পুঁজিবাজার
ডিএসইর নিজস্ব প্রযুক্তিতে চালু ‘এসএসএস’, বাড়াচ্ছে কার্যক্রমের স্বচ্ছতা
পুঁজিবাজারে ডিজিটাল রূপান্তরের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই)। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ডিএসই নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ব্যবহার করে “স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম (এসএসএস)” উন্নয়ন করেছে, যা গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি সফলভাবে চালু হয়। এ সিস্টেমের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে সংশ্লিষ্ট ডকুমেন্ট ও প্রকাশনা দ্রুত, নিরাপদ ও রিয়েল-টাইমে জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বাজারে কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও গতি বাড়িয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) নিকুঞ্জের ডিএসই টাওয়ারের মাল্টিপারপাস হলে ডিএসইর স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেমে “রেগুলেটরি সাবমিশন মডিউল ও সিএসই অনবোর্ডিং” আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়৷
ডিএসই’র চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন৷ এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ই্ন্সুরেন্স এবং ক্যাপিটাল মার্কেট উইংসের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদ কুতুব, ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, বিএসইসির প্রধান হিসাব রক্ষক খায়রুল আনাম খান, বিএপিএলসির নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. কায়ছার হামিদ, ডিএসই পরিচালকবৃন্দ, ফিনান্সিয়াল কাউন্সিল রিপোর্টিংয়ের নির্বাহী পরিচালক নাবিল জে আহমেদ, আইসিএবি’র উপ-পরিচালক নাজমুল হুদা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাদি হাসান, ডিএসই’র প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আসাদুর রহমান এবং ডিএসই’র প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান ।
ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আসাদুর রহমান এফসিএস স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমাদের ডিজিটাল সাবমিশন সিস্টেমের ভিত্তি ২০২৪-এর অনেক আগে থেকেই তৈরি হয়েছে। আজ এতে সিএসই’র অনবোর্ডিংয়ের মডিউলসহ নতুন ফিচার সংযোজন করা হয়েছে, যা ডিএসই’র ডিজিটাল সক্ষমতার পরবর্তী ধাপ এবং পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের যাত্রার ধারাবাহিকতা। চাইনিজ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর প্রযুক্তিগত সহযোগিতা শুরু হয়, যার ধারাবাহিকতায় এই সিস্টমে তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, এই সিস্টেমের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বাজার-সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা নিজ নিজ অফিস থেকেই অনলাইনে ডকুমেন্ট সাবমিট করতে পারবেন, কোনো ফিজিক্যাল ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে না। এতে বাজার পরিচালনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বাড়বে। এই সিস্টেমটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে (এক্সবিআরএল) চালু করতে সহায়ক হবে। ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যেই ডিএসই’তে ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সার্ভিসে রূপ দিতে আমরা অভিজ্ঞ কর্মীদের প্রশিক্ষিত করেছি। পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যেই ডিএসই’র ওয়েবসাইটের আধুনিক ল্যান্ডিং পেজ উন্মোচনের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে, যা শিগগির সবার সামনে উপস্থাপন করা হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ডিএসইকে রেগুলেটরী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একটি আধুনিক, সেবাধর্মী ও গ্রাহক-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডিএসই’র প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. মো. আসিফুর রহমান বলেন, ডিএসই স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেমের দ্বিতীয় পর্যায় ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। নতুন সিস্টেমটি ডিএসই স্টেকহোল্ডারদের নথি জমা দেওয়ার জন্য একটি একক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে