রাজনীতি
ক্ষমতায় এলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ব্যবসায় সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা বৈঠক করেন তারেক রহমানের সঙ্গে। বৈঠকে তারা দেশের অর্থনৈতিক বর্তমান অবস্থান, বেকারত্বসহ বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক হয়। এসময় তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা শোনেন ও ক্ষমতায় গেলে সেসব সমাধানের আশ্বাস দেন।
বৈঠকের পর এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, আমরা আজ আলোচনা করেছি ব্যবসা ক্ষেত্রে চলমান যে সমস্যা রয়েছে আমাদের, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিকে চালিয়ে রাখা, কর্মসংস্থানকে ঠিক রাখা এবং বর্ধিত করা- সেটা নিয়ে আমরা আমাদের কথাগুলো বলেছি। আমরা বলতে চেয়েছি যে, সরকারে যেই আসুক অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে ব্যবসায়ীদের কনফিডেন্স আনতে হবে। কারণ, আমাদের সফলতা কিন্তু সরকারের সফলতা। আমরা আমাদের আলোচনাগুলো করেছি। আমরা আমাদের সমস্যাগুলো বলেছি। তারেক রহমান ওয়েল নোট করেছেন। ওনারা আসলে হয়তো সব জায়গায় (সমস্যা সমাধান করতে) পারবেন না বা কিছু জায়গায় পারবেন। বাট আন্তরিকভাবে তারা করতে চান।
বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, ইকোনমি যদি ঠিক করতে হয় ব্যবসায়ীদের কিন্তু সঙ্গে নিয়ে কাজ করা উচিত। সেটাই কিন্তু আমরা তারেক রহমানকে বলেছি। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কর্মসংস্থান তৈরি করা। এখন কিন্তু আস্তে আস্তে অনেক বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রিগুলো বসে যাচ্ছে। আমরা বলেছি যে এগুলো আসলে কীভাবে রিভাইভ করা যায় সেটা নিয়ে আমরা ওনার সঙ্গে বিস্তারিত আলোপ আলোচনা করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের কথা হলো যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন তারা যাতে সেই দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন। ইকোনমি ইজ নাম্বার ওয়ান, যদি সেটাকে দাঁড় করাতে হয় তাহলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়েই সরকারকে কাজ করা উচিত। যেটা উনি (তারেক রহমান) পরবর্তীতে বললেন, হ্যাঁ উনিও মনে করেন যে উনারা যদি আসতে পারেন তাহলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে পলিসিগুলি যেখানে যেখানে যাওয়া দরকার এবং কিছু কিছু জায়গায় হয়তো পারা যাবে। কিছু কিছু জায়গায় হয়তো পারা যাবে না। বাট একটা স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করবেন এবং ব্যবসায় সহায়ক একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে সবার আগে যে জিনিসটা ইমিডিয়েটলি দরকার বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করা উচিত। মব কালচার থেকে আমাদের বের হওয়া উচিত। এই জিনিসটা আমরা ওনাদের বারবার বলেছি এবং এটা না হলে ব্যবসা কেন আমরা সাধারণ মানুষই তো আর নড়তে চড়তে পারি না।
তারেক রহমানের আশ্বাসের বিষয়ে এক প্রশ্নে মীর নাসির হোসেন বলেন, বডি ল্যাংগুয়েজে আমাদের পজিটিভ মনে হয়েছে। তারেক রহমান আন্তরিকতার সঙ্গে শুনেছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে- যদি ক্ষমতায় আসতে পারেন আমাদের নিয়ে কাজ করবেন। যাতে দেশের উন্নয়ন হয়, অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাই।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিজেএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিকেএমএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিএসএমএ সভাপতি মইনুল ইসলাম স্বপন, বিএবি সভাপতি আবদুল হাই সরকার, বিজিএপিএমইএ সভাপতি মো. শাহরিয়ার, স্টিল মিল মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বিএপিআইয়ের আব্দুল মুক্তাদির, বিএসআরএম সভাপতি আলী হুসাইন আকবর আলী, এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যার আহসান খান চৌধুরী, স্কয়ার গ্রুপের তপন চৌধুরী, উত্তরা মোটরসের মতিউর রহমান, ট্রান্সকম গ্রুপের সিমিন রহমান, মেঘনা গ্রুপের মোস্তফা কামাল, সিকম গ্রুপের আমিরুল হক, পারটেক্স গ্রুপের আজিজুল কায়সার টিটু, ইউসিবিএল চেয়ারম্যান শরীফ জহির প্রমুখ।
এছাড়া বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ, ফজলুল হক, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন চৌধুরী, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নাহিদ কবির, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি
১৬ লাখ টাকা আয় কীভাবে হলো, ব্যাখ্যা করলেন নাহিদ
নির্বাচনি হলফনামায় নিজের বাৎসরিক আয় ১৬ লাখ টাকা দেখিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। হলফনামার এ তথ্য সামনে আসার পর থেকেই তার এই আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে ওই পোস্টে ‘অপপ্রচারের’ জবাবও দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুকের ওই এডমিন পোস্টে বলা হয়েছে, নির্বাচনি হলফনামায় নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার সত্য উদঘাটনের চেয়ে বরং একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটি রাজনৈতিক প্রয়াস।
