অর্থনীতি
একলাফে সাড়ে ১০ হাজার টাকা কমলো স্বর্ণের দাম
একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম আরও কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম কমানো হয়েছে ১০ হাজার ৪৭৪ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম এক লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকা হয়েছে।
স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গতকাল দাম কমানোর ঘোষণা দিয়ে আজ থেকে সোনার নতুন দাম কার্যকর করা হয়। ভালো মানের এক ভরি দাম কমানো হয় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা। তার আগে ২৭ অক্টোবর ১ হাজার ৩৯ টাকা এবং ২৪ অক্টোবার ভরিতে দাম কমানো হয় ৮ হাজার ৩৮৬ টাকা। ফলে চার দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমলো ২৩ হাজার ৫৭৩ টাকা।
এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ১০ হাজার ৪৭৪ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৯ হাজার ৯৯৬ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৮ হাজার ৫৭৩ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ৩১৪ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২৮ টাকা।
গতকাল ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ৯৯৭ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৫৫৪ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪২ টাকা। আজ মঙ্গলবার এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।
সোনার দাম কমানো হলেও রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রূপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতি
আরও ১৭ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
দুই দিনের ব্যবধানে দেশের ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ (১৭১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্রয় করা এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। ডলার কেনার ক্ষেত্রে কাট-অফ হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্র মতে, সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ১৬ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত আরও ২১ কোটি ৮৫ লাখ (২১৮.৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এর ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৩৮৯.৫০ মিলিয়ন বা ৩৮ কোটি ৯৫ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
একই দরে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পাঁচ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৫ কোটি ৫০ লাখ (৫৫ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২০ জানুয়ারি দুই বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১২ জানুয়ারি ১০ বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার, ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে ২২ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, আজ আমরা ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২.৩০ টাকা কাট-অফ রেটে মোট ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার ক্রয় করেছি। এর ফলে ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়াল ৩৮৯.৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ক্রয় দাঁড়াল ৪ হাজার ৩২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এমএন
অর্থনীতি
২ লাখ ১০ হাজার টন সার কিনছে সরকার
মরক্কো, সৌদি আরব ও দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৮০ হাজার টন ডিএপি সার, ৭০ হাজার টন ইউরিয়া এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি সার রয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৩৭০ কোটি ৯১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭৫ টাকা।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সূত্র মতে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মরক্কো থেকে এই সার আনতে ব্যয় হবে ৩১৯ কোটি ৫১ লাখ ৮ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৬৫১ মার্কিন ডলার।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মরক্কোর এই প্রতিষ্ঠান থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সার আনতে ব্যয় হবে ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৫০১ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।
মরক্কোর এই প্রতিষ্ঠান থেকে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসে কৃষি মন্ত্রণালয়। এটিও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এই সার আনতে ব্যয় হবে ১৮৪ কোটি ৫৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭৩০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৫০১ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সৌদি আরবের মা’আদেন এবং বাংলাদেশ কৃষি বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের প্রথম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। সৌদি আরব থেকে এই সার আনতে ব্যয় হবে ৩২৩ কোটি ৯২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৬৬০ মার্কিন ডলার।
এদিকে বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি- নিউট্রিনেটস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই সার আনতে ব্যয় হবে ২০৫ কোটি ৩১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৪১৮ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ-এর কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কাফকো থেকে এই সার কিনতে ব্যয় হবে ১৫৩ কোটি ৮ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৫ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়বে ৪১৫ দশমিক ৮৭৫ মার্কিন ডলার।
এমএন
অর্থনীতি
পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর থাকছে ৫ শতাংশই
পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে কর ১০ শতাংশ নয় বরং ৫ শতাংশ কর কাটা হবে, এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশনার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর আগের মতোই কোনো উৎসে কর দিতে হবে না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এনবিআরের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।
