন কর্মীকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে এক মাস করে কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মাদারগঞ্জ উপজেলার চরগুলাবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চর সগুনা এলাকার হারুনউর রশিদের ছেলে মেহেদী হাসান (২৫), ছবিলাপুর এলাকার মো. জালাল উদ্দিন আকন্দের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৫২) এবং একই এলাকার আব্দুল আজিজ মন্ডলের ছেলে জহুরুল ইসলাম (৬৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকালে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালী ইউনিয়নের চরগোলাবাড়ী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদিকুর রহমান শুভ এর পক্ষে টাকা বিতরণ করে তার কর্মী মেহেদী হাসান, জহুরুল ইসলাম এবং জাহাঙ্গীর আলম। ওই এলাকা থেকে টাকা বিতরণ করে ফেরার পথে আদারভিটা ইউনিয়নের কয়ড়া বাজার এলাকায় আসলে খবর পেয়ে ৯৪ হাজার ৫শ’ টাকাসহ তাদের আটক করে স্থানীয় জনতা।
পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেয়। এ সময় জামালপুর-৩ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বিচারক আরিফ হোসেন তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত তিনজনের স্বীকারোক্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন।
মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তফিজুর রহমান ভুইঞা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এমএন
সারাদেশ
যানবাহন শূন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম ব্যস্ততম সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক প্রায় যানবাহন শূন্য হয়ে পড়েছে। সাধারণত যেখানে দিন-রাত পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ থাকে, সেখানে নির্বাচনকে ঘিরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—দাউদকান্দি, গৌরীপুর, মেঘনা-গোমতী সেতু এলাকা খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দূরপাল্লার বাস চলাচল প্রায় কমে গেছে। ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যাও ছিল খুবই কম। মাঝে মধ্যে জরুরি সেবা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি ও কিছু পণ্যবাহী যান চলাচল করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যদের টহল জোরদার রয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনী বিধিনিষেধের কারণে আন্তঃজেলা বাস চলাচল সীমিত করা হয়েছে।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম জানান, নির্বাচনকে ঘিরে যে কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। মহাসড়কে যানবাহন কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হচ্ছে।
চট্টগ্রামগামী এস আলম পরিবহনের এক যাত্রী শহীদুল ইসলাম জানান, বাস চলাচল কমে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছাতে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তবে অধিকাংশ মানুষই নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষ হলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে মহাসড়কের যান চলাচল। দেশের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ মহাসড়কটি আবারও ফিরবে তার চিরচেনা ব্যস্ত রূপে।
এমএন
সারাদেশ
জেলা জামায়াত আমিরের হার্ট অ্যাটাক, সিসিইউতে ভর্তি
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ আটক হওয়া ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানকার হৃদরোগ বিভাগের সিসিইউ-১ এ চিকিৎসাধীন রয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে তাকে ভর্তি করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন করোনারি কেয়ার ইউনিট-সিসিইউ ১ এর নার্সিং ইনচার্জ সোহেলা পারভীন।
এর আগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে টাকাসহ আটক করে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অসুস্থ জামায়াত নেতার বিষয়ে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আজহারুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে বোঝা যাচ্ছে জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন হার্ট অ্যাটাক করেছে। উনার ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়ায় হার্টের হার্টবিট কমা-বাড়া করছে। উনাকে এই মুহূর্তে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসিজি করা হয়েছে, সেখানে সমস্যা আছে। ইকোসহ ব্লাডের কিছু টেস্ট করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে বোঝা যাবে উনার সমস্যা কী পর্যায়ে। তিনি আশঙ্কামুক্ত নন।
রংপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কেএম আনোয়ারুল হক কাজল বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। উনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত। উনি কিছু টাকা-পয়সা নিয়ে ঢাকা থেকে আসছিলেন। যে টাকার কথা বলা হচ্ছে, যেটা প্রশাসন বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়মকানুন মেনে, সেখানে এনডোর্সমেন্ট করেই নিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে তাকে আটকিয়ে আজকে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ বা সুন্দর পরিবেশটাকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রশাসন যেখানে অবহিত ছিল। কিন্তু একটা বিশেষ বিভাগ তাকে আটক করেছে এবং তার বিভিন্ন প্রহসন করার কারণে, বিভিন্নভাবে তাকে মানসিক টর্চারের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। প্রায় ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে তার বয়স। আগে থেকেই তিনি শারীরিকভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। হার্টের অসুস্থতার কারণে ডাক্তাররা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দিয়েছেন। তার বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো আসলে বোঝা যাবে।
