খেলাধুলা
একই দিনে বিসিবির চার পরিচালকের পদত্যাগ
মুখে যতই বলেন, কোনো সংকট নেই, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। শনিবার (৪ এপ্রিল) একই দিনে পদত্যাগ করেছেন চারজন পরিচালক। ২৫ সদস্যের কমিটিতে এই নিয়ে দায়িত্ব ছাড়লেন সাতজন।
শনিবার ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বোর্ড সভা। সভার এজেন্ডা ছাপিয়ে আলোচনায় পদত্যাগ। প্রথমে পদত্যাগ করেন ফায়াজুর রহমান মিতু। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন। বিসিবির বোর্ড মিটিং শেষে পদত্যাগের চিঠি দিয়েছেন। বিসিবির ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান ও সিসিডিএমের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন ফাইয়াজুর রহমান।
তার দেখানো পথে হেঁটে মধ্যরাতে বোর্ড ছেড়েছেন ফ্যাসিলিটিজ বিভাগের চেয়ারম্যান শাহনিয়ান তানিম ও সিকিউরিটি বিভাগের চেয়ারম্যান মেহরব আলম চৌধুরী। এখানেই শেষ হয়নি। সর্বশেষ রাতে পদত্যাগ করেন মনজুর আলম।
গতকাল পদত্যাগ করা চারজনই অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর আগে ইশতিয়াক সাদেক আমজাদ হোসেন ও ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল পদত্যাগ করেন। যাদের মধ্যে ফয়সাল ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) মনোনীত পরিচালক।
বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের তদন্ত করতে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এনএসসিতে কমিটির মুখোমুখি হয়েছেন বেশ কয়েকজন পরিচালক। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, দুয়েকদিনের মধ্যেই সেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এমন সময়ে পরিচালকদের একে একে সরে দাঁড়ানোতে অনেকে পাচ্ছেন রহস্যের গন্ধ। বর্তমান বোর্ড নিয়ে যে অনেকেই সন্দিহান।
খেলাধুলা
হামজা-জামালদের নতুন কোচের সন্ধানে বাফুফে
২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন হাভিয়ের কাবরেরা। দীর্ঘ চার বছরে তার অধীনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি মিশ্র। ৩৯ ম্যাচের মধ্যে জয় মাত্র ১০টি, সেগুলোও তুলনামূলক দুর্বল দলের বিপক্ষে। সদ্য শেষ হওয়া বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে পাওয়া জয়টিই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি।
দেশের ফুটবল মহলের একটি বড় অংশ অবশ্য কাবরেরার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে লম্বা সময়ের কোচ তিনি। এই স্প্যানিশ কোচের অধীনে দলের খেলার ধরনে উন্নতি এলেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। বিশেষ করে হামজা চৌধুরী ও শামিতদের মতো প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়েও এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে বাংলাদেশ আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায় সমালোচনা বেড়েছে। তাই কাবরেরার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকে।
এই কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সভাপতিত্বে ন্যাশনাল টিমস কমিটির আলোচনায় বসে গতকাল শনিবার। বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য ও বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছেন, কোচের সন্ধানে আছেন তারা।
তবে কাবরেরাও আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন বাবু। ‘আপনারা জানেন, আমাদের বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ কাবরেরার চুক্তি আছে এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত। যার পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকেই আমরা নতুন কোচের সন্ধান আমরা নেমেছি। আমরা এখন থেকেই আমরা চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে কাবরেরাও সাক্ষাৎকার দিতে পারবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের ন্যাশনাল টিমস ম্যানেজমেন্ট কমিটি, আমাদের সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বে কমিটিতে যারা থাকবেন, তারা সিদ্ধান্ত নেবেন পরবর্তী কোচ কে হবেন।
এখন পর্যন্ত যেহেতু আমাদের এই ৩০ তারিখ পর্যন্ত কাবরেরার সাথে চুক্তি রয়েছে, অতএব সে এখন পর্যন্ত আমাদের আছে। এখন থেকে যে কোচের ইন্টারভিউ আমরা নেব, তার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব আমরা।’
‘ভালো বিকল্প’ না পেলে কাবরেরাকে রেখে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন বাবু। বাফুফের মিডিয়া কমিটির এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘না, তাকে বাদ দিয়ে ভাবছি না কিংবা তাকে নিয়ে চিন্তা করছি, তাও কিন্তু না। এখানে সবচেয়ে বড় ব্যাপারটা হচ্ছে যে, আমাদের তার সঙ্গে আরও এক মাসের চুক্তি আছে। ৩০ এপ্রিল আমাদের চুক্তি শেষ হবে। যে কারণে, এখন থেকেই আমরা তার চেয়ে ভালো কোচ পাওয়ার চেষ্টা আমরা করছি। আমরা যদি আরও ভালো মানে কোচ পাই, অবশ্যই তখন আমরা সেই চিন্তা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাউকে কোনো প্রাধান্য দেব না। আমাদের ন্যাশনাল টিম ম্যানেজমেন্ট কমিটির সব কর্মকর্তারা মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে- আমরা আজকে থেকেই সিভি নেওয়া শুরু করে দেব এবং বিদেশেও যোগাযোগ করব, প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব, প্রত্যেকটা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব। যদি কারোর কাছে আরও বেটার কোনো কিছু থাকে, তাহলে আমরা সেটাই আমরা বেছে নিব। কাবরেরার এই মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিব না।’
