জাতীয়
স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে যা লিখলেন তারেক রহমান
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে এক দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য লেখেন, যেখানে তিনি দেশের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা এবং শহীদদের স্বপ্ন পূরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় স্মৃতিসৌধে মহান শহীদদের ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।
পরিদর্শন বইয়ে তারিখের জায়গায় বাংলায় আজকের ১৮-২-২০২৬ তারিখ লেখেন তিনি। পদবীর জায়গায় লেখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
আর মন্তব্যের ঘরে লেখেন, ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের পর একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের জনগণ গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আলহামদুলিল্লাহ। আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাই।
তিনি লেখেন, বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নবগঠিত মন্ত্রীসভাসহ আমি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি যাদের আত্মত্যাগে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ দেশের ইতিহাসে এ যাবৎ কালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সকল শহীদদের প্রতিও আমি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
তিনি আরও লেখেন, আমি এবং আমরা বিশ্বাস করি শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি নিরাপদ মানবিক গণতান্ত্রিক স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা কাজ শুরু করেছি। আল্লাহ যেন আমাদের জনগণের সামনে ঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নের তৌফিক দান করুন। আমি আবারও আল্লাহর দরবারে সকল শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি।
এ সময় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনির্বাচিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণও উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে রিট
জুলাই জাতীয় সনদ অবৈধ ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করা হয়েছে। রিটে জুলাই জাতীয় সনদের কার্যকারিতা স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে রিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান আইনজীবী।
এদিকে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন।ৃ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এই গণভোটে মোট প্রদত্ত ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ ফল ঘোষণা করেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
ফলের বিস্তারিত তুলে ধরে ইসি সচিব জানান, গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার। অন্যদিকে, বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।
এমএন
জাতীয়
সন্ধ্যা ৭টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী
নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
তথ্য মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতারের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং সকল সম্প্রচার মাধ্যমকে বিটিভির সৌজন্যে ভাষণটি প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পড়ান। একই দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা (২৫ মন্ত্রী, ২৪ প্রতিমন্ত্রী) শপথও অনুষ্ঠিত হয়।
আজ দুপুরে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করেন।
এর আগে তাঁরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এমএন
জাতীয়
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের শ্রদ্ধা
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিপরিষদ। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় অবস্থিত জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র কবর জিয়ারত করেন তারা।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিপরিষদ। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন সমন্বিতভাবে। মহাসড়কে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের মহড়া চলছে নিয়মিত। পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা আনা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায়।
এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের একাদশ প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান। দেশ পরিচালনার প্রথম দিন বুধবার সচিবালয়ে প্রথম অফিস করবেন তিনি। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেয়ারও কথা রয়েছে। বিকেল ৪টায় সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। এজন্য সচিবালয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের গেজেটের পরই তুমুল ব্যস্ততা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে। নতুন ভবনের ছয়টি লিফটের সবকটিই ছিল ব্যস্ত। কর্মকর্তারা এক ফ্লোর থেকে আরেক ফ্লোরে উঠছেন, নামছেন। সবার হাতেই ফাইল। রেওয়াজ ভেঙে এবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় হয়েছে মন্ত্রিসভার শপথ। আর সেই শপথ অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এমএন
জাতীয়
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা।
বুধবার বেলা ১১টায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপরে তিনি মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী সেখানকার পরিদর্শন বইয়ে সইয়ের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ করেন।
স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জিয়ারত করবেন।
এরপর সচিবালয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিকালে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন সরকারের শপথের পর এটিই হবে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক। পরে সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
এমএন
জাতীয়
প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল পেজ আজ থেকে বন্ধ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অফিশিয়াল পেজটি আর সক্রিয় থাকবে না। আজ বুধবার পেজটি থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
ওই পেজে এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘গত ১৮ মাস সময় কালজুড়ে সকলের সহায়তা, আগ্রহ ও অংশগ্রহণের জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আপনাদের সমর্থন, সহযোগিতা, সমালোচনা আমাদের যাত্রাকে আরো মূল্যবান ও সমৃদ্ধ করেছে।
পোস্টের নিচে লেখা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠন করে বিএনপি। এদিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে ড. ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টার পদ বিলুপ্ত হয়।
পরে অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন। তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার নামে ভেরিফায়েড পেজটি চালু হয়। যা পরিচালনা করতেন তার প্রেস উইং। এই পেজ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও তথ্য জানানো হতো।
এমএন