এবং ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার জটিলতা ও ত্রুটি কমাবে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে, জাভা মাল্টি-টায়ার আর্কিটেকচার, স্প্রিং বুট, জাভাস্ক্রিপ্ট, পোস্টগ্রেএসকিউএল এবং পাওয়ারবিআই ব্যবহার করে এজাইল স্ক্রাম পদ্ধতিতে সিস্টেমটি বিকাশ করা হয়েছে। সিস্টেমটি ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়া স্ট্রিমলাইন করবে, যোগাযোগ সহজ করবে এবং প্রশাসনিক বোঝা কমাবে। ডিএসই আশা করছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম আরও ব্যবসায়িক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করবে এবং স্টেকহোল্ডাররা অনলাইনে তাদের প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
ডিএসই’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. ররিউল ইসলাম এক প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে রেগুলেটরি সাবমিশন মডিউল ও সিএসই অনবোর্ডিং-এর বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বিএসইসির প্রধান হিসাব রক্ষক খায়রুল আনাম খান, বিএসসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অ্যাকাউন্টিং সংক্রান্ত বিভিন্ন স্টেটমেন্টের ডিজিটাল সাবমিশন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, এবং পর্যায়ক্রমে আরও সুবিধা এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে। ইস্যুয়ারদের দাপ্তরিক জটিলতা ও দৌড়াদৌড়ি কমানোই এই ডিজিটালাইজেশনের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয়। কিছু প্রক্রিয়া বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ থাকলেও রিভিউ সম্পন্ন হলে সব কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিএপিএলসি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. কায়ছার হামিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ম্যানুয়াল ও দ্বৈত সাবমিশনের (ইমেইল ও হার্ড কপি) সমস্যায় কোম্পানিগুলো ভুগছিল, এবং অবশেষে ডিএসই ও সিএসই যৌথভাবে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করায় এখন সাবমিশন প্রক্রিয়া সময়োপযোগী ও স্বচ্ছ হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন সিস্টেমে তথ্য প্রদানকারীর নিজের তথ্যই সরাসরি জমা পড়ে, ফলে টাইপো বা ডেটা ভুলের ঝুঁকি কমে যাচ্ছে এবং দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ডিজিটাল সাবমিশন কোম্পানিগুলোর গভারনেন্স কস্ট কমাবে, রিপোর্টিং প্রক্রিয়া সহজ করবে এবং ভবিষ্যতে লিস্টিংয়ে আগ্রহী নতুন কোম্পানিগুলোর জন্যও একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে। তিনি ডিএসই ও সিএসইকে এ উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে আরও উন্নয়ন ও ডিজিটাইজেশন বাজারের সামগ্রিক কার্যকারিতা বাড়াবে।
ডিএসই পরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (অবঃ) বলেন, দেশে অনেক বিশেষজ্ঞ থাকলেও বাস্তবে কাজ শুরু করতে প্রায়ই সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সক্ষমতার অভাব দেখা যায়। কিন্তু ডিএসই ও সিএসই-এর সাম্প্রতিক উদ্যোগ—মাত্র ১৫ দিনের অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজস্ব চেষ্টায় স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম তৈরি—ডিজিটাল সক্ষমতায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতির কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে ডিজিটাল উন্নয়ন, রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও নিজস্ব উদ্ভাবন অব্যাহত রাখা জরুরি। বক্তা জাপানি ‘Kaizen’ বা ধারাবাহিক উন্নয়নের ধারণা তুলে ধরে বলেন, কম খরচে নিজস্ব উদ্যোগে ডিজিটাল সমাধান তৈরি করতে হবে এবং এই অভিজ্ঞতা সিএসই-এর সাথেও ভাগ করা হবে।
শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যারা কঠোর পরিশ্রম করে এমন উন্নয়ন সম্ভব করছেন তাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও প্রণোদনা দেওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতেও সবাই উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ই্ন্সুরেন্স এবং ক্যাপিটাল মার্কেট উইংসের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদ কুতুব বলেন, দেশের পুঁজিবাজার ডিজিটালাইজেশনে এখনও পিছিয়ে থাকলেও আজকের নতুন উদ্যোগ এই পিছিয়ে থাকা দূর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। তিনি উল্লেখ করেন যে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রবাহ অপরিহার্য, আর এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। কমিশন, এক্সচেঞ্জ এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রচেষ্টায় পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শেষে তিনি বলেন, সকলের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাজারের অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত হবে।
ফিনান্সিয়াল কাউন্সিল রিপোর্টিংয়ের নির্বাহী পরিচালক নাবিল জে আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজারের ডিজিটাইজেশন বহু বছর ধরে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও বর্তমান উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি উল্লেখ করেন, হাজারো ফাইল ম্যানুয়ালি পর্যালোচনা করতে দীর্ঘ সময় লাগে, বিশেষ করে একটি অডিট ফাইল পর্যালোচনায়ই এক সপ্তাহ লেগে যায়—যা ডিজিটাইজেশন জরুরি করে তুলেছে। তিনি জানান, এফআরসি ইতোমধ্যে নিজস্ব এআই ডাটাবেস ও টুলস তৈরি করছে, যা বিশ্লেষণ, ক্রস-চেক ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। একসঙ্গে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কার্যকর হলে ২০০৮ সালের মতো সমস্যা আর ঘটবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, মাত্র দুই সপ্তাহের চায়না ট্রেনিংয়ের পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের আইটি ও অন্যান্য সহযোগী বিভাগ যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, তা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা এবং চীনের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতার সঠিক সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রমাণ।
তিনি উল্লেখ করেন যে বিদেশে বসে বিনিয়োগকারীরা ব্লুমবার্গ থেকে বাংলাদেশের কোম্পানির বেশি তথ্য পাচ্ছেন, যা স্থানীয়ভাবে তথ্যপ্রাপ্তির সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে। নতুন প্ল্যাটফর্ম ডেটা সংগ্রহ ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তবে ডেটার প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য একে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য ডিএসই সদস্য, অ্যাসেট ম্যানেজার, এনালিস্ট, মার্চেন্ট ব্যাংক এবং বিনিয়োগকারীদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি, যাতে সবাই এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ডিএসই বোর্ডের সমর্থন এবং চলমান রূপান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্ম বাজারে স্বচ্ছতা, তথ্যপ্রবাহ এবং বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিএসইসি’র কমিশনার মো. সাইফুদ্দিন সিএফএ বলেন যে, আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এর ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে নতুন ডিজিটাল সাবমিশন প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির উদ্দেশ্য হলো বাজার–সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্যের সহজ, স্বচ্ছ ও মানসম্মত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, যা নিয়ন্ত্রক, অডিটর ও অন্যান্য অংশীজনের তথ্য ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াবে।
এই উদ্যোগটি চাইনিজ কনসোর্টিয়ামেরের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে শুরু হয়, যেখানে বিপিএম–ভিত্তিক কার্যপ্রবাহ অটোমেশন ধারণা গ্রহণ করা হয়। ডিএসই’র ২ জন কর্মী ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জে এবং সেই অভিজ্ঞতা দেশে এনে ইন–হাউস টিমের সহায়তায় স্থানীয় সিস্টেম উন্নয়নে কাজ করেন। এর ফলে ডিএসই এখন নিজস্ব সক্ষমতায় তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বিনিয়োগ–সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের জন্য একটি কার্যকর ডিজিটাল সাবমিশন ব্যবস্থা তৈরি করতে পেরেছে, যা বাজারে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করবে। প্রকল্পে সমন্বিত সহযোগিতা দিয়েছে সিডিবিএল, বিএসইসি সহ অন্যান্য প্রধান অপারেটিং সংস্থাগুলো।
