আইন-আদালত
কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিম আটক
রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আর এস ফাহিমকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (২৯ মার্চ) শাহ আলী থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে থেকে স্থানীয় জনতা তাকে আটকে রেখেছিল। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তার বিরুদ্ধে জুলাইয়ের ঘটনাবলি নিয়ে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেগুলো আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’
আইন-আদালত
মানবতাবিরোধী মামলায় খালেদ-মাসুদকে ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আগামী ৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন।
এর আগে সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ ও মাসুদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে হত্যার অভিযোগ এনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে প্রসিকিউশন।
গত ২৫ মার্চ রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ডিজিএফআই সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড দেন।
অন্যদিকে গত ২৩ মার্চ ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে মানবপাচারের অভিযোগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।
আইন-আদালত
এক-এগারোর ঘটনার নেপথ্যে কারা, তালিকায় প্রভাবশালী নাম
২০০৭ সালের এক-এগারো ঘটনার নেপথ্য নিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র। দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তৎকালীন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা করে তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশসহ গোয়েন্দা ইউনিটগুলো।
রোববার (২৯ মার্চ) বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে এক-এগারোর সময়কার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পটভূমি সম্পর্কে নানা তথ্য পাওয়া গেছে।
ডিবির অভিযানে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত ২৩ মার্চ রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন পল্টন থানার একটি মানব পাচার মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ। অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার তাকে মিরপুরে ফল ব্যবসায়ী দেলোয়ার হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এক-এগারোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন এবং চাকরিচ্যুত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারীসহ সাবেক কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা এবং বেসামরিক কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম রয়েছে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি ছিলেন। শেখ মামুন খালেদ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক। এক-এগারোর সময় তিনি ছিলেন প্রভাবশালী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, তাকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি ছিল সমন্বিত একটি উদ্যোগ। ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার দিন ইয়াজউদ্দিনের বাসভবনে একটি চা-চক্রে তাকে সরিয়ে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে সামরিক বাহিনীর শীর্ষপর্যায়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
আরও জানা যায়, ওই বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের অনেককেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেছেন, ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের আগে বিষয়টি দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রীকে জানানো হয়েছিল। সে সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, গ্রহণে তখনকার সেনা কমকতাদের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের খসড়া তাদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত হতো।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে আরও জানা যায়, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিতেন। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের আগে বিষয়টি দুটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রকে জানানো হয়েছিল তাদের সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ কারাগারে রাখার সিদ্ধান্তও সে সময় সেনা কর্মকর্তাদের পরামর্শে নেওয়া হয়েছিল।
সূত্র জানায়, এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে, দুই নেত্রী (খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা) কারাগারে থাকার সময় নির্বাচন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে পর্দার আড়ালে দর-কষাকষির প্রক্রিয়ায় তৎকালীন ডিজিএফআই কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়মিত কারাগারে গিয়ে বৈঠকও করতেন।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, মাসুদ উদ্দিন অনেক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং নিজের বিষয়ে সতর্ক থাকছেন। ফলে তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে তদন্ত সংশ্লিষ্টতদের কাছ থেকে আরও জানা যায়, ওয়ান-ইলেভেনের সময়কালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ন্যাশনাল মনিটরিং সেন্টারের (এনএমসি) নীতিনির্ধারক ছিলেন। ২০০৮ সালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) আওতাধীন গড়ে ওঠা মোবাইল ফোনে আড়িপাতার মাষ্টারমাইন্ড বলা হয় তাকে। এনএমসি পরবর্তী সময়ে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনসিএমসি) রূপান্তর হলে তারও দায়িত্বে ছিলেন ডিজিএফআইর সাবেক এই মহাপরিচাল। ক্ষমতার অপব্যবহার ও তৎকালীন সরকার প্রধানের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবেও কাজ করেন শেখ মামুন। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাদের গুমের সঙ্গেও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সূত্রে তার সম্পর্কে আরও জানা যায়, গত ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে সিগন্যালস কোরের কর্মকর্তা হিসেবে শেখ মামুন ডিজিএফআইতে পরিচালক (এফএসআইবি) হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০০৮ সালের জুনে তিনি ব্রিগেডিয়ার চৌধুরী ফজলুল বারির স্থলাভিষিক্ত হয়ে পরিচালকের (কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর-সিআইবি) দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবরের উত্তরসূরি হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১১ সালে মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডিজিএফআইতে ফিরে আসেন।
আরও জানা গেছে, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল। এর মধ্যে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ, এক-এগারোর সময় তার বিতর্কিত ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসন-সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলো রয়েছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তাদের দুই জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এই দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে তদন্ত কার্যক্রম চলছে আমাদের।
আইন-আদালত
পল্লবীতে কিবরিয়া হত্যা: রিভলবারসহ ২ শুটার গ্রেফতার
ঢাকার মিরপুরের পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে বিদেশি রিভলবার, গুলিসহ গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র্যাব।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
র্যাব জানায়, পল্লবীর যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা মামলার কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী শুটারকে বিদেশি রিভলবার ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে আজ র্যাব-৪ এর সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
নিহত কিবরিয়া ছিলেন পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিক্রি করতেন বলে জানা যায়।
গত বছরের ১৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় মুখোশধারী তিন সন্ত্রাসী মিরপুর ১২ নম্বরের বি ব্লকে ‘বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি’ নামের একটি দোকানে ঢুকে খুব কাছ থেকে গুলি করে তাকে হত্যা করে। ঘটনার পর দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন এবং দ্রুত না চালানোয় চালককে কোমরে গুলি করে আহত করে।
হত্যাকাণ্ডে ঘটনায় কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দীনা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি হিসেবে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরও সাত-আটজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
আইন-আদালত
রাজধানীতে বগুড়ার সাবেক এমপি জিন্নাহ গ্রেফতার
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ দশটি মামলার আসামি বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জাতীয় পার্টির নেতা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বগুড়া ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ জাতীয় পার্টির বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান। তিনি ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরবর্তীতে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জানা যায়, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ পলাতক ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ তার বিরুদ্ধে অন্তত দশটি মামলা রয়েছে।
বগুড়া ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার জানান, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’
আইন-আদালত
সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদ ৫ দিনের রিমান্ড
মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ আসামি মামুনকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ডের তিনটি কারণে উল্লেখ করা হয়, এজাহারনামীয় আসামি গ্রেপ্তার ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের সঠিক নাম, ঠিকানা সংগ্রহ; মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন।
এ ছাড়া রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে অজ্ঞাতনামা ৫০০-৭০০ জন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন, নিপীড়নের জন্য দেশীয় অস্ত্রসহ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রের সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন দিক থেকে নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। যার ফলে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। সন্দিগ্ধ আসামি মামুন মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।
মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শেখ মামুন খালেদের নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন। পরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালতে জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় বৈষম্য বিরোধীছাত্র আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানো হয়। আসামিরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।
প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২১ জুলাই সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে মারা যান। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৬ জুলাই নিহত দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছা. লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।



