শিল্প-বাণিজ্য
অ্যামাজন-আলিবাবায় সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা
দেশের রপ্তানিকারকদের সামনে এখন বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে। গতকাল অনলাইনভিত্তিক রপ্তানি বাড়াতে বিজনেস-টু-বিজনেস-টু-কনজিউমার (বি২বি২সি) কাঠামোর মাধ্যমে পণ্য রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। নতুন নিয়মে রপ্তানিকারকেরা এখন বিশ্বের যেকোনো সুপরিচিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেস, সাবসিডিয়ারি বা তৃতীয় পক্ষের ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে পণ্য পাঠাতে পারবেন। অর্থাৎ দেশি উদ্যোক্তা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন অ্যামাজন, আলিবাবা ও ফ্লিপকার্টের মতো বৈশ্বিক বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে সরাসরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।
এ ক্ষেত্রে বিদেশি কনসাইনি (যার ঠিকানায় রপ্তানিকৃত পণ্য পাঠানো হয় ও যিনি পণ্যটি গ্রহণ করেন) চূড়ান্ত ক্রেতা না হয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করবে।
নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, পণ্য রপ্তানি করতে হলে উদ্যোক্তাদের ওই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা আন্তর্জাতিক ওয়্যারহাউসে নিবন্ধনের প্রমাণ এডি (অনুমোদিত ডিলার) ব্যাংকের কাছে জমা দিতে হবে। যেহেতু বি২বি২সি মডেলে সাধারণ বিক্রয় চুক্তি থাকে না, তাই রপ্তানিকারকেরা প্রফর্মা ইনভয়েসের (প্রাথমিক বা অগ্রিম বিল) ভিত্তিতে পণ্যের ন্যায্যমূল্য ঘোষণা করতে পারবেন। ওয়্যারহাউজিং বা অন্যান্য সেবা প্রদানকারী কনসাইনির নামে শিপিং ডকুমেন্টও গ্রহণ করতে পারবে এডি ব্যাংক।
রপ্তানি আয়ের অর্থ এডি ব্যাংকের মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যাংকিং চ্যানেল ছাড়াও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটরের মাধ্যমে আনতে পারবেন রপ্তানিকারকেরা। অনলাইন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক রপ্তানিতে একাধিক চালানের অর্থ একত্রে আসতে পারে। এ ক্ষেত্রে এডি ব্যাংক ফার্স্ট-ইন, ফার্স্ট-আউট নীতিতে রপ্তানি আয় সমন্বয় করবে। অর্থাৎ আগের চালানগুলো আগে সমন্বয় হবে।
খাত–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তসীমান্ত ই-কমার্স সহজ হবে এবং বৈশ্বিক অনলাইন বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়বে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে। নতুন কাঠামোটি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল খুচরা বিক্রিতে বাংলাদেশি পণ্যের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে বহুমুখী রপ্তানিতে সহায়তা করবে।
অর্থনীতি
৪৩ পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়লো
সরকার ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির বিপরীতে দেওয়া নগদ সহায়তা বা প্রণোদনার মেয়াদ আরও ছয় মাস, অর্থাৎ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়েই রপ্তানিকারকরা এই সুবিধা পাবেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য প্রণোদনা কার্যকর ছিল। তবে রপ্তানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার এর মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলো।
গত অর্থবছরের মতোই এবারও প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খাতভেদে রপ্তানিকারকরা সর্বনিম্ন ০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন। মোট ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাত এই প্রণোদনার আওতায় রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নগদ সহায়তা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নিযুক্ত বহিঃনিরীক্ষক বা অডিট ফার্মের মাধ্যমে রপ্তানি সংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়া প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইউরো অঞ্চলে রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সহায়তার সঙ্গে অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনাও বহাল থাকবে।
প্রজ্ঞাপন দেখতে ক্লিক করুন।
শিল্প-বাণিজ্য
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৭ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। স্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারকদের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত পারস্পরিক শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই মার্কিন ক্রেতারা আগেভাগে বড় অঙ্কের পণ্য আমদানি করেন। ফলে বছরের শুরুতেই রপ্তানি স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। গত বছরের এপ্রিলের একটি অংশ থেকে পুরো জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশের একটি সাময়িক ন্যূনতম শুল্ক আরোপ করেছিল।
এটি আগে থেকেই কার্যকর প্রায় ১৬ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট শুল্কহারকে প্রায় ২৬ শতাংশে নিয়ে যায়। এরপর গত বছর ৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশগুলোর ওপর আরও বেশি হারে শুল্ক কার্যকর করে। তার আগের সময়টিতে মার্কিন ক্রেতারা সম্ভাব্য উচ্চ শুল্কের ঝুঁকি এড়াতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পণ্য আমদানি করেন।
