অর্থনীতি
কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সেবা শতভাগ অনলাইনে শুরু এনবিআরের
কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিবিএমএস) সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইউটিলাইজেশন পারমিশন বা ইউপি সংক্রান্ত সেবা শতভাগ অনলাইনে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আজ থেকে ইউপি ইস্যু সংক্রান্ত সব ধরনের আবেদন ও অনুমোদন কার্যক্রমে সিবিএমএস সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এনবিআর থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, এনবিআরের অধীন তিনটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের মাধ্যমে এখন থেকে সব ইউপি অনলাইনে ইস্যু করা হবে। ফলে আজ থেকে ম্যানুয়ালি ইউপি আবেদন গ্রহণ ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেল।
বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনলাইনভিত্তিক সেবা দিতে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এনবিআর সিবিএমএস সফটওয়্যার চালু করে। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী অনলাইনে ইউপি গ্রহণ করতে পেরেছে। অনলাইনে ইউপি ইস্যু চালুর ফলে বন্ডেড প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর কাগজপত্র জমা দিতে কিংবা সরাসরি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে উপস্থিত হতে হবে না। আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন– সব কার্যক্রমই এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
এনবিআর জানায়, সিবিএমএস সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে– ইউপি সংক্রান্ত সেবায় গতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া ও ব্যক্তিনির্ভরতা কমবে, আবেদন প্রক্রিয়া হবে সহজ ও ব্যয় সাশ্রয়ী,বন্ড ব্যবস্থাপনায় তথ্য সংরক্ষণ ও নজরদারি আরও কার্যকর হবে, বন্ডসংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা কমে আসাসহ বিভিন্ন সুবিধা যোগ হবে।
অনলাইনে ইউপি সেবা চালু হওয়ায় বন্ডেড ওয়্যারহাউজ, সুবিধাভোগী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অধিকতর সুবিধা পাবে। এর ফলে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে উঠবে বলেও মনে করে এনবিআর।
অর্থনীতি
শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা জারি করলো এনবিআর
বিভিন্ন সুবিধা রেখে শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সুবিধার মধ্যে রয়েছে—কাস্টমস স্টেশনভিত্তিক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য আগের মতো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে পূর্বানুমোদন নেওয়ার আবশ্যকতা নেই। এর ফলে আগের তুলনায় লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ বর্তমানে আরও কম সময়ের মধ্যে শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স প্রদান করতে পারবে।
এছাড়া আগের মতো শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারীকে কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি কর্তৃক গৃহীত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রয়োজন নেই। কেবলমাত্র দাখিলকৃত দলিলাদি সঠিক প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত (সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবস) লাইসেন্স প্রদান করা হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সমুদ্র ও নৌবন্দর সংশ্লিষ্ট কাস্টমস স্টেশন কর্তৃক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যুর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
এর আগে, এই খাতে লাইসেন্স ইস্যু করার জন্য কোনো স্বতন্ত্র বিধিমালা ছিল না এবং কাস্টমস এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২০ মোতাবেক শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স ইস্যু করা হতো। শিপিং এজেন্ট সংক্রান্ত কার্যাবলী পরিচালনা সহজতর ও যুযোপযোগী করার লক্ষ্যেই স্বতন্ত্র শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সিং বিধিমালা, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে।
এনবিআর জানায়, আগের বিধিমালা অনুযায়ী ইস্যুকৃত শিপিং এজেন্ট লাইসেন্স কেবল ইস্যুকারী কাস্টমস স্টেশন সংশ্লিষ্ট সমুদ্র/নৌবন্দরের জন্য কার্যকর ছিল। ফলে একটি কাস্টমস স্টেশন থেকে ইস্যুকৃত লাইসেন্সের মাধ্যমে অন্য কোনো কাস্টমস স্টেশন সংশ্লিষ্ট বন্দরে শিপিং এজেন্ট সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব ছিল না। বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, ইস্যুকৃত শিপিং এজেন্ট লাইসেন্সধারী সমগ্র বাংলাদেশের যে কোনো সমুদ্র অথবা নৌ-বন্দরে তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সহজতর করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিদ্যমান প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অর্থনীতি
মুরগি-ডিমে স্বস্তি মিললেও চড়া মাছের বাজার
