জাতীয়
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাফল্যে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন
সাফল্যের সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করায় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ক্রিয়াশীল সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিরামহীন বৈঠক ও ঐকমত্যে পৌঁছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা নির্ধারণ করায় তিনি তাদের অভিনন্দন জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে আমাদের সামনে মহা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কোনো একক ব্যক্তি, একক সংগঠন, একক সংস্থা অথবা একক সরকার দিয়ে সম্ভব হবে না। এজন্য সব রাজনৈতিক দল ও পক্ষের মধ্যে একতা থাকতে হবে, যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
শনিবার (১ নভেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টা বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি স্থায়ী জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি করে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ঐকমত্য কমিশনের যাত্রা শুরু হয়। গতকাল ৩১ অক্টোবর এর মেয়াদ শেষ হয়।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বরাতে সুচিস্মিতা তিথি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ আমাদের ঐতিহাসিক অর্জন। এই সনদ আমাদের জাতির এক মূল্যবান দলিল, যা আমাদের আগামী জাতীয় নির্বাচনের পথকে কেবল সুগমই করবে না, জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। আমাদের গণতন্ত্রকে সুসংহত করবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, জনগণ প্রত্যাশায় আছে জাতীয় জীবনে এমন কিছু পরিবর্তন দেখার জন্য, যা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাবে। এমন কিছু পরিবর্তন, যা এ দেশে আর কখনো কোনো স্বৈরাচারের আগমন ঘটতে দেবে না। এমন কিছু পরিবর্তন, যা আমাদের জাতীয় জীবনে সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটাবে, সবার নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করবে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে আশার কথা হচ্ছে, আমরা নিজেরাই এই সংস্কার প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে কাজ করেছি, একমত হয়েছি। বাইরের কেউ আমাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়নি। অতীতে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে যেসব রাজনৈতিক সংলাপ হয়েছে তাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আমরা বিদেশিদের আসতে দেখেছি। বন্ধু রাষ্ট্রসহ জাতিসংঘের প্রতিনিধি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে এক টেবিলে আনার চেষ্টা করেছেন। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে যে আমাদের নিজেদের সংকট নিজেদেরই সমাধান করতে হবে। এ কারণেই সব রাজনৈতিক দল এক কাতারে এসেছে, রাজনৈতিক বিতর্কে অংশ নিয়েছে এবং আমাদেরকে সমাধানের পথ দেখিয়েছে। বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আমন্ত্রণ জানানোর পরিবর্তে আমরা নিজেরাই বিশ্ববাসীর দরবারে আমাদের জাতীয় ঐক্যকে তুলে ধরেছি।
বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে এবং তাদের নেতৃবৃন্দকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতারা যারা এই সনদ তৈরিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন তাদের সবাইকে আমি জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। এই জুলাই সনদ সারাবিশ্বের জন্যই একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। পৃথিবীর আর কোথাও এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উজ্জ্বল ঘটনা হয়ে থাকবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশও সংকটকালীন দেশ গঠনের পদক্ষেপ হিসেবে ‘ঐকমত্য কমিশন’ গঠনের কথা বিবেচনা করবে।
এসময় প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি এমদাদুল হক ও ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং বিশেষ সহকারী মনির হায়দারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি যারা মাসের পর মাস এই দীর্ঘ আলোচনার সঙ্গে থেকেছেন, ঐকমত্য কমিশনের সব কার্যকলাপ মানুষের কাছে সহজ ভাষায় পৌঁছে দিয়েছেন- তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, আমাদের সবার মনে রাখতে হবে, যে অভূতপূর্ব ঐক্য আমাদের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র সংস্কারে, এই জাতীয় ঐক্য আমাদের ধরে রাখতেই হবে। কারণ ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী এ জাতিকে বিভক্ত করতে সর্বশক্তি নিয়োজিত করেছে। গত ১৫ মাস আমরা তাদের নানান ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করেছি। ফ্যাসিবাদকে পরাস্ত করতে হলে, এই দেশকে বাঁচাতে হলে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
জাতীয়
গণতন্ত্রের ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাবেই: ইস্কাটনে ভোট দিয়ে সিইসি
বাংলাদেশ গণতন্ত্রের যে ট্রেনে উঠেছে সেটি গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ৷ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন হাইস্কুলের কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, “গতকাল আমি দেশের অনেক জেলা প্রশাসক, এসপিদের সাথে কথা বলেছি। তাদের আমি বলেছি কারো পক্ষে কাজ করতে পারবেন না। অবশ্যই নিরপেক্ষ থেকে কাজ করতে হবে। শুধু নিজে নিরপেক্ষ থাকলে হবেনা আপনার আশেপাশে সবাইকেও নিরপেক্ষ রাখতে হবে। এখানে বিভাগীয় কমিশনার সাহেব আছেন তিনি এটার সাক্ষী দিতে পারবেন।”
“আমি চেয়েছিলাম জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে একটা অবদান আমাকে রাখতে হবে। আমি সেই চেষ্টা করছি।”
“আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও এবং এআই জেনারেটেড ছবি একটা বড় চ্যালেঞ্জ। সবগুলো চাইলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এগুলোর অনেক কিছুই সীমান্তের ওপার থেকে হয়। ফলে আমরা মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার ওপর ভরসা করি। আশা করি জনগনও সত্য মিথ্যা যাচাই করে তথ্য শেয়ার দেবে।”
জানা গেছে – ঢাকা ৮ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন৷ এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৯৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫ জন৷
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দেশব্যাপী ঐতিহাসিক এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর পর এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক দল ও প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) মোট ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ ২০২৮ জন প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জাতীয়
ভোটে কারচুপি বা ভোট কেনাবেচার সুযোগ নেই : ইসি সানাউল্লাহ
সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক। নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি বা টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপচেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। দিন শেষে ভোটার উপস্থিতির হার বা ‘টার্নআউট’ সন্তোষজনক হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ইসি সানাউল্লাহ।
ভোট প্রদান ও কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিদর্শিত কেন্দ্রে প্রথম এক ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও ভোটদানে বাধা দেওয়ার মতো কোনো অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে আসেনি। সারা দেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে। শহর এলাকার ভোটাররা সাধারণত কিছুটা দেরিতে কেন্দ্রে আসেন– এটিকে একটি ‘হ্যাবিট’ (অভ্যাস) হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, গ্রামাঞ্চলের অনেক কেন্দ্রে সকাল থেকেই উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তিনি আরও বলেন, “কিছু কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের তুলনায় নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি। এটি উৎসাহব্যঞ্জক।”
ভোটার তালিকায় নাম না পাওয়া বা কারিগরি জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, “হাজারে একটি টেকনিক্যাল গ্লিচ হতে পারে।” মাইগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্যাগুলো ডাবল চেক করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
ভোট কেনাবেচার অভিযোগ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থান জানিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “কোনো অসাধু উদ্দেশ্যে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করে কেউ সফল হতে পারবে না। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।” বিভিন্ন স্থানে টাকা লেনদেনের সময় অভিযুক্তদের আটক হওয়ার বিষয়কে তিনি ‘ভালো লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও যৌথ বাহিনী এ বিষয়ে তৎপর রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ মন্তব্য করেন যে, এটি বিশ্বব্যাপী একটি চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশন ভুল তথ্য প্রতিরোধে কাজ করছে, তবে রাজনৈতিক অধিকার ও জনউদ্দীপনা বিবেচনায় কোনো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। এ ক্ষেত্রে তিনি মূলধারার গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভোট দিতে আসা এই কমিশনার মন্তব্য করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের লক্ষ্যেই নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। এখন পর্যন্ত সারা দেশে ভোট গ্রহণ সুশৃঙ্খলভাবে চলছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করেন।
এমএন
জাতীয়
শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে : কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপ
শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপ চেয়ারপারসন ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো-আড্ডো।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোর থেকেই কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন ভোটাররা। বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে ভোট দেবেন ভোটাররা।
নানা আকুফো-আড্ডো বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আশা করছি পুরো বাংলাদেশে এভাবে ভোট গ্রহণ হবে। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে গণমাধ্যমে এ কথা বলেন তিনি।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভার্স ইজাবস বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি বড় দিন।
ভোটগ্রহণ শুরুর প্রায় আধাঘণ্টা আগে ইইউ পর্যবেক্ষক দলটি কেন্দ্রে এসে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের সামনে ব্যালট বাক্স পরীক্ষা করে দেখান এবং ভোটের জন্য প্রস্তুত করেন। পরে নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
পর্যবেক্ষক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এখানে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন শুরু হয়েছে। আমরা সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হতে দেখেছি।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শুধু রাজধানী নয়, সারা দেশেই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি দিনের বাকি সময়েও পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন তিনি।
এমএন
জাতীয়
সুষ্ঠু হলে ফলাফল যাই হোক মেনে নেব, অন্যরাও মানবে: জামায়াত আমির
