রাজনীতি
নুরুল হক নুরের ৯০ লাখ টাকার সম্পদ, পেশা ব্যবসা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। হলফনামা অনুযায়ী তিনি একজন ব্যবসায়ী। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৪১ টাকা।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের মোট সম্পদের পরিমাণ দুই লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা। স্ত্রীর পেশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শিক্ষকতা।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে ছয়টি মামলা চলমান। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি তদন্তাধীন এবং কয়েকটিতে তিনি এজাহারভুক্ত ও অভিযুক্ত। আটটি মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) নুরুল হক নুরের নির্বাচনি হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়, নুরুল হক নুরের ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ৮৫ হাজার ৪২৬ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে আয় চার লাখ ৫৪ হাজার ৬২২ টাকা। সবমিলিয়ে তার মোট বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা।
নুরের নগদ অর্থ রয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা। তার স্ত্রীর নগদ অর্থ ৩০ হাজার ৯৪১ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নুরের জমাকৃত অর্থ দুই লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা এবং স্ত্রীর রয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৭ টাকা। কোম্পানির শেয়ারে তার বিনিয়োগ রয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য আমানতের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা। তবে হলফনামায় গহনার কোনো বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি।
নুরের নামে ৮২ ডেসিমেল কৃষিজমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৬২ হাজার টাকা। স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে রয়েছে তিন একর কৃষিজমি, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। দায় সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, নুরের নামে পাওনাদারের কাছে দেনা রয়েছে তিন লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, নুরুল হক নুর ও তার স্ত্রী উভয়েই আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। সেখানে উল্লেখ রয়েছে—নুরের বার্ষিক আয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ০৪৮ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা। তার স্ত্রীর বার্ষিক আয় এক লাখ ৯১ হাজার ৮৮০ টাকা এবং মোট সম্পদের পরিমাণ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা।
পারিবারিক তথ্য হিসেবে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, নুরুল হক নুরের তিন সন্তান রয়েছে—দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এছাড়া তার ওপর নির্ভরশীল হিসেবে বাবা, মা, ভাই ও বোনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) গলাচিপা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল হিসেবে আসনটিতে নুরুল হক নুরের সঙ্গে সমঝোতা থাকায় বিএনপি এখানে দলীয় প্রার্থী দেয়নি। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়া গণঅধিকার পরিষদের আরেক প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ফাহিমও এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
রাজনীতি
খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সর্বস্তরের মানুষ
বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ আসছেন জিয়া উদ্যানে। কবর জিয়ারত করে দোয়া করেছেন অনেকে। অনেককে কবরের সামনে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
২৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হলো জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে যাওয়ার লেক রোড। জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।
বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন। কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। বৃহস্পতিবার সকালে জিয়া উদ্যান পুলিশ বক্সের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি কবর জিয়ারত করেন।
পঞ্চগড় জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করা হয়েছে। এসময় পঞ্চগড় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচু বলেন, আমরা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা থেকে বেগম খালেদা জিয়ার ভালোবাসায় জানাজায় অংশগ্রহণ করেছি। আগামী দিনে তার রেখে যাওয়া জাতীয়তাবাদী আদর্শ বাস্তবায়নে তারেক রহমানের পাশে থাকব।
খালেদা জিয়া এখন আর শুধু একটি দলের নেত্রী নন, তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব। তার মৃত্যু ও জানাজাসহ পরবর্তী সব কার্যক্রম রাষ্ট্রীয়ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
এমকে
রাজনীতি
১৪৩ আসনে এ-ক্যাটাগরিতে ইসলামী আন্দোলন, কি করবে জামায়াত?
