জাতীয়
সংসদে নতুন সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের সুপারিশ
জাতীয় সংসদে নতুন সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি ইন্টারনেটের ধীরগতি দূর করাসহ বিভিন্ন সুপারিশ করেছে তারা। বুধবার (১ এপ্রিল মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়।
কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সংসদ অধিবেশন কক্ষে শব্দ তৈরি হওয়ার এক সেকেন্ড বা তার কম সময়ের মধ্যে শোষণ করতে সক্ষম ও প্রতিধ্বনিবিহীন সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করতে হবে।
এ বিষয়ে দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে হবে।
কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, অলি উল্লাহ, সাইফুল আলম মিলন, আবুল হাসনাত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়, বৈঠকে সাউন্ড সিস্টেম ছাড়াও মানিক মিয়া এভিনিউতে অবস্থিত সংসদ সদস্য ভবন ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত সংসদ সদস্যদের ভবনগুলোর সংস্কার ও মেরামতকাজের অগ্রগতি, সুপেয় পানি সংকট, সংসদ সদস্যদের জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত এবং এমপি হোস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জাতীয়
স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীরবিক্রম) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর সংসদ সচিবালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার স্পিকারের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
বৈঠকে তারা দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষ করে চলমান বিশ্ব সংকট এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তারা একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। উভয় পক্ষই সংসদীয় ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জাতীয়
পাচারকৃত সম্পদ ফেরত আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
পাচারকৃত সম্পদ ফেরত আনার কার্যক্রমকে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিলো।
বিএনপি দলীয় সদস্য (কুমিল্লা-৯) মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে আরেও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারসহ ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা, প্রতি বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা)। পাচারকৃত অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ সম্পাদন ও বিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশসমূহের মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি দেশের মধ্যে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চায়না) ৩টির (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্ক ফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত ১১টি অগ্রাধিকারভুক্ত মামলাগুলো হচ্ছে- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; এস আলম গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; বেক্সিমকো গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; সিকদার গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; বসুন্ধরা গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; নাসা গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; ওরিয়ন গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; নাবিল গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; এইচ বি এম ইকবাল, তার পরিবার ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান এবং সামিট গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান।
এসব মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত এ পর্যন্ত (২৫ মার্চ) ৭০ হাজার ৪ শত ৪৬ কোটি ২২ লক্ষ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে। এর মধ্যে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদ। পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশীট দাখিল হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে।
অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রস্তুতসহ শাস্তির আওতায় আনা হবে কিনা-জামায়াতের সদস্য মুজিবুর রহমানের এমন সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িতদের তালিকার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নয়। এর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আছে। তারা এটি করছে।
তিনি বলেন, অতীতে সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ তাদের ইচ্ছা আগ্রহের কারণে আইন-কানুন, নীতি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে যাকে যেভাবে পেরেছে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। যার কাছ থেকে যেরকম দরকার মনে হয়েছে জোর করে লিখিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে বিচার করতে চায়। যাতে কোন মানুষ ন্যয্য আইন থেকে বঞ্চিত হতে না পারে। এজন্য আমরা আইনগতভাবে সকল প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে। প্রচলিত আইনে নির্ধারিত হবে তাদের শাস্তি-যারা এ দেশের অর্থ তছরুপ করে বিদেশে পাচার করেছে।
ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে
বিএনপি দলীয় সদস্য (পটুয়াখালী-৪) এ বি এম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। এ কার্ড পরিবারের নারী প্রধানকে প্রদান করা হবে। ফলে এই সহায়তাটি যেমন সরাসরি পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যয় হবে, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডটি পরিবারে নারী প্রধানের নামে হওয়ায় পরিবারের সম্পদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবারে সিদ্ধান্ত প্রদান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। পরিবার ও সমাজের ওপর নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে।
একই সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলার ৩টি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওযার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের বাকি তিন মাসে আরো ৩০ হাজার পরিবারকে এ কর্মসূচি আওতায় আনা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে সকল কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে তা পালনের চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।
