অন্যান্য
পান-শুকনো মরিচ-জর্দ্দা নিয়ে ভয়াবহ তথ্য দিলেন মাহবুব কবির মিলন
পান, শুকনো মরিচ, কাঁচা মরিচ, গুল ও জর্দ্দা নিয়ে ভয়াবহ এক তথ্য দিয়েছেন আলোচিত সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মাহবুব কবির মিলন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাস এ তথ্য দেন তিনি।
পাঠকের জন্য তার ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘সবচেয়ে বেশি কীটনাশক পাওয়া গেছে পানে। এরপর কাঁচা মরিচে।
শুকনা মরিচে আফলাটক্সিন। যা হাজার ডিগ্রি তাপমাত্রা এবং ঠাণ্ডায়ও ধ্বংস হয় না। ভয়াবহ মাত্রায় হেভিমেটাল পাওয়া গেছে জর্দ্দা, গুল, খয়ের আর তামাক পাতায়। এবং সব ধরণের সিগারেট ও বিড়িতে।’
‘কেন এগুলো মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং ক্যান্সার সৃষ্টি করে, এটাই তার বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ।’
অন্যান্য
চুরিতেও ছ্যাঁচড়ামি করেছেন মাহবুব মোর্শেদ : আরিফ জেবতিক
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট আরিফ জেবতিক বলেছেন, লোকটা ঝোলায় ভরে আসিফ নজরুলের বাসায় মদের বোতল সরবরাহ করা ছাড়া আর কোনো কাজেরই যোগ্য নয়, এই কথাটি যারা বলেছিলেন, আপনারা সঠিকই বলেছিলেন। চুরিটাও কী পরিমাণ ছ্যাঁচড়ামি আর ছন্নছাড়া ভাবে করেছে, দেখেন।
শনিবার নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রথম আলোর ‘নিজের গাড়ি রেন্ট-এ কারের মাধ্যমে বাসসকে ভাড়া দিয়েছিলেন মাহবুব মোর্শেদ’ শিরোনামের একটি নিউজের স্ক্রিনশট শেয়ার করে একথা লেখেন তিনি।
তিনি ফেসবুক পোস্টে আরো লেখেন, ইউনূস আর আসিফ নজরুল তাদের সকল পার্সোনাল স্টাফ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম থেকে শিশি সাপ্লায়ার মামো, এদেরকে দুটো খুদকুঁড়ো দেওয়ার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের পাইন মেরে দিয়েছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের মালিকানাধীন একটি গাড়ি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি করেছিলেন মাহবুব মোর্শেদ, যখন তিনি সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে ছিলেন। ওই গাড়ি ভাড়া বাবদ মাসে নেওয়া হতো দেড় লাখ টাকা। মাহবুব মোর্শেদ সম্প্রতি বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাসস সূত্রের দাবি, মাহবুব মোর্শেদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তদন্ত কমিটির কাছে জমা পড়েছে। এর মধ্যে নিজের গাড়ি বাসসকে ভাড়া দেওয়া, নিজের বেতন ও ভাতা নিজেই নির্ধারণ, পদ না থাকলেও নিয়োগ এবং কর্মীদের হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
নথিপত্র থেকে জানা গেছে, মাহবুব মোর্শেদের মালিকানাধীন টয়োটা এলিয়ন মডেলের একটি গাড়ি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাসিক দেড় লাখ টাকা ভাড়ায় বাসসের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। এটি স্বার্থের দ্বন্দ্ব ঘটায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন।
বাসস সূত্র বলছে, গাড়িটি মাহবুব মোর্শেদ নিজে ব্যবহার করতেন। তবে এমডির ব্যবহারের জন্য আগে থেকেই বাসসের নিজস্ব একটি গাড়ি রয়েছে। সেটা মাঝেমধ্যে ব্যবহার করতেন মাহবুব মোর্শেদ।
নথিপত্র বলছে, মাহবুব মোর্শেদের ব্যক্তিগত গাড়িটির জন্য দেড় লাখ টাকা ভাড়া (জ্বালানি, চালক, অন্যান্য ব্যয়সহ) নির্ধারণ করা হয়। এটা সপ্তাহে ৭ দিন ও দিনের পুরো ২৪ ঘণ্টা সময়ের জন্য।
একই প্রতিষ্ঠানের আরেকটি গাড়িও বাসসে ভাড়ায় চলছে, সেই গাড়ির ভাড়া মাসে ৭০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এই গাড়ির ভাড়া অর্ধেকের কম। দ্বিতীয় গাড়ির চুক্তিতে সপ্তাহে ৭ দিন ও ২৪ ঘণ্টার কথা উল্লেখ নেই।
এ বিষয়ে মাহবুব মোর্শেদের বক্তব্য জানতে গত ১৬ মার্চ তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করে প্রথম আলো। তিনি বলেন, ‘এগুলো নিয়ে কথা বলার মতো মানসিকতা নাই আমার।…রিপোর্ট করেন আপনি। শুভেচ্ছা থাকল।’
অন্যান্য
হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক উদ্যোগ ব্যর্থ, ভেটো দিল রাশিয়া-চীন-ফ্রান্স
জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অনুমোদন চেয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাব ভেস্তে গেছে। ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রস্তাবটি আটকে দিয়েছে রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করে উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন। প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালীতে বলপ্রয়োগের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।
জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর পথটির ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান।
দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, প্রণালীটি তাদের নৌবাহিনীর ‘দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি ইরানের ‘শত্রুদের জন্য’ বন্ধই থাকবে। অবরোধের জেরে গত একমাসে পারস্য উপসাগরে কমপক্ষে ২ হাজার ১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছে।
এসব জাহাজের মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
একজন কূটনীতিক ও জাতিসংঘের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আরব দেশগুলো এমন একটি প্রস্তাব আনে যাতে জাতিসংঘের মাধ্যমে ‘বলপ্রয়োগের অনুমতি’ দেয়া হয়, যাতে হরমুজ প্রণালী–এ আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রস্তাবটির ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভেটো ক্ষমতাধর তিন দেশের বিরোধিতার কারণে উদ্যোগটি ভেস্তে গেছে। রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা নীতিগতভাবে এমন কোনো প্রস্তাবের বিরোধী যেখানে সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়।
জাতিসংঘে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুতে চীন ও রাশিয়াকে বরাবর ইরানের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তবে অন্যতম ভেটো ক্ষমতাধর ফ্রান্স এবারই প্রথম কার্যত ইরানের পক্ষে অবস্থান নিলো।
যার ইঙ্গিত গত বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বক্তব্য থেকেই পাওয়া গিয়েছিল। এদিন দক্ষিণ কোরিয়া সফরকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কিছু লোক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে বলপূর্বক হরমুজ প্রণালী মুক্ত করার ধারণাকে সমর্থন করছে।
তিনি বলেন, এটি এমন একটি বিকল্প যা আমরা কখনোই সমর্থন করিনি, কারণ এটা অবাস্তব। তিনি আরও বলেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী মুক্ত করতে অনন্তকাল লেগে যাবে এবং যারা এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করবে, তারা ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকির মুখে পড়বে।
ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সংঘাত শেষ হওয়ার পর হরমুজের মধ্যদিয়ে অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে একটি জোট গঠনের জন্য ইউরোপীয় ও অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে কাজ করবেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলে আসছি যে এই প্রণালীটি অবশ্যই পুনরায় খুলে দিতে হবে, কারণ এটি জ্বালানি প্রবাহ সার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটি কেবল ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই করা সম্ভব।
অন্যান্য
হামের জরুরি টিকাদান শুরু রোববার
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। আগামী রোববার থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের প্রকোপ বেশি এমন উপজেলাগুলোতে আগামী দুই দিনের মধ্যে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। রোববার সকাল থেকেই জরুরি এই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে স্বাস্থ্য বিভাগ মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফ থেকে ১৯ লাখ টিকা পেয়েছি। এই টিকা দেওয়া হবে। ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সীদের এ টিকা দেওয়া হবে।
অন্যান্য
রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদায় এমপি না জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান- কার অবস্থান উপরে?
