আন্তর্জাতিক
দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন করে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তা এবং মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের এক কূটনীতিকের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপি এ তথ্য জানিয়েছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, দুই পক্ষই আলোচনা আবার শুরু করার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। তবে বৈঠকের স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এপির বরাতে মিডল ইস্ট আই এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈঠকের জন্য আবারও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডের জেনেভাও একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদ বৈঠকের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তান এক্ষেত্রে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তার আদান-প্রদান করছে।
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার
চলমান সংঘাতে ইরানের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছে দেশটি। তবে এই হিসাব এখনও চূড়ান্ত নয় বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর বরাতে জানা যায়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি এই তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলে ইরানের অবকাঠামো, অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আরও সময় লাগবে এবং চূড়ান্ত হিসাব আরও বেশি হতে পারে।
মোহাজেরানি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করতে হয়। ইতোমধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনাতেও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল ক্ষতির হিসাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং সংঘাতের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরছে।
সূত্র : আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক
হরমুজ অবরোধ অব্যাহত থাকলে খাদ্য ‘বিপর্যয়ের’ মুখে পড়বে বিশ্ব: এফএও
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে জ্বালানির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ও অতি দরকারি কৃষিপণ্যবাহী জাহাজ আটকে আছে। এই অবরোধ অব্যাহত থাকলে বিশ্ব খাদ্য ‘বিপর্যয়ের’ মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (এফএও)।
ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয় ইরান। এরপর গত ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।
এর মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি হলেও ইসলামাবাদ আলোচনায় কোনো চুক্তি না হওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। যা গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো ইরানের আগে থেকেই পঙ্গু হয়ে থাকা অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ানো।
নতুন করে নৌ অবরোধের পর এ নিয়ে চরম উদ্বেব প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থা। সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরোরো সোমবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালী অবরোধের কারণে এরই মধ্যে বৈশ্বিক খাদ্যের বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। তিনি জানান, বর্তমানে যে মজুত রয়েছে, তা দিয়ে এই ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা চলছে।
তবে শিগগিরই যদি হরমুজ প্রণালী না খোলে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠবে। এফএও-এর কৃষি-খাদ্য অর্থনীতি বিভাগের পরিচালক ডেভিড লাবোর্দে বলেন, ‘যদি প্রণালীটি দিয়ে যান চলাচল পুনরায় শুরু না হয়, জ্বালানি ও সারের বাজারে সৃষ্ট ধাক্কার ফলে চলতি বছরের শেষের দিকে পণ্যের খুচরা মূল্য বৃদ্ধি পাবে।
এফএও-এর মতে, প্রধান কৃষি-খাদ্য উপকরণের ২০ থেকে ৪৫ শতাংশ রফতানি হরমুজ প্রণালীর সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল। লাবোর্দে বলেন, ‘আমরা একটি উপকরণ সংকটের মধ্যে আছি; আমরা এটিকে একটি বিপর্যয়ে পরিণত করতে চাই না। এর ফলাফল নির্ভর করবে আমাদের গৃহীত পদক্ষেপের ওপর।’
আন্তর্জাতিক
বরখাস্ত হলেন চীনের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী সান ওয়েইডং
চীনের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী সান ওয়েইডংকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এটি বেইজিং-এর উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তাকে পদ থেকে অপসারণের সর্বশেষ ঘটনা।
মঙ্গলবার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে এই খবরটি ঘোষণা করে। এতে চীনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সংস্থা স্টেট কাউন্সিলের সিদ্ধান্তের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয় খবরটি।
তবে, পোস্টটিতে বলা হয়নি কেন বা কখন সানকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে দেখা যায়, গত ১৩ মার্চ চীনে নিযুক্ত ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকই ছিল তার সর্বশেষ জনসমক্ষে উপস্থিতির ঘটনা।
এদিকে, কূটনীতিক খলিল হাশমির এক্স অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট অনুসারে, দুদিন আগে সান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করতে চীনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
চীনা সরকারে এ ধরনের বরখাস্ত সাধারণত উচ্চ-পর্যায়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয় এবং এর পরে প্রায়শই তদন্তের খবর আসে।
সানের বরখাস্তের নোটিশে জাতীয় রেলওয়ে প্রশাসনের উপ-পরিচালক পদ থেকে আরেক কর্মকর্তা আন লুশেংকে অপসারণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০১২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘বাঘ ও মাছি’—অর্থাৎ উচ্চ ও নিম্ন-পদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে একটি ব্যাপক দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন।
দেশটির কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা পরিদর্শন কমিশন এবং জাতীয় তত্ত্বাবধায়ক কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চীন দশ লক্ষেরও বেশি দুর্নীতির মামলা তদন্ত করেছে এবং ৯৩৮,০০০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে চীনের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারাও ধরা পড়েন।
সূত্র: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব পুতিনের
ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল সোমবার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন পুতিনের মুখপাত্র ও ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ।
ব্রিফিংয়ে পেসকভ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরই এই প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। আগেও আমরা এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছিলাম।”
সোমবারের ব্রিফিংয়ে পেসকভ আরও জানান, আগের দিন রোববার টেলিফোনে কথা হয়েছে পুতিন এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে। পেজেশকিয়ান ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের বিভিন্ন তথ্য পুতিনকে জানিয়েছেন।
