স্বাস্থ্য
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল
দেশজুড়ে হামের প্রকোপের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সর্বস্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি (অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি) বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন রুমী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কথা জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, শিশুদের মাঝে হামজনিত নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় আপদকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা ও হামের ভ্যাকসিন প্রদানের সুবিধার্থে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও অধিদপ্তরাধীন সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সর্বস্তরের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি (অর্জিত ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটি) স্থগিত/বাতিল করা হলো।
এ আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে জারি করা হলো এবং অবিলম্বে কার্যকরী হবে।
গত ১ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ২ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা ৬৮৫ ছিল জন। ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৭০৯ জন।
বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত শনাক্ত হামরোগীর সংখ্যা ছিল ২৬ জন। ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত শনাক্ত হামরোগীর সংখ্যা ৫৮৫ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৩৬৩ জন এবং একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক হাজার ৯৩০ জন।
বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের এবং একই সময়ে সন্দেহজনক হামে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য
হামের ভয়াবহতা: ১৯ দিনে ৯৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৭০০-এর বেশি
গত ১৯ দিনে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ৯ শিশুর মৃত্যু হামের কারণে হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। একই সময়ে সারাদেশে ৭১১ জন শিশুর শরীরে এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বর্তমান হাম পরিস্থিতির এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে অদ্যবধি সারা দেশে হাম সন্দেহে ৫ হাজার ৭৯২ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ৭৭১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে মোট ৩১৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৯৪৭ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। একদিনে শনাক্ত হওয়া এসব রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জনই ঢাকা বিভাগের। তবে এই সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন কোনো হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। এ ছাড়া খুলনা ও সিলেট বিভাগে ৫ জন করে এবং চট্টগ্রামে ৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বরিশাল ও রংপুর বিভাগে ১ জন করে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
হামের লক্ষণ কী?
হামের জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে কমপক্ষে ১০-১৪ দিন সময় লাগে। তাই, কার মাধ্যমে এবং কখন ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে তা বোঝা কঠিন। হামের প্রাথমিক উপসর্গগুলো হলো, সর্দি, কাশি, তীব্র জ্বর (১০৩-১০৫°F), চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং গালের ভেতরে ছোট সাদা দাগ বা কপ্লিক স্পটের আবির্ভাব। এ উপসর্গগুলো সাধারণত ৪-৭ দিন স্থায়ী হয়।
হামের সবচেয়ে দৃশ্যমান লক্ষণ হলো ত্বকে লাল ফুসকুড়ি (র্যাশ)। র্যাশ সাধারণত সংক্রমণের ৭-১৮ দিন পরে শুরু হয়, প্রথমে মুখ ও গলার উপরের অংশে দেখা যায়। এটি প্রায় ৩ দিনের মধ্যে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, শেষ পর্যন্ত হাত ও পা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। র্যাশ সাধারণত ৫-৬ দিন স্থায়ী হয়, তারপর ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।
অধিকাংশ হাম আক্রান্ত রোগী রোগের সূচনা থেকে ৭-১০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে এবং শরীরে আজীবন রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় এবং দ্বিতীয়বার হাম দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। হাম ভাইরাস সংক্রমণের পর মানবদেহ মূলত হিমাগ্লুটিনিন (H) প্রোটিনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং এ অ্যান্টিবডিই পরবর্তী সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
স্বাস্থ্য
হামের লক্ষণ ও প্রতিকার, যা জানা জরুরি
বর্তমানে শিশুদের মধ্যে ‘রুবেলা’ ভাইরাসের সংক্রমণ বা হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এটি একটি অতিসংক্রামক রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে টিকা না দেওয়া এবং সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে।
হামের লক্ষণসমূহ
হামে আক্রান্ত হলে সাধারণত শিশুর শরীরে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয় : তীব্র জ্বর ও কাশি।
নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া। জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা ওঠা।
কেন এটি বিপজ্জনক?
