জাতীয়
ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন, শতভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন: ইসি
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
কমিশনের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইসির এখন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা নেই। আমাদের প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন। ফেব্রুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে নির্বাচন হলে আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’
তিনি বলেন, সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী বিদেশ থেকে আনা ভোটের কালি এসে পৌঁছেছে। এটি নির্বাচন প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভোটের আগে প্রয়োজনীয় প্রায় সব মৌলিক কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, বরং দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। যখন রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তখন থেকেই ভোটের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। ভোটের মাঠে সবাই নেমে গেলে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচিত সরকার ও গণতান্ত্রিক ধারার প্রবর্তন ছাড়া দেশে স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন আসবে না। তাই এবারের নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হতে হবে।
গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মের কারণে জনগণের মধ্যে যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি কাটিয়ে ওঠাই এবারের কমিশনের প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
তিনি আরও বলেন, ভালো নির্বাচন করা ছাড়া বিকল্প নেই। জাতির স্বার্থে, দেশের স্বার্থে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য আমাদের অবশ্যই একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এবারের ভোটকে জনগণের জন্য উৎসবে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।
ইসি সচিবালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বাসসকে জানান, নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ, আইন সংশোধন, ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ মৌলিক প্রস্তুতির সবকিছুই নভেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। ডিসেম্বরের শুরুতে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগেই সব প্রস্তুতি শেষ হয়ে যাবে।
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩০ জন। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দুই মাসে ভোটার বেড়েছে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ জন।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আগামী ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। এর আগে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত দাবি-আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনী আইন সংশোধনের কাজও সম্পন্ন করেছে ইসি। গত ৩ নভেম্বর সরকার ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট প্রকাশ করেছে। এতে যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু যুগান্তকারী বিধান।
সংশোধনের মূল দিকগুলো হলো— আদালত ঘোষিত ফেরারি আসামি প্রার্থী হতে পারবেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ, বিমান ও কোস্টগার্ড) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একক প্রার্থীর আসনে ‘না ভোট’ পুনরায় চালু করা হয়েছে। সমান ভোট পেলে লটারির পরিবর্তে পুনঃভোট অনুষ্ঠিত হবে। জোটগত নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচনী জামানত নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। আচরণবিধি লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ শাস্তি দেড় লাখ টাকা জরিমানা বা ছয় মাসের কারাদণ্ড।
অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসিকে দেওয়া হয়েছে। আইটি সাপোর্টে পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে অনিয়ম হলে সেটি নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে নির্বাচনের পরও ইসি ব্যবস্থা নিতে পারবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন তিনটি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছে ইসি। এগুলো হলো— জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি।
জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলকে (মার্ক্সবাদী) ‘কাঁচি’ এবং বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিকে ‘হ্যান্ডশেক’ প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। তিন দলের নিবন্ধন সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত দাবি-আপত্তি জানানোর সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইসি চূড়ান্তভাবে দেশের ৬৪ জেলায় ৩০০ আসনে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করেছে। পুরুষদের জন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি এবং মহিলাদের জন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি কক্ষসহ মোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটিংয়ের সুযোগ থাকছে। এ লক্ষ্যে ‘পোস্টাল ভোট রেজিস্ট্রেশন অ্যাপ’ চালু করা হচ্ছে। এটি উদ্বোধন করা হবে ১৬ নভেম্বর।
ইসি সচিব জানিয়েছেন, অ্যাপে নিবন্ধন করে প্রবাসী ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। কতদিন পর্যন্ত নিবন্ধন প্রক্রিয়া খোলা থাকবে, সেটি উদ্বোধনের সময় ঘোষণা করা হবে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী সংলাপ শুরু হতে পারে।
সংলাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হবে।
আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা চাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক উৎসবে পরিণত হোক। জনগণ যেন স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে- এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
জাতীয়
পোস্টাল ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ: ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন নিবন্ধিত ভোটারদের ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং (ওসিভি) প্রকল্পের টিম লিডার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালিম আহমেদ খান এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রবাসী ভোটার ও ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছিলেন ১৫ লাখ ২৮ হাজার ১৩১ জন। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ১২ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ জন, যা মোট নিবন্ধিত ভোটারের ৮০ দশমিক ১১ শতাংশ।
মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে রিটার্নিং অফিসারদের কাছে পৌঁছেছে ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯২টি ব্যালট, যা মোট নিবন্ধিত ভোটের ৭৬ দশমিক ২৮ শতাংশ।
এর আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পৌঁছানো পোস্টাল ব্যালটই কেবল গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে।
এমএন
জাতীয়
জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিবৃতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর অনুষ্ঠিত গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক দলসমূহের দায়িত্বশীল আচরণ, প্রার্থীদের সংযম ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব—এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই প্রমাণ করেছে যে গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট। জনগণ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন, পর্যবেক্ষক দল, গণমাধ্যমকর্মী এবং ভোটগ্রহণে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানাই।
চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। মতের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ আবারও প্রমাণ করেছে—জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। আমরা সম্মিলিতভাবে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে যাব। তিনি বলেন, এই নির্বাচন আমাদের জন্য মহা আনন্দের ও উৎসবের। এর মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের এক অভূতপূর্ব যাত্রা শুরু হলো।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ছিলো। এই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হলে আমাদের গণতন্ত্র উৎকর্ষের শিখরে যাবে। আসুন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার এই অভিযাত্রায় আমরা একসঙ্গে কাজ করি।
এমএন
জাতীয়
ভোট গণনা শুরু, এখন অপেক্ষা ফলাফলের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ শেষে শুরু হয়েছে গণনা। এবার ফলাফলের অপেক্ষা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। তবে যারা এখনো ভোট কেন্দ্রের ভেতরে অপেক্ষায় আছেন, তারা ভোট প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন।
সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট নেওয়া হয়। ৯ ঘণ্টা ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণ চলে। সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় ভোট গ্রহণ।
এদিন সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ দেড় দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভোটাররা আগামীর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে তাদের মতামত দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১ কেন্দ্রে ৪৭.৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
এদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জরুরি সমন্বয় সেল থেকে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশের ৪৮৬টি কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। জালভোট দেওয়া হয়েছে ৫৯টি এবং ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ৩টি জায়গায়।
এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি এক লাখেরও বেশি সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
জাতীয়
ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়নি কোথাও, দেশে নির্বাচনের ইতিহাসে অনন্য নজির
সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এর ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের কোথাও প্রাণঘাতী সংঘাত হয়নি। এর আগের বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই সাধারণ ঘটনা হলেও এবার এ ধরনের অভিযোগ ওঠেনি। কোথাও ভোট গ্রহণ স্থগিতের খবরও পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে ইতিহাসে এ এক অনন্য নজির।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় সারা দেশে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল সাড়ে ৪টায়। এখন ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে স্থগিত হওয়া নির্বাচনের তফসিল পরে ঘোষণা করা হবে।
তিনটি জেলায় ককটেল বিস্ফোরণসহ বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোট ছিল শান্তিপূর্ণ। নির্বাচন চলাকালে পৃথক স্থানে অসুস্থ হয়ে চার ব্যক্তির মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিক থেকে কিছু অভিযোগ এসেছে। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী বা দল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেননি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র জাতিকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
নির্বাচনের পরিবেশ ভালো থাকায় ভোট গ্রহণের হারও সন্তোষজনক। দুপুর পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোট পড়ে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোট দিলেন দেশের ভোটাররা।একইসঙ্গে তারা গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশকিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দিয়ে নিজেদের মত জানান। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়ন হবে।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন ছোট-বড় ৫০টি দল। ২৯৯টি আসনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৮ জন। দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৬৫১টি। মোট ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ লাখ ২৩২।
এমএন
জাতীয়
৩৬ হাজার ৩১ কেন্দ্রে দুপুর পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৪৭.৯১ শতাংশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুপুর পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশন সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৬৫১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে এখন (দুপুর) পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রের ভোট প্রদানের তথ্য আমরা পেয়েছি। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে।
সচিব বলেন, “এখন পর্যন্ত ভোটের পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। আমি নিজে দুইটি কেন্দ্র ঘুরে এসেছি।”
কোনো কেন্দ্রে ভোট বন্ধ হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করা ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না।”
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন, পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।
দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী।
এমএন



