অর্থনীতি
কর্মসংস্থান-রেমিট্যান্স বাড়াতে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার
কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ জোরদার করার লক্ষ্যে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন এবং ২০ হাজার বিদ্যামান চালক রয়েছেন। এতে ব্যয় হবে ২৩০ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন চালককে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদ্যমান ২০ হাজার চালককে উন্নত দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপগ্রেড করা হবে।
তিনি বলেন, ২০ হাজার নতুন মানে তাদের বেশিরভাগ লাইট ভিকেল ড্রাইভ করেন এবং বিদেশে ওদের চাহিদা নেই। বিশেষ করে ২০ হাজার বিদেশির কর্মসংস্থানের জন্য যারা আছেন তাদের হেভি যেমন- ক্রেন, এক্সকাভেটর এগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য যোগ্য হয়ে উঠবেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা। যার মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) রয়েছে। প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান ও লাইসেন্স ইস্যু করা হবে নির্ধারিত নিয়ম ও মানদণ্ড অনুসরণ করে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান কৌশলের অংশ এবং এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এই উদ্যোগ দেশের অভ্যন্তরেও পেশাদার চালকদের মান ও সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বেকারত্বের চাপ কমবে ও শ্রমিকদের জন্য উচ্চ আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দক্ষ চালক ও ভারী যন্ত্রপাতি অপারেটরের চাহিদাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্পের বিআরটিএ অংশের একটি প্যাকেজের আওতায় ‘নন-কনসালটেন্সি সার্ভিস ফর ডেলিভারি অব কমার্সিয়াল ড্রাইভার ট্রেনিং’ শীর্ষক ভৌত সেবার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে ব্যয় হবে ২৩০ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা। প্রস্তাবটি নিয়ে আসে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
এই প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার জন নতুন পেশাদার দক্ষ চালক তৈরির জন্য ৪ মাসে ৮০ দিন এবং বর্তমান পেশাদার ২০ হাজার জন চালককে ৫ দিন মেয়াদে প্রশক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া ৬০ হাজার জন চালকের চোখ পরীক্ষা এবং ২০ হাজার জন চালককে চশমা দেওয়া হবে। প্রকল্পটি একনেক থেকে অনুমোদিত হয় ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের ১ মে থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
এছাড়া বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ও ওপেক ফান্ডের যৌথ অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘বরিশাল (দিনেরারপুল)-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি সড়ক (জেড-৮০৪৪) এর ২৭ কিলোমিটারের পান্ডব-পায়রা নদীর উপর নলুয়া-বাহেরচর সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর পিডব্লিউ-০১ আওতায় ‘কনস্ট্রাকশন অব দ্য নালুয়া–বাহেরচর ব্রিজ ওভার দ্য রিভার পান্ডব-পায়রা, ইনক্লুডিং অ্যাপ্রোচ রোড, সার্ভিস রোড, রিভার ট্রেনিং ওয়ার্কস, টোল প্লাজা, ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল অ্যান্ড অ্যানসিলারি ওয়ার্কস অ্যাট দ্য টোয়েন্টি সেভেন্থ কিলোমিটার অব দ্য বরিশাল (দিনেরারপুল)–লক্ষ্মীপাশা-দুমকি রোড (জেড-৮০৪৪)’ শীর্ষক পূর্ত কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৮৯৯ কোটি ৬২ লাখ ৭৪ হাজার ৩৪৬ টাকা।
এই প্যাকেজের আওতায় পটুয়াখালী প্রান্তে ২১০ মিটার মূল সেতু, ৪৮০ মিটার ভায়াডাক্ট, ২ হাজার ৪২০ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক, ২ হাজার ৮৬০ মিটার সার্ভিস রোড, ৬টি কালভার্ট/ আন্ডারপাস নির্মাণ, বরিশাল প্রান্তে ২১০ মিটার মূল সেতু নির্মাণ, ৪৮০ মিটার ভায়াডাক্ট, ৫২৬ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক, ২ হাজার ৩৩০ মিটার সার্ভিস রোড, ৪টি কালভার্ট/ আন্ডারপাস নির্মাণ, ব্রিজ হেলথ মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন, একটি রাউন্ড অ্যাবাউট ইন্টারসেকশন স্থাপন, পটুয়াখালী প্রান্তে ১টি ওয়ে-স্কেল এবং ১টি টোল-প্লাজা নির্মাণ, নদীর তীর রক্ষাপ্রদ কাজ হবে।
অর্থনীতি
ব্যক্তি পর্যায়ে কর বাড়বে কিনা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানো হবে না। কর বাড়ানো নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ভুলভাবে মিডিয়ায় এসেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ট্যাক্স জিডিপির রেশিও অনেক কম। আশপাশের সব দেশে অনেক বেশি। বাংলাদেশে এই রেশিও কম হওয়ার কারণে আমাদের যা রাজস্ব আদায় হয় তা সরকারের খরচ মেটাতে চলে যায়। উন্নয়নে ব্যয় করা সম্ভব হয় না। তাই অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স জিডিপির রেশিও বাড়ানোর কথা বলেছেন। ব্যক্তিখাতে কর বাড়বে না।
তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে মুক্তবাণিজ্য (ফ্রি ট্রেড) চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে শনিবার সকালে সিলেটের বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন তিনি। সভায় প্রবাসী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অংশ নেন।
এসময় প্রবাসীকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বন্ধ থাকা বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্পেনে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নদী ও খাল খনন এবং হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কাজ চলছে। এ কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার কাজ করছে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে সিলেট অঞ্চলে প্রতিনিয়তই ঢলের পানি আসে। এ কারণে বর্ষায় এখানে বন্যা হয়ে যায়। এটি আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের কিছু প্রকল্প চলমান আছে। নতুন আরও কিছু প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতি
সোনার দাম আরও বাড়লো, ভরি ২৬৫৪১৪ টাকা
দেশের বাজারে সোনার দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
আজ শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা। তার আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বাড়ানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এতে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হলো ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা।
এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯১৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৪১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনান দাম এক হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। আজ সকাল ১০টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।
এবার সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৮৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতি