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণের জন্য জামায়াতে ইসলামীর শতাধিক আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল বেশ আগে থেকেই। সে অনুযায়ী ১০ দলীয় (প্রক্রিয়াধীন ১২ দলীয় সমঝোতা) নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণার পর বেশ কিছু আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি দলটি। সমঝোতা চুড়ান্ত হলে আরো আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে তাদের। তবে এর মধ্যে সম্ভাবনাময় অনেক আসন ছেড়ে দেওয়ায় দলটির তৃণমূল নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন ১৪৩টি আসনে এ-ক্যাটাগরিতে আছে দাবি করেন দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম।
নির্বাচনি জোটের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা না দিলেও দীর্ঘদিনের গণসংযোগসহ ভোটের মাঠে নানা তৎপরতা নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করছেন। ছেড়ে দেওয়া আসনে প্রার্থীর জন্য শুভ কামনাও জানাচ্ছেন তারা। সমঝোতার কারণে আরো অনেক আসন ছাড়তে হলেও এক্ষেত্রে মাঠের অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন কেউ কেউ।
চাহিদামতো আসন এখনো নিশ্চিত করতে না পারায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া চলছে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেও। তাছাড়া শেষদিনের আগে সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় বিভিন্ন দল বাড়তি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এ নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বেশ অস্বস্তি বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দলের অনুসারীরা সামাজিক মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা করছেন। আসন সমঝোতার বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান ইসলামী আন্দোলনসহ অনেকে। তবে আলোচনায় বসলে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছে জামায়াতে ইসলামী।
মনোনয়নপত্র জমার শেষদিনের আগে গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এতে আগে থেকে আন্দোলনরত ৮ দলের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদের (বীর বিক্রম) নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জুলাই বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ (আপ পার্টি)।
অন্য দলগুলো হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।
ওই সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত আমির বলেন, এটা আমাদের একটা মজবুত নির্বাচনি সমঝোতা। এটা জোটের চেয়েও মজবুত। আসন সমঝোতা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বাকিটা নমিনেশন জমার পরপরই সুন্দরভাবেই সমাধান করা হবে। পরের দিন ওই প্রক্রিয়ায় এবি পার্টিও অনানুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে।
সূত্রমতে, মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে ১১ দল মিলে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৭০০ শতাধিক প্রার্থী দিয়েছে।
এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ২৭৬, ইসলামী আন্দোলন ২৭২, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯০, খেলাফত মজলিস ৬৭, এনসিপি ৪৭, এলডিপি ২৫টির মতো আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। সমঝোতা হওয়া কিছু আসনে একক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়লেও অনেক জায়গায় একাধিক দলের প্রার্থী রয়েছে। এছাড়া সমঝোতার বাইরে থাকা আসনগুলোতে প্রধান দলগুলো মনোননয়নপত্র জমা দিয়েছে।
মনোনয়নপত্র জমার পরদিনই আসন সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম। তাদের দল ১৪৩টি আসনে এ-ক্যাটাগরিতে আছে দাবি করে জামায়াতকে নিয়ে নানা সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিশ্লেষকরা বলছেন তার দাবি যদি সত্যি হয়। তাহলে এখন দেখার বিষয় জামায়াত কি করে?
এ বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরতে মঙ্গলবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং ডাকা হলেও খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে তা স্থগিত করা হয়। তবে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের অনুসারীরা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন।
এ বিষয়ে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, আসন বিষয়ে যে সমাধান হচ্ছে তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। যে কারণে ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা এসব আসনে নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে আলোচনার পথ খোলা আছে। সেটি ভাল জায়গায় গেলে একসঙ্গে আর না হলে আমরা আলাদাভাবে নির্বাচন করব।
সূত্রমতে, নিজেদের ব্যাপক চাহিদার কথা প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন অনুসারীদের প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের তৃণমূল পর্যায়ে চাপা অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
একদিকে সম্ভাবনাময় আসন ছেড়ে দেওয়া, অন্যদিকে সমঝোতায় থাকা কিছু দলের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন তারা। ভোটের প্রকৃত অবস্থা বিবেচনা না করে সমঝোতার সুযোগ নিয়ে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল অবাস্তব আসন দাবি করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
