অর্থনীতি
বাজেট প্রণয়নে বড় চ্যালেঞ্জ সীমিত আর্থিক সক্ষমতা: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন, কাঠামোগত দুর্বলতা, অসম্পূর্ণ সংস্কার এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নতুন সরকার তার প্রথম জাতীয় বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেছেন, সীমিত আর্থিক সক্ষমতা বর্তমান সময়ে সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কার্যালয়ে ‘বাজেট ঘিরে নাগরিক ভাবনা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সিটিজেনস প্ল্যাটফর্ম ফর এসডিজি।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকার এখন এক ধরনের কঠোর বাজেট সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করছে, যেখানে ব্যয় ও সম্পদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং খরচের ক্ষেত্রে সতর্ক অগ্রাধিকার নির্ধারণ অপরিহার্য। বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যয়ের পরিকল্পনা না করলে অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে পে স্কেল সংক্রান্ত যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে এক ধরনের ‘প্রলম্বিত দায়’ তৈরি হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে অন্যায্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ড. দেবপ্রিয় বলেন, বর্তমান সরকার নিজস্ব উদ্যোগে একটি কমিশন গঠন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এ ক্ষেত্রে আগের সরকারের পে কমিশনের প্রতিবেদনকে সহায়ক উপাদান হিসেবে নেওয়া যেতে পারে। তবে সেটিকে সরাসরি বা প্রশ্নহীনভাবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অবৈধভাবে সরানো সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনা জরুরি। দেশ-বিদেশে জব্দ হওয়া সম্পদ দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিক্রি করে সেই অর্থ দেশে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। সম্প্রতি বিদেশ থেকে তুলনামূলক ছোট অঙ্কের অর্থ ফেরত আসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন রাখেন, বড় অঙ্কের অর্থ ফিরিয়ে আনতে কেন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা গেলে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি সম্ভব। তার মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সীমিত রাজনৈতিক সক্ষমতার কারণে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি ধীর ছিল। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের জন্য শুরুর সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম বছরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত না হলে মেয়াদের শেষ দিকে তা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সরকারি ব্যয় ও ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, কৃষি ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই অদক্ষ ও অপ্রয়োজনীয় খাত চিহ্নিত করে ভর্তুকি কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ধাপে ধাপে নগদ প্রণোদনার ওপর নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দেন তিনি। আসন্ন বাজেটে অর্থসংস্থান জোরদার করতে কর ছাড় সীমিত করা, করজাল সম্প্রসারণ এবং পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান এই অর্থনীতিবিদ।
বর্তমান সরকারের আসন্ন বাজেট প্রণয়নে চারটি প্রধান চাপের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রথমত, অর্থনীতি এখনও দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং পূর্ববর্তী সময়ের অসম্পূর্ণ নীতিগত উদ্যোগের প্রভাব বহন করছে। একই সঙ্গে নতুন প্রশাসন একটি রূপান্তরকালীন পর্যায়ে রয়েছে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণকে জটিল করে তুলছে।
দ্বিতীয়ত, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ রয়েছে সরকারের ওপর। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হচ্ছে।
তৃতীয়ত, সীমিত আর্থিক পরিসর বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। রাজস্ব সংগ্রহের সীমাবদ্ধতা এবং অর্থায়নের সংকটের কারণে ব্যয় সম্প্রসারণের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে দেবপ্রিয় বলেন, পর্যাপ্ত সম্পদ ছাড়া বাজেটের আকার বৃদ্ধি কিংবা কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।
চতুর্থত, বহির্বিশ্বের সঙ্গে লেনদেনে ভারসাম্যহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি আয়, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ, বৈদেশিক সহায়তা এবং ঋণ পরিশোধের চাপ—সব মিলিয়ে বৈদেশিক খাতে অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এছাড়া বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অনিশ্চয়তাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে নতুন করে চাপের মুখে ফেলছে বলে সতর্ক করেন তিনি।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশ এখন এমন এক পর্যায়ে প্রবেশ করছে যেখানে বাজেট প্রণয়নে বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা নির্ধারণ জরুরি। এই প্রেক্ষাপটে স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় প্রণয়ন করতে হবে।
তার মতে, এসব চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে মোকাবিলা করা না গেলে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা অর্জন এবং প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার ক্ষেত্রে আসন্ন বাজেট প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হতে পারে।
অর্থনীতি
এপ্রিলে বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম: জ্বালানি বিভাগ
এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। যা কার্যকর হবে আগামী ১ এপ্রিল থেকে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ।
এতে বলা হয়েছে, ‘জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা (সংশোধিত)’-এর আলোকে এপ্রিল মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা ও অকটেনের দাম প্রতি লিটার ১২০ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এছাড়া প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা ও প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ১১২ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই হার যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নির্ধারণ ও অনুমোদন করা হয়েছে। এই অপরিবর্তিত মূল্যহার এপ্রিল মাসজুড়ে কার্যকর থাকবে।
অর্থনীতি
জুলাইয়ে ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নে অর্থ ছাড় দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড গত ২৭ জানুয়ারি ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। একই বৈঠকে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়।
চলতি বছরের জুলাইয়ে ছয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
রোববার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকে সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, “ছয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তা চলতি বছরের জুলাইয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএসকে জানান, অর্থ বিভাগ দুই ধাপে অর্থ পরিশোধ করবে। প্রথম ধাপে ২,৬০০ কোটি টাকা এবং জুনের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে ৩,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “প্রথম ধাপের অর্থ পাওয়া গেলেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। তাদের প্রধান কাজ হবে ব্যক্তি খাতের আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ করা। এরপর আদালতের কাছে প্রতিষ্ঠানগুলো লিকুইডেশনের জন্য আবেদন করা হবে।”
গত ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। একই বৈঠকে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়।
