অর্থনীতি
অনলাইনে অসমর্থ ব্যক্তি করদাতাদের পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়া ব্যক্তি করদাতাদের জন্য আবেদন করার সময় বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে অসমর্থ ব্যক্তি করদাতারা আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত পেপার রিটার্ন দাখিলের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত বিশেষ আদেশ জারি করেছে এনবিআর। আদেশে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩২৮-এর ক্ষমতাবলে নির্দিষ্ট কিছু করদাতা ছাড়া সব স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে (www.etaxnbr.gov.bd) আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কেউ অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে, তিনি সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করে আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে ওই করদাতা পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।
এনবিআর জানিয়েছে, পূর্বে জারি করা তিনটি বিশেষ আদেশের ধারাবাহিকতায় এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকৃত সমস্যায় পড়া করদাতারা কোনও ধরনের হয়রানি ছাড়াই রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান আদেশে সই করেন। আদেশটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দফতর, কর কমিশনারেট এবং এনবিআরের সব সদস্য ও কর্মকর্তাদের অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে।
কর কর্মকর্তারা বলছেন, অনলাইন কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও সর্বজনগ্রাহ্য করতে ধাপে ধাপে সংস্কার আনা হচ্ছে। তবে বাস্তব সমস্যার কথা বিবেচনায় রেখে সাময়িকভাবে পেপার রিটার্নের সুযোগ রাখাও প্রয়োজন— এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন।
অর্থনীতি
শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত রয়েছেন বলে সরকারি জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে জ্বালানির চলমান সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
এ ছাড়া এ বৈঠকের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে। নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে একটি কাঠামোগত সংলাপের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করবে প্লাটফর্মটি।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত এই পরিষদে অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বস্ত্র, ওষুধ, ফুটওয়্যার, অটোমোবাইল ও ভোগ্যপণ্য খাতের ৯ জন উদ্যোক্তা সদস্য হিসেবে থাকছেন। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং পুঁজিবাজারের অস্থিরতা নিয়েও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন।
অর্থনীতি
একবছরে রফতানি কমলো ৭ বিলিয়ন ডলার
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান দুই উৎস—পণ্য রফতানি ও প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স)। তবে গত একবছরে এই দুই খাতের সম্মিলিত চিত্রে দেখা গেছে ভিন্নধর্মী প্রবণতা। প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলেও রফতানি আয়ের বড় পতনের কারণে দেশে আসা মোট বৈদেশিক মুদ্রা কমেছে প্রায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শুধু রফতানি আয়ই কমেছে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ মাসে রফতানি ও রেমিট্যান্স মিলিয়ে দেশে এসেছে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা। এর মধ্যে রফতানি থেকে এসেছে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার এবং রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার।
অপরদিকে ২০২৫ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সর্বশেষ ১২ মাসে এই দুই খাত মিলিয়ে দেশে এসেছে প্রায় ৮১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার এবং রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার।
ফলে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার বাড়লেও রফতানি আয় কমেছে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার। রফতানির এই বড় পতনের কারণেই সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ কমে গেছে।
রেমিট্যান্সে রেকর্ড, তবু ঘাটতি পুষছে না
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসে দেশে এসেছে প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় এই আয় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি।
ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বাড়া, ডলারের বিনিময় হার সমন্বয় এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের সুবিধা বাড়ানোর ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে রফতানি আয়ের বড় পতনের কারণে সেই স্বস্তি পুরোপুরি স্থিতিশীলতা আনতে পারছে না।
রফতানিতে টানা পতন
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে দেশের পণ্য রফতানি হয়েছে প্রায় ৩৪৮ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল প্রায় ৪২৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রফতানি কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ।
এর মাধ্যমে টানা আট মাস ধরে রফতানি আয়ের নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) মোট রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৫ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ কম।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের রফতানি খাত এত দীর্ঘ সময় ধরে নেতিবাচক ধারায় খুব কমই দেখা গেছে।
প্রধান খাত পোশাকেও ধাক্কা
দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু এই খাতেও সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের চাপ দেখা গেছে।
খাত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তৈরি পোশাক রফতানি থেকে আয় হয়েছিল ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে সেই আয় কমে ২০২৬ সালের মার্চে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে।
এই সময়ে পোশাক শিল্পের দুই প্রধান উপখাত—নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাক—উভয় ক্ষেত্রেই রফতানি কমেছে। এর মধ্যে নিটওয়্যার রফতানি কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ এবং ওভেন পোশাক রফতানি কমেছে প্রায় ১৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “গত কয়েক মাস ধরেই রফতানি আয়ে নেতিবাচক ধারা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এর ফলে অনেক ক্রেতা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক এবং ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে পড়েছেন। এর ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানিতেও তার প্রভাব পড়ছে।
খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বের প্রধান বাজারগুলোতে চাহিদা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তৈরি পোশাক রফতানিতে দ্রুত ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে আসার সম্ভাবনা সীমিত। তবে নতুন বাজার অনুসন্ধান, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং উৎপাদন দক্ষতা উন্নত করা গেলে এই চাপ কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।’’
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে রফতানি খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রফতানি আয়, প্রবাসী আয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ—এই তিনটি স্তম্ভের ওপরই দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য অনেকাংশে নির্ভরশীল।