ভবিষ্যতে আর্থিক তথ্য–জমা শুধু পিডিএফ–এ সীমাবদ্ধ থাকবে না; ডিএসই অগ্রসর হবে এআই–পাঠযোগ্য ও মেশিন–রিডেবল ডেটা ফরম্যাট, এক্সবিআরএল–ভিত্তিক সাবমিশনের দিকে, এটি হবে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তায় –পাঠযোগ্য আর্থিক তথ্য অবকাঠামোর ভিত্তি, যা স্থানীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে বাজার–গবেষণা, বিশ্লেষণ ও ডেটা–ইন্টেলিজেন্স সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পটি মূলত তথ্য–স্বচ্ছতা, মানসম্মত হিসাব ও প্রযুক্তিনির্ভর বাজার–সংস্কৃতি নির্মাণের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়াস, যা একটি আধুনিক পুঁজিবাজার গঠনের নতুন সূচনা নির্দেশ করে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, আজ পুঁজিবাজারের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে ডিএসই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোতে নেতৃত্ব ধরে রাখলেও এতদিন নথি জমা ও রিপোর্টিংয়ের বড় অংশ ম্যানুয়াল ও হার্ড কপি–নির্ভর ছিল, যা বিনিয়োগ কার্যচক্রকে ধীর ও জটিল করেছে; অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক আগেই অনলাইন রিপোর্টিং চালু করেছে।
এই অভিজ্ঞতার আলোকে, গ্রাহক-কেন্দ্রিক চাহিদাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ডিএসই উন্নয়ন করেছে স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম। আজ থেকে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য, রেগুলেটরি রিপোর্ট, আর্থিক বিবরণী ও প্রয়োজনীয় নথি সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে এবং হার্ড কপি সাবমিশন পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।
এ উদ্যোগকে কেন্দ্রীয় ডকুমেন্ট সাবমিশন প্ল্যাটফর্ম ও সিঙ্গেল গেটওয়ে হিসেবে স্বীকৃতি ও সহযোগিতা প্রদানের জন্য ডিএসই’র পক্ষ থেকে বিএসইসি–কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এর ফলে স্টেকহোল্ডারদের সময়, ব্যয় ও নথি-জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা হবে নিরাপদ, দ্রুত ও পরিবেশবান্ধব।
ডিএসই বিশ্বাস করে, বাজার আস্থা ও স্বচ্ছতার মূল ভিত্তি হলো প্রযুক্তি, প্রক্রিয়া ও কমপ্লায়েন্স সক্ষমতা। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ ডিজিটাল যাত্রা পুঁজিবাজার ইকোসিস্টেমকে সিমলেস ইন্টিগ্রেশন, রিয়েল-টাইম লেনদেন ও উন্নত রিস্ক ম্যানেজমেন্টভিত্তিক দক্ষ ট্রানজেকশন প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে নেবে; একই সঙ্গে লিস্টেড ও নন-লিস্টেড কোম্পানির কমপ্লায়েন্স গ্যাপ কমিয়ে ভবিষ্যতে লিস্টিং ও আইপিও প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার ভিত্তি তৈরি করবে।
পরে উপ-মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় “স্মার্ট রিপোর্টিং: এনহ্যানসিং ট্রান্সপারেন্সি অ্যান্ড গভর্নেন্স ইন কর্পোরেট ডিসক্লোজারেস” -উপর প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ই্ন্সুরেন্স এবং ক্যাপিটাল মার্কেট উইংসের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদ কুতুব, ফিনান্সিয়াল কাউন্সিল রিপোর্টিংয়ের নির্বাহী পরিচালক নাবিল জে আহমেদ, ডিএসই’র পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, আইসিএবির উপ-পরিচালক নাজমুল হুদা, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান রেগুলেটরি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাদি হাসান।
এমকে
পুঁজিবাজার
রাশেদ মাকসুদের অযোগ্য নেতৃত্বে ধ্বংসের ধারপ্রান্তে দেশের পুঁজিবাজার
দেশের পুঁজিবাজারে রাশেদ মাকসুদ কমিশন যেন মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘা! স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর সবার প্রত্যাশা ছিল পুঁজিবাজার দৈন্যদশা থেকে মুক্তি পাবে। তবে কমিশনের খাম খেয়ালিপনা, বাজার সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব, নানা হঠকারী সিদ্বান্ত, নতুন মিউচুয়্যাল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ ও মার্জিন রুলের মতো আত্মঘাতি সিদ্বান্ত বাস্তবায়ন, আইপিও খরা, কমিশনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পুঁজিবাজারের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদেরকে অবমূল্যায়ন এবং একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রি মহল দ্বারা প্রভাবিত হওয়াসহ নানাবিধ কারণে দেশের পুঁজিবাজার ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
