পুঁজিবাজার
বিএসইসি চেয়ারম্যান অপসারণের দাবি, কিন্তু বরখাস্ত সহকারী পরিচালক
পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে ব্যর্থতার দায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের অপসারণ জরুরী। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটিতে অসদাচরণের অভিযোগে সহকারী পরিচালক মো. ইব্রাহিম আলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করেছে কমিশন।
কমিশনের জারি করা এক আদেশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ, সরকারি কর্মচারীর অনুপযুক্ত আচরণসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিএসইসি জানিয়েছে, “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্মচারী সার্ভিস রুলস, ২০২১” অনুযায়ী অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যার মধ্যে চাকরিচ্যুতিও অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি সরকারি বিধি অনুযায়ী জীবিকা ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক পরিচালক আবু রায়হান মোহাম্মদ মুতাসিম বিল্লাহকে অসদাচরণ প্রমাণিত হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে গৃহনির্মাণে অগ্রিম অর্থের অপব্যবহার, ভুয়া অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল, অসম্পূর্ণ বিল উপস্থাপন এবং অতিরিক্ত অর্থের আবেদনসহ একাধিক অভিযোগ ছিল।
২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বরের এক তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কমিশনের ৯৮৭তম সভায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুঁজিবাজার
৩ বছরেও ডিভিডেন্ড দেয়নি আমরা নেটওয়ার্ক, ক্ষোভে ফুঁসছে বিনিয়োগকারীরা
পুজিঁবাজারে তালিকাভুক্ত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোম্পানি আমরা নেটওয়ার্ক লিমিটেডের বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ড না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি ৬৯ টাকা বিনিয়োগ করেও টানা তিন অর্থবছর ধরে ডিভিডেন্ড পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। এতে কোম্পানিটির আর্থিক স্বচ্ছতা ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
সূত্র মতে, ২০১৭ সালে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ার ৩৯ টাকা কাট-অফ মূল্যে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে কোম্পানিটি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে আবারও শেয়ার প্রতি ৩০ টাকা দরে রাইট শেয়ার ইস্যু করা হয়। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, এই অর্থ সংগ্রহের পরও কোম্পানি তাদের প্রতিশ্রুত ডিভিডেন্ড ও নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে ২০২৪ সালের জন্য ঘোষিত শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ডিভিডেন্ড এখনও পুরোপুরি বিতরণ করা হয়নি। সময়মতো ডিভিডেন্ড প্রদান না করায় কোম্পানিটি ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, বিনিয়োগ করে এখন তারা প্রায় সর্বস্বান্ত হওয়ার অবস্থায় পৌঁছেছেন।
এদিকে, চট্টগ্রামে কোম্পানির প্রায় ২২ কোটি টাকার সম্পত্তি বিক্রির ঘোষণা এলেও সেই অর্থের ব্যবহার বা অগ্রগতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাননি। ফলে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাইট শেয়ারের অর্থ দিয়ে নেটওয়ার্ক সিস্টেম উন্নয়ন ও কাভারেজ সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করা হয়েছে। কোম্পানি সচিব মুনিরুজ্জামান শেয়ারনিউজকে জানান, ব্যবসা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে ডিভিডেন্ডের অর্থ পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত পরিশোধের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আর্থিক সংকটের কারণেই পুরো ডিভিডেন্ড একসঙ্গে বিতরণ সম্ভব হয়নি। তবে পরিস্থিতি উন্নত হলে বিনিয়োগকারীরা এর সুফল পাবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
অন্যদিকে, এখনো ডিভিডেন্ড না পাওয়া বহু বিনিয়োগকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুজিঁবাজারে আস্থা আরও কমে যাবে।
এমএন
পুঁজিবাজার
মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের তৃতীয় প্রান্তিক প্রকাশ
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জানুয়ারি’২৪–মার্চ’২৪) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই সূত্রে) এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সমন্বিতভাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ০২ পয়সা। এর বিপরীতে গত বছরের একই সময়ে লোকসান (ইপিএস) ছিল ৬৪ পয়সা।
এ ছাড়া হিসাববছরের প্রথম তিন প্রান্তিক মিলিয়ে অর্থাৎ ৯ মাসে (জুলাই’২৫–মার্চ’২৬) মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারপ্রতিলোকসান (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে লোকসান (ইপিএস) ছিল ১ টাকা ৬৩ পয়সা।
অন্যদিকে, ৩১ মার্চ, ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভি) হয়েছে ৮ টাকা ৯২ পয়সা।
পুঁজিবাজার
প্রাইম ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা
পুজিঁবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি প্রাইম ব্যাংক পিএলসি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ২৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, সর্বশেষ বছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ৮৪ পয়সা।
গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে কোম্পানির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৪০ টাকা।
কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২১ মে অনুষ্ঠিত হবে। লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ এপ্রিল।
পুঁজিবাজার
পুঁজিবাজারে আইনি সংস্কারের বড় অংশ সম্পন্ন: রাশেদ মাকসুদ
পুঁজিবাজারে আইনি সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তিনি বলেন, মার্জিন বিধিমালা ২০২৫, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫ এবং পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস ২০২৫—এই তিনটি বিধিমালার মাধ্যমে পুঁজিবাজারের আইনি সংস্কারের বড় অংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি শিগগিরই কর্পোরেট গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত নতুন বিধিমালাও প্রণয়ন করা হবে।
রোববার (০৫ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কার্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত পুঁজিবাজার অংশীজনদের ষষ্ঠ মাসিক সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া সভায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কমিশনার মুহাম্মদ মোহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফুদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় পুঁজিবাজার উন্নয়ন, ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে ইমার্জিং মার্কেটে উত্তরণ, ই-কেওয়াইসি বাস্তবায়ন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতকরণ, বিনিয়োগ শিক্ষা সম্প্রসারণ, নতুন পণ্য সংযোজন এবং বাজারে কারসাজি প্রতিরোধসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের কার্যকারিতা জোরদার এবং নেগেটিভ ইকুইটি সমস্যার সমাধান নিয়েও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের বড় বড় পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানিগুলোকে সরাসরি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে কমিশন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেডসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পুঁজিবাজার
ব্লক মার্কেটে লেনদেন ১৭ কোটি টাকার
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ৩৫টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন ব্লক মার্কেটে ১৭ কোটি ৫১ লাখ ২৯ হাজার টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, রবিবার (৫ এপ্রিল) কোম্পানিগুলোর মোট ৪৯ লাখ ২০ হাজার ০৪৫ টি শেয়ার ৬৭ বারে লেনদেন হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ১৭ কোটি ৫১ লাখ ২৯ হাজার টাকা।
ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি ফাইন ফুডসের ৩ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার টাকার, দ্বিতীয় স্থানে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকার ও তৃতীয় স্থানে জি কিউ বলপেন ইন্ডাস্ট্রিজের ১ কোটি ৭৮ লাখ ১৬ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।