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা অনুযায়ী বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক পদধারীদের প্রটোকল বা মর্যাদার একটি নির্দিষ্ট ক্রম নির্ধারিত রয়েছে।
এই তালিকা অনুযায়ী জাতীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল তালিকায় জাতীয় সংসদ সদস্যরা (এমপি) রয়েছেন ১৩ নম্বর ক্রমে। অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ায় তাদের অবস্থান তুলনামূলকভাবে অনেক উঁচুতে।
অন্যদিকে স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী হলেও জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা রয়েছেন ২৪ নম্বর ক্রমে। একই ধাপে জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা ও দায়রা জজ এবং সশস্ত্র বাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত।
এ থেকে বোঝা যায়, রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার তালিকায় জাতীয় সংসদ সদস্য (১৩ নম্বর) ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের (২৪ নম্বর) মধ্যে প্রায় ১১ ধাপের পার্থক্য রয়েছে। ফলে প্রটোকল বা রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় এমপির অবস্থান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের চেয়ে অনেক উঁচুতে ধরা হয়।
রাষ্ট্রীয় এই তালিকাটি সাধারণত সরকারি অনুষ্ঠান, প্রটোকল, আসন বিন্যাস ও আনুষ্ঠানিক মর্যাদা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অনুসরণ করা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা অনুযায়ী সিরিয়ালটা মোটামুটি এ রকম
১ থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত (মেম্বার/ইউপি সদস্য প্রটোকল তালিকায় পৃথকভাবে নেই, তাই তালিকার শেষে ধরা হয়)
১) রাষ্ট্রপতি।
২) প্রধানমন্ত্রী।
৩) জাতীয় সংসদের স্পিকার।
৪) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতিবৃন্দ।
৫) মন্ত্রিসভার মন্ত্রীগণ, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা।
৬) মন্ত্রীর পদমর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি (মন্ত্রিসভার সদস্য না হলেও), মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র (স্বীয় দায়িত্বে)।
৭) বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশের হাইকমিশনারগণ।
৮) প্রতিমন্ত্রীগণ, হুইপ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ।
৯) প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ।
১০) উপমন্ত্রীগণ।
১১) উপমন্ত্রীর পদমর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বাংলাদেশে নিযুক্ত দূত (Envoys)।
১২) মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান সচিব, সেনা/নৌ/বিমান বাহিনীর প্রধানগণ।
১৩) জাতীয় সংসদ সদস্যগণ (MP)।
১৪) বাংলাদেশে নিযুক্ত নন এমন সফররত বিদেশি রাষ্ট্রদূত/হাইকমিশনার।
১৫) অ্যাটর্নি জেনারেল, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ন্যায়পাল।
১৬) সরকারের সচিবগণ, আইজিপি, পিএসসি/ইউজিসি চেয়ারম্যান, সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল ও সমপদমর্যাদার নৌ/বিমান কর্মকর্তা।
১৭) সচিব পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, জাতীয় অধ্যাপক, এনএসআই মহাপরিচালক।
১৮) সিটি কর্পোরেশনের মেয়রগণ (স্বীয় এলাকায়)।
১৯) অতিরিক্ত সচিব, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, নির্বাচন কমিশনারগণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেড অধ্যাপক।
২০) চেয়ারম্যান, সরকারি কর্পোরেশন/ট্যারিফ কমিশন ইত্যাদি।
২১) যুগ্ম সচিব, বিভাগীয় কমিশনার (স্বীয় দায়িত্বে), ব্রিগেডিয়ার ও সমপদমর্যাদার কর্মকর্তা।
২২) যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা, ডিআইজি (স্বীয় দায়িত্বে), পূর্ণ কর্নেল ও সমপদ।
২৩) অতিরিক্ত কমিশনার (স্বীয় দায়িত্বে), সিটি কর্পোরেশনের মেয়রগণ (স্বীয় এলাকার বাইরে)।
২৪) জেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান (স্বীয় দায়িত্বে), ডিসি (স্বীয় দায়িত্বে), জেলা ও দায়রা জজ (স্বীয় দায়িত্বে), লে. কর্নেল ও সমপদ।
২৫) উপসচিব, উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান (স্বীয় দায়িত্বে), প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান (স্বীয় দায়িত্বে), সিভিল সার্জন, এসপি (স্বীয় দায়িত্বে), মেজর ও সমপদ।
এরপরই আসে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, তারপর মেম্বার (ইউপি সদস্য)। প্রটোকল তালিকায় “মেম্বার” আলাদা নম্বর পায় না, স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে ২৫-এর নিচে ধরা হয়।
