রাজনীতি
নির্বাচনের পরিবেশ আশাব্যঞ্জক: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ বেশ আশাব্যাঞ্জক মনে হচ্ছে। কারণ যারা কিছুদিন আগেও বলতেন এটা না হলে নির্বাচন হতে দেব না, সে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলো কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তারা ইতোমধ্যেই তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে ও নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। সেই দলগুলো এখন নির্বাচন প্রক্রিয়াতে নেমে পড়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে সিলেটের একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গুটিকয়েক মহল এখনো এর বিরুদ্ধে কাজ করার চেষ্টা করছে ও তারা কিছু আন্দোলন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আমি মনে করি না যে, তারা তাদের সেই লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে। কারণ আমরা দেখতে পাচ্ছি, সবাই নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। কিছু মহল এখনো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করলেও সেটা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর থেকে গত এক বছরে দেশে ভয়ঙ্কর একটা কালচারের শুরু হয়েছে। যেটা হচ্ছে মব ভায়োলেন্স। মবোক্রেসি যেটা গণতন্ত্রকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এখান থেকে সচেতনভাবে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে ও এর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সেটা সম্ভব একমাত্র একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যদি আমরা চালু করতে পারি ও সুষ্ঠ নির্বাচন করতে পারি তাহলে।
পরে আবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হলেও এটি এখন কার্যত একটি কেয়ারটেকার সরকার থেকে পূর্ণাঙ্গ সরকারের রূপ নিয়েছে। এ সরকারের পেছনে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নেই, এমন কথা কেউ কেউ বললেও, তাদের যে সংস্কারমূলক উদ্যোগ ও সনদ বাস্তবায়নের কাজ তারা করেছে, সেজন্য অবশ্যই তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে।
দুয়েক দিনের মধ্যে তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হচ্ছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে এই পদটি শূন্য রয়েছে। তার শুন্যতা পূরণে তারেক রহমানকেই এই পদে বসানো হবে।
নির্বাচনের প্রচারণা শুরু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবারের মতো সিলেট থেকেই এবারও নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করবে বিএনপি।
তিনি বলেন, এ নির্বাচন শুধু আমাদের কাছে নয় জাতির জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন এই জাতি তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গণতন্ত্রের পূর্ব শর্ত হচ্ছে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটা নির্বাচিত পার্লামেন্ট গঠন করা ও সেই পার্লামেন্টের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন করা, যারা দেশের সত্যিকারার্থেই একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।
নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন তার পথে এগিয়ে চলছে। সবার সহযোগিতায় কমিশন নির্বাচন বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রাজকীয়ভাবে প্রস্থান করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। আগামীতে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ ছিল খালেদা জিয়ার স্বপ্ন, সেটি গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচন সঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও আমাদের নেতা তারেক রহমানের লন্ডনে বৈঠকের পর থেকেই বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সরকার এখনও সেই পথেই হাঁটছে।
কিছু কিছু আসনে দুজন করে প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মূলত বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রাখা হয়েছে। আমরা প্রায় ১০–১২টি আসনে এই ব্যবস্থা করেছি। কারণ কয়েকটি আসনে ব্যাংক ক্লিয়ারেন্স বা মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে শঙ্কা ছিল। সেই কারণে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে।
তারেক রহমানের সিলেট সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণত বড় রাজনৈতিক দলগুলো সিলেট থেকেই নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করে থাকে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানও সিলেট থেকেই প্রচারণা শুরু করবেন বলে আমরা আশা করছি।
চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিএনপি প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের প্রার্থীরা নিজেরা অত্যন্ত সচেতন ও সজাগ। তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই যতটা সম্ভব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।
জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে আমাদের অবস্থান খুব পরিষ্কার। আমরা নির্বাচনের দিনেই গণভোট চেয়েছি ও যেসব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলোর ওপরই গণভোট হবে। জনগণ সেখানে তাদের মতামত প্রকাশ করবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল ও খুলনা অঞ্চলে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর ওপর হামলার ঘটনাগুলো অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এসব বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি।
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি এইটুকুই বলতে চাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বিএনপির নেত্রী নয়, তিনি ছিলেন সমগ্র বাংলাদেশের নেত্রী। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি তার সমস্ত জীবনটাই উৎসর্গ করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটাই হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য যেন সংগ্রাম করা। সে সংগ্রাম তিনি করেছেন এবং সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন। বেগম জিয়ার চলে যাওয়াটা হয়েছে একটা রাজকীয় চলে যাওয়া। এদেশের মানুষ যে তাকে কত ভালোবাসতো তার প্রমাণ আমরা দেখেছি। ৩০ তারিখে তার জানাজার মধ্য দিয়ে আমরা সেটা লক্ষ্য করেছি।
তিনি বলেন, আজকের এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। এই সময়টা আমাদের জাতির জীবনে একটা কান্তিকালের মত। আমরা যদি নির্বাচন করতে গণতন্ত্রে ফিরে যেতে না পারি জাতিগতভাবে আমরা ফেল করব। সুতরাং আমাদেরকে অত্যন্ত সাবধানে পা ফেলতে হবে। আমাদের কোন প্রভোকেশনে পা দেওয়া উচিত হবে না। আমাদের এমন কোন কাজ এমন কোন রাজনৈতিক কাজ করা ঠিক হবে না যে সমস্ত কাজগুলো আমাদের এই উদ্দেশ্যকে ব্যহত করতে পারে।
এমকে
রাজনীতি
তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকে কালো হাত বাড়ানো হচ্ছে: বিরোধীদলীয় নেতা
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে পরিবর্তন এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এখন ধীরে ধীরে তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকেও ‘কালো হাত’ বাড়ানো হচ্ছে।
এটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একজন ঋণ খেলাপিকে পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন তফসিলি ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকেও ‘কালো হাত’ বাড়ানো হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
‘এখন আস্তে আস্তে তফসিলি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর দিকে কালো হাত বাড়ানো হচ্ছে। ব্যাংক কোনো দলের সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের’—বলে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের আমানত রক্ষায় সবাইকে ‘পাহারাদারের ভূমিকা’ পালন করতে হবে।
আজ শুক্রবার সকালে ঢাকার মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার অধ্যাদেশগুলো সংসদে আনা এবং চলমান জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারকে ‘ভুল থেকে বেরিয়ে আসার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, স্পিকার সংসদের প্রথম দিনে নিজেকে নিরপেক্ষ রাখার কথা বললেও বাস্তবে বিরোধী দল সেই নিরপেক্ষতা পায়নি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তারা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করতে বাধ্য হয়েছেন এবং বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির কথা থাকলেও অধিকাংশই আলোচনায় আনা হয়নি। কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে সব অধ্যাদেশ সংসদের টেবিলে আনার বিষয়ে সম্মতি থাকার পরও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি এবং আলোচ্য সূচিতে মাত্র একটি বিষয় রাখা হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এসব অধ্যাদেশের মধ্যে দুদক পুনর্গঠন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার, গুম প্রতিরোধ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া হলেও সেগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংসদে বিতর্কের সময়সীমা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, ‘দুই মিনিটে কোনো পার্লামেন্টারি ডিবেট হয় না, দুই মিনিটে কমেন্ট পাস করা যায়।’ পরে সময় কিছুটা বাড়ানো হলেও তা যথেষ্ট ছিল না এবং সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যাংকিং খাত নিয়ে বিস্তারিত উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে ব্যাংক থেকে ‘লাখ লাখ কোটি টাকা’ লুট হয়ে বিদেশে পাচার হলেও তা উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এসব অর্থ উদ্ধার এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য প্রণীত উদ্যোগও আটকে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের বক্তব্যে অসঙ্গতির অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, একদিকে সরকার বলছে জ্বালানির সংকট নেই, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং এবং জ্বালানির জন্য মানুষের ভোগান্তি বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
