সারাদেশ
লুৎফুজ্জামান বাবরের আসনে স্ত্রীও প্রার্থী
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনা-৪ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী।
সোমবার (২৯ তারিখ) বিকেল ৪টার দিকে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নিজের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন লুৎফুজ্জামান বাবর। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাহমিনা জামান শ্রাবণীর পক্ষে তার ব্যক্তিগত সহকারী মির্জা হায়দার আলী মনোনয়নপত্র জমা দেন।
একই সংসদীয় আসনে স্বামী-স্ত্রীর পৃথক মনোনয়ন দাখিল নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নির্বাচনী রাজনীতিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মনোনয়ন দাখিলকালে বিএনপি ও সমর্থক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা জামান শ্রাবণীর পক্ষ থেকে এ সময় কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, যাচাই-বাছাই শেষে বৈধ প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
সারাদেশ
১৫ দিনের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে : পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনসহ কিছু মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি বলেন, দেশের যেসব নদী খনন প্রয়োজন এবং যেসব জলাশয় দখল রয়েছে, সেগুলো দ্রুত দখলমুক্ত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে পঞ্চগড় সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই হাজারের বেশি মাইল খাল খনন করেছিলেন। সেই খাল খনন কর্মসূচিকে আবারও আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সামনে আনা হবে। একই সঙ্গে আবহাওয়া ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও করা হবে বলে জানান তিনি।
আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এমএন
সারাদেশ
প্রথম রোজায় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশ
পবিত্র রমজান মাসের শুরুর দিনে দেশে ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুনামগঞ্জের ছাতক।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
ভূমিকম্পটির উত্তপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৮১ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জের ছাতকে উল্লেখ করে মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট জানায়, সিলেট নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১০। এর গভীরতা স্বল্পমাত্রার হওয়ায় আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।
সারাদেশ
যশোরের চৌগাছায় তিন দিনব্যাপী গুড়ের মেলা অনুষ্ঠিত, উৎসবে মেতেছেন গাছি ও দর্শনার্থীরা
চৌগাছায় তিন দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্ত প্রদর্শন ও গুড়েরমেলা উদ্বোধন হয়েছে।এ উপলক্ষে রযালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অফিসের আয়োজনে উপজেলা চত্বরে যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৭ই ফেব্রুয়ারী) সকালে মেলা উপলক্ষে এক রযালী অনুষ্ঠিত হয়। রযালীটি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে উপজেলা চত্তরে এসে শেষ হয়। এরপর কাংখিত সেই মেলার ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আহমদ। এরপর নেতৃবৃন্দ মেলায় অংশ নেয়া বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।
সকাল সাড়ে ১১ টায় বৈশাখী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির আলোচনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলমগীর বিশ্বাস ।
বিশেষ অতিথির আলোচনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ যশোরের উপপরিচালক মোঃ মোশারফ হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন প্রমুখ।
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেশমা খাতুন, উপজেলা প্রকৌশলী সিদ্ধার্থ কুমার কুন্ডু, শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সামছুন্নাহারসহ উপজেলা পরিষদের সকল দপ্তরের কর্মকর্তা, থানা পুলিশ,বিজিবি ,বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্কুল কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থী, মেলায় অংশ নেয়া গাছি ও কৃষক, গণমাধ্যমকর্মী স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নেতৃবৃন্দ এ সময় বলেন, যশোরের চৌগাছা হচ্ছে কৃষির জন্য বিখ্যাত। এখানকার কৃষকরা ব্যাপক পরিশ্রমী ও তারা মাঠে যে ফসল ফলান তাতেই লাভবান হন। কৃষির সাথে যুক্ত হয়েছে জিআই পন্য খেজুরের গুড়। গত কয়েক বছর থেকে প্রতি বছর কোটি টাকার গুড় বিক্রি করছে গাছিরা ।