“প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে কোনো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগে সহযোগিতা করার জন্য তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”, বলেছেন পেসকভ।
ইরানের কাছে ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম আছে। এই ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ বা পরিশুদ্ধ। জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী এই বিশুদ্ধতার মান ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হলেই পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারবে ইরান।
ইরান অবশ্য বরাবরই পরমাণু প্রকল্পের আড়ালে বোমা তৈরির প্রচেষ্টার কথা অস্বীকার করে আসছে, তবে দেশটির পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে প্রায় দু’যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে বিরোধ চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এই বিরোধের জেরেই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ।
মার্চের প্রথম সপ্তাহে ইরানকে ১৫টি পয়েন্টের একটি শান্তি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই প্রস্তাবনার একটি পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়েছে— ইরানের এই ইউরেনিয়াম হয় ধ্বংস করতে হবে, নয়তো অপসারণ করতে হবে।
সূত্র : এএফপি, ফার্স্টনিউজ
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্যের মুখে ৩ কোটির বেশি মানুষ: জাতিসংঘ
ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্দেহের মধ্যে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলেছে, জ্বালানি, খাদ্য ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি-সংক্রান্ত এক ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’র সম্মুখীন হচ্ছে বিশ্ব।
দারিদ্র্য মোকাবিলায় কাজ করা সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক উন্নয়নের অগ্রগতি পিছিয়ে দিচ্ছে এবং এর প্রভাব অঞ্চলভেদে অসমভাবে অনুভূত হবে।
ইউএনডিপি’র প্রশাসক এবং বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেছেন, ‘এ ধরনের সংঘাত উন্নয়নের বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া। যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতিকে অবশ্যই স্বাগত। কিন্তু এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা দিয়েছে।’
তিনি বলেন, আপনি এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব দেখতে পাবেন, বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে, যেখানে মানুষকে আবার দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এটাই সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক। যাদের দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, তারা প্রায়শই সেইসব মানুষ, যারা একসময় দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং এখন আবার দারিদ্র্যের কবলে পড়ছে।
তেহরানে প্রথম মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার পর থেকে গত ছয় সপ্তাহে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, কারণ ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সার সরবরাহ এবং বৈশ্বিক নৌপরিবহনের ওপর যে ধারাবাহিক প্রভাব পড়ছে, তার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য একটি ‘খাদ্য নিরাপত্তা টাইমবোমা’ তৈরি হয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি টেকসই শান্তি বজায় রাখা গেলেও, এই সংঘাতের ‘ক্ষতচিহ্ন’ বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
আইএমএফ-এর বসন্তকালীন বৈঠকে যোগ দিতে বিশ্ব নেতারা ওয়াশিংটনে সমবেত হওয়ার প্রেক্ষাপটে নিজেদের প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউএনডিপি বলেছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তা করার জন্য একটি বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।
তারা বলছে, উন্নয়নশীল দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সুরক্ষা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক ও সাময়িক নগদ সহায়তা প্রয়োজন, যার জন্য প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে, যাতে দারিদ্র্যসীমার নিচে পড়ে যাওয়া মানুষদের সুরক্ষা দেয়া যায়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন ব্যাংকগুলো এই আর্থিক সহায়তা দিতে পারে উল্লেখ করে ডি ক্রু বলেন, ‘মানুষকে আবার দারিদ্র্যে পড়া থেকে রক্ষা করতে স্বল্পমেয়াদি নগদ সহায়তা দেয়ার ইতিবাচক অর্থনৈতিক ফল রয়েছে। বিকল্প হিসেবে সাময়িক বিদ্যুৎ বা রান্নার গ্যাসের জন্য ভর্তুকি বা ভাউচার দেয়া যেতে পারে।’
তবে ইউএসডিপি সতর্ক করে বলেছে, সার্বজনীন ভর্তুকি দেয়া উচিত নয়, কারণ এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ধনী পরিবারগুলোও সুবিধা পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি আর্থিকভাবে টেকসই নয়।
যুদ্ধের তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে– যেখানে ছয় সপ্তাহ ধরে তেল ও গ্যাস উৎপাদনে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে এবং আট মাস ধরে উচ্চ ব্যয় অব্যাহত থাকবে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়তে পারে।
প্রতিবেদনটিতে বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত উচ্চ-মধ্যম আয়ের দারিদ্র্যসীমা ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রতিদিন মাথাপিছু ৮.৩০ ডলারের কম আয়কে নির্দেশ করে।
বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য বৃদ্ধির অর্ধেকই কেন্দ্রীভূত হবে ৩৭টি নিট জ্বালানি আমদানিকারক দেশের মধ্যে, যেগুলো মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া এবং ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে অবস্থিত।
ইউএনডিপি জানিয়েছে, ধনী দেশগুলো যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সামাল দেয়ার ক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও, বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোর অবস্থান শুরুতেই দুর্বল ছিল এবং তারা আগে থেকেই গুরুতর আর্থিক সংকটে ভুগছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ঋণের চাপ ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তাদের সহায়তা ব্যয় কমাচ্ছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সংস্থাটির উন্নয়ন সহায়তা কমিটির সদস্য দেশগুলো ২০২৫ সালের জন্য সহায়তা ব্যয় ১৭৪.৩ বিলিয়ন ডলার কমিয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ কম।
ডি ক্রু বলেন, ধনী দেশগুলোর ওপর চাপ তিনি বুঝতে পারেন, তবে সহায়তা কমানোর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব থাকবে। তার ভাষ্য, সামরিক পরিভাষায় বলতে গেলে, উন্নয়নে বিনিয়োগ হলো চূড়ান্ত প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক বা প্রতিরোধমূলক আক্রমণ। আপনি কেন প্রতিরোধমূলক আক্রমণ করেন? একটি সংঘাত শুরু হওয়া এড়ানোর জন্য। উন্নয়ন ঠিক সেটাই করে।
তিনি আরও বলেন, ‘আপনি যদি দারিদ্র্য বিমোচনে, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন ও তার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেন, তবে এই উপাদানগুলোই বিশ্বকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