খাদ্যপণ্য খালাস না করে জাহাজ নদীতে, ব্যবস্থা নিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুদামে পণ্য খালাস না করে নদীতেই লাইটার জাহাজে রেখে দেওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় আকস্মিক পরিদর্শনে নেমে তিনি মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে কয়েকটি লাইটার জাহাজ দেখতে পান।
এসব জাহাজে আমদানি করা গম ও ভূট্টা মজুদ করা ছিল। এ খাদ্যপণ্যগুলো আমদানিকারকের গুদামে খালাসের কথা থাকলেও তা ৬ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত নদীতেই রেখে দেওয়া হয়েছে বলে জানান নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের বিশেষ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকসানা খায়রুন নেসা।
তিনি বলেন, যেসব কোম্পানি এ জাহাজগুলোতে পণ্য মজুদ করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অর্থ্যাৎ নিয়মিত মামলা করার নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সদ্য সাবেক নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ঘাটে পৌঁছানোর তিন দিনের মধ্যে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস না করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ডেপুটি নটিক্যাল সার্ভেয়ার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ডিকসন চৌধুরী বলেন, পরিদর্শনে তিনটি লাইটার জাহাজ ধলেশ্বরী নদীতে নোঙর করা পাওয়া যায়। মাদার ভেসেল থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এ জাহাজগুলো ৬ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত এখানে নোঙর করা আছে।
খাদ্যপণ্যবোঝাই জাহাজগুলো ‘মদিনা গ্রুপ’, ‘এসএস ট্রেডিং’, ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’ ও ‘আমান গ্রুপ’-এর নামে কোম্পানির অধীনে পণ্য ভাসমান অবস্থায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এক্ষেত্রে কয়েকটি ঘটনা ঘটে। অনেকক্ষেত্রে গুদাম ফাঁকা থাকে না, তাই ভাসমান গুদাম হিসেবে জাহাজগুলো ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো। আবার অসৎ উদ্দেশ্যও থাকে, যেমন গুদামজাত না করে, পরে পণ্যের দাম বাড়লে তা বাজারে ছাড়া এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন। কিন্তু এক্ষেত্রে জাহাজ মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
ওসব বিবেচনায় নৌ পরিবহন অধিদপ্তর টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত দেড় মাসে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮৩৮টি জাহাজে অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানান ডিকসন চৌধুরী।
অর্থনীতি
দেশের নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ট্যাক্স বাড়াতে হবে: অর্থমন্ত্রী
দেশের নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতি সচল করতে ট্যাক্স বাড়াতে হবে এবং এর মাধ্যমে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হবে না, এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে সরকার জোর দিচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান আসছে বাজেটের অগ্রাধিকার।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় একটি সরকারি হাসপাতালের জায়গা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন জেলে পাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে নির্ধারিত জমি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিকেল ৩টায় মন্ত্রী বানৌজা উল্কার আবাদ অঞ্চল-২ এর পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন মুসলিমাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে তিনি পতেঙ্গায় একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত মোট ১৪.২১৯০ (চৌদ্দ দশমিক দুই এক নয় শূন্য) একর এবং ২.৭ (দুই দশমিক সাত) একর জমি সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান মন্ত্রীকে জমির অবস্থান, ভৌগোলিক পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পারিপার্শ্বিক অবকাঠামোগত সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
এ সময় অধিনায়ক বানৌজা উল্কা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তাবিত হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে পতেঙ্গা ও আশপাশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর চিকিৎসা অবকাঠামো আরো শক্তিশালী হবে। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নিয়ে ভোলা, সদস্য সরফরাজ কাদের রাসেল।
এমএন
অর্থনীতি
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪৯ শতাংশ
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪৯ শতাংশ। গতকাল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাবে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ এ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.২২ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৭৮ শতাংশ।
জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন বলতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশে উৎপাদিত সব ধরনের পণ্য ও সেবার চূড়ান্ত মূল্যকে বোঝায়।
বিবিএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছর (২০২৪-২৫ অর্থবছর) বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় হিসাবের চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিএস। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাথাপিছু আয় ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চূড়ান্ত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
আগের অর্থবছর (২০২৩-২৪ অর্থবছর) মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৩৮ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩১ মার্কিন ডলার বেড়েছে।
এর আগে সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলার। এরপর ডলারের মান বৃদ্ধির কারণে ডলারের সমমূল্যে মাথাপিছু আয় আর বাড়েনি।
বিবিএস-এর হিসাবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলার। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৪৯ মার্কিন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা আরো কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৩৮ মার্কিন ডলার।
বিবিএস-এর হিসাবে মাথাপিছু আয়ের পার্থক্য মূলত ডলার বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে হয়েছে। গত অর্থবছরের মাথাপিছু আয় নির্ধারণে বিবিএস প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ধরেছিল ১২০.৮২ টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই বিনিময় হার ধরা হয়েছিল ১১১.০৬ টাকা।
গত অর্থবছর (২০২৪-২৫ অর্থবছর) মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা। এর আগের অর্থবছর (২০২৩-২৪ অর্থবছর) তা ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা।
সূত্র : বাসস
এমএন