এতে বলা হয়, প্রথমত, বাৎসরিক আয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হলফনামায় যে ১৬ লক্ষ টাকার বাৎসরিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট চাকরি ছাড়ার পর হঠাৎ করে অর্জিত অর্থ নয়; এটি ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত) মোট আয়ের হিসাব। এই অর্থবছরের বড় একটি সময় (সাত মাস) নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেই দায়িত্বের বিপরীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন–ভাতা পেয়েছেন।
বাস্তবতা হলো, এই ১৬ লক্ষ টাকার মধ্যে প্রায় ১১ লক্ষ টাকাই উপদেষ্টা হিসেবে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা, যা ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত, আয়করযোগ্য এবং সম্পূর্ণভাবে নথিভুক্ত। বাকি অংশ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট (পরামর্শক) হিসেবে বৈধ পেশাগত কাজের সম্মানী থেকে, যারও সুস্পষ্ট কর হিসাব রয়েছে।
মোট সম্পদ সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলামের মোট সম্পদ ৩২ লক্ষ টাকা। মোট সম্পদ কোনো এক বছরের আয় নয়, এটি একজন মানুষের পুরো জীবনের সঞ্চয়ের সমষ্টি।
নাহিদ ইসলামের ক্ষেত্রে এই সম্পদ তার প্রায় ২৭ বছরের জীবনের জমাকৃত সঞ্চয়। এর মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা পদের বিপরীতে প্রাপ্ত বেতন থেকে সেভিংস, পূর্ববর্তী সেভিংস, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহার, স্বর্ণালংকারের মূল্য, ফার্নিচার এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যের সমষ্টি। পাশাপাশি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর আয়কর পরিশোধিত ইনকামও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এখানে মোট সম্পদ যেটা একেবারেই সত্য ও একুরেট সেই তথ্যই দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘিরে যে অপপ্রচার চলছে, সেটিও তথ্যের অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।
উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় নাহিদ ইসলামের ব্যাংক একাউন্টে যে প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিল, সেটি ছিল উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন মোট আয়ের পর অবশিষ্ট নগদ অর্থ—তার মোট সম্পদের প্রতিফলন নয়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ একই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বৃদ্ধি পায়, যা হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মাত্র দুটি—একটি সোনালী ব্যাংকে এবং আরেকটি নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা। এর বাইরে তার আর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। একই সঙ্গে এটিও পরিষ্কার যে উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় যেমন তার কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি ছিল না, পদত্যাগের পরেও তা হয়নি—এই তথ্য হলফনামায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
পেশা সংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, পেশা সংক্রান্ত বিভ্রান্তিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হলফনামার কোথাও নাহিদ ইসলামের পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করা হয়নি। তার পূর্ববর্তী পেশা সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমান পেশা হিসেবে কনসালট্যান্সি উল্লেখ আছে, যা একটি স্বীকৃত ও বৈধ পেশা। তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও পলিসি সিদ্ধান্তে পরামর্শ দেন—যে প্রতিষ্ঠানের নাম ইলেকশন কমিশনে দাখিল করা নথিতেই উল্লেখ রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং নাহিদ ইসলামের যুক্ত থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি। তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এই পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন—এতে অস্বাভাবিক বা গোপন কিছু নেই।
নাহিসের ওই ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়েছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনি হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য। তিনি উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন আয়, পদত্যাগের পর পেশাগত আয় এবং জীবনের সামগ্রিক সম্পদ—সবকিছু আলাদা করে, স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করেছেন। অথচ এই স্পষ্ট ও পৃথক ক্যাটাগরিগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে দিয়ে একটি অসৎ রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বাস্তবে, সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণা এই কথাই প্রমাণ করে যে নাহিদ ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন—আর সেটিই এই অপপ্রচারের মূল অস্বস্তির জায়গা। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই দেশে সত্য বলা অনেক সময় অপরাধে পরিণত হয়। যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। অথচ যেসব রাজনীতিবিদ বছরের পর বছর দেশে-বিদেশে বিলাসবহুল জীবন যাপন করেন, যাদের হলফনামার তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না—তাদের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত। কারণ ক্ষমতার সঙ্গে আপস করা থাকলে প্রশ্ন ওঠে না।
