আন্তর্জাতিক
ইরানে হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ নেতানিয়াহুর
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে এমন খবর জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু বিভিন্ন উদ্ধার-সংস্থা ও হোম ফ্রন্ট কমান্ডকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থায় ‘সর্বোচ্চ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, ইরান ইস্যু নিয়ে গত বৃহস্পতিবারের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকটি হঠাৎ স্থগিত করে আগামী রবিবার নেওয়া হয়েছে। তবে এর কারণ জানানো হয়নি।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানে খুব শিগগিরই যেকোনো সময় বড় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধকে মার্কিনিরা যেমন ধারণা করছেন তার চেয়ে বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে আছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এ যুদ্ধ খুব দ্রুতই শুরু হতে পারে।
সংবাদমাধ্যমটি আরো জানায়, এবারের হামলা হবে অনেক বড়। যা কয়েক সপ্তাহব্যাপী চলবে। গত মাসে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র যে নির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছিল, ইরানের হামলা এমন হবে না। এটি হবে ব্যাপক ও বিস্তৃত।
আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে সিরিয়া ছাড়ছে মার্কিন সেনারা!
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়ায় থাকা অবশিষ্ট সেনাদের প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, সিরিয়ার ভেতরে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের নেতৃত্ব এখন দেশটির সরকারই দেবে এবং ‘বৃহৎ পরিসরে’ মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই।
২০১৫ সাল থেকে মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছে। মূলত ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস) প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দেশটিতে অবস্থান করছে মার্কিন সেনারা।
ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি যখন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এলে।
হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা আরও জানান, সিরিয়ায় থাকা প্রায় এক হাজার মার্কিন সেনাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ এবং যুক্তরাষ্ট্র এখনো অঞ্চলটির যেকোনো হুমকির জবাব দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
এদিকে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সময়সূচি নিয়ে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহান্তেই অর্থাৎ শনিবারের মধ্যেই ইরানে হামলা চালানোর জন্য সামরিক বাহিনী প্রস্তুত বলে শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টকে জানিয়েছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে হামলার বিষয়ে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্রগুলো বলছে, এ বিষয়ে আলোচনা এখনো চলমান এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। হামলা হলে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিক্রিয়া—এসব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে হোয়াইট হাউস সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করছে।
সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ বা ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিচ্ছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
এমএন
আন্তর্জাতিক
কঠিন বাস্তবতায় রোজা শুরু করেছে ফিলিস্তিনিরা
নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যে পবিত্র রমজান মাস শুরু করেছে গাজার ফিলিস্তিনিরা। তবে দীর্ঘ যুদ্ধ, ধ্বংস ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেকের কাছেই রমজানের স্বাভাবিক আনন্দ হারিয়ে গেছে।
রমজান মুসলিমদের জন্য ইবাদত, আত্মসমালোচনা ও দানের মাস। সাধারণ সময়ে পরিবার ও বন্ধুরা একসঙ্গে ইফতার করেন। কিন্তু এবার গাজায় পরিস্থিতি ভিন্ন। বহু মানুষ প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং প্রতিদিনের জীবনযাপনই হয়ে উঠেছে কঠিন।
২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর হামাস ও ইসরায়েলের যুদ্ধ গাজায় ব্যাপক ধ্বংস ডেকে আনে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে, এ যুদ্ধে ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং অধিকাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বাজারে গিয়ে অনেকেই বলছেন, মানুষের হাতে টাকা নেই এবং কাজও নেই। ফলে রমজানের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে রমজানে রাস্তা আলোকসজ্জায় সাজানো থাকত, শিশুদের মুখে থাকত আনন্দ, এবার সেই পরিবেশ নেই বললেই চলে।
গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা চালু হলেও গাজায় এখনো প্রায় প্রতিদিনই গোলাগুলি ও হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে নতুন করে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
তবু কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও কিছু মানুষ রমজানের আনন্দ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। খান ইউনিসে ধ্বংসস্তূপের মাঝে শিল্পী হানি দাহমান দেয়ালে আরবিতে লিখেছেন ‘রমজান মোবারক’। শিশুদের জন্য ছোট ছোট আলোকসজ্জাও ঝুলানো হয়েছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
মাইন বিস্ফোরণে পশ্চিম তীরে ১৩ বছরের ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু
ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটির কাছে মাইন বিস্ফোরণে এক ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট। মঙ্গলবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে এই ঘটনা ঘটে।
সংস্থাটি জানায়, উত্তর জর্দান উপত্যকার জিফতলিক এলাকায় পুরোনো একটি সামরিক শিবিরে মাইন বিস্ফোরণে ১৩ বছর বয়সী এক ছেলে মারা যায়। সিওজিএটি–এর একটি সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায়, নিহত শিশুটির নাম মোহাম্মদ আবু দালাহ।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, ওই এলাকা তিরজাহ নামে একটি সামরিক শিবিরের অংশ এবং গুলিবর্ষণের সক্রিয় এলাকা হওয়ায় সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন শিশু ঘাঁটির কাছে শাক তুলতে গিয়ে মাইনে পা দেয়। তাদের মধ্যে একজন মারা যায়। জিফতলিক ও তিরজাহ এলাকা ‘এরিয়া সি’তে পড়ে, যা সরাসরি ইসরায়েলর নিয়ন্ত্রণে।
১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখলে রেখেছে। জর্দান সীমান্তের কাছাকাছি অনেক এলাকায় এখনো মাইন পাতা রয়েছে।
সূত্র : আলঅ্যারাবিয়া।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালির কিছু অংশ বন্ধ করল ইরান
বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জেনেভাতে পারমাণবিক আলোচনা চলছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। মহড়ার অংশ হিসেবেই নৌযান চলাচলের একটি নির্দিষ্ট এলাকা কয়েক ঘণ্টার জন্য সীমিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। ইরান বলেছে, এর লক্ষ্য জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বিশ্ববাজারে যায়। ২০২৫ সালে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়েছে, যা সমুদ্রপথে পরিবাহিত বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রথমবার নয় যে উত্তেজনার মধ্যে ইরান এমন পদক্ষেপ নিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক হুমকি দেওয়ার পরও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
জেনেভায় আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, দুই দেশ কিছু নির্দেশনামূলক নীতিতে একমত হয়েছে। তবে এখনই চূড়ান্ত চুক্তির সম্ভাবনা নেই।
এদিকে আলোচনার খবরে তেলের বাজারে বড় ধাক্কা লাগেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িক এই নিষেধাজ্ঞায় বড় ধরনের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা নেই, শুধু কিছু জাহাজ চলাচলে সামান্য বিলম্ব হতে পারে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানকে সহায়তা করবে তালেবান
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ইরানকে সহযোগিতা করার ইঙ্গিত দিয়েছে তালেবান। তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরান চাইলে আফগান জনগণ তাদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাবে এবং সম্ভাব্য সহযোগিতা করবে। তবে তিনি বলেন, এর মানে এই নয় যে তালেবান নিজেরা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াবে।
তিনি আরও জানান, তালেবান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চায় না। বরং পারমাণবিক ইস্যুতে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছে তারা।
মুজাহিদ বলেন, গত বছরের ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার সময় ইরান নিজেদের সফলভাবে রক্ষা করেছে বলে তালেবান মনে করে। ভবিষ্যতে হামলা হলে ইরান আবারও নিজেদের রক্ষা করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে মতাদর্শগত বিরোধ থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও তালেবানের মধ্যে সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হয়েছে। পানি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আফগান শরণার্থী ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এমএন



