জাতীয়
পাচারকৃত সম্পদ ফেরত আনা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
পাচারকৃত সম্পদ ফেরত আনার কার্যক্রমকে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিলো।
বিএনপি দলীয় সদস্য (কুমিল্লা-৯) মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে আরেও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবারসহ ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা, প্রতি বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা)। পাচারকৃত অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ সম্পাদন ও বিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশসমূহের মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১০টি দেশের মধ্যে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও হংকং-চায়না) ৩টির (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে গঠিত আন্তঃসংস্থা টাস্ক ফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থাপিত ১১টি অগ্রাধিকারভুক্ত মামলাগুলো হচ্ছে- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; এস আলম গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; বেক্সিমকো গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; সিকদার গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; বসুন্ধরা গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; নাসা গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; ওরিয়ন গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; নাবিল গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান; এইচ বি এম ইকবাল, তার পরিবার ও তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান এবং সামিট গ্রুপ ও এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান।
এসব মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত এ পর্যন্ত (২৫ মার্চ) ৭০ হাজার ৪ শত ৪৬ কোটি ২২ লক্ষ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে। এর মধ্যে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পদ। পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশীট দাখিল হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে।
অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রস্তুতসহ শাস্তির আওতায় আনা হবে কিনা-জামায়াতের সদস্য মুজিবুর রহমানের এমন সম্পুরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িতদের তালিকার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নয়। এর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আছে। তারা এটি করছে।
তিনি বলেন, অতীতে সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ তাদের ইচ্ছা আগ্রহের কারণে আইন-কানুন, নীতি নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে যাকে যেভাবে পেরেছে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। যার কাছ থেকে যেরকম দরকার মনে হয়েছে জোর করে লিখিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে বিচার করতে চায়। যাতে কোন মানুষ ন্যয্য আইন থেকে বঞ্চিত হতে না পারে। এজন্য আমরা আইনগতভাবে সকল প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে। প্রচলিত আইনে নির্ধারিত হবে তাদের শাস্তি-যারা এ দেশের অর্থ তছরুপ করে বিদেশে পাচার করেছে।
ফ্যামিলি কার্ডে পরিবারের সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে
বিএনপি দলীয় সদস্য (পটুয়াখালী-৪) এ বি এম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড পরিবারের সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। এ কার্ড পরিবারের নারী প্রধানকে প্রদান করা হবে। ফলে এই সহায়তাটি যেমন সরাসরি পরিবারের সদস্যদের খাদ্য, পুষ্টি, জরুরি চিকিৎসা ও শিক্ষায় ব্যয় হবে, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ডটি পরিবারে নারী প্রধানের নামে হওয়ায় পরিবারের সম্পদের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবারে সিদ্ধান্ত প্রদান ও মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। পরিবার ও সমাজের ওপর নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবে।
একই সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলার ৩টি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওযার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের বাকি তিন মাসে আরো ৩০ হাজার পরিবারকে এ কর্মসূচি আওতায় আনা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।
তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে সকল কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে তা পালনের চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।
এনসিপির আখতার হোসেন তার সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ যেসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে তাতে কত ব্যক্তি ও পরিবারকে কার্ড প্রদান করা হবে? এতে কত বাজটে বরাদ্দ হবে? এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি ও মুল্যস্ফীতির মত পরিস্থিতি তৈরি হলে সেক্ষত্রে সরকারের পরিকল্পনা কী হবে?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ খাতে কত বাজেট তা এখনই বলছি না। পর্যায়ক্রমে এ জিনিসগুলোতে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড যারা যাবেন তারা মাসে আড়াই হাজার পাবেন। একবারে আমরা সবাইকে দেবো না। পৃথিবীর কোন দেশের পক্ষে একবারে সবাইকে দেওয়া সম্ভবও নয়। আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিমাসে উপভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকবো। প্রতি বছরই আমরা বাজেটে বরাদ্ধ বাড়াবো। এভাবে ধীরে ধীরে আমরা এগুবো। আর আমরা টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না যে, মুল্যস্ফীতি হবে। কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না বরং এই টাকা আমরা যাদের দেবো-সেইসব কৃষক ও নারী নিশ্চয়ই সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। এই টাকা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যয় হবে। এতে করে লোকাল অর্থনীতি বিনিময় হয়ে অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে। কর্মসংস্খান বৃদ্ধি পাবে। আমাদের কোনো গবেষণা বলছে না মূল্যস্ফীতি হবে। বরং অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। প্রান্তিক গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হবে।
জাতীয়
চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল ২ জ্বালানি জাহাজ, বাড়বে দেশের সরবরাহ
চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী জাহাজ পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এ তথ্য জানায়।
জানা গেছে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দ্রুত তেল খালাসের কার্যক্রম শুরু হবে। এ জন্য আগে থেকেই সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি কারিগরি প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ।