এদিকে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বেলাল উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন জেলা জামায়াতের দফতর সম্পাদক আবদুল মান্নান। সেখানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের তল্লাশি করে ব্যাগে থাকা টাকা জব্দ করে এবং তাদের হেফাজতে নেয়।
সৈয়দপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল আলম রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেলাল উদ্দিন জানান তার ব্যাগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা রয়েছে। পরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে টাকা গণনা শেষে তার ব্যাগে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া যায়।
ওসি বলেন, বেলাল উদ্দিন গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং ব্যবসায়িক কাজেই টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছেন। তার এ বক্তব্য যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বেলাল উদ্দিন সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক। তিনি ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম দবিরুল ইসলাম।
এমএন
সারাদেশ
অর্ধকোটি টাকাসহ আটক জামায়াত নেতা হাসপাতালে ভর্তি
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ আটক হয়েছেন ঠাকুরগাঁও ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিমানযোগে সৈয়দপুরে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে আটক করেন।
জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তাকে প্রায় ৫০ লাখ টাকাসহ আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে সৈয়দপুর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুপুর ১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এমএন
রাজনীতি
নন্দীগ্রামে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: নেতার চোখ হারানোর খবরে মায়ের মৃত্যু
ভোটের মাঠের উত্তেজনা এবার রূপ নিল চরম সহিংসতায়। বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার একটি চোখ হারানোর খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার মা হাজেরা বেগম (৭০)।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
এর আগে সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে নন্দীগ্রামে উপজেলার পারশুন গ্রামে ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করে বিএনপির কর্মীরা। পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করে। এতে মাসুদ রানা গুরুতর আহত হন এবং তার একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।তবে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের জামায়াত-বিএনপি প্রার্থী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া প্রেসক্লাবে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
আহত মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম জানান, হামলার ঘটনার পর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাবার চোখ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক ওই চোখটি ভালো করা যাবে না এমন আশঙ্কার কথা বলেন। এই খবরটি জানার পর দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। গতকাল রাত ৯টায় গ্রামের বাড়িতে দাদীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য তার বাবা মাসুদ রানাকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে করা সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুল মজিদসহ দুইজনকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আটক করেন। একে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। আবদুল মজিদ আগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে জামায়াতের হয়ে কাজ করছেন। গত রাতে জামায়াত-শিবিরের কয়েকজন কর্মী নিয়ে তিনি পারশুন গ্রামে এক ভোটারের বাড়িতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে টাকা বিতরণ করতে গিয়েছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি কর্মীরা দুজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশকে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মোটরসাইকেলে শত শত জামায়াত সমর্থক সেখানে পৌঁছে স্থানীয় বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালান। তারা ভাঙচুর করেন এবং মজিদসহ দুইজনকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা মাসুদকে মারধর করেন, তার একটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলেন এবং তার ভাইকেও মারধর করেছেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তোলেন।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের এক ঘণ্টা পর বিকেল ৪টায় প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল বলেন, নন্দীগ্রামে দুটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। জুলাই যোদ্ধা আসাদুল্লাহ আল গালিব ও আমাদের কর্মী ফারুকসহ কয়েকজনের ওপর হামলা এবং আমাদের লোকজনদের আটকে রাখা।
ফয়সালের দাবি, গণভোট প্রচার শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপি কর্মীরা গালিবের ওপর হামলা করেন।
এছাড়া ফারুকসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালান বিএনপি নেতা মাসুদ রানা ও তার ভাই রবিউল ইসলাম। আমাদের কর্মীদের মারধর করা হয়েছে, মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিএনপি নেতার একটি বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
এমএন