অন্যান্য
ঘোষকের বিতর্কে হারিয়ে যাওয়া এক জাতির স্বাধীনতা
আমাদের স্বাধীনতা এসেছে একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। সেই মুক্তিযুদ্ধের আগে বহু বছরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে, যার রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছেন অনেকেই। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা ফজলুল হক এবং শেখ মুজিবুর রহমান। আর সেই সঙ্গে ছিলাম আমি, ছিলাম আমরা, যারা শৈশব, কৈশোর, যৌবন এবং জীবন দিয়ে মানুষের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছিলাম।
কিন্তু বারবার আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন ফিরে আসে।
২৫শে মার্চ রাতে শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হন। কিন্তু গ্রেফতারের পূর্বে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রে সাক্ষর করেননি এবং তাজউদ্দীন আহমদের নিয়ে যাওয়া টেপ রেকর্ডারে ঘোষণা দিতে রাজি হননি। এর ফলে সাময়িকভাবে একটি রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয় এবং পুরো জাতি দিশেহারা হয়ে পড়ে।
এমতাবস্থায় মেজর জিয়াউর রহমান নিজ উদ্যোগে নিজের নামে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরবর্তীতে তা সংশোধন করে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণা করেন। তাঁর কণ্ঠে সেই ঘোষণা অসংখ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। কারণ আমরা যখন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম, তখন জানতাম না পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বা পুলিশ আমাদের সঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করবে কিনা।
বাস্তবে দেখা গেছে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অনেক সরকারি কর্মচারী দেশের পক্ষে দাঁড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। আমার বাবা তাঁদের মধ্যেই একজন। জনগণের পাশাপাশি জিয়াউর রহমান এবং এম এ হান্নানসহ আরও কয়েকজন সৈনিক ও কর্মকর্তা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তবে জিয়াউর রহমানের ঘোষণা বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং তিনি সামরিক কর্মকর্তা হওয়ায় সেটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, বিশেষ করে বাঙালি সেনা, ই পি আর এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য।
এরই ধারাবাহিকতায় তাজউদ্দীন আহমদ এবং সৈয়দ নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠন হয় এবং ১৭ই এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (বর্তমান মুজিবনগর), যা তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত এবং ভারত সীমান্তসংলগ্ন একটি এলাকা।
জাতির দুর্ভাগ্যের সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের দেশের ভেতরে খুব বেশি দেখা যায়নি। তাঁরা ভারতের মাটিতে বসে নেতৃত্ব দিয়েছেন, বলা হয়, কিন্তু আমরা গ্রামবাংলার মানুষ সেই নেতৃত্ব কতটা অনুভব করেছি, তা মনে পড়ে না। কারণ তখন আমরা আবেগের বশবর্তী হয়ে, বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। তখন কারো ভাষণের অপেক্ষায় ছিলাম, তা মনে পড়ে না। আমরা শুধু জানতাম, পেছনে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, আর সামনে মৃত্যু অথবা স্বাধীনতা।
তবুও সত্য এটাই, তৎকালীন সেই সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্বেই সামরিক যুদ্ধ, কূটনীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা ১৬ই ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করি।
কথিত রয়েছে, তাজউদ্দীন আহমদের বর্ণনা অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। আবার এর বিপরীতে স্বীকৃত ইতিহাসে বলা হয়, তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু তা বেতারে প্রচার করা সম্ভব হয়নি। যাই হোক, জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এটি সত্য, আমিও সেই ঘোষণা শুনেছি। দেশব্যাপী তা ছড়িয়ে পড়লে সেনাবাহিনীসহ অনেকেই আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা পায়।
কিন্তু আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। শুধু কি শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমানই তখন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলেন? আমরা সবাই কি তবে রাজাকার ছিলাম? আমার পরিবারের বাবা, চাচা, মামারা সহ কোটি কোটি মানুষ কি কিছুই করেনি?