এমকে
রাজনীতি
খালেদা জিয়ার ত্যাগ জাতি আজীবন মনে রাখবে: আমীর খসরু
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন, তা জাতি আজীবন মনে রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশের মাটি ও মানুষকে বেছে নিয়েছিলেন। এই দেশের মানুষের ভালো-মন্দের সাথে উনি মিশে গেছেন।’
বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে জিয়া পরিষদ আয়োজিত খালেদা জিয়ার স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমীর খসরু।
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে একমাত্র নেতা, যিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একদিনের জন্যও আপস করেননি।’
খালেদা জিয়ার জানাজায় কোটি মানুষের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই যে কোটির উপরে মানুষ সেদিন জানাজায় গেছে, এটা এমনিতে হয় না। হৃদয়ের টান থেকে সেদিন সবাই উপস্থিত হয়েছিল।’
খালেদা জিয়ার সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের কথা স্মরণ করে আমীর খসরু বলেন, ‘মেয়েরা যখন একেবারেই স্কুলে যেত না।
ওই সময় খালেদা জিয়া খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা চালু করেছেন। মেয়েরা যাতে স্কুলে যায়, গরিব শিশুরা যাতে স্কুলে যায় এজন্য উপবৃত্তি, বৃত্তি দিয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের যে মশাল শহীদ জিয়ার হাত থেকে নিয়েছিলেন, সেই মশাল দীর্ঘ সময় বহন করেছেন এবং এখন তা তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছেন।’
ভবিষ্যতের কর্মসূচি সম্পর্কে আমীর খসরু বলেন, ‘তারেক রহমান সাহেব যে রূপরেখা আগামী দিনে বাংলাদেশের জন্য দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে।
দলীয় নেতৃত্বের ঘোষিত নীতি যেমন ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘ফার্মার্স কার্ড’, এক কোটি কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন আমীর খসরু।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি মানুষের জন্য চিন্তা করা হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নের সুফল প্রত্যেক নাগরিকের কাছে যাবে।’
এমকে
রাজনীতি
ওপর লেভেলের চাপে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে: সুরভী
মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণায় অভিযুক্ত আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভী বলেছেন, ওপর লেভেলের চাপ আছে বলেই আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, এই ওপর লেভেলের লোকটা কে?
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সুরভী বলেন, আমি টানা চারদিন হাসপাতালে ছিলাম। অনেকে আমাকে দেখতেও গিয়েছিলো।
তিনি বলেন, আমার বয়স ১৭ বছর। আমার পরীক্ষা আছে তাই আমি জামিন চেয়েছিলাম। যারা আমাকে অনেক হেল্প করেছেন যারা তাদের অনেক ধন্যবাদ। আমি ১১ দিন জেলে ছিলাম। আমাকে দুইবার রিমান্ড দেওয়া হয়। কোনো প্রমাণ না থাকলেও আমাকে রিমান্ড দেওয়া হয়। আমি কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ছিলাম না।
সুরভী বলেন, আমার কাছে আপসনামা নিয়ে আসে। আমি সেখানে সই করি না। আমি তার বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার একটি মামলা করেছিলাম। সেই প্রেক্ষিতে আমার কাছে আপসনামা নিয়ে আসে।
এমকে
রাজনীতি
তারেক রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানানো হয়।
সাক্ষাতে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল। তাঁরা হলেন এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পায়োলা প্যাম্পালোনি, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দক্ষিণ এশিয়ার উপপ্রধান মনিকা বাইলাইতে ও লিগ্যাল অ্যাডভাইজার রাস্টিস্লাভ স্প্যাক।
এসময় বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
রাজনীতি
তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমে যুক্ত হলেন আরও তিনজন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমে আরও তিনজনকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমের পরিচালক (নিরাপত্তা) হিসেবে মেজর (অব.) মোহাম্মদ শাফাওয়াত উল্লাহ, পরিচালক (প্রটোকল) হিসেবে মেজর (অব.) মইনুল হোসেন এবং পরিচালক (সমন্বয়) হিসেবে ক্যাপ্টেন (অব.) মো. গণী উল আজমকে নিযুক্ত করা হয়েছে।




