জাতীয়
ফায়ার সার্ভিসের নতুন পরিচালক মাহমুদুল হাসান
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান, পিএসসি। তিনি সদ্য বিদায়ী পরিচালক (অপাঃ ও মেইনঃ) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, এসজিপি, পিএসসি-এর স্থলাভিষিক্ত হলেন।
রোববার (২৯ মার্চ) মাহমুদুল হাসান তাজুল ইসলামের কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস থেকে ডিফেন্স স্টাটিজ বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। মাহমুদুল মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের একজন গ্র্যাজুয়েট।
জাতীয়
জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করা হয় : হান্নান মাসউদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরে প্রাপ্য সেবার জন্য গেলে জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে অধিদপ্তরে বাজেট দেওয়া হবে কি না-এটিও জানতে চেয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে প্রশ্নোত্তর পর্বে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের কাছে এই প্রশ্ন রাখেন হান্নান মাসউদ।
এ সময় প্রথমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরকে ‘বড়’ করা হবে কি না—এমন প্রশ্ন রাখেন তিন।
এর জবাবে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণার্থে ইতিমধ্যেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর নামে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নাম যোগ করে এই মন্ত্রণালয়টিকে বড় করার আপাতত কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’
পরে সম্পূরক প্রশ্নে আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘অধিদপ্তর হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সে জায়গা থেকে আহত ও শহীদ পরিবাররা ঠিকমতো সেবা পাচ্ছে না বলে বিভিন্ন পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সেখানে গেলে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করারও বিভিন্ন অভিযোগ আমাদের কাছে আসে।
যেহেতু আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে উঠে এসেছি, সেই জায়গা থেকে এই ব্যাপারে মন্ত্রীর কোনো পদক্ষেপ আছে কি না?’
জাতীয়
কৃষক কার্ডে সার-বীজ দেবে সরকার, প্রণোদনা ২,৫০০ টাকা: কৃষিমন্ত্রী
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সার-বীজ সরাসরি দেওয়া হবে। কৃষকরা জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকার সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের জন্য প্রণোদনা পাবেন বলে তিনি জানান ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী। এদিন অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কৃষিকাজে সহায়তার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে কেবলমাত্র ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র শ্রেণির কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে এসব বিতরণ করা হবে।’
মন্ত্রী জানান, কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক এবং অন্যান্য উপকরণ সহায়তা দেওয়া হয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ছাড় করা হয়েছে।
এতে ২৫ লাখ ২২ হাজার কৃষক উপকৃত হয়েছেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে কৃষকপ্রতি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এ কার্যক্রমে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। এতে উপকৃত হচ্ছেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক।
মন্ত্রী জানান, সরকার কৃষি উৎপাদনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সার, সেচকাজে বিদ্যুৎ, ইক্ষু ইত্যাদি খাতে মার্চ/২০২৬ পর্যন্ত ১৬ হাজার ২৪০ লাখ কোটি টাকা এবং ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৬ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৯ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন টিএসপি, ১০ দশমিক ৫০ লাখ মেট্রিক টন এমওপি এবং ১৬ দশমিক ৮৫ লাখ মেট্রিক টন ডিএপি সার ভর্তুকি মূল্যে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে।
কৃষকের উৎপাদিত শাক-সবজি ও ফল সংরক্ষণের জন্য ১৮০টি মিনি কোল্ড স্টোরেজ, আলু সংরক্ষণের জন্য ৭০৩টি মডেল ঘর, পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ৮০০টি মডেল ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
জাতীয়
দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ১ লাখ ৯২ হাজার টন, ঘাটতির শঙ্কা নেই
দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে মোট ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন। আপাতত দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী এই তথ্য জানান।
জ্বালানি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মজুতকৃত জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেল রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন, পেট্রল ১১ হাজার ৪৩১ টন এবং জেট ফুয়েল রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন।
বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে মজুদথাকা এই জ্বালানি তেল দিয়ে আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত দেশের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
কর্মকর্তারা আরো জানান, এই সময়ের মধ্যেই বেশ কয়েকটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফলে আপাতত দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
জাতীয়
সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধি ও অনলাইন ক্লাসের প্রস্তাব যাচ্ছে মন্ত্রিসভায়
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলে। নতুন সরবরাহ কম থাকায় মজুদ দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। দেশের জ্বালানি খাতে তৈরি হওয়া চাপ সামাল দিতে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
এরই অংশ হিসেবে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়তে পারে সরকারি চাকরিজীবীদের। একই সঙ্গে ওয়ার্ক ফ্রম হোম কর্মসূচি বা অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জানা গেছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে স্কুল পর্যায়ে অনলাইন-সশরীরে এই দুই ব্যবস্থা সমন্বয়ে ক্লাস বিষয়ে আলোচনা চলছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকালে বাধ্যতামূলকভাবে অফিসে ৪০ মিনিট অবস্থান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং অফিসকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অধীন দপ্তর-সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এই নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জাতীয়
পে স্কেল বাস্তবায়ন দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন দাবিতে নতুন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে আবদুল মালেক বলেছেন, ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নে লক্ষ্যে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আসছে। প্রতিটি জেলায় যারা কর্মরত আছেন মনেপ্রাণে পে স্কেলের প্রত্যাশা করেন, তারা সবাইকে এই পে স্কেলের দাবি বাস্তবায়নের জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত করে, ১৫ বছরের মধ্যে তিনটা টাইম স্কেল ও একটা সিলেকশন গ্রেড প্রথা বাতিল করে ব্লক পোস্টধারী ও পদোন্নতি বঞ্চিতদের করেছেন সর্বশান্ত। তদস্থলে দুইটি উচ্চতার গ্রেড প্রথা চালু করেছেন ১৬ বছরে, যা শুধুই শুভঙ্করের ফাঁকি।
তিনি আরও বলেন, ২০১৫-২৪ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পে স্কেল বাস্তবায়ন করেনি তৎকালীন সরকার, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে বেতন সমন্বয় করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করেননি ওই সময়। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে নবম জাতীয় পে কমিশন গঠন করে একটি সুপারিশ প্রণয়ন করে, যা আজও বাস্তবায়ন হয়নি।