এনসিপির আখতার হোসেন তার সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ যেসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে তাতে কত ব্যক্তি ও পরিবারকে কার্ড প্রদান করা হবে? এতে কত বাজটে বরাদ্দ হবে? এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি ও মুল্যস্ফীতির মত পরিস্থিতি তৈরি হলে সেক্ষত্রে সরকারের পরিকল্পনা কী হবে?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ খাতে কত বাজেট তা এখনই বলছি না। পর্যায়ক্রমে এ জিনিসগুলোতে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড যারা যাবেন তারা মাসে আড়াই হাজার পাবেন। একবারে আমরা সবাইকে দেবো না। পৃথিবীর কোন দেশের পক্ষে একবারে সবাইকে দেওয়া সম্ভবও নয়। আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিমাসে উপভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকবো। প্রতি বছরই আমরা বাজেটে বরাদ্ধ বাড়াবো। এভাবে ধীরে ধীরে আমরা এগুবো। আর আমরা টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না যে, মুল্যস্ফীতি হবে। কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না বরং এই টাকা আমরা যাদের দেবো-সেইসব কৃষক ও নারী নিশ্চয়ই সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। এই টাকা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যয় হবে। এতে করে লোকাল অর্থনীতি বিনিময় হয়ে অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। কর্মসংস্খান বৃদ্ধি পাবে। আমাদের কোনো গবেষণা বলছে না মূল্যস্ফীতি হবে। বরং অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। প্রান্তিক গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হবে।
জাতীয়
সংবিধান সংশোধনে শিগগির বিশেষ কমিটি করা হবে: চিফ হুইপ
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, সংবিধান সংশোধনে অচিরেই একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে। সংবিধান সংশোধনের এই কমিটিতে আনুপাতিক হারে সব দলের প্রতিনিধি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে জানান তিনি। স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকেও সদস্য রাখা হবে। সবার মতামত নিয়ে এই কমিটি অচিরেই করা হবে। আগামী রোববারের মধ্যে এই কমিটি হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে যারা আইন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন তাদের রাখা হবে। অন্যান্য দল থেকে আইন বিশেষজ্ঞ না পাওয়া গেলেও প্রতিনিধি রাখা হবে। সবমিলিয়ে ১৫ থেকে ২০ সদস্যের কমিটি করা হতে পারে। যদিও এটা নির্দিষ্ট নয়।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনকে এমন পর্যায়ে নেওয়া হবে, যাতে বারবার কাঁচি চালাতে না হয়।
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি করলে বিরোধী দল থাকবে না এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, তাদের এ অবস্থান সঠিক হবে না। আজ বা কাল হোক সংবিধান সংশোধন করতেই হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তাদেরকে আমরা চাই। এক হাতে যেমন হ্যান্ডশেক হয় না, কাঁচির একটা অংশ দিয়ে যেমন চুল কাটা যাবে না, দুটোই লাগবে। বিরোধীদল কমিটিতে থাকবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কারণ সংবিধান সংশোধন ছাড়া কোন রাস্তা নেই। জুলাই সনদ অনুযায়ী এটা করা উচিত। এটা দেশের জন্যই করা হবে। সরকারি দল সংসদকে কার্যকর করতে চায় দাবি করে চিফ হুইপ বলেন, সংসদের মাধ্যমে দেশের সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।
বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সংসদ অধিবেশন কক্ষে শব্দ তৈরি হওয়ার এক সেকেন্ড বা তার কম সময়ের মধ্যে শোষণ করতে সক্ষম ও প্রতিধ্বনিবিহীন সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া সংসদ অধিবেশন কক্ষে ইন্টারনেটের ধীরগতি দূর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সংসদ এলাকায় পর্যাপ্ত সুপেয় পানি সরবরাহ ও আগামী ১০ তারিখের মধ্যে বাসা প্রস্তুতপূর্বক সংসদ সদস্যেদর বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, অলি উল্লাহ, সাইফুল আলম মিলন এবং আবুল হাসনাত।
এমএন
জাতীয়
আরও ৪ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগ
আরও চার জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজবাড়ী, ঠাকুরগাঁও, পাবনা ও রংপুর জেলায় ডিসি নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথোরিটির পরিচালক (উপসচিব) আফরোজা পারভীনকে রাজবাড়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হককে ঠাকুরগাঁও ও আমিনুল ইসলামকে পাবনা এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের সচিব (উপসচিব) মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে রংপুরের ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে এই চার জেলায় জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব চালিয়ে আসা উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয়
পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে ৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
দেশের ৬৪ জেলায় পে স্কেলের দাবিতে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সমিতির আহবায়ক আবদুল মালেক এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।
বুধবার (১ এপ্রিল) পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী ৫ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এদিন, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহবায়ক আব্দুল মালেক এবং সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে ৮ম পে স্কেল বাস্তবায়নের পর এখন পর্যন্ত নতুন কোনো পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
সংগঠনটির নেতারা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তারা আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
এদিকে, দাবি আদায়ে দেশব্যাপী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে আছে আগামী ৫ এপ্রিল থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলা শহরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান। এ ছাড়া ১০ এপ্রিল থেকে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় শহরে শান্তিপূর্ণ আলোচনাসভা ও প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে।
সংগঠনের আহবায়ক আব্দুল মালেক এবং সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করা হচ্ছে।
এদিকে, নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে সংগঠনটি পে স্কেল বাস্তবায়নে ১০ দাবি উত্থাপন করেছে। রবিবার (২৯ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো এক চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
সংগঠনটির উত্থাপিত ১০ দাবি হলো-
১. অবিলম্বে নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা।
২. সার্ভিস বেনিফিটসহ টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল।
৩. ব্লক পোস্ট সমস্যা সমাধান করে পদোন্নতির পথ সুগম করা।
৪. কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারের স্বাস্থ্য ও আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি।
৫. কর্মকর্তা-কর্মচারীর দক্ষতা ও মানসিক কল্যাণ বৃদ্ধি।
৬. স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অযাচিত পোস্টিং ও পদোন্নতির বাধা দূর করা।
৭. সমন্বিত অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা : সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা।
৮. নাগরিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দৈনন্দিন জীবন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৯. প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন প্রগ্রাম : কর্মকর্তা-কর্মচারীর দক্ষতা ও মানসিক কল্যাণ বৃদ্ধি করা।
১০. স্থানান্তর ও পোস্টিং নীতি : স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে অযাচিত পোস্টিং ও পদোন্নতির বাধা দূর করা।
গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্য নিয়ে বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।



