আন্তর্জাতিক
বিশ্বজুড়ে নতুন ভাইরাস নিয়ে সতর্কতা, দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
ইথিওপিয়ায় ইবোলা-সম্পর্কিত একটি নতুন ভাইরাসের সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভাইরাসটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতে পারে এবং এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা রাখে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এখনো ব্যাপক সংক্রমণের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, তীব্র শরীর ব্যথা এবং কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা গেছে, যা ইবোলা ভাইরাসের উপসর্গের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইথিওপিয়ার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নিবিড় নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে দ্রুত আইসোলেশন ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইবোলা-সম্পর্কিত ভাইরাস সাধারণত প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় এবং পরবর্তীতে মানুষের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। আফ্রিকার পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে অতীতেও এ ধরনের প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করেছে।
এ অবস্থায় ইথিওপিয়ার সরকার দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করেছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে ভাইরাস অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। নিয়মিত হাত ধোয়া, অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়ানো এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ও স্বচ্ছ তথ্য আদান-প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত উদ্যোগই এ ধরনের সংক্রমণ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
ইরানের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটেই ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, তেহরানের একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়রা আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জোমহৌরি এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ বলেন, তেলআবিবের ওপর সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল প্রতিরক্ষামূলক ও কৌশলগত অভিযান।
এদিকে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় দেশজুড়ে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, জনসমাবেশ ও অনাবশ্যক কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।
হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আবারও ১৭০ বছর পর বন্ধ, দেউলিয়া ঘোষণা
একসময় ভারত শাসন করা এবং ব্রিটিশ উপনিবেশ বিস্তারের পথ তৈরি করা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পুনরুজ্জীবনের প্রায় ১৭০ বছর পর আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বিলাসপণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত দেউলিয়া হয়ে কার্যক্রম গুটাতে হয়েছে ঐতিহাসিক এই কোম্পানিকে। আর এর মধ্য দিয়ে এক অদ্ভুত ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনেরও সমাপ্তি ঘটল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলেছে, একসময় ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল শাসন করা এবং ব্রিটিশ উপনিবেশ স্থাপনের পথ তৈরি করা ব্রিটিশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। এবার লন্ডনে বিলাসপণ্যের খুচরা বিক্রেতা হিসেবে তাদের কার্যক্রমের ইতি টানা হলো। অবশ্য মূল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রায় ১৫২ বছর আগে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। পরে ২০১০ সালে এক ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী নামের স্বত্ব কিনে প্রতিষ্ঠানটি পুনরুজ্জীবিত করেন। কিন্তু সেই প্রকল্প এবার দেউলিয়া হয়ে শেষ হয়েছে।
১৮৫৭ সালের ঐতিহাসিক সিপাহি বিদ্রোহের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছ থেকে ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকারের হাতে চলে যায়। ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ ক্রাউন সরাসরি ভারতের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং এর মাধ্যমে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির উত্তরাধিকার সাধারণত নেতিবাচক অর্থেই দেখা হয়। ভারত ও এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে ব্যাপক শোষণ, সহিংসতা এবং মহাদুর্ভিক্ষ, বিশেষ করে বাংলার মহাদুর্ভিক্ষের সঙ্গে এই কোম্পানির নাম জড়িত। পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত এই দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। যদিও ব্রিটিশ এই কোম্পানি বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন এনেছিল। কিন্তু বিপুল মানবিক দুর্ভোগের বিনিময়েই এই পরিবর্তন এসেছিল।
২০১০ সালে ভারতীয় উদ্যোক্তা সঞ্জীব মেহতা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামের সত্ত্বাধিকার কিনে নেন। যে কোম্পানি একসময় ভারত শাসন করেছে, সেটির মালিক একজন ভারতীয় হওয়ার সেই খবর বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়েছিল। তবে কোম্পানিটির আধুনিক সংস্করণ এখন লিকুইডেশনে গেছে।