তবে জামায়াত মিডিয়া সেল নামের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আজ রাজনীতিতে এক অনন্য ও বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জোটের বৃহত্তর স্বার্থে দলীয় এমপি প্রার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের নিশ্চিত আসন ছেড়ে দিয়ে প্রমাণ করেছেন- ক্ষমতা নয়, আদর্শই তাদের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। এ ত্যাগ কোনো সাধারণ সিদ্ধান্ত নয়; এটি আত্মনিবেদন, শৃঙ্খলা ও সংগঠনের প্রতি নিখাদ আনুগত্যের এক গভীর বহিঃপ্রকাশ।
এদিকে চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার আমাদের নেতাদের বৈঠক হয়েছে। তাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমরা চাই চলমান ঐক্য অটুট থাকুক। সব দল যেন সম্মানজনক আসন নিয়ে নির্বাচন করতে পারে।
এজন্য জামায়াতকেই উদার ও ছাড়ের মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যত দ্রুত সমাধান হবে ততই লাভ। তিনি বলেন, চূড়ান্ত হওয়া অনেক আসনেও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমার পর পুরো বিষয়টা এলোমেলো হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক আব্দুল জলিল জানান, আসন সমঝোতা এখনো চুড়ান্ত হয়নি। তবে আলোচনা চলমান আছে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সমাধান হয়ে যাবে বলে আশাকরি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ সমঝোতার নির্বাচন খুব জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আসন সমঝোতা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর কোন সমস্যা আছে বলে জানি না। ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য করতে পারেন। তবে এগুলো নিয়ে বসলে সব সমাধান হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
এমকে
রাজনীতি
মায়ের ঐতিহাসিক বিদায়ে সবাইকে ধন্যবাদ জানালেন তারেক রহমান
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক বিদায় যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তান হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে এ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।
পোস্টে তারেক রহমান লিখেন, গতকাল, আমার জীবনের এক গভীর শোকের মুহূর্তে, আমি আমার মায়ের শেষ বিদায় দিতে পেরেছি। এটি এমন এক ঐতিহাসিক বিদায়, যা দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। আর সেটি সম্ভব হয়েছে যাদের যত্ন, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের কারণে; তাদের সবাইকে আমি অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি লিখেন, দেশনেত্রীর অন্তিম যাত্রায় অবিরত দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা। আপনারা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, শোকময় পরিবেশেও মানবিকতার উদাহরণ দেখিয়েছেন। আপনারা আমাদের সবাইকে নিরাপদে রেখেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিখেন, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল নারী ও পুরুষ সদস্যদেরও আমি ধন্যবাদ জানাই, যার মাঝে রয়েছেন মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র্যাব এবং এপিবিএন। আপনাদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের কারণে লক্ষ-লক্ষ মানুষ নিরাপদে একত্রিত হতে পেরেছে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছে, এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে যেতে পেরেছে।
তিনি লিখেন, যাদের কাজ অনেক সময় চোখে পড়ে না, ডিজিএফআই, এনএসআই এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের নিবেদিত সদস্যদের প্রতিও আমি সমানভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের সতর্কতা ও দায়িত্ববোধের কারণে দিনটি নিরাপদ এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তারেক রহমান লিখেন, মাননীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, ডিজি এসএসএফ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সমূহের মাননীয় উপদেষ্টাগণ, ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানও আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। আপনাদের সমন্বয় এবং উপস্থিতির মাধ্যমে, আমরা শান্তিতে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি।
তিনি লিখেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানাতে পেরেছেন। এটা প্রমাণ করে, দেশের সীমানার বাইরে থেকেও আমার মা’র প্রতি কতটা গভীর সম্মান ছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংবাদকর্মীদেরও। তিনি লিখেছেন, কয়েক বর্গ কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল জনসমুদ্রের মধ্যে এই অনুষ্ঠান কভার করা সাংবাদিকদের জন্য খুবই কঠিন ছিল। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ-বিদেশের মিডিয়াকর্মীরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জানাজার নামাজ ও দাফনের খবর, ছবি ও ভিডিও সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ।
তারেক রহমান আরও লিখেন, আমি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস এবং তার মন্ত্রিসভার সকল সদস্যদেরও অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই। জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে তারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে প্রতিটি মুহূর্তে শান্তি ও যত্ন বজায় রাখতে সাহায্য করেছেন, যা আমাদের পরিবারের জন্য অমূল্য সমর্থন হিসেবে অনুভূত হয়েছে।
