জাতীয়
ভুল স্বীকার না করলে জনগণ আ.লীগকে গ্রহণ করবে না: প্রেস সচিব
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, মানুষ ভুল করলে ক্ষমা চায় বা অনুতপ্ত হয়। আমরা সবাই ভুল করি। কিন্তু দীর্ঘ ১৭ মাস পার হয়ে গেলেও (আওয়ামী লীগ) দলটি তাদের দ্বারা সংঘটিত হত্যা ও গুমের ঘটনার জন্য কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। এমনকি তারা শান্তিপূর্ণ থাকার কথাও বলেনি।
তিনি বলেন, এখন যদি তারা (আওয়ামী লীগ) এসে ভুল স্বীকার করে বা সরি বলে, তবে তার কোনো মূল্য নেই। কারণ সময় পার হয়ে গেছে এবং তাদের মনোনয়নের সুযোগও আর নেই।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকার গৌর গোপাল সেবা আশ্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ দেখছি না। মানুষের কাছে দলটির গ্রহণযোগ্যতা এখন নেই। বিদেশে বসে দলটির নেতাকর্মীরা উল্টো মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। তারা দাবি করছে ৩০০০ পুলিশকে মেরে ফেলা হয়েছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। তারা আন্দোলনে অংশ নেওয়া লাখ লাখ ছাত্র-ছাত্রীকে জঙ্গি হিসেবে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। যাতে তাদের ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায়। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের মানুষ তাদের আর গ্রহণ করবে না।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচন গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে—এমন কোনো ধারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই। বরং দেশের মানুষ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি অস্ত্র হাতে তুলে নেয়, তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর তা ব্যবহার করে এবং গুম-খুন ও গণহত্যার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তবে পৃথিবীর কোনো সভ্য রাষ্ট্রই তাকে আর গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে না। প্রকৃতপক্ষে, এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নিজেরাই নিজেদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য বলে প্রমাণ করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব শেষে আবার সাংবাদিকতায় ফিরতে চান বলেও তিনি জানান।
এর আগে, শফিকুল আলম নিজনান্দুয়ালী গৌর গোপাল সেবা আশ্রমের সার্বিক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং আশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
আশ্রমের ধর্মীয় ও মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পরিদর্শনকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আশ্রমের ভক্তরা উপস্থিত ছিলেন।
নিতাই গৌর গোপাল সেবাশ্রম পরিদর্শন শেষে শফিকুল আলম শ্রীপুরে উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চৌগাছি নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
জাতীয়
ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বিআরটিএ’র কঠোর নির্দেশনা
ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কিংবা লাইসেন্সে উল্লেখিত শ্রেণি বা ক্যাটাগরির বাইরে ভিন্ন ধরনের মোটরযান চালনার বিরুদ্ধে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ ধরনের আইন লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের মুখে পড়তে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিআরটিএ সদর কার্যালয় থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই সতর্কবার্তা দেয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৪(১) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বা শিক্ষানবিশ লাইসেন্স ছাড়া, কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে পাবলিক প্লেসে মোটরযান চালাতে বা চালানোর অনুমতি দিতে পারবেন না।
একই আইনের ধারা ৪(২) অনুযায়ী, যে শ্রেণি বা ক্যাটাগরির মোটরযানের জন্য লাইসেন্স নেয়া হয়েছে, তার বাইরে অন্য কোনো শ্রেণির যান চালানোও নিষিদ্ধ। এছাড়া ধারা ৫(১) অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি গণপরিবহন চালাতে বা চালানোর অনুমতি দিতে পারবেন না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব বিধান লঙ্ঘন করলে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর ধারা ৬৬ অনুযায়ী অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড, বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
এছাড়া আইন অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া বা ভুল ক্যাটাগরির যান চালালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। এমনকি শারীরিক বা মানসিকভাবে অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রেও লাইসেন্স বাতিলের বিধান রয়েছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক চালক লাইসেন্স ছাড়া কিংবা লাইসেন্সের নির্ধারিত শ্রেণির বাইরে যান চালাচ্ছেন। পাশাপাশি বেপরোয়া গতি, বিশৃঙ্খল চালনা এবং অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে সড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এতে প্রাণহানি ও স্থায়ী পঙ্গুত্বের মতো ঘটনা ঘটছে।
এ অবস্থায় সকল চালককে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া এবং নির্ধারিত ক্যাটাগরির বাইরে কোনো যান না চালানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন মালিকদেরও চালকদের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এসব নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট চালক ও মালিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয়
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা
বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অফিস সময় নির্ধারণ, বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সময় সীমিতকরণ, সব ধরনের আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিদ্যমান সংঘাতে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে প্রভাব; পরিস্থিতি মোকাবেলায় গৃহীত কর্মকৌশল (স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি) এবং অর্থায়ন কৌশল সংবলিত অর্থ বিভাগের প্রণীত কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রণীত সমন্বিত কর্মকৌশলে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়া, সারের উৎপাদন, মজুদ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিতকরণ, শিল্প উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার স্বার্থে শিল্পখাতে প্রয়োজনীয় জ্বালানির জোগান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব প্রকার আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। আলোকসজ্জা পরিহারসহ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত কর্মকৌশল বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পর্যাপ্তসংখ্যক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।
সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা, ব্যাংকিং সেবা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