অবসায়নের তালিকায় থাকা ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো—ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। আর সময় পাওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো—বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।
বর্তমানে দেশে ৩৫টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ২০টিকেই সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এই ২০ প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ৮০৮ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকাই খেলাপি—যা মোট ঋণের ৮৩.১৬ শতাংশ। বিপরীতে বন্ধকি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা।
অন্যদিকে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা ১৫টি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার ৭.৩১ শতাংশ। গত বছর এসব প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে এবং তাদের মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে ৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা।
সমস্যাগ্রস্ত ২০ প্রতিষ্ঠানে আমানত রয়েছে ২২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রাহকদের নিট ব্যক্তি আমানত প্রায় ৪ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। অবসায়ন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে এই অর্থের জোগান প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থনীতি
আগামীতে বছরব্যাপী আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাবে
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছর থেকে সারা বছরব্যাপী অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করা। তিনি বলেন, বর্তমানে আয়কর দিবস ৩০ নভেম্বর। এ সময়ের মধ্যে করদাতাদের অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এনবিআরের প্রাক বাজেট আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামীতে এ ধরনের আয়কর দিবস থাকবে না। আয়কর রিটার্ন দাখিলে আমরা চারটি প্রান্ত নির্ধারণ করে দিব। এরমধ্যে যেসব আয়করদাতা প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন দাখিল করবেন তাদের জন্য করছাড় সুবিধা থাকবে।
এরপর দ্বিতীয় প্রান্তিকে যারা রিটার্ন দাখিল করবেন তারা নিয়মিত করদাতা হিসাবে বিবেচিত হবেন। তৃতীয় প্রান্তিকে যারা রিটার্ন দাখিল করবেন তারা কিছুটা বেশি টেক্স দিবেন। এরপর শেষপ্রান্তিকে রিটার্ন দাখিলকারীকে আরও একটু বেশি টেক্স দিতে হবে। এখন করদাতারাই সিদ্ধান্ত নিবেন তিনি কোন প্রান্তিকে রিটার্ন দাখিল করবেন।
চলতি আয়কর বর্ষে রিটার্ন দাখিলে আজই শেষদিন উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন,এখন পর্যন্ত ৪২ লাখ মানুষ আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে ২০ হাজারের মত আয়করদাতা সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছেন।
অনলাইনে সময়ের আবেদন বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের কর্মকর্তা ৯০ দিন পর্যন্ত সময় আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন। সে অনুযায়ী যদি তিনি আবেদন অনুমোদন করেন তাহলে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
তিনি বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে রাজস্ব বাড়বে। এজন্য লিকেজ দূর করা হবে। কর ফাঁকিবাজদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীতে ২৮ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অর্থনীতি
ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলাখ কোটি ছাড়াল, বেড়েছে ৮ গুণ
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত জুলাই-ডিসেম্বর শেষে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ব্যাংকঋণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তার অর্ধেকের বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার।
সরকারের অভ্যন্তরীণ ব্যাংকঋণসংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনের বরাতে দৈনিক প্রথম আলো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদপত্রটির তথ্যমতে, বাংলাদেশ ব্যাংক গত রবিবার রাতে সরকারের ব্যাংকঋণের সর্বশেষ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে ব্যাংকঋণের পাশাপাশি সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে নেওয়া সরকারের ঋণের পরিমাণও প্রকাশ করা হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা। এই খাত থেকে পুরো অর্থবছরে ২১ হাজার কোটি টাকার ঋণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস সরকারের দায়িত্বে ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে এই ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে নেওয়া ঋণের পুরোটাই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে। ওই সময় সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি মন্থর ছিল। ফলে উন্নয়নের চেয়ে ঋণের বড় অংশই খরচ হয়েছে সরকারের পরিচালন ব্যয় বাবদ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার ব্যাংক থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তা আগের অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় প্রায় আটগুণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যা আট গুণ বেড়ে অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ আট গুণ বাড়লেও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে সরকারের ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা।
গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আর্থিক খাত থেকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের ঋণ আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা কমেছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ এখন মূলত ব্যাংকনির্ভর। একসময় সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সবচেয়ে বেশি ঋণ নিত। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমে যাওয়ায় সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কমে গেছে। এ কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে খুব বেশি ঋণ নিতে পারছে না সরকার। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের নিট ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। সঞ্চয়পত্রের বদলে উচ্চ সুদে বিভিন্ন ধরনের বিল-বন্ড বিক্রি করে ঋণ নিচ্ছে সরকার। ভালো সুদ পাওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি ব্যক্তি শ্রেণির সাধারণ মানুষও সরকারি-বিল বন্ডে বিনিয়োগ করছেন।
অর্থনীতিবিদদে উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি বলছে, কয়েক বছর ধরে বিনিয়োগে একধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে। এ কারণে সরকারি ব্যাংকঋণ বাড়লেও তাতে বেসরকারি খাত খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। কিন্তু বিনিয়োগে গতি ফিরলে সরকারের ব্যাংকঋণ বেসরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করবে। কারণ, বেসরকারি খাত তখন চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকঋণ পাবে না।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ও আর্থিক খাত থেকে মোট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত থেকে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক ও আর্থিক খাত মিলিয়ে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। সেই হিসাবে গত অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
অর্থনীতি
সোনার দাম আরও বাড়লো, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। এই নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ভরিতে ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।