আমি খোলামেলা ভাবে একটি অপ্রিয় সত্য বলতে চাই, যা লক্ষ কোটি মানুষের মনের কথা। আশা করি, এই কথাগুলোর মাধ্যমে পুরনো বিতর্ক থামবে এবং জাতি কিছুটা হলেও শান্ত হবে।
স্বাধীনতার স্বীকৃতি কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন। দেখবেন, দেশটি সত্যিকারের স্বাধীন হয়ে উঠবে। মনে রাখবেন, এই দেশ স্বাধীন হয়েছিল তৎকালীন সাত কোটি মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে, লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে, কারও একক নেতৃত্বে বা ভাষণের কারণে নয়।
যেমনটি আমরা দেখেছি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে, যেখানে পুরো দেশের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আত্মত্যাগই ছিল মূল শক্তি।
আমি যেদিন আসিছিলাম ভবে, লিখে রাখেনি কেউ দিন, কাল, বছর কত হবে। মনে নেই সবকিছু মোর, তবে শুনেছি বড় কাকাকে বলতে, মোদের রাজা আইউব খান, তিনি গমের রুটি খান। শুনেছি রেডিওতে মুনায়েম খানকে বলতে, বাঙালি জাতি যেন পোলাওয়ের পরিবর্তে ভাত খায় একবার। দেখেছি শেখ মুজিবকে সাইকেলে করে ফরিদপুর থেকে নহাটায় আসতে। দেখেছি জাসদের নেতা, নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের ভিপি, আমার মামা জহির সর্দারকে লঞ্চে সুতো দিয়ে বেঁধে রাখতে, ভাড়া এক পয়সা বেশি বাড়াবার কারণে। দেখেছি ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নহাটা বাজারে মিছিল করতে।
বয়স তখন হয়তো খুব বেশি না। তবে ১৯৬৮-৬৯ সালের সময়ে মিছিল, মিটিং এবং হরতালে স্লোগানের শরিক হয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছি, আগামীকাল, আগামীকাল, হরতাল, হরতাল। বয়স তখনও বেশি না, তবে কলা গাছ দিয়ে ভেলা বানিয়ে সেই ভেলায় করে বিলে গিয়েছি, বিলের মাছ ধরেছি পলো দিয়ে। স্কুল পালিয়ে নিজেদের এবং প্রতিবেশীদের গাছের ডাব, কাঁঠাল, আম, লিচু, জাম, খেজুরের রস চুরি করে খেয়েছি। ধরা খেয়েছি মায়ের হাতে, মারও খেয়েছি। এ সময় আমি রীতিমতো পাকাচোর।
বয়স তখনও কম, তবে যুদ্ধের সময় মনিকাকার এলএমজি দিয়ে ব্রাশ ফায়ার করেছি। হঠাৎ হয়ে যাই শিশু মুক্তিযোদ্ধা। দুষ্টুমি করার সময় শেষ না হতেই হাতে অস্ত্র, ঘাড়ে একটি পরিবারের দায়িত্ব। যেখানে বড়রা যুদ্ধের রণক্ষেত্রে পাকবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করছে, একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পাওয়ার আশায়। হ্যাঁ, আমি তখন দায়িত্বশীল নাগরিক, খুদে মুক্তিযোদ্ধা এবং শরণার্থী, নিজের দেশেই।
হতে পারি আজ অনেকের কাছে বুড়োদাদা। তাহলে বুড়োদাদাকে যুদ্ধের কথা, দেশ স্বাধীনতার কথা, স্বাধীনতার ঘোষকের কথা বিভ্রান্ত করে বলার চেষ্টা করা কি উচিত? এই বাঙালি জাতি পথভ্রষ্ট হয়ে সেটাই করে আসছে দীর্ঘ পঞ্চান্ন বছর ধরে।
আমি এখন ভয় পাচ্ছি। কী জানি, আবার নতুন স্লোগানের বন্যা বইবে, সংসদে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে কি হবে না তা নিয়েই চলবে অন্তহীন বিতর্ক। তারপর দিন যাবে, মাস যাবে, বছর পার হয়ে যাবে, কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হবে না। যেমনটি আজও ফয়সালা হয়নি, কে ছিল স্বাধীনতার ঘোষক। এটা কি আদৌ গুরুত্বপূর্ণ ছিল তখন, যখন পুরো জাতি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমেছিল শুধু একটি স্বাধীন বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য?
আজ যদি পুরো জাতির স্বীকৃতি ও সম্পৃক্ততা থাকত দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে, তাহলে আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারতাম, কিন্তু তা আজও সম্ভব হয়নি।
বলুন, কেন বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলাম? কী জন্য এত রক্ত, এত ত্যাগ? আমরা আসলে কী পেয়েছি, আর কেন পাইনি? আজও যদি সেই প্রশ্নের সৎ উত্তর না দিই, তাহলে স্বাধীনতা শুধু একটি শব্দ হয়েই থাকবে, বাস্তবতা হয়ে উঠবে না। এখন প্রশ্ন একটাই, আমরা কি সত্যিই স্বাধীন, নাকি এখনো নিজেদের প্রতারণা করে যাচ্ছি?
রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন



