জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক হলেও অস্বাভাবিক নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের বিষয়টি দুঃখজনক হলেও অস্বাভাবিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়। অনেক দেশের ক্ষেত্রেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যেসব দেশের অভিবাসন নিয়ে সমস্যা রয়েছে, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে একটি। আপনারা আমেরিকানদের কৌশল দেখেছেন-যারা সেখানে গিয়ে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিচ্ছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেশি।
তিনি বলেন, এ কারণে যদি কিছু দেশের ওপর তারা বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং তার মধ্যে বাংলাদেশ থাকে, তাহলে সেটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হয় না। তবে এটি অবশ্যই দুঃখজনক এবং আমাদের জন্য কষ্টকর।
তৌহিদ হোসেন বলেন, যদি এটি গত এক বছরে ঘটে থাকত, তাহলে আমি বলতাম-আমরা দায়ী, এই সরকারের কিছু দায়দায়িত্ব আছে। কিন্তু এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। কাজেই নীতিগতভাবে দায় যদি কারও ওপর পড়ে, তাহলে তা পূর্ববর্তী সব সরকারের ওপরই পড়ে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের এই অবাধ চলাচল থামানোর সামর্থ্য কোনো সরকারেরই ছিল না।
বর্তমান সরকারও তা একা পরিবর্তন করতে পারবে না।
এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়মিত অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নীতিগতভাবে প্রথম দিন থেকেই আমরা অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। একমাত্র সমাধান হলো-অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করা। এখনো আমরা পত্রপত্রিকায় দেখি, কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মারা যাচ্ছে, কেউ হাবুডুবু খেয়ে উদ্ধার হচ্ছে। তারা ভিকটিম-তাদের প্রতি আমাদের সম্পূর্ণ সহানুভূতি আছে। তবে একই সঙ্গে আইনও লঙ্ঘিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্রামের যে ছেলেটি টুরিস্ট ভিসা নিয়ে কেনিয়া যায়, তার তো আসলে কেনিয়া বা তুরস্কে যাওয়ার সামর্থ্য থাকার কথা নয়। আমরা কেন এটা থামাতে পারছি না? যতক্ষণ পর্যন্ত এটা বন্ধ করতে না পারব, ততক্ষণ ভূমধ্যসাগরে মানুষ মরতেই থাকবে।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে গত মঙ্গলবার জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮টি দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। প্রথমে গত বছরের আগস্টে ছয়টি দেশের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়। পরে আরও সাতটি দেশের নাম যুক্ত করা হয়। সর্বশেষ বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর জন্য এই বন্ডের শর্ত আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
ভিসা বন্ড আরোপ বন্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এটা সদ্য হয়েছে। আমরা প্রচলিত কূটনৈতিক পদ্ধতিতেই এগোব। চেষ্টা করব, যেন বাংলাদেশ এ শর্ত থেকে অব্যাহতি পায়।
এই তালিকায় থাকা দেশগুলো হলো-
আলজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬); অ্যাঙ্গোলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); বাংলাদেশ (২১ জানুয়ারি ২০২৬); বেনিন (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভুটান (১ জানুয়ারি ২০২৬); বতসোয়ানা (১ জানুয়ারি ২০২৬); বুরুন্ডি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); কাবো ভার্দে (২১ জানুয়ারি ২০২৬); মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (১ জানুয়ারি ২০২৬); কোট দিভোয়ার (২১ জানুয়ারি ২০২৬); কিউবা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); জিবুতি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ডোমিনিকা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ফিজি (২১ জানুয়ারি ২০২৬); গ্যাবন (২১ জানুয়ারি ২০২৬); গাম্বিয়া (১১ অক্টোবর ২০২৫); গিনি (১ জানুয়ারি ২০২৬); গিনি-বিসাউ (১ জানুয়ারি ২০২৬); কিরগিজস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬); মালাউই (২০ আগস্ট ২০২৫); মৌরিতানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫); নামিবিয়া (১ জানুয়ারি ২০২৬); নেপাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬); নাইজেরিয়া (২১ জানুয়ারি ২০২৬); সাও টোমে ও প্রিন্সিপে (২৩ অক্টোবর ২০২৫); সেনেগাল (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তাজিকিস্তান (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তানজানিয়া (২৩ অক্টোবর ২০২৫); টোগো (২১ জানুয়ারি ২০২৬); টোঙ্গা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); তুর্কমেনিস্তান (১ জানুয়ারি ২০২৬); টুভালু (২১ জানুয়ারি ২০২৬); উগান্ডা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভানুয়াতু (২১ জানুয়ারি ২০২৬); ভেনেজুয়েলা (২১ জানুয়ারি ২০২৬); জাম্বিয়া (২০ আগস্ট ২০২৫); জিম্বাবুয়ে (২১ জানুয়ারি ২০২৬)।