কয়েক বছর ধরে অনুষ্ঠিত এই গুড়ের মেলা মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃষি ও খেজুর গাছ কাটার সাথে সম্পৃক্ত গাছিদের সার্বিক মানউন্নয়নে কৃষি অফিস সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন।
আলোচনা শেষে বৈশাখী মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় শিল্পিদের পাশাপাশি খুলনার বহুল পরিচিত কৌতুক অভিনেতা শ্যাম্পুটুকু কৌতুক উপস্থাপন করেন।
উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের হয়াতপুর গ্রামের সফল গাছি কাজী আব্দুল হাই বলেন, তিনবার মেলা হয়েছে এবং তিন বারই আমি সেরা গাছি ও গুড় তৈরীর জন্য পুরস্কার পেয়েছি অন্য গাছি একই গ্রামের কামাল বলেন আমার ১০৫ টা খেজুর গাছ আছে আমি পালা করে গাছ কাটি, আমার গুড়ের গুণগত .মান ১০০% বিশুদ্ধ ।
গুড়ের মেলায় অংশ নেয়া চৌগাছার পাঁচনামনা গ্রামের আছের আলী বলেন, গুড় মেলা আমাদের প্রাণের মেলায় পরিনত হয়েছে। এবছর মেলা বিলম্ব হওয়ায় দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম, অববেশে কাংখিত মেলা শুরু হয়েছে। আমার নিজের হাতে কাটা গাছ থেকে গুড় নিয়ে এসেছি আশা করছি সবই বিক্রি হয়ে যাবে।
আশা করছি এবছরও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। প্রকার ভেদে এক কেজি গুড় ৪শ থেকে ৫শ টাকা এবং পাটালি ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে মেলায় অংশ নেয়া গাছিরা জানান।
এমএন
সারাদেশ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আহম্মেদ হাওলাদারের শেষ বিদায়
শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানাধীন উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফরিদ আহম্মেদ হাওলাদার ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শোকবার্তায় বলা হয়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আহম্মেদ হাওলাদারের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। স্বাধীনতার এই ঋণ কখনো শোধ হবার নয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
এমএন
সারাদেশ
তারাবুনিয়া দরবার শরীফে ৫৫তম বার্ষিক ইছালে ছাওয়াব মাহফিল ও পাগড়ি প্রদান সম্পন্ন
শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানাধীন তারাবুনিয়া দরবার শরীফে মরহুম পীরে কামেল আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা ইদ্রিস সাহেব (রহ.) এবং পীরে কামেল আলহাজ্ব মাওলানা আবুল খায়ের মো. ওবায়েদ উল্লাহ সাহেব (রহ.)-এর স্মরণে ৫৫তম বার্ষিক ইছালে ছাওয়াব ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তারাবুনিয়া দরবার শরীফ মাঠে আয়োজিত এই মাহফিলে সভাপতিত্ব ও দোয়া পরিচালনা করেন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আবুছালেহ পীর সাহেব। মাহফিলে দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বরেণ্য আলেম-ওলামারা উপস্থিত ছিলেন। তারা দুনিয়াবি জীবন, আখিরাত এবং মানুষের হেদায়েতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ ও তাত্ত্বিক আলোচনা পেশ করেন।
মাহফিলের বিশেষ মুহূর্ত ছিল, আখেরি মুনাজাতের পূর্বে ৯ জন কোরআনের পাখিকে দস্তারবন্দী (পাগড়ি) পরিয়ে দেওয়া। হিফজ সম্পন্ন করা কোরআনের পাখিরা হলেন:
- হাফেজ মো. ছিয়াম হোসেন (পিতা: শরীফ আখন)
- হাফেজ মো. আবু রায়হান (পিতা: শাহজাহান সরকার)
- হাফেজ মো. ছাকিব আখন হাসান (পিতা: আব্দুল জলিল লস্কর)
- হাফেজ মো. শাহাদাৎ হোসেন (পিতা: আ. রহমান বকাউল)
- হাফেজ মো. রাতুল (পিতা: মো. বিল্লাল পাঠান)
- হাফেজ মো. আবু রায়হান (পিতা: কালা মদ্দীন সরদার)
- হাফেজ মো. নিজুম আরাফাত (পিতা: হাসান আলী আখন)
- হাফেজ মো. মাহবুব সরকার (পিতা: নুরে আলম সরকার)
- হাফেজ মো. জালাল উদ্দিন (পিতা: মুনছুর আহমদ কাজী)
আখেরি মুনাজাতের পূর্বে নতুন হাফেজদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং দেশ ও প্রবাসীদের কল্যাণ কামনা করে দোয়া করা হয়। এছাড়া যারা এই মাহফিল বাস্তবায়নে শ্রম ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাদের জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় ও দোয়া করা হয়। মাহফিলে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি মাহফিলের মূল কার্যক্রম শেষে ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) সকালে আখেরি মুনাজাতের মাধ্যমে এই ধর্মীয় আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।