একই সঙ্গে মাকসুদ কমিশন নতুন মিউচুয়্যাল ফান্ড বিধিমালা ও মার্জিন রুলের মতো এমন কিছু কালো আইন বাস্তবায়ন করেছে যার ফলে বিনিয়োগকারীরাও আরো সর্বস্বান্ত হবে। এদিকে একাধিক কালো আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বিপর্যস্ত পুঁজিবাজারকে আরো বিপর্যস্ত করার মাধ্যমে নতুন সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টায় লিপ্ত মাকসুদ কমিশন। একই সঙ্গে এসব কালো আইনের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তেমনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে দেশের বিনিয়োগও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপি সরকার ও পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের যেন আস্থার নাম। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের প্রত্যাশা ছিল স্বৈরাচার হাসিনার সহচর রাশেদ মাকসুদসহ তার কমিশনকে বাদ দিয়ে নতুন করে সাজানো হবে কমিশন। এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়ন, সুশাসন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি পুঁজিবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক পুঁজিবাজার তৈরির অঙ্গীকার করেছেন।
এছাড়া, বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। যদিও বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় দু’মাস অতিবাহিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দায়িত্ব পাওয়া বিতর্কিত রাশেদ মাকসুদ এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। আর্থিকখাতে নানা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও শেয়ারবাজারের শত্রু হিসেবে পরিচিত এই কমিশনই বহাল রয়েছে। এতে বাড়ছে পুঁজিবাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের হতাশা। যদিও সরকারের একাধিক ঊর্ধ্বতন সূত্র জানিয়েছে, পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি থেকে শুরু করে আর্থিকখাতকে দ্রুতই ঢেলে সাজানো হবে। ইতোমধ্যে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর ব্যাংকিংখাতসহ দেশের অন্যান্য আর্থিক খাতে নানামুখী সংস্কার ও পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হলেও আর্থিকখাতের গুরুত্বপূর্ণ চালিকা শক্তি পুঁজিবাজারে বিপরীত অবস্থা বিরাজমান। দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড। মেয়াদি ফান্ড দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহিত করে, পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগের সুযোগ প্রদান করে। ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত, পুঁজিবাজারে ৩৬টি ক্লোজ-এন্ড ফান্ড তালিকাভুক্ত রয়েছে, যার মোট সম্পদ প্রায় চার হাজার ৬৫০ কোটি টাকা।
অথচ মাকসুদ কমিশন দ্বারা জারিকৃত নতুন মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫ এর ৬২ (২) অনুযায়ী এই বিধিমালা সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হওয়ার পরবর্তী ছয় মাস, কোনো বিদ্যমান মেয়াদি স্কীমের ইউনিট প্রতি গড় ট্রেডিং মূল্য, যদি উক্ত স্কীমের ক্রয়মূল্য ও ফেয়ার ভ্যালুতে প্রকাশিত ইউনিট প্রতি নীট সম্পদের গড় মূল্যের মধ্যে যা বেশি হবে, তার চাইতে ২৫ শতাংশ কম হয় তাহলে উক্ত মেয়াদি স্কীম অবলুপ্তির সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কমিশন। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে একটি কালো আইন হিসেবে দেখছেন। কারণ এমন অবলুপ্তির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার হাজার হাজার কোটি টাকার মূলধন হারাবার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা সামগ্রিক পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ট্রেডিং মূল্য কিংবা বাজার মূল্য কখনো সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। এটা নির্ধারণ করে দেওয়ার নজির পৃথিবীর কোথাও নেই। যদিও ইতিপূর্বে দু’একটি মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ড অন্যায়ের আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করারও ক্ষমতা আছে কমিশনের। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা না নিয়ে মাকসুদ কমিশন পুরো মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের উপর চাপিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা বলছেন। তাদের মতে, মাথা ব্যথার কারণে মাথার চিকিৎসা না করে, মাথা কেটে ফেলার মত অবস্থা।