এর আগে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্য কিছু ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নেয়, কিন্তু পরে তা বাতিল করে।
নিয়ম অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা পাওয়ার সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে বাধ্য হতে পারেন। আবেদনকারী ভিসার জন্য যোগ্য বিবেচিত হলেও সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার অফিসার তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বন্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
এই বন্ডের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
এমকে
জাতীয়
অবশেষে পুরস্কার পাচ্ছেন কবি মোহন রায়হান, হস্তান্তর ২ মার্চ
স্থগিত থাকা কবি মোহন রায়হানের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হবে আগামী ২ মার্চ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, কবি মোহন রায়হানকে ২৯২৬ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরূপ সমালোচনা হওয়ায় তাৎক্ষণিক এ পুরস্কার প্রদান স্থগিত রেখে অভিযোগ পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়।
‘উত্থাপিত অভিযোগ পর্যালোচনা করার জন্য গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ পর্যালোচনান্তে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে কবি মোহন রায়হানকে ২০২৬ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’
‘উত্থাপিত অভিযোগ পর্যালোচনা করার জন্য গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ পর্যালোচনান্তে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে কবি মোহন রায়হানকে ২০২৬ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।’
জাতীয়
১৩ সচিব পদ খালি
প্রশাসনে ১৩ জন সচিবের পদ খালি রয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর আগের সরকারের সময়ে চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া সচিবদের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকজন সচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশাসনিক শীর্ষ পদে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের পদ খালি রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সচিব পদমর্যাদায় তিনজন সদস্যের পদ খালি রয়েছে। ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য, আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য এবং শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য পদে কোনো কর্মকর্তা নেই।
এছাড়া জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য রয়েছে। মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) সিনিয়র সচিবদের পদটিও খালি রয়েছে।
এসব পদে নিয়োগ পেতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ চলছে। সরকার আস্থাভাজন হিসেবে অবসরে যাওয়া কিছু কর্মকর্তাকে এসব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে ফেরাতে চাইছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে সরকারের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের উদ্যোগের কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এরইমধ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অবসরপ্রাপ্ত সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে এক বছরের চুক্তিতে স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি।
নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার একদিন আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়ার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিল করা হয়। তিনিও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন।
এরপর গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ৯ সিনিয়র সচিবের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হয়। তারা সবাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রায় সবার মেয়াদই চলতি বছরের শেষের দিকে শেষ হওয়ার কথা।
একই দিন গত সরকারের সময়ে সচিব হওয়া তিনজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
জাতীয়
ছুটির দিনেও অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছুটির দিনেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার পর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত কার্যালয়ে আসেন তিনি। কার্যালয়ের দপ্তর প্রধান, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অধীনস্থ দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
এ ছাড়া বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সন্মেলন কেন্দ্রে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
জাতীয়
রাজধানীতে আজ কোথায় কী
