জাতীয়
১০০ দিনে সরকারের ছয় অগ্রাধিকার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ১০০ দিনের ‘স্বল্পমেয়াদি’ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে নতুন সরকার। এ অনুযায়ী রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে জানা গেছে। বাকিগুলো হলো—অর্থনীতি পুনর্গঠন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান এবং ছয় মাসের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুশাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের প্রধান কাজ হবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা। দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভেঙে দেশে একটি সুশাসন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর সরকার। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আইনানুসারে কাজ করা এবং সরকারের ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সরকার এমন সময় দায়িত্ব নিল, যখন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সীমাহীন দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত অর্থনীতিতে বিরাট ক্ষত রয়ে গেছে। ফলে দুর্বল শাসন কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার তাদের লক্ষ্য পূরণে কতটুকু সক্ষম হবে, সেটি দেখার বিষয়।
এদিকে সরকার গঠনের পর গতকাল বুধবার প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও যে যার দপ্তরে যান এদিন। এরপর তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার একপর্যায়ে নিত্যপণ্যের দাম নাগালে রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোসহ আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারের একাধিক মন্ত্রী জানান, মূলত ছয় মাসের ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ প্রণয়ন করা হবে। তবে সরকারের প্রথম ১০০ দিনে কী কী কাজ করা হবে, তারও একটি রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীলরা বলছেন, প্রথম একশ দিন মূলত ‘রাষ্ট্র মেরামতের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময়। এই সময়ে বড় কোনো অবকাঠামোগত প্রকল্পের চেয়ে নীতিনির্ধারণী সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে।
গতকাল রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদের সময়কালের দুর্নীতি-দুঃশাসনে পর্যুদস্ত একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ করছে। দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি-নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অথবা জোরজবরদস্তি নয়; আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।’
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। নতুন সরকার কীভাবে তার প্রথম ১০০ দিনে পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা চলছে। কেননা, দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি, শিক্ষার উন্নয়ন এবং সুশাসনের রূপরেখা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি নতুন সরকারের জন্য অন্যতম প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে বেশকিছু বিষয়ের কথা আগেই জানিয়েছেন। ‘ন্যায্য, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নই নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক লক্ষ্য। প্রায় চার বছর আগে রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন তারেক রহমান। সেটিই পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী ইশতেহারে বিস্তৃত আকারে সন্নিবেশ করা হয়। যার মূলমন্ত্র হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ভোটকেন্দ্রিক এমন প্রতিশ্রুতির আলোকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রশাসনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সংবিধাননির্ভর শাসন, গণভিত্তিক কল্যাণ কর্মসূচি এবং জনস্বার্থমুখী অর্থনীতি গড়া প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষা পরিব্যাপ্তির প্রতিও নিবিড় মনোযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। মূলত, শিক্ষা ও দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের প্রাধান্য বিএনপির ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সব পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষি কার্ড প্রদানের পাশাপাশি তরুণদের জন্য চাকরি-সংস্থান সৃষ্টির ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপির স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার বাইরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সুশাসন ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার; সংবিধান সংস্কার কমিশন; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখা; দুর্নীতি বন্ধ ও মানবাধিকার রক্ষা; প্রধানমন্ত্রী পদে সময়সীমা কার্যকর; দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা; সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং নিত্যপণ্যের সরবরাহ চেইন সচল করা; নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং এর মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সহায়তা প্রদান; খেলাপি ঋণ আদায়ে টাস্কফোর্স গঠন এবং ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে স্বাধীন কমিশন; শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদে বেকার ভাতা প্রদানের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করা।
আরও রয়েছে তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত করা। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন। প্রবাসীদের জন্য ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু এবং বিদেশে কেউ মারা গেলে মরদেহ সরকারি খরচে দেশে আনার প্রক্রিয়া সহজ করা। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়াও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মধ্যে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের ডিজিটাল সরঞ্জামের আওতায় আনাসহ সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পর্যায়ক্রমে ‘হেলথ কার্ড’ চালু করা হবে। এ ছাড়া সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সেল গঠন।
গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, মোটামুটি প্রথম দিনে কেবিনেট মিটিং করতে হয়। আমরা কেবিনেটের সবাই বসেছিলাম, ওখানে উপদেষ্টারাও ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী আমাদের উদ্দেশে কিছু বক্তব্য দিয়েছেন, অনুশাসনও দিয়েছেন। সাধারণত এটা হয় যে প্রথম ১০০ দিনে কী কী প্রায়োরিটি আছে, তা নির্ধারণ করা। তবে আমরা ১৮০ দিনের প্রায়োরিটি নির্ধারণ করেছি। সেটা আরও পরে আপনারা জানতে পারবেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ গতকাল কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা নতুন সরকার হিসেবে মাত্র দায়িত্ব নিয়েছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। আমাদের কার্যক্রম দ্রুত এগোবে বলে বিশ্বাস করি।’ তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার হিসেবে আমাদের প্রথম কাজ হলো রোজার মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে মানুষের ভোগান্তি না হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে আপাতত মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। দুর্নীতিকে সহ্য করা হবে না। ইনশাআল্লাহ আমাদের ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা সফল হবো।’
বিশ্লেষক অভিমত, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক কালবেলাকে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে যে ব্যবধান ঐতিহাসিকভাবে বিদ্যমান, সেটি একটি বাস্তব সত্য। বিএনপির আগামী ১০০ দিনের যে কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর কিছু অংশ বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও সবকিছুই এই স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো মূলত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভরশীল। এই মুহূর্তে প্রশাসনে সততা ও দক্ষতা আনতে পারলে এবং বাজার ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি বসাতে পারলে ১০০ দিনের মধ্যে এর সুফল পাওয়া যেতে পারে।
এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা এবং বেকারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। একটি নতুন ভাতাভোগী তালিকা প্রণয়ন বা কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন, যা মাত্র সাড়ে তিন মাসে বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। তবে সরকারের আন্তরিকতা, সুশীল সমাজ ও প্রশাসনের সহযোগিতা থাকলে এই সময়ের মধ্যে কিছু মাইলফলক স্থাপন করা সম্ভব। যেমন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জরুরিভিত্তিতে কিছু আইনি সংস্কারের উদ্যোগ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রাথমিক সাফল্য অর্জন করা যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত ১০০ দিনের অগ্রাধিকার নির্ধারণী এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ এবং সৎ অভিপ্রায়, যা জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মো. শামীম কালবেলাকে বলেন, নতুন সরকার ১০০ দিনের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি এবং সরাসরি উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেখাতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, শাসনতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, নীতি সমন্বয় এবং জনমত গ্রহণযোগ্যতায় প্রথম পর্যায়ের সফলতা-পরবর্তী রূপান্তরকে সুসংহত করে। এ সময়ে শিক্ষা-দক্ষতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার রূপরেখা এবং ইশতেহারকে বাস্তবায়িত করার জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা দরকার।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের প্রথম একশ দিনই হতে পারে সূর্যের হাসির মতো উজ্জ্বল। সুনির্দিষ্ট দক্ষতা, শিক্ষা ও সুশাসন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার প্রতিফলনে জাতীয় অগ্রগতির নতুন পথ প্রশস্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমান সময়কে সংবেদনশীলতা, জবাবদিহি ও দূরদর্শিতার মাপকাঠিতে সফল করতেই হবে। রাষ্ট্রের সব স্তরে সর্বোচ্চ সততা ও দায়িত্বশীলতা হবে প্রাথমিক প্রতিশ্রুতির সফলতা। যার বাস্তবায়নই হবে নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ সময়ের দিকদর্শন।
এমএন
জাতীয়
আবেগ দিয়ে নয়, সংবিধান ও আইন অনুযায়ীই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হতে হবে সংবিধান ও আইন—কোনো আবেগ বা খেয়ালি সিদ্ধান্ত নয় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দাঁড়িয়ে এমনই এক নীতিগত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র কোনো আবেগীয় তাড়নায় পরিচালিত হয় না; বরং এটি চলে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো ও সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী। বিরোধী দলের সাম্প্রতিক কিছু দাবি এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিরোধী দলীয় নেতার বিভিন্ন বক্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। বিশেষ করে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে যে ‘আরোপিত আদেশের’ কথা বলা হচ্ছে, সেটিকে তিনি আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিহিত করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আমরা একটি সাংবিধানিক কাঠামোতে কাজ করছি। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করলে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট যে, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন করার কোনো সুযোগ বা এখতিয়ার নেই। যারা একে আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করতে চাইছেন, তারা কি আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অজ্ঞ, নাকি জেনেবুঝেই সংবিধান লঙ্ঘনের উসকানি দিচ্ছেন?’