হাম শুধু একটি সাধারণ জ্বর নয়, এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়। এর ফলে দেখা দিতে পারে নানা জটিলতা :
- শারীরিক জটিলতা : নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানপাকা ও মুখে ঘা।
- দৃষ্টিশক্তি হারানো : শরীরে ভিটামিন এ-র অভাব দেখা দেয়, যা থেকে রাতকানা এমনকি অন্ধত্ব হতে পারে।
- মস্তিষ্কের ক্ষতি : কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহ বা মারাত্মক অপুষ্টি দেখা দিতে পারে।
টিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি
বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ ‘এমআর’ (মিজলস রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৮৮ শতাংশ শিশু এই টিকা নিয়েছে। তবে যারা এখনো টিকা পায়নি বা শুধু এক ডোজ নিয়েছে, তাদের আক্রান্ত হওয়ার এবং অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
অভিভাবকদের করণীয়
শিশুর জ্বর বা র্যাশ দেখা দিলে অন্তত ৫ দিন শিশুকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখুন। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান। শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি বা চোখের মণি ঘোলা হয়ে গেলে দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।
স্বাস্থ্য
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত অর্থমন্ত্রী, হাসপাতালে ভর্তি
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
রোববার (১ মার্চ) অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা শহিদুজ্জামান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মন্ত্রী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নবগঠিত সরকারে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে।
আমীর খসরুর অসুস্থতার খবরে রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
এমএন
স্বাস্থ্য
রমজানে খেজুরের অবাক করা উপকারিতা দেখে নিন
রমজানে ইফতারের শুরুতেই খেজুর খাওয়ার ঐতিহ্য বহুদিনের। ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন—সেই অনুসরণেও অনেকেই খেজুরকে প্রাধান্য দেন। তবে শুধু ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও রমজানে খেজুর অত্যন্ত উপকারী।
দেখে নিন রমজানে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা
১️. দ্রুত শক্তি জোগায়: খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি (গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ) থাকে, যা দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে। ইফতারে ১–৩টি খেজুর শরীরকে তাৎক্ষণিক এনার্জি দেয়।
২️. হজমে সহায়ক: খেজুরে আছে প্রচুর আঁশ (ফাইবার)। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে—যা রমজানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৩️. পানিশূন্যতা কমাতে সহায়তা: খেজুরে থাকা পটাশিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে দুর্বলতা কমে।
৪️. রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক: খেজুরে আয়রন রয়েছে, যা হিমোগ্লোবিন বাড়াতে ভূমিকা রাখে। যারা দুর্বলতা বা অ্যানিমিয়ায় ভোগেন, তাদের জন্য উপকারী হতে পারে।
৫️. হৃদ্স্বাস্থ্যে উপকারী: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পটাশিয়াম হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
৬️. প্রাকৃতিক মিষ্টির বিকল্প: ইফতারের নানা খাবারে চিনি কমিয়ে খেজুর ব্যবহার করলে তা স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।
কতটা খাবেন?
সাধারণত ইফতারে ১–৩টি খেজুর যথেষ্ট। ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করা ভালো।
এমএন
স্বাস্থ্য
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে এক নারীর মৃত্যু
বাংলাদেশে চলতি বছরে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার এক নারী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
মৃত ঐ নারীর বয়স ছিল ৪০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। গত ২১ জানুয়ারি তার শরীরে জ্বর ও মাথাব্যথাসহ নিপাহ ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়।
পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং এক সপ্তাহ পর তিনি মারা যান। পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তিনি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।
জানা গেছে, ওই নারী সম্প্রতি কোনো ভ্রমণ করেননি, তবে তিনি কাঁচা খেজুরের রস খেয়েছিলেন। সাধারণত নিপাহ ভাইরাস বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়।
বাদুড় খেজুরের রস বা কোনো ফল খেলে সেখান থেকে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।
মারা যাওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ৩৫ জনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে, তবে তাদের সবার পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এই ভাইরাসটি একজনের থেকে অন্যজনে সহজে ছড়ায় না, তাই আন্তর্জাতিকভাবে বড় কোনো ঝুঁকির সম্ভাবনা নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও বাংলাদেশে এই ভাইরাসে চারজন মারা গিয়েছিলেন। এখন পর্যন্ত এই রোগের কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা টিকা আবিষ্কৃত হয়নি।
এমএন