দ্য সানডে টাইমস জানিয়েছে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি লিমিটেড ২০২৫ সালের অক্টোবরে লিকুইডেটর নিয়োগ দেয়। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসে নিবন্ধিত তাদের মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে ৬ লাখ পাউন্ডের বেশি দেনা ছিল। কর বাবদ বকেয়া ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৮৯ পাউন্ড এবং কর্মীদের পাওনা ছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ১০৫ পাউন্ড। মালিক সঞ্জীব মেহতার সঙ্গে যুক্ত ‘ইস্ট ইন্ডিয়া’ নামধারী আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও বিলুপ্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
এছাড়া কোম্পানির ওয়েবসাইটও বর্তমানে অচল। লন্ডনের মেফেয়ারে ৯৭ নিউ বন্ড স্ট্রিটে তাদের দোকানটি খালি পড়ে আছে এবং ভাড়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আরেক প্রতিষ্ঠান ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কালেকশনস লিমিটেডের বিরুদ্ধেও সম্প্রতি পাওনাদাররা উইন্ডিং-আপ পিটিশন দায়ের করেছে।
ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ২০০০-এর দশকের শুরুতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নামের স্বত্ব অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেন সঞ্জীব মেহতা। ২০১০ সালে তিনি মেফেয়ারে ২ হাজার বর্গফুটের একটি বিলাসবহুল দোকান খোলেন। সেখানে ফোর্টনাম অ্যান্ড ম্যাসনের মতো খ্যাতনামা দোকানের আদলে উচ্চমানের চা, চকলেট, মিষ্টান্ন, মসলা ও অন্যান্য পণ্য বিক্রি হতো।
মেহতা এটিকে উপনিবেশবাদের প্রতীককে ইতিবাচক কিছুর মধ্যে রূপান্তর হিসেবে দেখেছিলেন। ২০১৭ সালে দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘একজন ভারতীয় এখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মালিক, এতে নেতিবাচক বিষয়টি ইতিবাচকে পরিণত হয়েছে। ঐতিহাসিক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আগ্রাসনের ওপর দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু আজকের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সহমর্মিতার কথা বলে।’
১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর রানি প্রথম এলিজাবেথের দেয়া রাজকীয় সনদের মাধ্যমে ইংলিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইস্ট ইন্ডিজ তথা ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে মসলা ও পণ্যের বাণিজ্যে অংশ নিতে এটি একটি যৌথ-শেয়ারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
এটি ছিল বিশ্বের প্রথম দিকের যৌথ-শেয়ার কোম্পানিগুলোর একটি, যেখানে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনে লাভ-ক্ষতির অংশীদার হতেন। ১৬১২-১৩ সালে ভারতের সুরাটে প্রথম বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করে এই কোম্পানি। পরে কেপ অব গুড হোপের পূর্বাঞ্চলে ব্রিটিশ বাণিজ্যে একচেটিয়া অধিকার পায়।
১৭০০-এর দশকে এটি শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। দুর্গ নির্মাণ, স্থানীয় শাসকদের সঙ্গে জোট এবং ফরাসি ও বিভিন্ন দেশীয় রাজ্যের সঙ্গে যুদ্ধের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে। ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলা অঞ্চলে শাসন প্রতিষ্ঠা করে এবং কর আদায়, আদালত পরিচালনাসহ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে থাকে।
উনিশ শতকের শুরুতে কোম্পানিটির প্রায় আড়াই লাখ সদস্যের ব্যক্তিগত সেনাবাহিনী ছিল। অর্থাৎ তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর দ্বিগুণ সেনাসদস্য ছিল তাদের। মসলা, তুলা, রেশম, চা, নীলসহ নানা পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর মানবিক মূল্য ছিল অত্যন্ত বেশি।
কোম্পানির শাসনামলে শোষণ, নগদ ফসল চাষে বাধ্য করা এবং রপ্তানিনির্ভর নীতির কারণে দুর্ভিক্ষ আরও তীব্র হয়। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর তাদের শাসনের অবসান ঘটে। পরে ক্ষমতা ব্রিটিশ রাজপরিবারের হাতে হস্তান্তরের পর ১৮৭৪ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে কোম্পানিটি বিলুপ্ত করে।
একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে সাম্রাজ্য নির্মাতা হয়ে উঠেছিল— ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইতিহাস সেই কাহিনীই তুলে ধরে। এটি আধুনিক ভারত, ব্রিটেন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করলেও রেখে গেছে গভীর অবিচারের ইতিহাস।
আর এবার দ্বিতীয়বারের মতো ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই অদ্ভুত পুনরুজ্জীবনেরও সমাপ্তি টানল।
আন্তর্জাতিক
বলিভিয়ায় টাকাভর্তি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, নিহত ১৫
বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজের কাছে দেশটির জাতীয় মুদ্রা বলিভিয়ান বলিভিয়ানোতে পরিপূর্ণ একটি সামরিক কার্গো বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বিমানটি কয়েকটি যানবাহনের ওপর পতিত হওয়ায় সেগুলোও বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
বলিভিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্সেলো স্যালিনাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নতুন ছাপানো নোট নিয়ে বলিভীয় সেনাবাহিনীর একটি হারকিউলিস সি-১৩০ কার্গো উড়োজাহাজ রাজধানী লা পাজের সংলগ্ন এল আলতো শহরের বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরের কাছাকাছি আসার পর অবতরণের সময় সেটি রানওয়ে থেকে সরে যায় এবং কাছাকাছি মহাসড়কে বিধ্বস্ত হয়।