তিনি আরও যোগ করেন, জনরায়ের প্রতি সরকারের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু সেই রায়কে বাস্তবে রূপ দিতে হলে অবশ্যই সাংবিধানিক পথ অনুসরণ করতে হবে। কোনো ‘অবৈধ আদেশের’ মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে আঘাত হানা সম্ভব নয়।
অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং বিরোধী দলের ওয়াকআউট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণের সময় বিরোধী দলের অনুপস্থিতিকে তিনি দুঃখজনক হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলীয় বন্ধুরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে চাননি, তারা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছেন।
এটি তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হতে পারে, কিন্তু সংসদীয় শিষ্টাচারের সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা ভাবার বিষয়। মজার ব্যাপার হলো, তারা ভাষণ শুনতে চাননি ঠিকই, কিন্তু আবার সেই ভাষণের ওপর আলোচনার জন্য ৫০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছেন।’
সরকার পক্ষ এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা একে এপ্রিশিয়েট করি। যদি ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হয়, তবে সংখ্যানুপাতে আমরা পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করব যাতে দেশবাসী সত্য জানতে পারে।’
বর্তমান অধিবেশনের ব্যস্ততা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে সংবিধান সংশোধনী বিল আনা টেকনিক্যালি চ্যালেঞ্জিং।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান অধিবেশনে আমাদের ওপর ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির একটি বিশাল আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কাজ হাতে নিয়ে সংবিধান সংশোধনের মতো স্পর্শকাতর বিল উত্থাপন করা এই মুহূর্তে কঠিন। তবে আমরা আলোচনার পথ বন্ধ করছি না।’
তিনি প্রস্তাব করেন যে, আগামী বাজেট অধিবেশনে কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত ও পরামর্শ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই বিল উত্থাপন করা হবে যা আইনিভাবে হবে ত্রুটিমুক্ত।
জুলাই জাতীয় সনদকে একটি ‘ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, সরকার এই সনদের প্রতিটি শব্দের প্রতি দায়বদ্ধ। তবে এই দায়বদ্ধতা পালন করতে হবে সংবিধানকে অক্ষুণ্ণ রেখে।
তিনি একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন: “কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা কি সংবিধানের ওপরে স্থান পেতে পারে?” তার মতে, যেকোনো বড় পরিবর্তন হতে হবে সংসদের মাধ্যমে এবং আইনি বিধিবিধান মেনে। তিনি বিরোধী দলকে আহ্বান জানান, যেন তারা রাজপথের আবেগ নিয়ে সংসদে এসে সংবিধান বহির্ভূত দাবি না তোলেন। বরং কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধান বের করার আহ্বান জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দীর্ঘ বক্তব্যে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে, সরকার সংস্কারের পক্ষে থাকলেও তা কোনোভাবেই সংবিধানকে পাশ কাটিয়ে করতে রাজি নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ‘ইমোশন’ বা আবেগ সাময়িকভাবে জনপ্রিয় হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল রাখতে আইনি কাঠামোর কোনো বিকল্প নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদের এই আহ্বান মূলত বিরোধী দলের প্রতি একটি বার্তা যেখানে তিনি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এবং সংসদীয় আইন অনুসরণ করে রাষ্ট্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এমএন
জাতীয়
সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জামায়াত আমিরের ক্ষোভ
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি জানান, ১০ নম্বর অর্ডার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধিবেশন ডাকার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা এসব কথা বলেন।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি সংবিধান সংস্কারের আইনি বাধ্যবাধকতা ও বর্তমান স্থবিরতা তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১০ নম্বর অর্ডারে পরিষ্কার বলা হয়েছে- সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে যে পদ্ধতিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়, অনুরূপ পদ্ধতিতে পরিষদের প্রথম অধিবেশনও আহ্বান করতে হবে। আজ সেই ৩০তম দিন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী সংসদ আহ্বান করেন। আমরা ধরে নিচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই হয়ত রাষ্ট্রপতি এটি আহ্বান করবেন, কিন্তু সময় পার হয়ে যাচ্ছে।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা একইসঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা এই সুযোগটি কাজে লাগাতে চাই। বিধি অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের পর আমরা বিরোধীদলীয় ৭৭ জন সদস্য নির্ধারিত তফসিলে স্বাক্ষরও করেছি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এরপরই পরিষদের কার্যক্রম সমাপ্ত হবে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগে তো শুরু হতে হবে, তারপর সমাপ্তির প্রশ্ন। আমরা পৃথক ব্যালটে সংস্কারের জন্য ভোট নিয়েছি। এখন এই পরিষদ গঠন ও অধিবেশন আহ্বান করা আইনি বাধ্যবাধকতা।