রপ্তানিকারকরা জানান, এই আগাম চালানের প্রভাবেই জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে রপ্তানির পরিসংখ্যান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখাচ্ছে। তবে বছরের শেষ ভাগের প্রকৃত চিত্র এতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। বাংলাদেশের জন্য শুরুতে গত বছরের এপ্রিলে ৩৫ শতাংশের কঠোর পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর তা সংশোধন করে ২০ শতাংশে নামানো হয়।
এই প্রবৃদ্ধি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক বাজার প্রায় স্থবির ছিল। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের অধীন সংস্থা অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি বছরওয়ারি ভিত্তিতে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৬৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। তবে বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশ কয়েকটি প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।
ভিয়েতনামের রপ্তানি ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভারতের রপ্তানি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। পাকিস্তানের রপ্তানি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ১০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার এবং কম্বোডিয়ার রপ্তানি ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চীন ছিল ব্যতিক্রম। যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি এই সময়ে ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৯ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের একক দাম (ইউনিট প্রাইস) সামান্য কমেছে। তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মার্কিন খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতির প্রতিফলন হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিট দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে এটি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং চীনের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। কম্বোডিয়ার দাম কমেছে ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭২ শতাংশ। ভারতের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে দেশটির পোশাকের ইউনিট দাম ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।
রপ্তানিকারকরা জানান, বছরের শুরুতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি থাকলেও আগস্টের পর থেকে গতি কমতে শুরু করে। উচ্চ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে চালান দুর্বল হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, জানুয়ারি-অক্টোবরের পরিসংখ্যান পুরো বছরের প্রকৃত প্রবণতা পুরোপুরি তুলে ধরছে না। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে বছরের শুরুর দিকের মাসগুলোতে, যখন শুল্ক কার্যকরের আগেই দ্রুত চালান পাঠানো হয়েছিল। আগস্টের পর থেকে রপ্তানির গতি স্পষ্টভাবেই মন্থর।
তবে তিনি আশাবাদী যে, আগামী মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে। রাজনৈতিক উত্তাপ কমলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও পূর্ণাঙ্গ অর্ডার দিতে আগ্রহী হবেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রি নভেম্বরে বছরওয়ারি ভিত্তিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন (এনআরএফ) জানিয়েছে, ছুটির মৌসুমের শুরুতেই ভালো বিক্রির কারণে ২০২৫ সালের ব্যয়সংক্রান্ত পূর্বাভাস পূরণের পথে রয়েছে বাজার। এর ফলে বাজারে থাকা পোশাকপণ্যের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে পারে।
এনআরএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ শে বলেন, নভেম্বরে খুচরা বিক্রিতে বছরওয়ারি ভিত্তিতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যদিও মাসওয়ারি হিসেবে বিক্রি প্রায় স্থির ছিল। বড় পোশাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে এটি রপ্তানির জন্য ইতিবাচক খবর। আরও বলেন, অনলাইনে ছাড়ের অপেক্ষায় থাকা ক্রেতারা সাইবার মানডে পর্যন্ত কেনাকাটা কিছুটা পিছিয়ে দিতে পারেন। কারণ, এ বছর থ্যাংকসগিভিং উৎসব দেরিতে হওয়ায় সাইবার মানডে ডিসেম্বর মাসে পড়েছে। তিনি বলেন, ভোক্তারা দামের ব্যাপারে সচেতন এবং ছুটির মৌসুমে হিসাব করে ব্যয় করছেন। খুচরা বিক্রেতারাও সব বাজেটের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের ছুটির মৌসুমের পূর্বাভাস এবং পুরো বছরের খুচরা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
এমকে
অর্থনীতি
রপ্তানি ডকুমেন্ট অনলাইনে জমার অনুমতি দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক
রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করতে ডকুমেন্টারি কালেকশন ব্যবস্থার আওতায় রপ্তানি ডকুমেন্ট অনলাইনে জমা ও প্রক্রিয়াকরণের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে রপ্তানি সংক্রান্ত কাজগুলো এখন ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করা যাবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থাকে আধুনিক করা এবং রফতানি কার্যক্রমে গতি আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের চলমান ডিজিটাল কার্যক্রমের সঙ্গে রফতানি প্রক্রিয়াকে সমন্বয় করাও এর লক্ষ্য।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো ইউনিফর্ম রুলস ফর কালেকশন (ইউআরসি) এবং এর ইলেকট্রনিক প্রেজেন্টেশন সংক্রান্ত সম্পূরক ই-ইউআরসি অনুসরণ করে ডকুমেন্ট এগেইনস্ট পেমেন্ট (ডিপি) ও ডকুমেন্ট এগেইনস্ট অ্যাকসেপ্টেন্স (ডিএ)—উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপদ ব্যাংক-টু-ব্যাংক ইলেকট্রনিক চ্যানেলের মাধ্যমে রফতানি ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়াকরণ স্থানীয় ও বিদেশি ব্যাংকের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ডকুমেন্টের ফরম্যাট ও উপস্থাপনের স্থান নির্ধারণসহ বিক্রয় চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে ডকুমেন্টারি কালেকশন ই-ইউআরসি কাঠামোর আওতায় ইলেকট্রনিকভাবে পরিচালিত হবে।
আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হলে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারেবল রেকর্ডসের মাধ্যমে সব ডকুমেন্ট ইলেকট্রনিকভাবে উপস্থাপন করা যাবে। তবে যেখানে এ ধরনের রেকর্ডস গ্রহণযোগ্য নয়, সেখানে টাইটেল ও হস্তান্তরযোগ্য ডকুমেন্ট ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাঠাতে হবে; অন্য নথিগুলো ইলেকট্রনিকভাবে পাঠানো যাবে। প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো প্রত্যয়িত ইলেকট্রনিক কপিও সরবরাহ করতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীকৃত ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল স্বাক্ষর, ডিজিটাল সাউন্ড অ্যান্ডোর্সমেন্ট সার্টিফিকেট বা সুইফট বার্তার মাধ্যমে টাইটেল ডকুমেন্টের ডিজিটাল অ্যান্ডোর্সমেন্টেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এডি ব্যাংকগুলোকে নিরাপদ ট্রান্সমিশন, সঠিক রেকর্ড সংরক্ষণ এবং ডিজিটাল স্বাক্ষর যাচাই নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এব্যবস্থা পর্যায়ক্রমিক ও ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতিতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা যাবে। পাইলট কার্যক্রম শুরু হলে তা বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ রপ্তানি প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়াবে এবং বাংলাদেশকে আরও ডিজিটাল ও নিরাপদ ট্রেড ফাইন্যান্স ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
অর্থনীতি
পর্দা উঠল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার
অবশেষে পর্দা উঠল ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ)। শনিবার (৩ জানুয়ারি) পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) এ মেলা উদ্বোধন ঘোষণা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
এবারের বাণিজ্য মেলায় অনলাইনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল বা প্যাভিলিয়ন স্পেস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় ই-টিকিটিংয়ের (অন-স্পট টিকিট ক্রয় ব্যবস্থার পাশাপাশি অনলাইনে টিকিট ক্রয় করে কিউআর কোড স্ক্যান করে মেলায় প্রবেশ) ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এ ছাড়া এবার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিসের পাশাপাশি কনসেশনাল রেটে ‘পাঠাও’ সার্ভিস যুক্ত হচ্ছে।
গত ১ জানুয়ারি থেকে তবে এবারের বাণিজ্য মেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচি পরিবর্তন করে ৩ জানুয়ারি করা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ইপিবির যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন, উৎপাদনে সহায়তার লক্ষ্যে বাণিজ্য মেলা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজন করা হতো।
করোনা মহামারির কারণে ২০২১ সালে মেলা আয়োজন করা হয়নি। আর মহামারির বিধিনিষেধের মধ্যে ২০২২ সালে প্রথমবার মেলা পূর্বাচলে বিবিসিএফইসিতে আয়োজন করা হয়।
শিল্প-বাণিজ্য
১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে না আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা
আগামী বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শুরু হওয়াার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এদিন পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে এই মেলার উদ্বোধন করার কথা ছিল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের।
তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন কার্যক্রম হবে না বলে জানা গেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, মেলার উদ্বোধন কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মেলা কবে শুরু হবে সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ৩ জানুয়ারি উদ্বোধনের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে ১ জানুয়ারি মেলা শুরুর সকল কার্যক্রম সম্পন্ন ছিল বলে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।