তার মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প কারখানা ফার্নেস অয়েলের অভাবে ঝুঁকিতে পড়ছে এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির কারণেও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে, তবে অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও নীতিগত ভুলে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। তিনি সরকারকে জাতীয় স্বার্থে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোনোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে এবং যেসব সংস্কার অধ্যাদেশ আনা হয়েছিল, সেগুলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিল আকারে সংসদে উপস্থাপন করতে হবে। ‘ভুল মানুষ করতে পারে, কিন্তু সেই ভুল থেকে বের হয়ে আসতে হবে’—বলে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি সতর্ক করেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
এছাড়া জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘দেশের চেয়ে দল বড়—এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে।’ সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।
রাজনীতি
আগামীর ফ্যাসিজম হবে আরও ভয়াবহ, শঙ্কা জামায়াত আমিরের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গণভোটের গণরায় অস্বীকার করার মধ্য দিয়েই নতুন ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামীর এই ফ্যাসিবাদ অতীতের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নেবে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘জেলা আমির সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি নিরপেক্ষ বডি গঠনের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হলেও তা ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে দলীয় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দলীয় ভিত্তিতে বিচারক নিয়োগের ফলে বিচারপতি খায়রুল হক, বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক এবং শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ বিচারপতি এনায়েতুর রহিমের মতো ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ধরনের নিয়োগের কুফল দেশবাসী ভোগ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) গঠনের অধ্যাদেশও ঠেকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদের চেয়ে আগামীর ফ্যাসিবাদ আরও ভয়াবহ হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সংসদ ও সংসদের বাইরে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা উচিত ছিল। কিন্তু সে ধরনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বরং বলা হচ্ছে দেশে তেলের কোনো সংকট নেই, কিছু লোক তেল মজুত করে চোরাই পথে বিক্রি করছে। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি সরকারের ব্যর্থতা উল্লেখ করে বলেন, এতে ভুক্তভোগী মানুষের কষ্ট আরও বাড়ছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, জনগণ কি জানে না কোথা থেকে তেলের ড্রাম উদ্ধার হচ্ছে? জ্বালানি সংকট না থাকলে প্রতিদিন ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং কেন হচ্ছে— সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। এসব বক্তব্যকে তিনি পরস্পরবিরোধী ও মিথ্যাচার বলে উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক যত প্রতিষ্ঠান আছে, সব ধ্বংসের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ক্রিকেট বোর্ডের মতো একটি প্রতিষ্ঠানেও লোভ সামলাতে পারেনি। সেখানে কেউ বাপের তালিকায়, কেউ স্বামীর তালিকায়, কেউ অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিল আর তিনি ছিলেন ভাইয়ের তালিকায়। এভাবে ক্রিকেট বোর্ডটিকে পর্যন্ত দলীয়করণ করে ফেলা হয়েছে। সিভিল প্রশাসনে যে লোকগুলো সৎ ও দক্ষ, তাদের ডাম্পিং প্লেসে ওএসডি করা হচ্ছে অথবা কোনো খারাপ জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাদের মেধা থেকে জনগণকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং তাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে। সব দিকেই একটি মহা নৈরাজ্য তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের দ্রুত পরিবর্তন করা হচ্ছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে এবং মানবাধিকার কমিশন পদত্যাগ করে খোলা চিঠি দিয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিচারকদের স্বাধীন বলা হলেও তাদের ওপর হস্তক্ষেপ করে ২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে। অথচ তারাই বলে বিচারকরা স্বাধীন। যদি তারা স্বাধীনই হয়ে থাকে, তাহলে তাদের ওপর আপনারা ছড়ি ঘোরান কেন?
