অর্থনীতি
বছরের প্রথম পাঁচদিনে রেমিট্যান্স এলো ৭ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা
চলতি জানুয়ারির প্রথম পাঁচদিনে দেশে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে ৬০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) সাত হাজার ৩৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
আরিফ হোসেন খান জানান, গত বছরের জানুয়ারি প্রথম পাঁচদিনে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ৫২ শতাংশ। অন্যদিকে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৬৮৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই প্রবাসী আয় এসেছিল এক হাজার ৪১৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
অর্থনীতি
অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছে ৩৩ লাখ ৮৮ হাজার করদাতা
চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে আজ ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন করেছেন এবং ৩১ লাখ ৮৮ হাজার করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা না হলেও তারাও অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করছেন। এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ এসব তথ্য জানিয়েছেন।
তিমি বলেন, ই-রিটার্ন দাখিলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি কর্তৃক রিটার্ন দাখিল এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা ছাড়া সব ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
গত বছরের ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য www.etaxnbr.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এনবিআর জানায় বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক না হলেও পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ই-মেইল এড্রেস ইত্যাদি তথ্য ereturn@etaxnbr.gov.bd ই-মেইলে প্রেরণপূর্বক আবেদন করলে আবেদনকারীর ই-মেইলে OTP এবং Registration Link পাঠানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারারও ই-রিটার্ন সিস্টেমে রেজিস্ট্রেশন ও সহজে অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
এনবিআরের এ জনসংযোগ কর্মকর্তা আরও জানান, এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি তাদের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো ওটিপিএর মাধ্যমে ই-রিটার্ন সিস্টেমে সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছেন। এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৩০০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি করদাতা বিদেশে অবস্থান করে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করে সফলভাবে ২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।
তিনি আরও জানান, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ জন প্রবাসী করদাতা বিদেশে বসে ই-রিটার্ন দাখিল সংক্রান্ত সেবাগ্রহণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট ইউনিটে ই-মেইলের মাধ্যমে সেবা নিচ্ছেন।
অর্থনীতি
আরও ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার কিনলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
দেশের ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। এক্ষেত্রে কাট-অফ হারও ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
একই বিনিময় ও কাট-অফ হারে এর আগে গত ৮ জানুয়ারি ১৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে ৬ জানুয়ারি ১৪টি ব্যাংক থেকে কেনা হয় ২২ কোটি ৩৫ লাখ ডলার।
এসব কেনার ফলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ক্রয়ের পরিমাণ হয়েছে ৩৮৩ কোটি ৩৫ লাখ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘সোমবার ১০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৮১ মিলিয়ন (৮ কোটি ১০ লাখ) মার্কিন ডলার ক্রয় করা হয়েছে। প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ দশমিক ৩০ টাকা এবং কাট-অফ রেটও ১২২ দশমিক ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।’
এর ফলে, নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে মোট ক্রয় দাঁড়াল ৬৯৮ মিলিয়ন বা ৬৯ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।
অর্থনীতি
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে সোনা
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে সোনার দম। এবার ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতি
৪৩ পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়লো
সরকার ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির বিপরীতে দেওয়া নগদ সহায়তা বা প্রণোদনার মেয়াদ আরও ছয় মাস, অর্থাৎ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়েই রপ্তানিকারকরা এই সুবিধা পাবেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য প্রণোদনা কার্যকর ছিল। তবে রপ্তানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার এর মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলো।
গত অর্থবছরের মতোই এবারও প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খাতভেদে রপ্তানিকারকরা সর্বনিম্ন ০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন। মোট ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাত এই প্রণোদনার আওতায় রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নগদ সহায়তা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নিযুক্ত বহিঃনিরীক্ষক বা অডিট ফার্মের মাধ্যমে রপ্তানি সংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়া প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইউরো অঞ্চলে রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সহায়তার সঙ্গে অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনাও বহাল থাকবে।
প্রজ্ঞাপন দেখতে ক্লিক করুন।
অর্থনীতি
বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ সই ৬ ফেব্রুয়ারি
জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের রাজধানী টোকিওতে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত থাকবেন।
ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকার বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) ছাড়া এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের আর কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নেই। জাপানের সঙ্গে ইপিএ সইয়ের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সরকারের আশা, এতে শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভরতা কিছুটা কমে জাপান বাংলাদেশের একটি বড় বাজারে পরিণত হতে পারে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু ঝুঁকিও থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ-জাপান ইপিএর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। তখন দর-কষাকষির ভিত্তি তৈরিতে একটি যৌথ গবেষণা দল গঠন করা হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ১৭টি খাত চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে আলোচনা এগোনোর সুপারিশ করা হয়।
এর আগে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি সইয়ের দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে জাপানের ১০৩৯টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে একই সুবিধা পাবে। ইপিএর মাধ্যমে বাংলাদেশের ৯৭টি উপখাত জাপানের জন্য উন্মুক্ত হবে। অন্যদিকে, জাপানের ১২০টি উপখাত উন্মুক্ত হবে বাংলাদেশের জন্য। পণ্যের পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ এবং সহযোগিতাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।




