অর্থনীতি
অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সোনার সর্বোচ্চ দাম
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভালো মানের সোনার দাম বেড়ে দুই লাখ ২২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সোনার দাম।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন দাম মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার দাম (পিওর গোল্ড) বাড়ায় বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
তবে মূল কারণ হচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছাড়িয়েছে ৪ হাজার ৪০০ ডলার।
নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম এক লাখ ৫১ হাজার ৩৯৯ টাকা।
সোনার দামের সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা।
এমকে
অর্থনীতি
ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও রিজার্ভ ও আমদানি নিয়ে উদ্বেগ নেই: গভর্নর
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অভিঘাত, আগামী কয়েক মাস পর্যন্ত সামাল দিতে পারবে বাংলাদেশ। কারণ জ্বালানির দাম বাড়লেও বাড়তি আমদানি ব্যয় মেটাতে দেশের পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
রোববার (২৯ মার্চ) জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় নবনিযুক্ত গভর্নর দেশের বৈদেশিক খাতের অবস্থান নিয়ে সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে মুদ্রানীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে সুদের হার কমানো এ মুহূর্তে ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ হবে এবং স্বল্পমেয়াদি প্রবৃদ্ধির চেয়ে মূল্যের স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
গভর্নর আর্থিক খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও দেন, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের অংশ।
সভায় ডেপুটি গভর্নররাও একই ধরনের মতামত তুলে ধরেন। ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা কয়েক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট।
তিনি বলেন, এছাড়া জুনের মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে, এবং ব্যালান্স অব পেমেন্টে চাপ কমাতে আরও ২ বিলিয়ন ডলারের একটি ক্রেডিট লাইন নিশ্চিত করার কাজ চলছে।
গভর্নর জানান, সরকার প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সরাসরি অনুদানের মাধ্যমে কম দামে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বিভিন্ন দেশ সফর করছেন।
এছাড়া অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছে বলে জানান গভর্নর।
তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অর্থনীতিতে বেশকিছু ঝুঁকি বা মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ সৃষ্টিরও আশঙ্কা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা।
ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের (অপরিশোধিত তেল) দাম যখন ৬২-৬৫ ডলারে ছিল, তখন জ্বালানি আমদানিতে বছরে ব্যয় হতো ১০.৫ বিলিয়ন ডলার। এখন দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, আমদানি ব্যয়ও সে তুলনায় বাড়বে।
তিনি বলেন, এক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা পেলে এই বাড়তি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
গভর্নর মোস্তাকুর জানান, দীর্ঘমেয়াদি জিটুজি (সরকারের সঙ্গে সরকারের) চুক্তির আওতায়, বাংলাদেশ যেসব ফুয়েল (জ্বালানি) আমদানি করে, সেগুলো চুক্তিতে থাকা দরেই আমদানি হয়। এসব অপরিহার্য আমদানি যাতে অব্যাহত থাকে, সেজন্য সরকারের প্রচেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন জানান, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বিপুল সংখ্যক শ্রমিক চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরতে পারে। এতে রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি এসব বেকার শ্রমিকদের অন্ন, বস্ত্র সংস্থান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির চাপে পড়বে দেশ।
তিনি বলেন, আইএমএফ জ্বালানিতে ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করতে সরকারকে শর্ত দিলে, বাংলাদেশকে তা মানতে হবে। তখন মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে যেতে পারে।
কঠিন শর্ত হলেও আইএমএফ এর ঋণ না নিলে বিশ্বব্যাংক, এডিবি থেকে ঋণ পাওয়া যাবে না বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারা।
ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেন চৌধুরী বলেন, জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক দর দীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকলে সরকারের ওপর বাড়তি ভর্তুকির চাপ সৃষ্টি হবে, যা বিদ্যমান রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতিতে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।
ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদ জানান, প্রতিবছর বর্ষাকালে আমদানির চাপ কম থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ বিল্ড আপ করে। এবছরও বর্ষাকালে আমদানির চাপ কম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা রিজার্ভ ও এক্সচেঞ্জ রেট (বিনিময় হার) স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অগ্রাধিকার তুলে ধরে গভর্নর মোস্তাকুর জানান, ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টরকে (আর্থিক খাত) রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা প্রথম অগ্রাধিকার। দ্বিতীয় অগ্রাধিকারে রয়েছে স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি (পাচার সম্পদ পুনরুদ্ধার) করা, এজন্য দু-একদিন পর পর মিটিং হচ্ছে। বেশিরভাগ ব্যাংক এনডিএ (নন-ডিজক্লোজার এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করেছে, বাকিরাও করবে।
জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ বা তার বেশি না হলে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ৬০০ কোটি টাকার স্টার্ট আপ ফান্ড থেকে আগামী জুনে ঋণ বিতরণ শুরু হবে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার জন্য রুরাল (গ্রামীণ) অঞ্চলে চাহিদা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে বা তার আগে বন্ধ হওয়া কারখানাগুলো চালু করতে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরকে ডিসেন্ট্রালাইজড করার চেষ্টা করছি। বিশেষত কৃষিভিত্তিক শিল্প ও কৃষি প্রযুক্তিতে বাড়তি ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এসএমইখাতের জন্য একটি সাবসিডাইজ ফান্ড গঠনের কথা ভাবছি। রিজার্ভ সেফ জোনে আছে এবং এক্সচেঞ্জ রেটে বড় ধরণের ডেপ্রিসিয়েশন (অবনমন) চাচ্ছি না।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা থেকে সরে আসার সুযোগ নেই জানিয়ে গভর্নর বলেন, এর কার্যক্রম গতিশীল করা হবে। দ্রুতই এমডি ও চেয়ারম্যান নিয়োগ পাবে, এবং নতুন এই ব্যাংকে কোন রাজনৈতিক প্রভাব থাকুক—তা আমি চাই না।
গত বুধবার দেশের বৃহৎ শিল্প গ্রুপগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক সভা করে তাদের সমস্যাগুলো জেনেছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, যেসব সমস্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো সমাধান করা হবে।
আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দেশের আর্থিক লেনেদেনে একটিমাত্র কিউআর কোড থাকবে জানিয়ে গভর্নর বলেছেন, এই বাংলা কিউআর কোড ১ জুলাই থেকে ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হবে। এর মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়বে, যা রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
অর্থনীতি
অবৈধ মজুতদারির বিরুদ্ধে অভিযান, উদ্ধার ২ লক্ষাধিক লিটার জ্বালানি তেল
সারাদেশে অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে সরকার। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মনির হোসেন বলেন, জনগণের মধ্যে এখনও অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বাড়তি তেল কিনে বাসাবাড়িতে মজুত করছেন। এখন পর্যন্ত সারা দেশ থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ আট হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
দেশে জ্বালানি তেলের ব্যাপক মজুতদারি চলছে জানিয়ে মনির হোসেন আরও বলেন, চাহিদার অনুপাতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অথচ জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও দুই কার্গো জ্বালানি তেল বাংলাদেশে আসবে জানিয়ে তিনি বলেন, এছাড়া রাশিয়া থেকে পরিশোধিত ৬ লাখ টন জ্বালানি তেল আনতে সাংশন ওয়েভার দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে সরকার। ঈদের পরদিন ওয়াশিংটনকে এই চিঠি দেয়া হয়। এখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উত্তরের অপেক্ষা করছে সরকার।
এপ্রিলেও জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সংকট হবে না উল্লেখ করে মনির হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি মজুত আছে। এপ্রিলে দেশে কয়েকটি জাহাজে ১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আসবে। এরমধ্যে আজ একটি এবং ৩ এপ্রিল আরেকটি জাহাজ আসবে।
অর্থনীতি
দুই দফা আবারও বাড়ল সোনার দাম, ভরি কত?