এমএন
জাতীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন শেষে স্পিকার এ মুলতবি ঘোষণা করেন।
স্পিকার বলেন, সংসদর বৈঠক আগামী ২৯ মার্চ (রোববার) বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হলো। আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ। সবাইকে আগাম ঈদ মোবারক জানান স্পিকার।
জানা গেছে, এই প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং তার ওপর প্রায় ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশগুলো নিয়েও আলোচনা হবে।
উল্লেখ্য, রোববার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীর বিক্রম) সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়েছিল।
এমএন
জাতীয়
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ‘এক ছাতা’ নীতি, বড় সংস্কারের পথে সরকার
দেশের প্রান্তিক মানুষের জন্য পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও সমন্বিত করতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে সরকার। এখন থেকে বিভিন্ন খাতের সুবিধাভোগীদের একটি সমন্বিত পদ্ধতির আওতায় বা ‘এক ছাতার নিচে’ নিয়ে আসা হবে।
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন অনুপস্থিত থাকায় প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামক একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো ক্রমান্বয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে সব সুবিধাভোগীকে একটি সুনির্দিষ্ট পরিবারের আওতাভুক্ত করা। এতে একজন ব্যক্তি বা পরিবার কয়টি খাত থেকে সুবিধা পাচ্ছে, তা সহজেই চিহ্নিত করা যাবে এবং ডুপ্লিকেট সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া সম্ভব হবে।’
ভাতা বিতরণে মাঠপর্যায়ের নানা অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফারজানা শারমীন বলেন, “ভাতা সরবরাহের সময় অনেকের কাছে টাকা দাবি করার মতো খবর আমরা পাচ্ছি। এটি স্পষ্টতই একটি দুর্নীতি। বর্তমান সরকার বিতরণ কার্যক্রমকে শতভাগ স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি দরিদ্র মানুষ যেন তাদের প্রাপ্য অধিকারটুকু কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই পায়, সেটি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুকের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বিগত শাসন আমলের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সরকারি সুবিধার তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। আমাদের হাতে থাকা বিদ্যমান তালিকাটি বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। নীতিমালা সংশোধন করে কেবল প্রকৃত যোগ্য ও অভাবী মানুষদেরই এই নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হবে।’
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন স্বীকার করেন যে, অতীতে তালিকা প্রণয়নে চরম স্বজনপ্রীতি করা হয়েছিল। তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছি। অযোগ্যদের বাদ দিয়ে যারা প্রকৃতপক্ষেই ভাতার দাবিদার, তাদের অন্তর্ভুক্ত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
সংসদের দ্বিতীয় দিনের এই আলোচনা থেকে এটি পরিষ্কার যে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে চাইছে বর্তমান সরকার। ‘এক ছাতা’ নীতি এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় কমবে এবং প্রকৃত দরিদ্র মানুষ উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এমএন
জাতীয়
নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপ নেবে সরকার: জুবাইদা রহমান
দেশের নারীদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপ নেবে সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পত্নী ডাক্তার জুবাইদা রহমান।
রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “যে জাতির নারীরা এগিয়ে যায়, সেই জাতি এগিয়ে যায়। বর্তমান সরকার কন্যাশিশুর অধিকার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপও নেবে সরকার।”
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে যেখানে নারী নেতৃত্ব গড়ে উঠবে ভবিষ্যত বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে নারী উন্নয়নের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি নারী বিষয়ক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন এবং আনসার-ভিডিপিতে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। এছাড়া নারীদের প্রথম কোটা দিয়েছিলেন ২০ শতাংশ। এর ফলেই বর্তমানে মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের ৬২ শতাংশ নারী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অবৈতনিক পড়াশোনা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিকার সবার। গণতন্ত্রের লেবাসেও স্বৈরাচার হয়। যা আমরা বিগত সরকারের আমলে দেখেছি। আমরা এতদিন অধিকার হারা হয়েছিলাম। তাই এখনও কথা বলতে হয় নারী অধিকার নিয়ে।’
নরসিংদীর ধর্ষণের মতো ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি অন্যান্য দেশের দিকে তাকাই, সভ্য সমাজের কালো দিকটা আমরা দেখি না। গণমাধ্যমের কারণে সেগুলো আমাদের সামনে আসে। আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে নারীর অধিকার নিয়ে আলাদা করে কথা বলতে হবে না।’
এমএন