উন্নত বিশ্বে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য ইটিএফ, কমোডিটি ফান্ড, ইকুইটি ফান্ড, ডেট ফান্ডসহ বিভিন্ন বৈচিত্রময় মেয়াদি ও বে-মেয়াদি ফান্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে অপরদিকে আমাদের দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সুযোগ খুবই সীমিত, কারণ দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বৈচিত্রতা নেই বললেই চলে। তাই পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে মেয়াদি মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ আরো বৈচিত্রময় মেয়াদি ফান্ড যেমন- স্থায়ী আয় ফান্ড, ব্যালেন্সড ফান্ড এবং সেক্টর-নির্দিষ্ট ফান্ড প্রবর্তন করলে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। যা কেবল বাজারের গভীরতা ও বিনিয়োগকারীর জন্য বিকল্প বিনিয়োগের মাধ্যম বৃদ্ধি করবে না, বরং দেশের পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এ এক দিকে ট্রাস্টি ও কাস্টোডিয়ান প্রত্যেকের ফি পূর্বের তুলনায় প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ফিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরদিকে সম্পদ ব্যবস্থাপকের ব্যবস্থাপনা ফি পূর্বের বিধিমালা থেকে কমানো হয়েছে। গত পঁচিশ বছরে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতাসহ পরিচালনা ব্যয় অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বর্ধিত ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফি কমানো হলে, দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপকদের পক্ষে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মিউচ্যুয়াল ফান্ড শিল্প এখনো প্রাথমিক বা বিকাশমান পর্যায়ে রয়েছে এবং বেশিরভাগ ফান্ডের আকার তুলনামূলকভাবে ছোট, তাই বিদ্যমান গণনার অধীনে ফি কমানো হলে ছোট আকারের তহবিল পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর পক্ষে টিকে থাকা দুরূহ হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫-এ ব্যবস্থাপনা ফি সীমিত করার ফলে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলোর বর্তমানের তুলনায় ২৩ শতাংশ ব্যবস্থাপনা ফি কমে যাবে, যার ফলে সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলো টিকে থাকা কষ্টসাধ্য হবে। পাশাপাশি নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণ কমে যাওয়া এবং এই শিল্পে দক্ষ ও পেশাদার জনবল আকৃষ্ট করা কঠিন হবে এবং ফান্ড ব্যবস্থাপনার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা,২০২৫-এ পরিচালনা পরিষদের মোট সদস্যের এক-পঞ্চমাংশ স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ প্রদানের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের যৌক্তিকতা নেই, এক্ষেত্রে অর্থের অপচয়সহ অযাচিত জটিলতা তৈরির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দ্বারা নিয়ন্ত্রণ কিংবা হস্তক্ষেপ করার প্রবানতাও দেখা দিবে।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালে ১৮ আগষ্ট খন্দকার রাশেদ মাকসুদকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন ব্যাংকার এবং পুঁজিবাজার সম্পর্কে তার কোন ধারণাই ছিলনা। একইসঙ্গে কাজ করেছেন স্বৈরাচার হাসিনার মদদপুষ্ট একাধিক ব্যাংকে। হাসিনার অন্যতম দোসর স্টান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের সাথে ছিল তার দহরম-মহরম সম্পর্ক। কাজী আকরাম উদ্দিনকে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি তার সময়ে ব্যাংক দু’টিকে তলানীতে রেখে যান। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে বসে নানা হঠকারী সিদ্বান্ত ও ব্যক্তিগত অভিপ্রয়াসের মাধ্যমে তার আর্শিবাদপুষ্ট কিছু ব্যক্তিবর্গের যোগসাজশে এই খাতকে ধ্বংসের দারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এনআরবিসি ব্যাংকে চাকুরিকালীন ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারে জড়িত থাকার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। এরপরও ক্ষমতার ব্যবহার করে শীর্ষপদ দখল করে রেখেছেন।