জাতীয় দল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন কোচকে দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে একজন নতুন গোলরক্ষক কোচও দুই বছরের জন্য নিয়োগ দেবে বাফুফে।
কমিটির সভায় সদ্য সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী দল নিয়েও কথা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে আগামী জুনের ফিফা উইন্ডো কাজে লাগানোর বিষয়েও।
‘আগামী জুনে ফিফা উইন্ডো আছে এবং সেই ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ চেষ্টা করছে খেলার জন্য। সেটার জন্য আমরা অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় ফুটবল দল গঠন করার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। এই দলটা সর্বক্ষণিক প্র্যাকটিসে থাকবে।’
বাবু বলেন, ‘জুনের ফিফা উইন্ডোতে আমরা থাইল্যান্ড অথবা মিয়ানমার-এই ধরনের দলের সঙ্গে, একটু মানসম্পন্ন দলের সঙ্গে আমরা চেষ্টা করব খেলার জন্য।’
খেলাধুলা
আমিরকে ছাড়িয়ে টি-টোয়েন্টিতে পেসারদের শীর্ষে মুস্তাফিজ
পাকিস্তান সুপার লিগে বল হাতে খুব বেশি মিতব্যয়ী না হলেও রেকর্ড গড়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে ৩ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়ার ম্যাচেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাঁহাতি পেসার হিসেবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েন তিনি। এই রেকর্ড গড়তে গিয়ে পেছনে ফেলেছেন নিজের আদর্শ পাকিস্তানের তারকা পেসার মোহাম্মদ আমিরকে।
বর্তমানে মুস্তাফিজের ঝুলিতে রয়েছে ৩২৫ ম্যাচে ৪১৬ উইকেট, যেখানে আমির ৩৫৬ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৪১৫ উইকেট। কম ম্যাচ খেলেই এই অর্জন ফিজের কৃতিত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
তবে এই রেকর্ড বেশিদিন নিজের দখলে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা। কারণ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এখনও নিয়মিত খেলছেন আমির। চলমান পিএসএলেও রাওয়ালপিন্ডির হয়ে মাঠে নামছেন তিনি। আজকের ম্যাচেই একাধিক উইকেট পেলে আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেতে পারেন পাকিস্তানি এই পেসার।
সবমিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে উইকেট শিকারের তালিকায় মুস্তাফিজের অবস্থান সপ্তম। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন আফগানিস্তানের রশিদ খান (৭০৩ উইকেট)। এরপর রয়েছেন ডোয়াইন ব্রাভো (৬৩১), সুনীল নারিন (৬১৪), ইমরান তাহির (৫৭২), আন্দ্রে রাসেল (৫০৮), সাকিব আল হাসান (৫০৭) ও ক্রিস জর্ডান (৬৪৬)। তাদের পরেই অবস্থান মুস্তাফিজ ও আমিরের।
শুধু বাঁহাতি পেসারদের তালিকায় শীর্ষে থাকলেও বাংলাদেশের এই কাটার মাস্টারের সামনে আরও বড় মাইলফলক অপেক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ইতোমধ্যে ১৫৮ উইকেট নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ শিকারির রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি। আর স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেও সতীর্থ সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
খেলাধুলা
আসছে বিশ্বকাপে নতুন যে ৫ নিয়ম আনল ফিফা
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আর মাত্র বাকি আড়াই মাস। মহামরণের লড়াইয়ে নামার আগে দলগুলো নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট। বিশ্বকাপকে আরো গতিশীল করতে ফুটবলের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ফিফা।
ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদসংস্থা ইএসপিএন সকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ সামনে রেখে ফিফা ঘোষণা দিয়েছে ৫ নিয়ম পরিবর্তনের। ম্যাচের গতি ধরে রাখা, সময় অপচয় রোধ করা এবং মাঠের রেফারিদের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর হবে বলে মনে করছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ফিফার ঘোষিত নতুন ৫ নিয়ম হলো-
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বদলি খেলোয়াড়ের মাঠে প্রবেশ
যেকোনো ম্যাচেই খেলোয়াড় পরিবর্তনের সময় দলগুলো অযথা সময় নষ্ট করে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে এমন যেন না হয়, সে জন্য খেলোয়াড় বদলের নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ফিফা।
পরিবর্তন হওয়া খেলোয়াড়কে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। এর বেশি সময় নিলে বদলি খেলোয়াড়কে মাঠে প্রবেশের আগে এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। ওই সময়টা তার দলকে খেলতে হবে ১০ জন নিয়ে।
দ্রুততম সময়ে খেলা শুরুর বাধ্যবাধকতা
