জাতীয়
তরুণ পেশাজীবীরাই দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের প্রধান শক্তি: তথ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তরুণ পেশাজীবীরাই প্রধান শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। টেকসই জাতীয় উন্নয়নের জন্য তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নৈতিক নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং সম্মিলিত দায়বদ্ধতা থাকা অপরিহার্য।
সোমবার (২ মার্চ) রাজধানীর সিক্স সিজনস হোটেলে ‘ফোরাম অব ইয়ং প্রফেশনালস’ (এফওয়াইপি) আয়োজিত ‘নেতৃত্ব সংলাপ ও ইফতার মাহফিল’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আর্থিক সচেতনতা এবং উদ্যোক্তা মনোভাবই পারে একজন পেশাজীবীকে সফল করতে। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সামাজিক ক্ষমতায়নে তরুণদের পেশাগত সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফোরাম অব ইয়ং প্রফেশনালসের উপদেষ্টা রাশেদ উল হক সরকার। তিনি সংগঠনের দীর্ঘ যাত্রা, সাম্প্রতিক অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, নেতৃত্ব বিকাশ এবং পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখতে এফওয়াইপি বদ্ধপরিকর।
সন্ধ্যার বিশেষ আকর্ষণ ছিল এফওয়াইপির নিবেদিতপ্রাণ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। সংগঠনের প্রতি নিষ্ঠা, অসামান্য অবদান এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। নেতৃত্বগুণ এবং স্বেচ্ছাসেবীমূলক কাজের মাধ্যমে যারা উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, তাদের এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।
ইফতারের পূর্বে আয়োজিত নেতৃত্ব সংলাপে তরুণ পেশাজীবীদের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বক্তারা সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে তরুণদের এগিয়ে যাওয়ার পথনির্দেশনা দেন। সম্মিলিত ইফতারের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঐক্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে।
‘ফোরাম অব ইয়ং প্রফেশনালস’ (এফওয়াইপি) একটি সক্রিয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উদীয়মান নেতা ও পেশাজীবীদের ক্ষমতায়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
এমএন
জাতীয়
পদত্যাগ করলেন শিক্ষামন্ত্রীর পিএস
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের একান্ত সচিব (পিএস) পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আজই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালকের (ডিজি) অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. খান মইনুদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাউশির শীর্ষ পদে আসীন হতেই তিনি পিএস পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ড. খান মইনুদ্দিন বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার সমিতির আহ্বায়ক এবং বিসিএস ১৬তম ব্যাচের একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেও তিনি তৎকালীন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে মাউশির মাধ্যমিক উইংয়ের পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল।
জাতীয়
প্রতিশোধ প্রতিহিংসা নয়, সহনশীলতাকে গুরুত্ব দিন: প্রধানমন্ত্রী
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা বা অযথা বিতর্ক নয়। জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেওয়ার পর তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী একটি চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিভাজন এড়িয়ে চলা সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশে জ্বালানি তেল বা ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে দেশে এখনও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি। এই খাতে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চিকিৎসা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পল্লী উন্নয়ন, সমাজসেবা ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতি বছর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় নেতাদের অবদান যথাযথ সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করা জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করবে না। প্রথমেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কারটি গ্রহন করেন তার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি ‘দাদু’র পদক গ্রহণ করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য।
খালেদা জিয়াসহ মরণোত্তর এই সম্মাননা পেয়েছেন সাতজন। এরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজ সেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান।
মেজর জলিলের পক্ষে তার কণ্যা ব্যারিস্টার সারা জলিল, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর পক্ষে তার মেয়ে ড. তাসনিম আরিফা সিদ্দিকা ,জাফরুল্লাহ চৌধুরীর পক্ষে তার ছেলে বারীশ হাসান চৌধুরী, মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে তার স্বামী মনসুর হেলাল, বশির আহমেদের পক্ষে তার হুমায়ারা বশির এবং কাজী ফজলুর রহমানের পক্ষে তার কন্যা তাবাসুম শাহনাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।
বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজ সেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার নেন।
অধ্যাপক জহুরুল করিমের পক্ষে তার পুত্র হারুনুর রশীদ এবং একেএম হানিফ, জোবেরা রহমান, সাইদুল হক, মোহাম্মদ আবদুল বাকী, এম এ রহিম, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, আবদুল মুকিত মজমুদার প্রত্যেকে নিজে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কার নেন।
এ বছর যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কারে মনোনীত করা হয়েছে তা হলো, মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসা বিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), জনসেবায় এসওএস শিশু পল্লী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছে।
জাতীয়
২০৩৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: পানিসম্পদমন্ত্রী
পদ্মা অববাহিকার বিশাল কৃষি অঞ্চলকে মরুময়তা থেকে বাঁচাতে ও শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এটি ২০৩৩ সালের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ তথ্য জানান তিনি।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে বিস্তৃত এবং যেখানে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ বসবাস করে। প্রকল্পটি নদী নির্ভরশীল জনগণের জীবন রক্ষাকারী প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত।
পানি সম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ধারণা দীর্ঘদিনের। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রকল্পটি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে মোট চারটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়। পরবর্তীতে ২০০২ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। ২০০৪ সালে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হওয়ার পর, প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা চূড়ান্ত করা হয়।
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
এ ধারাবাহিকতায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের ডিপিপি ইতোমধ্যেই প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।
জাতীয়
স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হয়েছে। এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবারের তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র রক্ষা ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মরণোত্তর এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান।
এর আগে গত ৫ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পদকপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেছিল। পদকপ্রাপ্ত প্রত্যেকে ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণপদক, সনদপত্র এবং সম্মানি চেক গ্রহণ করেন।
যারা পেলেন স্বাধীনতা পুরস্কার
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা ক্যাটাগরিতে মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন মেজর মোহাম্মদ আবুল জলিল। একই ক্যাটাগরিতে প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম এবং চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এই পদক লাভ করে।
সংস্কৃতিতে বরেণ্য ব্যক্তিত্ব এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) এবং মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন বশির আহমেদ। সাহিত্যে মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন ড. আশরাফ সিদ্দিকী। ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন জোবেরা রহমান লিনু।
সমাজসেবা ও জনসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য এবার একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন– ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে এস ও এস চিলড্রেন ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এই সম্মাননা পেয়েছে।
গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী (পিএইচডি), অধ্যাপক ড. এম এ রহিম এবং অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এই সম্মাননা লাভ করেন। এ ছাড়া জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আব্দুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে দেশের উন্নয়নে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, পদস্থ কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার নিলেন নাতনি জাইমা রহমান
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ গ্রহণ করেছেন তার নাতনি জাইমা রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে তার বড় ছেলে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
মনোনীত অন্য ব্যক্তিরা হলেন, মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত),বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।
এ ছাড়া মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো— মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেয়া হয়। সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।
এমএন