দেশজুড়ে বয়ে চলা তীব্র শীতের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। নতুন বছরের শুরুতে মাছের বাজার বেশ চড়া থাকলেও ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ক্রেতারা বলছেন, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ মিলছে না; অন্যদিকে ডিম ও মুরগির দাম কমলেও তা এখনো পুরোপুরি নাগালের মধ্যে আসেনি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দরের এই চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, যা মাসখানেক আগেও ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশি হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি এখন ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় মিলছে। এক সপ্তাহ আগেও মুরগির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেশি ছিল। এদিকে গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খামারিরা শীতে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত মুরগি বিক্রি করে দেওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে বলে জানান বিক্রেতারা। নতুন বাজারের বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শীতে খামার থেকে দ্রুত মুরগি চলে আসে, চাহিদাও কিছুটা কম থাকে; তাই দাম কিছুটা কম রাখা যায়।’
সবজির দাম ওঠানামা করলেও মাছের দামে খুব একটা পরিবর্তন নেই, এর দাম সব সময় বাড়তিই থেকে যায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ে না। বাজারে প্রতি কেজি কোরাল ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা ও আইড় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছের দাম কিছুটা কমে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় নেমেছে।
এছাড়া টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং পাঙাশ ও সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আকারে বড় চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২২০০ থেকে ২৫০০ টাকা এবং দুই কেজি ওজনের ইলিশ ২৬০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকা হচ্ছে। মাছ বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলমের ভাষ্য, ‘শীতে নদীতে মাছ কম ধরা পড়ায় আড়তে দাম বাড়তি, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।
রামপুরা বাজারে মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন বলেন, মাছের দাম তুলনামূলক বেশি। গত সপ্তাহে যে রুই ৩০০ টাকায় পাওয়া যেত, আজ তা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে মুরগি ও ডিমে কিছুটা স্বস্তি আছে।
বনশ্রী বাজারের ক্রেতা সেলিম রেজা বলেন, মাছের দাম কমার লক্ষণ নেই। মুরগি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে থাকলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।
অর্থনীতি
ফয়জুল করিমের ব্যাংকে আছে ১ হাজার টাকা, স্ত্রীর কাছে ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার
বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর জোটের প্রার্থী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির শায়খ চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম স্ত্রীর ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এর পাশাপাশি তার স্ত্রীর ৭ লাখ ২০ হাজার নগদ টাকা ও বিভিন্ন খাতে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
হলফনামায় ফয়জুল করিম নিজের পেশা হিসেবে শিক্ষকতা ও দাওয়াত উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি তার স্ত্রীর পেশা গৃহিণী ও ব্যবসা বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ফয়জুল করিম অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে হাতে নগদ ৩১ লাখ ১২ হাজার ৪৭ টাকা থাকলেও তার ব্যাংকে জমা রয়েছে মাত্র ১ হাজার ১৭৬ টাকা। পাশাপাশি তার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই দেখিয়েছেন। স্ত্রীর ১৮৭ ভরি স্বর্ণালংকার উপহার হিসেবে পেয়েছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
হলফনামায় দেখা গেছে, ফয়জুল করিমের নামে ৩টি মামলা ছিল। এছাড়া আয়ের উৎস হিসেবে দেশের ভেতরে অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা।
মাহফিল থেকে বছরে ৪ লাখ টাকা ও শিক্ষকতা পেশা থেকে বছরে ৭ লাখ ৬ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন।
এছাড়াও আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে তিনি ২২ বোরোর ১টি রাইফেল ও উত্তরাধিকার সূত্রে ১ হাজার ৬০ শতাংশ কৃষি জমি ও ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ অকৃষি জমি দেখিয়েছেন। অস্থাবর এসব সম্পত্তির মূল্য তিনি ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ২২৩ টাকা দেখিয়েছেন।
শায়খ চরমোনাই হলফনামায় স্থাবর সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছেন, তার ২ হাজার ৪৩৬ শতাংশ কৃষি জমি রয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৬০ টাকা। অকৃষি জমি দেখিয়েছেন ২ দশমিক ৪০ শতাংশ। যার মূল্য ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৮ টাকা। পাশাপাশি তার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমির পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
এর পাশাপাশি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া বাণিজ্যিক ভবন (দোকান) দেখিয়েছেন ৬৬১ বর্গফুট ও অ্যাপার্টমেন্ট (ফ্লাট) দেখিয়েছেন ২ হাজার ১৩ বর্গফুটের। এসব সম্পত্তির মূল্য অর্জনকালীন সময়ের মূল্য ১ কোটি ৫ লাখ ৬ হাজার ৭০৮ টাকা হলেও বর্তমান মূল্য ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার ১২৪ টাকা।