এদিকে মাকসুদ কমিশনে তার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত বিএসইসি’র কমিশনার মোহসিন চৌধুরী। যিনি বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং কমিশনের গুরত্বপূর্ণ বিভাগগুলো তার আওতায়। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনে অন্যান্য কমিশনারদের বিদায় নিতে হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার বলে স্বপদে বহাল রয়েছেন কমিশনার মোহসিন চৌধুরী। এমনকি তিনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্বরত থাকাকালীন আইন লঙ্গন করে নিজ নামে শেয়ার ব্যবসা করছেন। যা দেশের শেয়ারবাজারে নতুন ইতিহাস। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের আওতাধীন জিরো ওয়ান লিমিটেড নামে একটি ব্রোকারেজ হাউজে তার সক্রিয় বিও অ্যাকাউন্ট রয়েছে, যার নম্বর- ১২০৪১৫০০৭৪৫১৮৭৩৪। এই ধরনের কাজ আইন, বিধিমালা এবং নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থি হলেও, খন্দকার রাশেদ মাকসুদের আস্থাভাজন হওয়ার ফলে তিনি স্বপদে বহাল আছেন।
এদিকে আইডিএলসি সিকিউরিটিজ এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফউদ্দিনকে বিএসইসি’র কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদানের বিষয়টি পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের হতবাক করছে। মূলত বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে তার মতো একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার গুরত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। মো. সাইফউদ্দিন কমিশনার হিসেবে যোগদানের পর থেকে একটি মহলের নানা এজেন্ডা বাস্তবায়নে নিরবে কাজ করে যাচ্ছেন।
খন্দকার রাশেদ মাকসুদ যোদদানের পর থেকে অনভিপ্রেত, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত পুঁজিবাজারের মূল উদ্দেশ্যকে তথা দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সরবরাহের পথকে রুদ্ধ করে পুঁজিবাজারকে আরো অবনতির দিকে নিয়ে গেছে।
পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, ডিএসইএক্স সূচক ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট ছিল পাঁচ হাজার ৭৭৮ দশমিক ৬৪ যা ২০২৫ সালের ৩ জুনে নেমে আসে চার হাজার ৬৬৪ দশমিক ৭৯-এ অর্থাৎ এক হাজার ১১৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট বা ১৯ দশমিক ২৮ শতাংশ কম। একই সঙ্গে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ৭,০১০,৭৮২ দশমিক ৮৬ মিলিয়ন টাকা থেকে কমে ৬,৪৭১,৫২৭ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন টাকায় দাঁড়িয়েছে অর্থাৎ ৫৩৯,২৫৫ দশমিক ১৭ মিলিয়ন টাকার বা সাত দশমিক ৬৯ শতাংশ পতন। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা হারানোর আরেকটি বড় প্রমাণ হলো খুচরা বিনিয়োগকারীদের বাজার থেকে চলে যাওয়া। তথ্য মতে, তার যোগদানের পর থেকে থেকে প্রায় ৬৪ হাজার বিনিয়োগকারী তাদের পোর্টফোলিও বিক্রি করে বাজার ছেড়েছেন। এর মাধ্যমে রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্ব কমিশন একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, অপরদিকে শিল্পায়নে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি সরবরাহের মূল প্রক্রিয়াকে করেছে ধ্বংস।
এদিকে মিউচুয়্যাল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ ও মার্জিন রুল আইন বাস্তবায়ন হলে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ৮/৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা আছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমিন তালুকদার বলেন, দেশের একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। আশা করছি পুঁজিবাজারের সকল প্রতিবন্ধকতা দূর হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পুঁজিবাজার নিয়ে পৃথক চিন্তা আছে। ইতোমধ্যে উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারি নিয়োগ দিয়েছেন। তাই এই খাতের সার্বিক বিষয় নিয়ে তাঁরা পর্যালোচনা করবেন। পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার বান্ধব কিছু পাবো আমরা।