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অবাধ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই তিনি মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় (বালক শাখা) কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভোট দিয়ে তিনি বলেন, ভোট সুষ্ঠু হলে ফলাফল যাই হোক, তা মেনে নেবেন এবং অন্যদেরও মেনে চলতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অনেক বছর দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেননি। আমি নিজেও ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে জেলে থাকার কারণে ভোট দিতে পারিনি। আজ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালা আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। আশা করি ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সন্ত্রাসমুক্ত ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, চএই ভোটের মাধ্যমে যে সরকার গঠিত হবে, তা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের নয়; বরং ১৮ কোটি মানুষের জনগণের সরকার হবে। দেশের উন্নয়নে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। গণমাধ্যমও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ছোটখাটো বিষয়ে ছাড় দেওয়া হবে, বড় কোনো সমস্যা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটগ্রহণ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে। সারা দেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে ভোট নেওয়া হচ্ছে। মোট ৪২,৭৭৯টি কেন্দ্রে ২,৪৭,৪৮২টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২,০২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নারী প্রার্থী ৮৩ জন। শেরপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট বাতিল হয়েছে।
ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩, যার মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ১,২৩২ জন। ভোটের নিরাপত্তায় ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ৬৫৭ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১,০৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।
এমএন
জাতীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ চলছে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ বৃহস্পতিবার উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই সাথে ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন ‘জুলাই সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের গণভোটেও। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এসব কেন্দ্রে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন—দলীয় ৬৩ জন ও স্বতন্ত্র ২০ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি; তাদের প্রার্থী সংখ্যা ২৯১ জন। এ নির্বাচনে নিবন্ধিত ১০টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি।
জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করেছে ইসি। ফলে ওই আসন বাদ দিয়ে ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ২৯৯টি আসনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে—২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন। আর সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে—৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে পিরোজপুর-১ আসনে সবচেয়ে কম, মাত্র ২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৪ জন। এ ছাড়া পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকছেন প্রায় ১৫ হাজার কর্মকর্তা।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
প্রথমবারের মতো নির্বাচনের নিরাপত্তায় ইউএভি (আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকেল), ড্রোন ও বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
মোতায়েন বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, ৫টি জেলার ১৭টি আসনে ৫ হাজার নৌসদস্য, ৩ হাজার ৫০০ জন বিমানবাহিনীর সদস্য, ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৯ হাজার ৩৪৯ জন র্যাব সদস্য, বিএনসিসির ১২৮টি সেকশনের ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য এবং সহায়ক সেবা হিসেবে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য।
নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-সংক্রান্ত অপরাধ আমলে নেওয়া ও সংক্ষিপ্ত বিচার সম্পন্নের লক্ষ্যে ২৯৯টি আসনে ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। তারা ভোটের আগে দুই দিন, ভোটের দিন ও পরবর্তী দুই দিন—মোট পাঁচ দিন দায়িত্বে থাকবেন (১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি)।
আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে প্রতি উপজেলা ও নির্বাচনী থানায় ন্যূনতম দুজন করে মোট ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয়ভাবে এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয়ভাবে সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করছেন।
এ ছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৬০ জন প্রতিনিধি এসেছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রায় ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক এবং ৪৫টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে প্রায় ১৫০ জন বিদেশি সাংবাদিক এসেছেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২২৩ জন, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফরেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ থেকে ২৫ জন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ১২ জন এবং অন্যান্য সংস্থা থেকে প্রায় ৩০ জন পর্যবেক্ষক রয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ভোটের জন্য ‘বিডি মোবাইল অ্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রবাসী (ওসিভি) ও দেশের অভ্যন্তরের (আইসিপিভি) মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে প্রবাসী ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪৬ জন এবং দেশের অভ্যন্তরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৮ জন ভোটার।
এমএন