তিনি লিখেন, আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই; প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে। গভীর শোকের এই সময়ে আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। আপনারা ছিলেন সেই শক্তি, যার কারণে আমাদের পরিবার এবং পুরো জাতি মর্যাদার সঙ্গে আমার মা’র স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছে, আলহামদুলিল্লাহ।
এমকে
প্রবাস
চীনে বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাজা
চীনের শেনজেন শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চেয়ার্পারসন বেগম খালেদা জিয়ার গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহত্তর চায়না বিএনপির আয়োজনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী সহ দলমত নির্বিশেষে চীন প্রবাসী বাংলাদেশিরা এতে অংশগ্রহণ করে।
গায়েবানা জানাজার ইমামতি করেন হারবিন ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (শেনজেন)’র প্রফেসর প্রবাসী বাংলাদেশি ড. মাহবুব আলম।
জানাযা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন, বৃহত্তর চায়না বিএনপি নেতা শেখ মাহবুবুর রশীদ, সাবেক ছাত্রনেতা ও চায়না বিএনপি নেতা ওয়ালী উল্লাহ, বিএনপি নেতা হাসমত আলী মৃধা, সাবেক ছাত্রনেতা ও চায়না বিএনপি নেতা এসএম আল-আমিন, চায়না বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন রিক্তা, মনিরুল ইসলাম কবির প্রমূখ।
আলোচনা সভা শেষে মরহুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা ও জিয়া পরিবারের জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
এমকে
রাজনীতি
তারেক রহমানের সম্পদ ২ কোটি টাকার, বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মোট সম্পদ ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকার। পেশা রাজনীতি। তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা, এবং সে অনুযায়ী তিনি ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা আয়কর দিয়েছেন। চিকিৎসক স্ত্রী জুবাইদা রহমানের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৩ লাখ ১৯১ টাকার। তারেক রহমানের নামে নেই কোনো বাড়ি-গাড়ি। অলংকার আছে ২ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় এ তথ্য দিয়েছেন তিনি। তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) ও ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী-বারিধারা-ক্যান্টনমেন্ট) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তারেক রহমানের দাখিল করা হলফনামায় দেখা যায়, ৭৭টি মামলার সবগুলো থেকে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন। পাশাপাশি কিছু মামলা প্রত্যাহারও করা হয়েছে। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উচ্চ মাধ্যমিক উল্লেখ করেছেন। পেশা রাজনীতি। স্ত্রীর পেশা হিসেবে চিকিৎসক উল্লেখ করেছেন। নিজের নামে বাড়ি বা জমি নেই।
হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ ছাড়া তিনি অন্য কোনো দেশের নাগরিক নন।
সম্পত্তির বিবরণী
তারেক রহমানের নিজের হাতে নগদ অর্থ আছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা। এছাড়া ওনার স্ত্রীর নামে ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা। হাতে নেই বিদেশি মুদ্রা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থ নেই। বন্ড, ঋণপত্র স্টক একচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার (পরিমাণ অর্জনকালীন সময়ের মূল্য, বর্তমান মূল্যসহ) আছে ৫ লাখ টাকা।
এছাড়া কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ৪৫ লাখ টাকা। সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) আছে ২০ হাজার টাকা, এফডিআর রয়েছে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকার, অন্য আমানত আছে এক লাখ টাকার।
তারেক রহমানের নামে বাস, ট্রাক, মোটরযান ও মোটরসাইকেল নেই। মাত্র ২ হাজার ৯৫০ টাকা মূল্যের সোনা ও অন্য ধাতু এবং পাথরের তৈরি গহনা আছে। ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। নিজের নামে নেই কোনো আগ্নেয়াস্ত্র। বিদেশে অস্থাবর সম্পত্তিও নেই।
স্থাবর সম্পদ বিবরণী
তারেক রহমানের নামে কৃষিজমি নেই। তবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। স্ত্রীর নামে ১১১ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি আছে। ৮০০ বর্গফুট দোতলা ভবন রয়েছে যৌথ মালিকানায়। ২ দশমিক ৯ শতাংশ জমির ওপর একটি ভবন রয়েছে, যা উপহার হিসেবে পাওয়া। নিজের নামে বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট নেই। তারেক রহমান ও তার স্ত্রী-কন্যার নামে সরকারি কোনো ঋণ নেই।
তারেক রহমান হলফনামায় ঋণ সংক্রান্ত তথ্যাবলীতে উল্লেখ করেন, ‘আমি একক বা যৌথভাবে বা আমার পিতা, মাতা, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান বা আমার ওপর নির্ভরশীল কোনো সদস্য অথবা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে আমি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করিনি। আমি/আমার একক বা যৌথভাবে বা আমার ওপর নির্ভরশীল কোনো সদস্য অথবা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে আমি কোনো ব্যাংক বা আর্থিকপ্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করিনি।’
সবশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তারেক রহমান আয়কর রিটার্নে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার ১৮৫ টাকার সম্পদ দেখিয়েছেন। রিটার্নে দেখানো আয়ের পরিমাণ ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। প্রদত্ত আয়করের পরিমাণ ১ লাখ ১ হাজার ৪৫৩ টাকা। আয়কর রিটার্নে দেখানো স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৫৩ লাখ ১৯১ টাকা।
এমকে