জরুরি সেবা ব্যতীত সব অফিস ভবন, বিপণিবিতান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টায় বন্ধ করতে হবে মর্মে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনাপূর্বক শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
সচিব জানান, জ্বালানি তেলের ব্যবহার ও পরিবেশ দূষণ হ্রাসকল্পে পরিবেশবান্ধব সম্পূর্ণ নতুন ইলেকট্রিক বাস নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিনা শুল্কে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সর্বসাকুল্যে ২০ শতাংশ শুল্কে আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী, মেয়াদ উত্তীর্ণ যানবাহনসমূহকে ক্রমান্বয়ে সড়ক থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সরকারি কার্যক্রমে গাড়ির জন্য মাসিক বরাদ্দকৃত জ্বালানির ৩০ শতাংশ কম গ্রহণ করবেন।
তিনি আরো জানান, সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
সভা ও সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে এবং সেমিনার-কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। এ ছাড়া ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ, সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ এবং সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।
সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে। আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ, অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ ও ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ হ্রাস করা বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ ছাড়া সভায় ‘The Public Examinations (Offences) (Amendment) Act, 2026’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জাতীয়
জ্বালানি নিয়ে আতঙ্কের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন, জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তা একে অপরকে প্রভাবিত করে এবং পরিস্থিতিকে অযথা জটিল করে তোলে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকালে সিলেট নগরের তোপখানাস্থ তার বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমি যদি আতঙ্কিত হই, আমার পাশে থাকা মানুষও আতঙ্কিত হবেন। এই আতঙ্ক আবার অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে এখনও এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যার কারণে আতঙ্কিত হতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক। আপনি পাম্পে গেলে তেল পাচ্ছেন, সুইচ টিপলে বিদ্যুৎ পাচ্ছেন- তাহলে সমস্যা কোথায়? এখন পর্যন্ত জ্বালানির কারণে কোনো কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি।
সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে এবং অতীতেও দ্রব্যমূল্যের চাপ দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিয়েছে। জনগণের সহযোগিতাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ সম্পর্কেও বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে কারণ এখানে দাম নির্ধারণের একটি ফর্মুলা আছে। সৌদির আরামকোর সিপি প্রাইসের সাথে একটি প্রিমিয়াম যোগ করে দেশে মার্কেটে দাম আসে। যেখানে উৎস দেশে দাম বেড়ে গেছে, তার প্রভাব এখানে পড়বেই। ক্রুড অয়েলের মূল্য কিছুদিন আগে ৫৫–৬০ ডলার ছিল। এখন তা ১১৬ ডলারে পৌঁছেছে। তবে এই সরকারের স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে দাম আগের মতোই রাখা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত কষ্ট না পায়।
মন্ত্রী সবাইকে সতর্ক এবং সাশ্রয়ী থাকার আহ্বান জানান। যদি আমরা সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহার করি, আমদানি কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও কমবে। তাই আসুন, আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকতা বজায় রাখি এবং সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করি।
জাতীয়
তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় জাপান কনসোর্টিয়ামকে দায়িত্ব দিতে চায় সরকার
সরকার আলোচনার মধ্যে দিয়ে দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে জাপান কনসোর্টিয়ামকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় বলে জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর তিনি এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ওপেন টেন্ডার ছাড়াই চলতি বছরের মধ্যেই তৃতীয় টার্মিনাল চালু হবে। দীর্ঘ আলোচনার পরই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। দুপক্ষের আলোচনা আরও চলবে।
সূত্রে জানা গেছে, এ সিদ্ধান্ত দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সিদ্ধান্তের পর আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগবে এবং টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হতে আরও ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত এই টার্মিনালে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য বাড়বে ব্যয়ের বোঝা। টিকিটপ্রতি অতিরিক্ত এক হাজার টাকা গুনতে হতে পারে তাদের। একই সঙ্গে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও আসছে কাঠামোগত পরিবর্তন, যেখানে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থার একক নিয়ন্ত্রণ আর থাকছে না বলে জানা গেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে আংশিক উদ্বোধনের পরের বছরই সম্পূর্ণভাবে চালু হওয়ার কথা ছিল দেশের এভিয়েশন খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের। কিন্তু অপারেটর নিয়োগ ব্যর্থতায় প্রায় তিন বছর ধরে অবহেলায় পরে আছে ২২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি।
১৫ বছরের জন্য টার্মিনালটি জাপানের পরিচালনা করার কথা ধাকলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই আলোচনা থেমে যায়। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ফের জাপানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়।
আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থার্ড টার্মিনাল নিয়ে ফের দুপক্ষের বৈঠক করার কথা রয়েছে।
জাতীয়
বাহরাইনে নিহত বাংলাদেশির মরদেহ ঢাকায় ফিরছে আজ
বাহরাইনে মিসাইলের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে প্রাণ হারানো বাংলাদেশি নাগরিক এস এম তারেক আলীর মরদেহ দেশে ফিরছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে তার মরদেহ বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারে।
নিহতের মরদেহ গ্রহণের জন্য বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।
পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে রাজধানী মানামার কানু মসজিদে মোহাম্মদ তারেকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দূতাবাসের উদ্যোগে শুক্রবার গালফ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে তার মরদেহ সৌদি আরবের দাম্মাম হয়ে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত ২ মার্চ স্থানীয় সময় সকালে বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ একটি জাহাজের ওপর পড়লে তার আঘাতে এস এম তারেক আলীর মৃত্যু হয়। এতে আরো দুজন বাংলাদেশি আহত হন।