ফয়জুল করিম ২০২৫-২৬ সালে তার আয়ের পরিমাণ ১৪ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকা ও সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৬৪ লাখ ৯ হাজার ৯৩১ টাকা দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন ৯৬ হাজার ৪৭৫ টাকা। পাশাপাশি তার স্ত্রীর ২০২৫-২৬ সালে তার আয়ের পরিমাণ ৬ লাখ টাকা ও সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ৬০ হাজার ২০০ টাকা দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন ১৫ হাজার টাকা।
অর্থনীতি
কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে চিনির দাম
দেশের বাজারে কয়েক মাস ধরে চিনির দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে সম্প্রতি খোলা ও মোড়কজাত—উভয় ধরনের চিনির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া সরবরাহ কম থাকায় নাজিরশাইল চালের দামও কেজিতে তিন–চার টাকা বেড়েছে।
বিক্রেতারা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে চিনির দাম বাড়ছে। এ কারণে খুচরা বাজারেও পণ্যটির দাম বাড়তি। বাজারে গত সপ্তাহ থেকে নতুন মোড়কে যেসব চিনি আসছে, সেগুলোর দামও বাড়িয়েছে কোম্পানিগুলো।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গতকাল প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ৯০ টাকা ছিল। মোড়কজাত চিনির দামও ৯০–৯৫ টাকা থেকে বেড়ে ১০০–১০৫ টাকা হয়েছে। তবে এখনো সব দোকানে নতুন দরের মোড়কজাত চিনি পৌঁছায়নি।
খুচরা বিক্রেতারা বলেন, ২০২৫ সালের অধিকাংশ সময় দেশে চিনির দাম স্থিতিশীল ছিল। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বাজারে ঘাটতি ছিল না। তারপরও পাইকারিতে চিনির দাম বেড়েছে। পাইকারিতে ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ৩০০–৪০০ টাকা।
বাজারে নাজিরশাইল চালের দামও কিছুটা বাড়তি। বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক মাস ভারত থেকে নাজিরশাইল চাল আমদানি হয়েছিল। তাতে সরবরাহে সংকট হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি নাজিরশাইল চাল আমদানি কমেছে। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে কেজিতে তিন–চার টাকা দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি নাজিরশাইল চাল ৭৫–৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পোলাওয়ের চালের দামও কেজিতে প্রায় ১৫ টাকার মতো বেড়ে ১৩০–১৩৫ টাকা হয়েছে। তবে বাজারে মিনিকেটসহ অন্যান্য চাল আগের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট চালের মধ্যে রশিদ ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি ৭২ টাকা, সাগর ও মঞ্জু ব্র্যান্ডের প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের চাল ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মোটা চালের কেজি ৫০–৫৫ টাকা।
ডিম–মুরগির দাম কম
বর্তমানে ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিম ১১০–১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগে প্রতি ডজনের দাম ছিল ১২০ টাকা। আবার প্রতি কেজি ফার্মের মুরগি এখন ১৭০–১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগির দাম প্রতি কেজি ২৫০–২৭০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এ দাম কেজিতে ১০ টাকা বেশি ছিল।
বিক্রেতারা জানান, শীত মৌসুমে মুরগির রোগবালাই ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে ঝুঁকি ও বাড়তি খরচ এড়াতে অনেকে মুরগি দীর্ঘদিন খামারে না রেখে দ্রুত বিক্রি করে দেন। একই সঙ্গে শীতের সময় ভোক্তাদের মধ্যে ডিম ও মুরগির চাহিদা বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কিছুটা কমে যায়। এসব কারণে বর্তমানে বাজারে ডিম ও মুরগির দাম কিছুটা কম রয়েছে।
পেঁয়াজের দাম কমেছে
মৌসুমের নতুন পেঁয়াজ বাজারে এসেছে প্রায় এক মাস আগে। নতুন অবস্থায় ১ কেজি পেঁয়াজ ১৩০–১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। সেই দাম ধাপে ধাপে কমেছে। গতকাল এক কেজি দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০–৬৫ টাকায়। আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬৫–৭০ টাকায়।
বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ এখন পুরোদমে। এ কারণে সবজির দামও কম। গতকাল প্রতি কেজি আলু ২০–২৫ টাকা, টমেটো ৮০–১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, শিম ৪০–৬০ টাকা, বেগুন ৬০–৭০ টাকা, মুলা ২৫–৩০ টাকা, শালগম ৩০–৪০ টাকা এবং প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০ টাকা, লাউ ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হয়। অর্থাৎ, বেশির ভাগ সবজির দামই ৫০–৬০ টাকার মধ্যে।
অর্থনীতি
ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় আসেনি যে ৭ ব্যাংকে
সদ্য বিদায়ী ডিসেম্বর মাসে মোট ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে এ সময়ে দেশি-বিদেশি ৭ ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ৯০ হাজার ডলার এসেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৭ কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ৩৫ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২২৯ কোটি ৩৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্স।
তবে আলোচিত সময়ে ৭ ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক। বিদেশি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স এসেছে—জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার।
প্রসঙ্গত, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা ছিল ওই অর্থবছরের রেকর্ড। পুরো অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।