রাজধানীতে প্রতিনিয়ত সড়কে বের হয়ে নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে স্থবির হয়ে পড়ে নানা সড়ক। তাই সকালে বের হওয়ার আগে আজ কোথায় কোন কর্মসূচি তা জেনে নিন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিনের শুরুতেই দেখে নিন গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্মসূচির তালিকা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কর্মসূচি বিকেল ৪টায় দৈনিক প্রথম আলো অফিস পরিদর্শন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সেতুমন্ত্রীর কর্মসূচি বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮নং ওয়ার্ডে নিউমার্কেট ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিথি থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
মৎস্যমন্ত্রীর কর্মসূচি সকাল সাড়ে ১০টায় জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রীর কর্মসূচি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নবনিযুক্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামের সঙ্গে দুপুর ১২টায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে নগর ভবনে যাবেন। তথ্যমন্ত্রীর কর্মসূচি বিকেল ৪টায় প্রথম আলো অফিস পরিদর্শন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
এরপর বিকেল ৫টায় নিটোরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন তিনি।
জাতীয়
ভূমিকম্পে বেশি ঝুঁকিতে যেসব এলাকা
চলতি ফেব্রুয়ারির ২৭ দিনে দেশবাসী অনুভব করল ১০টি মৃদু ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প; গতকালের দুই দফা কম্পন আলাদা করে ধরলে সংখ্যা দাঁড়ায় ১১।
সর্বশেষ গতকাল (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে অনুভূত হয় একটি মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন। উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকা। পশ্চিমের জেলা সাতক্ষীরায় সৃষ্ট কম্পন রাজধানী ঢাকা হয়ে পূর্বে চট্টগ্রাম পর্যন্ত অনুভূত হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা জানান, সর্বশেষ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৪, যা মাঝারি মাত্রার।
চলতি মাসের শুরু থেকেই একের পর এক কম্পন অনুভূত হচ্ছে। ১ ফেব্রুয়ারি সিলেটে ৩ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি একই দিনে একাধিকবার কেঁপে ওঠে দেশ; সেদিন সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ৪ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন রেকর্ড হয়।
একই সময়ে মায়ানমারে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশেও। ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেটে আরো দুটি কম্পন টের পাওয়া যায়। ১৯ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের ছাতকে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল মায়ানমারে।
২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের সিকিমে ৩ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে। সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারির ৫ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পন মিলিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১০।
এর আগে গত নভেম্বরে ঘন ঘন ভূমিকম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। ২১ নভেম্বর নরসিংদীর মাধবদীতে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের অধিকাংশ এলাকা। নিহত হন ১০ জন, আহত হয় ছয় শতাধিক।
পরদিন তিনটি ভূমিকম্প হয়। পরবর্তী কয়েক দিনে একের পর এক ভূকম্পে বারবার কেঁপে ওঠে দেশ। তখন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছিলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না- প্রস্তুতি বাড়াতে হবে এখনই।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, বাংলাদেশ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত, ফলে এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ঐতিহাসিকভাবেই বেশি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বলেন, সাতক্ষীরা অঞ্চল তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে থাকলেও উত্তর ও পূর্বাঞ্চল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। ঢাকাকে মাঝারি ঝুঁকির মধ্যে ধরা হলেও ঘনবসতি ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের কারণে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
তিনি বলেন, ‘দেশের ভিতরে ছোট ছোট অজ্ঞাত ফল্ট লাইন চিহ্নিত করা জরুরি। রাজধানী ও চট্টগ্রামকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নগরী হিসেবে চিহ্নিত করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রাজধানীতে প্রায় ২১ লাখ ৪৬ হাজার ভবনের বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (সিডিএমপি) ও জাইকার যৌথ জরিপে বলা হয়েছে, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে অন্তত ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে এবং ১ লাখ ৩৫ হাজার ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে তৈরি হবে ৭ কোটি টন কংক্রিটের স্তূপ।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তথ্য অনুযায়ী নগরীর ৩ লাখ ৮২ হাজার ১১১টি ভবনের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ বিভিন্ন মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ।




