রাজনীতি
ন্যাপ’র ঢাকা মহানগরীর সভাপতির জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান
বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরীর সভাপতি সৈয়দ শাহজাহান সাজু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারী) বিকেলে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ কার্যালয়ে এসে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনের নিকট জমা দেন। এসময় ড. হেলাল উদ্দিন তাকে বরণ করে নিয়ে সংগঠন পদ্ধতি, সংগঠনের গঠনতন্ত্র সহ প্রয়োজনীয় বই উপহার দেন।
জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে সৈয়দ শাহাজাহান সাজু বলেন, ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে অংশীদার হতে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি। এসময় তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী যেভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্য কোনো রাজনৈতিক সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সাহস দেখাতে পারেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে দুর্নীতি-সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ন্যাপ ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে এসেছি। বিগত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশ ন্যাপ ঢাকা মহানগরীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত এক কল্যাণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়। যেখানে কোনো সন্ত্রাস থাকবে না, কোনো চাঁদাবাজ থাকবে না, কোনো দুর্নীতিবাজ থাকবে না। দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতি-গোষ্ঠীর কোনো বিভেদ-বিভাজন থাকবে না। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষ সমান সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা লাভ করবে।
এসময় তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা বারবার পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেও দেশকে উন্নয়নশীল দেশ থেকে উন্নত দেশে পরিণত করতে পারেনি, মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি তাদের থেকে জনগণ যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বাড়ছে তখন সেই দুর্নীতিগ্রস্ত দলের নেতারা জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে নানান রকম অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনো অপপ্রচারে জামায়াতে ইসলামীর অগ্রযাত্রা থেমে যাবে না। কারণ জামায়াতে ইসলামীর সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। যার কারণে দেশপ্রেমিক অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ক্রমেই জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশ ন্যাপের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি সৈয়দ শাহজাহান সাজু ন্যাপ ছেড়ে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।
রাজনীতি
সেলিনা হায়াৎ আইভী আবারও গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী উচ্চ আদালত থেকে পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরপরই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরো একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) হয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তাকে এই গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের সময় ইন্টিরিয়র মিস্ত্রী সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলাটির নম্বর ৪১।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আইভীকে পৃথক পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছিলেন।
তবে কারাগার থেকে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর আগেই পুলিশ তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর ফলে বর্তমানে কারাগারে থাকা সাবেক এই মেয়রের বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে।
গত বৃহস্পতিবার ডা. আইভী ফতুল্লা থানায় দায়ের করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলাসহ সদর মডেল থানায় করা পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় জামিন পেয়েছিলেন।
বর্তমানে এই ৫টি মামলায় জামিন থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জের নতুন এই মামলাটি তার কারামুক্তির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরো পাঁচটি হত্যা মামলা বর্তমানে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোররাতে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত তার পৈত্রিক নিবাস ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন পর্যায়ক্রমে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
রাজনীতি
বইমেলায় ছাত্রদলের স্টল থেকে যে উপহার পেলেন তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘অমর একুশে বই মেলা-২০২৬’ উদ্বোধন করেন গতকাল। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই সর্বসাধারণের জন্য মেলার দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট থাকায় পূর্ববর্তী সময়ে আয়োজন হয়নি এবারের বইমেলা। অন্যান্য বছর পহেলা ফেব্রুয়ারি শুরু হলেও এ বছর শুরু হয়েছে ২৬ ফেব্রুয়ারি। যা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।
বইমেলা উদ্বোধনের পর সপরিবারে ছাত্রদলের প্রকাশনী স্টল ‘দল-দীপশিখা’য় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তার সাথে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
ছাত্রদলের স্টলে কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির এবং সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্সসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা ও জাইমা রহমানকে ছাত্রদলের ত্রৈমাসিক ম্যাগাজিন দল-দীপশিখা’র কপি এবং ছাত্রদলের আরও ৩টি পৃথক নিজস্ব প্রকাশনা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, এবারের বইমেলা আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা এবং ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে মেলার প্রাঙ্গণ। তবে রাত সাড়ে ৮টার পর প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
এবারের মেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান থাকবে। মোট ইউনিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ১৮টি।
এমএন
রাজনীতি
সেলিমা রহমানকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমানকে দেখতে রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গুলশানের এই হাসপাতালটিতে যান তিনি।
এ সময় ডা. বিটু দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে সেলিমা রহমানের শারীরিক অবস্থা এবং চলমান চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন।
এর আগে রাজধানীর গুলশানের বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি হন সেলিমা রহমান।
এমএন