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও হেলথ কার্ড বিতরণ করা হলেও এসব কার্যক্রমে দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। তিনি একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, এক বিধবাকে কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার জীবন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। দেশে চাঁদাবাজির হার দিন দিন বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত চাঁদার কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকার দুর্নীতি দমন করার কথা বললেও বাস্তবে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে এবং সমাজের সৎ মানুষদের নীরব করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ভুলের মধ্যে রয়েছে এবং তাদের উচিত সেই ভুল থেকে বেরিয়ে আসা। তিনি গণভোটের ফলাফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে, তবে জনগণের ওপর ফ্যাসিবাদ কায়েমের কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
রাজনীতি
জুলাই সনদ পাশ কাটানোর সুযোগ দেওয়া হবে না: এটিএম আজহার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং তা হতে দেওয়া হবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দিয়ে যারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, তারা যদি সেই আত্মত্যাগের সঙ্গে বেইমানি করেন, তাহলে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের কাউন্সিল হলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত হজযাত্রীদের গাইডলাইন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, অস্ত্র ও পেশিশক্তি দিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখা যায় না। ছাত্র-জনতার স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর মতো ত্যাগ অন্য কোনো দল স্বীকার করেনি। দলের শীর্ষ ১১ জন নেতাকে ‘বিচারিক হত্যা’ করা হয়েছে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য অসংখ্য নেতাকর্মী রাজপথে জীবন দিয়েছেন।
নিজে ফাঁসির মঞ্চ থেকে আজ জনতার মঞ্চে এসেছেন উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্য বলেন, শাহাদাতের তামান্না লালন করেই তিনি সামনের সারিতে থেকে জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন। এ সময় তিনি হজ যাত্রীদের কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, ‘আল্লাহর পবিত্র ঘরে গিয়ে দোয়া করবেন, যাতে বাংলাদেশে দ্বীন কায়েমের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হয়।’ তার মতে, ইসলামী শাসনব্যবস্থা ব্যতীত অন্য যত তন্ত্রমন্ত্র আছে, সবই স্বৈরতন্ত্র।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য আল্লাহ হজ ফরজ করেছেন। একইভাবে জমিনে দ্বীন কায়েম করাও ফরজ। ঈমান আনার সঙ্গে সঙ্গে নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজের মতো অন্য সব বিধানকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এমপি বা মন্ত্রী হওয়া বড় কোনো সফলতা নয়। জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাত লাভ করাই প্রকৃত সফলতা। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে আল্লাহর বিধান পালনে জান ও মাল কোরবানি করতে হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, ইসলামিক স্কলার মুফতি আলী হাসান ওসামা এবং পল্টন বটতলা মসজিদের খতিব মাওলানা জাকারিয়া নুর।
এ সময় হজযাত্রীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন মাওলানা এমদাদুল্লাহ, আমির হামজা ও শাহ মুহাম্মদ ফয়সাল। অনুষ্ঠানে হজ গাইডলাইন বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল হক তানভীর।
এমএন
রাজনীতি
রাজধানীতে জামায়াতের বৈশাখী শোভাযাত্রা
বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজধানী ঢাকায় বৈশাখী শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ব্যানারে এই শোভাযাত্রাটি করা হয়। এটি প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্কে গিয়ে শেষ হয়।
নারী, শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ও পেশার মানুষ অংশ নেন এই শোভাযাত্রায়। দেশীয় সংস্কৃতির নানা উপাদান যেমন, মাছ ধরার পলো, ঢেঁকি, খেওয়া জাল ও কুলার উপস্থিতি ছিল এতে। বাঙালিয়ানার সাজ-পোশাকে চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি ছিল শিশুদের। দেশাত্মবোধক, জারি, সারি ও ভাটিয়ালি গানে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
শোভাযাত্রার আগে একটি সমাবেশ হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, দেশীয় সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পশ্চিমা ও বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
হারানো সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা। পাশাপাশি বাঙালির প্রকৃত চেতনা জাগ্রত করার কথাও বলেন তারা। তবে সমাবেশে এমন সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়, যা ইমান ও আকিদার ক্ষতি করে বা ইসলামী শরিয়ার বিরুদ্ধে যায়।
শোভাযাত্রায় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ রাজধানীর নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
রাজনীতি
মান্ডায় জামায়াতের উদ্যোগে ১৮ শিশুর বিনামূল্যে সুন্নাতে খতনা সম্পন্ন
রাজধানীর মুগদায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ১৮ জন শিশুর বিনামূল্যে সুন্নাতে খতনা সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৯টায় ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের মান্ডা এলাকায় মুগদা পূর্ব থানা জামায়াতের কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নাহ অনুসরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুগদা পূর্ব থানা আমির ও কাশবন ওয়েলফেয়ার সোসাইটির চেয়ারম্যান মাওলানা ইসহাক। তিনি আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা ইসহাক বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে ইসলামের সৌন্দর্য ও নবীদের সুন্নাহর কোনো বিকল্প নেই। মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী যাবতীয় মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
থানা সেক্রেটারি প্রভাষক ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন থানা কর্মপরিষদ সদস্য ওসামা মুন্সি সুরুজ, শহীদুল ইসলাম শহীদ ও মুজিবুর রহমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
খতনা শেষে শিশুদের সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।