দেশের বাজারে গত শনিবার (২৮ মার্চ) এক দিনে দুই দফায় ৬৫৯০ টাকা বেড়েছিল সোনার দাম। সেই হিসাবে আজ সোমবার (৩০ মার্চ) থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা কিনতে হচ্ছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়।
গত শনিবার (২৮ মার্চ) এ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোনার এই দাম সমন্বয় করে।
নতুন দাম অনুযায়ী, সোমবার (৩০ মার্চ) ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে লাগবে দুই লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা।
অপরদিকে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকায় বিক্রি হবে।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দাম দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর থাকবে। তবে বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত পাঁচ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) ও বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ছয় শতাংশ মজুরি যোগ হবে। গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
অর্থনীতি
কর না বাড়িয়ে আওতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : তিতুমীর
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী চার মাসের মধ্যে এর ফল দৃশ্যমান হবে। আমরা একটি ড্যাশবোর্ড চালু করেছি, যেখানে রিয়েল-টাইম ডেটা পাওয়া যাবে।’
তিনি বলেন, ‘এনবিআর এরই মধ্যে তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যারা দিন-রাত কাজ করছে।’
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মধ্যে শঙ্কা ও উদ্বেগ রয়েছে, বিশেষ করে অর্থায়ন নিয়ে।
তবে সরকার দেশীয় পন্থায়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের মাধ্যমে এই কর্মসূচির অর্থায়ন নিশ্চিত করবে।’
রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি চালুর আগে বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতেই সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়েছে এবং এখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ ছিল না, যা অতীতের ভাতা ব্যবস্থায় দেখা গেছে।’
কর অব্যাহতি কমানো প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, ‘দেশে দীর্ঘদিন ধরে এসআরওনির্ভর সুবিধা দেওয়ার একটি সংস্কৃতি ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসা গেছে।
রাজস্ব বাড়াতে তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে—অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় রিবেট কমানো, পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রণোদনা চালু এবং কর ফাঁকি রোধ।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগে বিভিন্নভাবে সুবিধা দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল। এখন আমরা পারফরম্যান্স বেজড ইনসেনটিভে যাচ্ছি। এতে রাজস্ব আয় বাড়বে এবং অর্থনীতিতে শৃঙ্খলা আসবে।’
এনবিআরকে দুই ভাগ করার সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করে সামনে এগোনো হবে বলে জানান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
অন্তর্বর্তী সরকারের আগে একের পর এক তেল-গ্যাসের দাম বাড়ানো হলেও জনগণের সরকার মূল্যস্ফীতির চিন্তা করে এমনটা করবে না বলেও জানান তিনি।
অর্থনীতি
লিড সনদ পেল নতুন ৫টি কারখানা
বাংলাদেশের নতুন পাঁচটি তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানা লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (লিড) সনদ অর্জন করেছে।
এর ফলে, দেশে মোট লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা বেড়ে ২৮০টিতে দাঁড়িয়েছে এবং পরিবেশবান্ধব পোশাক উৎপাদনে বিশ্বসেরা হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এই নতুন সংযোজনের ফলে, বাংলাদেশে এখন ১১৮টি প্ল্যাটিনাম ও ১৪৩টি গোল্ড রেটেড লিড সনদপ্রাপ্ত আরএমজি কারখানা রয়েছে।
এছাড়াও, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে বাংলাদেশের ৫২টি কারখানা রয়েছে, যা টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্প অনুশীলনের প্রতি দেশটির দৃঢ় অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।
শিল্প সূত্র অনুযায়ী, নতুন সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড ইউনিট-৭, ঢাকার সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড, ধামরাইয়ের নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-২, সাভারের উইন্টার ড্রেস লিমিটেড ও চট্টগ্রামের মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড।
এপিক গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং কোং লিমিটেড ইউনিট- ৭.৬৭ পয়েন্ট পেয়ে লিড বিডি+সি: নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪ এর অধীনে গোল্ড সনদ অর্জন করেছে, অন্যদিকে সুরমা গার্মেন্টস লিমিটেড ৭১ পয়েন্ট পেয়ে লিড ও+এম: এক্সিসটিং বিল্ডিং ভি৪-গাই এর অধীনে গোল্ড সনদ অর্জন করেছে।
নাফা অ্যাপারেলস লিমিটেড ইউনিট-০২.৬৫ পয়েন্ট পেয়ে লিড বিডি+সি: নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪ এর অধীনে গোল্ড সনদ পেয়েছে। উইন্টার ড্রেস লিমিটেড ৮৫ পয়েন্ট পেয়ে লিড ও+এম: এক্সজিসটিং বিল্ডিং ভি৪.১-এর অধীনে প্ল্যাটিনাম সনদ অর্জন করেছে ও মেহের গার্মেন্টস লিমিটেড ৮৯ পয়েন্ট পেয়ে প্ল্যাটিনাম সনদ অর্জন করেছে।
শিল্প নেতারা বলেছেন, এই অর্জনটি তৈরি পোশাক খাতে সবুজ প্রযুক্তি, জ্বালানি দক্ষতা ও পরিবেশগতভাবে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গ্রহণে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রমাণ। বর্তমানে সবুজ পোশাক কারখানার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
এই খাতটি টেকসই উন্নয়ন ও বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে ক্রমবর্ধমানভাবে জ্বালানি দক্ষতা, পানি সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং কর্মক্ষেত্রের উন্নত মানের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।