এনবিআরের চিঠিতে বলা হয়, ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ যদি পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করে, তবে সেই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে কর কাটার হার হবে ৫ শতাংশ।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে কর ছাড়
চিঠিতে পেনশনার সঞ্চয়পত্রের বিষয়ে বিশেষভাবে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তির কোনো নির্দিষ্ট আয়বর্ষে শুধুমাত্র পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ যদি পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করে, তবে তার অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার হবে শূন্য শতাংশ। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে কোনো কর দিতে হবে না।
বিভ্রান্তি দূর করতে স্পষ্টীকরণ
সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের সুদের ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ দেখা দিলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। মূলত এই বিভ্রান্তি দূর করতেই মঙ্গলবার এনবিআর এই স্পষ্টীকরণ আদেশ জারি করল।
৫ লাখের বেশি বিনিয়োগে কর ১০ শতাংশ
আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১০৫-এর বরাত দিয়ে এনবিআর জানায়, কোনো ব্যক্তির যদি কোনো একটি আয়বর্ষে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম করে, তবে অর্জিত মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রযোজ্য হবে।
বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এগুলো হলো— পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। এর মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র শুধু নারীদের জন্য সংরক্ষিত হলেও বাকি তিনটি সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগ করতে পারে।
এমএন
অর্থনীতি
নতুন ১০ টাকার নোটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্যপট
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে বাজারে আনল বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন নকশায় স্থান পেয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের দৃশ্যপট; আছে পুরনো নোটের বায়তুল মোকাররম মসজিদের ছবিও।
পুরনো নোটে জাতীয় মসজিদের ছবি পেছনে থাকলেও নতুন নোটে তা সম্মুখভাগে রাখা হয়েছে। মাঝখানে লেখার পৃষ্ঠে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত শাপলার ছবি বসানো আছে। আর নোটের পেছনে আছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ নকশায় ছাপানো হয়েছে নতুন ১০ টাকার নোট।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধুর ছবি বাদ দিয়ে নতুন নকশায় ১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকা মূল্যমানের নোট বাজারে আসে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে। এর ধারাবাহিকতায় গভর্নর আহসান হাবিব মনসুরের স্বাক্ষরে নতুন নকশার ১০ টাকার নোট এল।
এই নোটের নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জলছাপ হিসেবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, এর নিচে উজ্জ্বল ইলেক্ট্রোটাইপ জলছাপে ‘10’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম রয়েছে। নোটটিতে রয়েছে গোলাপি রঙের আধিক্য।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নোটের সম্মুখভাগে বামপাশে ২ মিমি চওড়া নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যাতে খচিত রয়েছে ‘১০ দশ টাকা’ লেখা, যা আলোর বিপরীতে ধরলে চোখে পড়বে।
তাছাড়া নোটটি নাড়াচাড়া করলে নিরাপত্তা সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হয়। গভর্নরের সইয়ের ডানপাশে একটি প্যাটার্ন মুদ্রিত রয়েছে, যা আলোর বিপরীতে ধরলে ‘১০’ লেখা দৃশ্যমান হবে।
এছাড়া নোটের সম্মুখভাগের উপরে বাংলাদেশ ব্যাংক লেখার নিচে সমান্তরালভাবে এবং পেছনভাগের বামদিকের গ্লিউইশ প্যাটার্নের বাইরের অংশে ‘BANGLADESH BANK’ মুদ্রিত রয়েছে।
নতুন নকশা ও বৈশিষ্ট্যের ১০ টাকার নোটের পাশাপাশি বাজারে প্রচলিত কাগুজে সব নোট ও ধাতব মুদ্রা চালু থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএন
অর্থনীতি
এইচএসকোড অনুসারে আমদানি তথ্য উন্মুক্ত করল এনবিআর
আমদানি বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্যপ্রাপ্তি সহজ, উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এইচএস কোডভিত্তিক পণ্য আমদানির তথ্য সর্বসাধারণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, বিনিয়োগকারী, বাণিজ্য গবেষক, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এনবিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
এর অংশ হিসেবে এনবিআরের ওয়েবসাইটের (www.nbr.gov.bd) ‘পাবলিকেশন’ পোর্টালের ‘কাস্টমস’ লিংকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের বাণিজ্যিক ও বন্ড সুবিধায় আমদানিকৃত পণ্যের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যে এইচএস কোডভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ, ওজন ও মূল্য সংক্রান্ত বিস্তারিত উপাত্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এনবিআর জানায়, নিয়মিতভাবে আমদানি তথ্য প্রকাশের ফলে সংশ্লিষ্টরা নির্ভরযোগ্য উপাত্ত ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের তুলনামূলক দর ও দামের ওঠানামা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে এবং আমদানির প্রবণতা ও পণ্যের গতিবিধি বিশ্লেষণ সহজ হবে।
এছাড়া বাণিজ্য কাঠামো ও আমদানি নির্ভরতা বোঝার পাশাপাশি বন্ড সুবিধার আওতায় শিল্প উপকরণের প্রবাহ এবং রপ্তানিমুখী শিল্পে সহায়তা কার্যক্রম মূল্যায়নও সহজ হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষণ, কার্যকর নীতি প্রণয়ন এবং সঠিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন বা বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বাণিজ্যিক ও বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানির তথ্য প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।
এমএন