বিমানটি আছড়ে পড়ার পর সেটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে পৌঁছে তাদের কাজ শুরু করে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় বলে জানান তিনি।
স্যালিনাসের বিবৃতিতে যদিও হতাহতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস বাহিনীর প্রধান পাভেল তোভার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। তবে এই নিহতদের মধ্যে কত জন বিমানযাত্রী ছিলেন এবং কত জন ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলোতে ছিলেন—তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি।
বলিভিয়ার বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল সার্জিও লোরা এক বিবৃতিতে জানান, কার্গো বিমানটিতে মোট ৬ জন ক্রু ছিল। তাদের মধ্যে চারজনের মরদেহ মিললেও দু’জনের খোঁজ এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।
কার্গো উড়োজাহাজটি পূর্বাঞ্চলীয় শহর সন্তাক্রুজ থেকে এল আলতো শহরের দিকে যাচ্ছিল বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলে অবস্থানরত আমেরিকানদের জরুরি ভিত্তিতে দেশ ত্যাগের পরামর্শ
ইরানের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনা এবং এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশ ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে এক বিশেষ নিরাপত্তা বার্তায় এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়, যতক্ষণ বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু আছে, ততক্ষণই যেন নাগরিকরা ইসরায়েল ত্যাগ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনা এবং এই অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান সামরিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটেই এই আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই এই অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড শুক্রবার ইসরায়েলের উত্তর উপকূলে মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন মিশনের তথ্যমতে, স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে ইসরায়েলে থাকা তাদের অ-জরুরি সরকারি কর্মী এবং পরিবারের সদস্যদের দেশ ত্যাগের অনুমতি দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়েছে, কোনো প্রকার আগাম ঘোষণা ছাড়াই ইসরায়েলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকা, বিশেষ করে জেরুজালেমের ওল্ড সিটি এবং ওয়েস্ট ব্যাংকে মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। সন্ত্রাসবাদ এবং নাগরিক অস্থিরতার আশঙ্কায় মার্কিন নাগরিকদের ইসরায়েল ও ওয়েস্ট ব্যাংক ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে গাজা সীমান্ত থেকে সাত মাইলের মধ্যে এবং লেবানন ও সিরিয়া সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেসব স্থানে ভ্রমণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া মিশরের তাবা ক্রসিং বাদে সীমান্ত এলাকাগুলোতেও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ
দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা ছাপিয়ে এবার সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান। তালেবানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের হামলার পর আফগানিস্তানের তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, ডুরান্ড লাইনের বরাবর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘বৃহৎ আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করেছে আফগানিস্তান। তালেবান দাবি করেছে, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের পৃথক বিমান হামলার জবাব হিসেবেই তারা এই অভিযান চালাচ্ছে।
জাতিসংঘ জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেষ পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন এবং সহিংসতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিখ এক বিবৃতিতে জানান, দুই দেশকে আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুতেরেস বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
ইরান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দুই দেশকে সংলাপ ও সুপ্রতিবেশী নীতির মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রমজান মাসের গুরুত্ব উল্লেখ করে সংযম ও ইসলামী সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, তেহরান গঠনমূলক সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
রাশিয়া রাশিয়া অবিলম্বে সীমান্তপারের হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি প্রয়োজনে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।
চীন চীন জানিয়েছে, পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, বেইজিং নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করতে কাজ করছে এবং গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।
পাকিস্তানের অবস্থান
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবানকে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরাসরি ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ। এখন এটি সরাসরি যুদ্ধ, এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, দেশটি ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করবে এবং আগ্রাসনের জবাব সাহসিকতার সঙ্গে দেবে। তিনি পাকিস্তানকে নিজেদের নীতিতে পরিবর্তন এনে সুপ্রতিবেশী সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এমএন