রাজনীতি
ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে, সরকারকে জামায়াতের কড়া হুঁশিয়ারি
জুলাই গণহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন দেওয়া এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যালয় পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি অভিযোগ করেছে, এসব পদক্ষেপ দেশের গণতন্ত্র ও বিচার প্রক্রিয়ার জন্য অশনিসংকেত এবং এর মাধ্যমে ‘ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের’ অপচেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে দলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারকে এই হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হামলা ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগ নেতাদের একের পর এক জামিন দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে দলটির কার্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে, যা দেশবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।”
“ফ্যাসিস্ট সরকার ও তাদের দোসররা ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতা কায়েম রেখেছিল। সেই শক্তিকে পুনর্বাসনের যেকোনো উদ্যোগ দেশের গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।”
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেছেন, “নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। একই দিনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদিও জামিন পেয়েছেন। জামায়াতের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন জেলায় পতিত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ব্যাপক হারে জামিন প্রদান বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জামিনে মুক্ত হয়ে কিছু ব্যক্তি লুটপাট ও সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বিবৃতিতে আরও বলেছেন, “শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি কারাগারে থাকা অবস্থায় জামিনে মুক্ত হয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে পুনরায় হত্যাকাণ্ড ঘটায়। গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হলে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।”
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অভিযোগ করেন, ‘সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ উপেক্ষা করে কথিত পুলিশ হত্যা তদন্তের নামে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। তার ভাষায়, “যারা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তারা আত্মঘাতী পথে হাঁটছেন।”
সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আবদুর রহমান বদি ও সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ জামিনপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন বাতিল করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের যেসব কার্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
অন্যথায় ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।
এমএন
রাজনীতি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে: জামায়াত আমির
জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ‘দ্বিতীয় লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে একটি জায়গাও যেন খালি না থাকে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা জীবন বাজি রেখে দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, সমাজের সেই সব জায়গা থেকে যোগ্য লোকদের নির্বাচন করে তাদের হাতে স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব তুলে দিতে চায় জামায়াত। এ ক্ষেত্রে সবাইকে যত্নবান ও আত্মত্যাগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াতের ন্যায্য প্রাপ্যতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা তাঁকে জানিয়েছেন, জামায়াত হারেনি, বরং তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় রাজনীতিতে এবারই সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে দাবি করে জামায়াত আমির তিনটি অর্জনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রথমত, এটাই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে অর্থবহ একটি ঐক্য হয়েছে। এর আগে অন্যদের নেতৃত্বে ঐক্য করলেও এবার জামায়াতের নেতৃত্বেই সেই ঐক্য গড়ে ওঠে। দ্বিতীয়ত, আল্লাহ তাদের প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব দিয়েছেন। তৃতীয়ত, এবার ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরালে লড়াই করতে হয়েছে জামায়াতকে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, যে ছয় শক্তি জামায়াতকে মোকাবিলা করেছে, তারা অন্যকিছুর আশ্রয় না নিলে তা সম্ভব হতো না। এই প্রসঙ্গে টিআইবি ও সুজনের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন কেবল জামায়াত নয়, আরও অনেক প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে কারচুপির বিষয়ে কথা বলছে। এই সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে আবার লড়াই চালানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি এখন থেকেই কৌশল নির্ধারণের নির্দেশ দেন।
ঢাকার বস্তিগুলোতে নাকি বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেখানে টাকা, ওয়াদা বা সন্ত্রাস কোনো কিছুই কাজ করেনি বলে দাবি করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এসবের মধ্য দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ ইসলামের বাংলাদেশ হবে বলেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমরা থামব না ইনশাআল্লাহ, কেউ আমাদের থামাতে পারবেও না।
সিলেটের জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ‘শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
পরে নগরের বন্দরবাজারে কুদরত উল্লাহয় জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দলের মন্ত্রীদের কাঁচা কথাবার্তা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং অপরাধ প্রবণতা উসকে দিচ্ছে। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ অব্যাহত থাকলে দেশের মঙ্গল হবে না।
রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রসঙ্গে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বড় পরিসরে আলোচনা হয়নি। দেশের জন্য যা মঙ্গল, সে বিষয়গুলো নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মানুষের জীবন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরকারকে যথাযথ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। সরকারি দলের কেউ যাতে অপরাধীদের পাশে না দাঁড়ান, সে ব্যাপারেও সতর্ক করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সমাজের অপরাধ দূর করা সম্ভব। জনগণের কল্যাণে সরকার কাজ করলে জামায়াত তাদের পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
এমএন