দেশের প্রথম বেসরকারি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি এইমস ১৯৯৮ সালে নিবন্ধিত এবং ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি পেশাদার ব্যবস্থাপনায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের মত বিনিয়োগ পোর্টফোলিও পরিচালনা করে। কিন্তু তারপরও বর্তমান কালো আইনে তাদের দুইটি ফান্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লায়লা মাহমুদা শিল্পী ইনকিলাবকে বলেন, আইনের কিছু ধারা পুঁজিবাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে। বিশেষ করে নতুন বিধিতে ফান্ডের বাজার মূল্য তার নিট সম্পদমূল্যের ২৫ শতাংশের বেশি কমে গেলে বিএসইসি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে পারবে। এটি হলে পুঁজিবাজার আরো বিপাকে পড়বে। তিনি বলেন, বাজারমূল্য কমা বা বাড়ার সঙ্গে এই ধরণের প্রক্রিয়া থাকতে পারে না। বাজারমূল্য বেধে দেওয়া যায় না, তাই এটি অবশ্যই পরিবর্তন করা দরকার। এক্ষেত্রে নিট সম্পদমূল্য ফেস ভেল্যুতে হতে পারে। এছাড়া বিধিতে ২০-২৫ বছর আগের ব্যবস্থাপনা ব্যয় থেকেও ২৩ শতাংশ কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বর্তমান সময়ে অবাস্তব এবং ছোট ছোট সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবেনা। তাই মিউচ্যুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর এসব অবাস্তব ধারা বাতিলের আহ্বান জানান লায়লা মাহমুদা শিল্পী।
এমএন
পুঁজিবাজার
ইস্টার্ন ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি আলোচিত বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ২৮ শতাংশ লভ্যাংশ দেবে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, বাকী ৩ শতাংশ বোনাস।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সর্বশেষ হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর লভ্যাংশ সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সূত্র মতে, সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ২৩ পয়সা।
গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৩১ টাকা ৩৮ পয়সা।
আগামী ১১ জুন,ব্যাংকটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এজিএমে যোগ দেওয়া ও লভ্যাংশ প্রাপ্তির যোগ্যতা নির্ধারণে আগামী ৬ মে রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমএন
পুঁজিবাজার
ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটির পর্ষদ সভা আগামী ২৫ এপ্রিল দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, সভায় ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত কোম্পানির সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। পর্ষদ এ প্রতিবেদন অনুমোদন করলে কোম্পানিটি তা প্রকাশ করবে।
এমএন
পুঁজিবাজার
সূচক ঊর্ধ্বমুখী, দেড় ঘণ্টায় বেড়েছে ২৫২ শেয়ারদর
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন চলছে। এদিন প্রথম দেড় ঘণ্টায় লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৫২টির শেয়ারদর বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৩০মিনিট পর্যন্ত ডিএসইর প্রধান সূচক বা ‘ডিএসইএক্স’ সূচক ৩৫ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৯০ পয়েন্টে।
অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ‘ডিএসইএস’ সূচক ৯ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বেড়ে এবং ‘ডিএস৩০’ সূচক ১৩ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০৭৬ ও ১৯৯৮ পয়েন্টে।
এসময় টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ৩৪৭ কোটি ১০ লাখ ৯১ হাজার টাকা।
এসময়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ২৫২টি, কমেছে ৭৩টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৭টি কোম্পানির শেয়ারের।
এমএন
পুঁজিবাজার
ব্লক মার্কেটে লেনদেন ৪৭ কোটি টাকার
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ৩৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন ব্লক মার্কেটে ৪৭ কোটি ৫১ লাখ ০৬ হাজার টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, বুধবার (১৫ এপ্রিল) কোম্পানিগুলোর মোট ১ কোটি ৩০ লাখ ১৪ হাজার ১৯৪ টি শেয়ার ৮১ বারে লেনদেন হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ৪৭ কোটি ৫১ লাখ ০৬ হাজার টাকা।
ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি রেনাটার ১১ কোটি ৩১ লাখ ৬৭ হাজার টাকার, দ্বিতীয় স্থানে ডমিনেজ স্টিলের ৬ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার টাকার ও তৃতীয় স্থানে জিকিউ বলপেনের ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
এমএন