জ্বালানি তেল খালাস কার্যক্রম তদারকিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বন্দরে উপস্থিত থাকবেন। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, এই চালান দেশের ডিজেলের মজুদ বাড়াতে সহায়তা করবে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, জাহাজ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব পরীক্ষার পরপরই খালাস কার্যক্রম শুরু করা হবে। দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিপিসি সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বিপিসি সূত্রে আরও জানা গেছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের আমদানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
জাতীয়
হজ ফ্লাইট শুরু কবে, জানালেন ধর্মমন্ত্রী
আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশিদের জন্য হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হজ সংক্রান্ত জাতীয় সর্বোচ্চ হজ কমিটির প্রধান ও ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা সফল করতে মদিনায় হজ কনফারেন্স ও সৌদি হজ ও ওমরা মন্ত্রী তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ শেষে তিনি এ কথা বলেন।
মক্কা-মদিনায় হজযাত্রীদের সেবায় হজকর্মী নিয়োগ, হজযাত্রীদের হোটেলে অবস্থানকালে সার্বক্ষণিক এসি ও লিফট সার্ভিস, মক্কা-মদিনায় নির্বিঘ্ন ট্রান্সপোর্ট, সার্ভিস কম্পানি কর্তৃক হজ মৌসুমে মিনায় বাংলাদেশি হজযাত্রীদের খাবার বিতরণের সময় হাইজেনিক ব্যবস্থাপনা তদারকি, সময়মতো খাবার প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে ধর্মসচিব আলাউদ্দিন আল আজাদ, রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন, মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর হজ্জ, হজ অনু বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয়
জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিস সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন
সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনসহ একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধন ও ব্যয় সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জ্বালানি সাশ্রয় এবং মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এবং সন্ধ্যা ৬টার পর সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বৈঠকটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন এবং যাতায়াতের সময় বাঁচাতে ও যানজট এড়াতে এখানেই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
অফিস ও ব্যাংকের নতুন সময়সূচি
আগামী কার্যদিবস থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ অফিসের সময় ১ ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকগুলো চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, তবে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে বিকেল ৪টায় ব্যাংক বন্ধ হবে।
জাতীয়
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিল সরকার
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যয় সংকোচনমূলক কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসের সময়সূচি পরিবর্তনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
অফিস ও ব্যাংকের সময়সূচি
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অফিসের সময় ১ ঘণ্টা কমিয়ে আনা হয়েছে। আগামী কার্যদিবস থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এ ছাড়া ব্যাংকগুলোর লেনদেন চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত; তবে আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করতে বিকেল ৪টায় ব্যাংক বন্ধ করতে হবে।
বাজার ও বিপণিবিতান
দেশের সব মার্কেট, দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখতে হবে। তবে জনদুর্ভোগ এড়াতে কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান এবং খাবারের দোকানের মতো জরুরি সেবাগুলো এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবহন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হবে, যা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে যানজট নিরসন ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ‘ইলেকট্রিক বাস’ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যেসব স্কুল এই উদ্যোগে অংশ নেবে, তারা বিশেষ সুবিধা পাবে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। তবে কোনো পুরোনো বাস আমদানি করা যাবে না।
আলোকসজ্জায় নিষেধাজ্ঞা
জ্বালানি সংকটের এই সময়ে কোনো ধরনের বিয়ে বা সামাজিক উৎসব-অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
ব্যয় সংকোচন
সরকারের জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বাজেট থেকে ৩০ শতাংশ ব্যয় কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস পর্যন্ত সরকারি কোনো নতুন গাড়ি (সড়ক, নৌ বা আকাশযান) এবং কম্পিউটার সামগ্রী কেনা যাবে না। এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের সব বিদেশ ভ্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন খরচও ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ ও বিকল্প উৎস
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ লাইন কিছুটা অনিরাপদ (ইনসিকিউর) হয়ে পড়ায় সরকার বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সচিব জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতীয়
গণভোটসহ ১৬ অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের পর সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি সংশোধিত আকারে ও ১৬টি পরবর্তীতে যাচাই বাছাই এবং ৪টি এখনই বাতিল করার সুপারিশ করেছে সংসদের বিশেষ কমিটি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এটি পেশ করেন ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির অন্যান্য সদস্য হলেন— মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, নূরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, ওসমান ফারুক, মাহবুব উদ্দিন, আব্দুল বারী, নওশাদ জমির, ফারজানা শারমীন, মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম।
১৩৩টির মধ্যে ২০টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হচ্ছে না, সে বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন বিশেষ কমিটির বিরোধদলের ৩ সংসদ সদস্য। তারা হলেন- মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও জিএম নজরুল ইসলাম।
এর আগে, জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়। কমিটির প্রেরিত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত আকারে, ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংসদে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করে।
বাকি ২০টির মধ্যে ১৬টি সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরর্বতীতে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং ৪টি বিল অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই বিল আনয়নের সুপারিশ করা হয়। এভাবেই বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন করেন।
যে ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন করা হচ্ছে না সেগুলো হচ্ছে-গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫, মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫, মাইক্রো ফাইনান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬ এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।
এছাড়া ৪টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সেগুলো হচ্ছে- জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ-২০২৪, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬।