গোলকিক এবং থ্রো-ইনেও সময়ক্ষেপণ খুব সাধারণ একটি বিষয়, বিশেষ করে ম্যাচে এগিয়ে থাকা দল প্রায়ই এই কাজটা করে থাকে।
বিশ্বকাপে এমন কিছু যাতে না হয়, তাই গোলকিক ও থ্রো-ইন নিতে হবে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে। এর বেশি সময় নিলে বলের দখল চলে যাবে প্রতিপক্ষের কাছে।
মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের চিকিৎসা
ম্যাচের সময় খেলোয়াড়েরা চোট পেলে প্রাথমিক চিকিৎসা মাঠেই দেওয়া হয়। ফলে খেলা বন্ধ রাখা হয় সেই সময়ে। বিশ্বকাপে অবশ্য এমন কিছুর সুযোগ থাকছে না।
নতুন নিয়মে চোট পাওয়া কোনো খেলোয়াড় চিকিৎসা চাইলে তাকে এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় যদি ফাউল করে হলুদ বা লাল কার্ড দেখেন, সে ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
রেফারির সঙ্গে কথা বলবেন শুধু অধিনায়ক
রেফারির দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেলেই তাকে ঘিরে খেলোয়াড়দের জটলা চলে। খেলোয়াড়েরা তর্ক করতে থাকেন রেফারির সঙ্গে। এতে সময়ের অপচয় হয়। খেলার পরিবেশও নষ্ট হয়। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা আপত্তি জানানোর এখতিয়ার থাকবে শুধু অধিনায়কেরই। তিনি ছাড়া অন্য কেউ রেফারির দিকে এগিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হবে।
ভিএআরের বর্ধিত ক্ষমতা
ক্রমেই ফুটবলে বাড়ছে ভিডিও সহকারী রেফারি বা ভিএআরের ভূমিকা। সেই ধারায় ২০২৬ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বা লাল কার্ডের সিদ্ধান্তও পর্যালোচনা করা হবে এই প্রযুক্তি দিয়ে। পাশাপাশি রেফারি যদি কোনো কর্নারের সিদ্ধান্ত ভুল দিয়েছেন বলে সন্দেহ থাকে, তাহলে সেটিও ভিএআরের মাধ্যমে শোধরানো হবে।
ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, ফিফার এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হলে খেলায় নাটুকেপনা ও সময় নষ্ট করার প্রবণতা অনেকাংশেই কমে আসবে।
খেলাধুলা
বাংলাদেশ-চীন মুখোমুখি আজ
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এই হারের হতাশা ভুলে আজ নতুন আরেকটি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে নারী দল। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মেয়েরা। সব দিক থেকে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে ম্যাচটি খুবই কঠিন হবে। তবে জয়ের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে কোচ পিটার বাটলারের দল। ব্যাংককের ননথাবুরি প্রভিন্স স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় দুদলের ম্যাচটি শুরু হবে।
সম্প্রতি সিনিয়র এশিয়ান কাপে চীনের বিপক্ষে খেলা অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের। ওই ম্যাচে চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে খেলা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় অনূর্ধ্ব-২০ দলেও আছেন। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আজকের ম্যাচ ভালো কিছু করে দেখাতে পারে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। চীন ম্যাচ সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস বলেছেন, গত ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে কাজ করেছেন তারা। চীন ম্যাচের জন্য প্রস্তুত দল। জয়ে চোখ রেখেই খেলবে বাংলাদেশ। গোলরক্ষক কোচ মাসুদ আহমেদ বলেছেন, ‘আপনারা জানেন, চীন বিশ্ব ফুটবলে অনেক ভালো অবস্থানে। তাদের বিপক্ষে আমরা সেটপিচ নিয়ে কাজ করেছি। সেটপিচে কিংবা ডিফেন্সের সিলি কোনো মিস্টেক এ যেন আর গোল কনসিড না করি আমরা, সেদিকেই বেশি জোর দিচ্ছি। আমি আশাবাদী, ভালো কিছুই হবে।’
প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপেও খেলছে বাংলাদেশ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। পাশাপাশি তিন গ্রুপের সেরা তৃতীয় হওয়া দুটি দলও নকআউট পর্বে খেলার টিকিট পাবে। পরবর্তী পর্বে খেলতে চীনের বিপক্ষে ভালো করার বিকল্প নেই বাংলাদেশের।
খেলাধুলা
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যের জন্য খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গৃহীত সকল পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের এই সাফল্য দেশের ক্রীড়ামোদী জনগণকে উজ্জীবিত করবে।
দেশপ্রেম আর টিম স্পিরিটে উজ্জীবিত আমাদের সাহসী তরুণরা প্রমাণ করেছে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকলে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিজয়ের রথ এভাবেই অব্যাহত থাকবে, ইন শা-আল্লাহ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ।
খেলায় নির্ধারিত সময়ের মতো টাইব্রেকারেও অনেক নাটকীয়তা হয়। টসে জিতে ভারতের অধিনায়ক প্রথমে শট নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন প্রথম শট সেভ করেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।
বাংলাদেশের চতুর্থ শট নিতে আসেন স্যামুয়েল। এ সময় ভারতের গোলরক্ষক চোটের কারণে সময়ক্ষেপণ করেন। চিকিৎসা নেয়ার পর পোস্টে দাঁড়ালে স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লাগে। তখন চার শট শেষে স্কোরলাইন ৩-৩।