বৈশ্বিক অস্থিরতা ও প্রতিযোগিতার চাপ
রফতানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ, ইউরোপের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের রফতানি খাত চাপে পড়েছে।
বিশেষ করে চীন, ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো কম দামে পণ্য সরবরাহ করে ইউরোপীয় বাজারে বড় অংশের ক্রয়াদেশ নিয়ে নিচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের রফতানিকারকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন।
নীতিগত সহায়তার দাবি
রফতানিকারকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের দ্রুত কিছু নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে শিল্পে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার, উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘‘উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রফতানি গন্তব্য দেশগুলোতে ভোক্তা চাহিদা কমে যাচ্ছে। এর ফলে পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের অর্ডারও কমছে।’’
জ্বালানি সংকটের প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতও রফতানি খাতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
রফতানিকারকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা থাকায় অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
সামনের চ্যালেঞ্জ
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স ও রফতানি—এই দুই খাতই বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান ভিত্তি। তবে বর্তমানে এই দুই উৎসের প্রবণতা ভিন্ন দিকে যাচ্ছে।
রেমিট্যান্স বাড়লেও রফতানি আয় কমে যাওয়ায় সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও কাঁচামাল আমদানির জন্য বড় অঙ্কের ডলার প্রয়োজন হওয়ায় এই পরিস্থিতি অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রফতানি বাজার বৈচিত্র্য করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা এখন অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় রফতানি আয়ের এই নিম্নমুখী ধারা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
অর্থনীতি
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
আমদানিকৃত হওয়ায় স্বর্ণের দাম বাংলাদেশে প্রায় প্রতিনিয়তই ওঠানামা করে।
সবশেষ ১ এপ্রিল ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সেই দামেই আজ (শনিবার) কিনতে হবে স্বর্ণ।
বাজুসের সবশেষ দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা খরচ করতে হবে।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫১ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩০ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২১ দফা।
অর্থনীতি
খেলাপি ঋণসহ ব্যাংকের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি
দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণসহ নানা ঝুঁকি আগে থেকেই শনাক্ত করতে তদারকি জোরদার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নিরীক্ষা-সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-২ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে। এতে বলা হয়, ‘ব্যাংক-কোম্পানি বহিঃনিরীক্ষণ বিধিমালা, ২০২৪’ অনুযায়ী নিরীক্ষা বছরের নবম মাসভিত্তিক একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করে তা নিরীক্ষা বছরের শেষ তারিখের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। ২০২৫ সালভিত্তিক এবং পরবর্তী সময়ের সব প্রতিবেদনও একই নিয়মে দাখিল করতে হবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়, ব্যাংকিং খাতের তদারকি আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ইতোমধ্যে সুপারভিশন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন (রিস্ক বেইজড সুপারভিশন বা আরবিএস) চালু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ব্যবস্থায় সব ব্যাংককে একভাবে না দেখে যেসব ব্যাংকে ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। এতে সম্ভাব্য আর্থিক দুর্বলতা ও অনিয়ম আগেভাগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
এর ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা; বিশেষ করে ঋণঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের প্রবণতা আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। একই সঙ্গে এ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।
অর্থনীতি
পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা: মার্চে সার্বিক রপ্তানির চেয়েও বেশি পতন
সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে গত বছরের একই মাসের তুলনায় বাংলাদেশে সার্বিক রপ্তানি আয় কমেছে ১৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। আলোচিত মাসে সার্বিক রপ্তানি আয় যে হারে কমেছে, তার চেয়েও বেশি হারে কমেছে পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানি আয়। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নবম মাসটিতে পোশাক শিল্প থেকে রপ্তানি আয় কমেছে ১৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মার্চ মাসে দেশে সার্বিক রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের মার্চে ছিল ৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার; আর গত মাসে ২ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের মার্চে যার পরিমান ছিল ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।
মার্চ মাসে পোশাক শিল্পের মোট রপ্তানি আয়ের মধ্যে নিট পোশাক থেকে আয় হয়েছে ১ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার; গত বছরের মার্চের চেয়ে যা ২১ দশমিক ২০ শতাংশ কম। আর ওভেন পোশাক থেকে রপ্তানি আয় ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে হয়েছে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।
চলতি অর্থবছর ২০২৫–২৬ এর জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে বাংলাদেশের সার্বিক রপ্তানি আয় ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ৩৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩৭ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার। এ নিয়ে টানা আট মাস রপ্তানি আয় নিম্নমুখী। প্রতি মাসেই পোশাক শিল্পের রপ্তানি আয় বড় পরিমান কমে যাওয়ায় সার্বিক রপ্তানি আয়ও কমেছে।
এদিকে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পেও চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এই খাতে আলোচিত সময়ে রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৩০ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।
পোশাক শিল্পের রপ্তানি আয় হ্রাসের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “গত কয়েক মাস ধরেই আমাদের রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক ধারা চলছে। অতীতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। এই নেতিবাচক পরিস্থিতির শুরু হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক আরোপের ধাক্কায়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ক্রেতাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দিয়েছিল।”
তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। সব মিলিয়ে আমাদের ক্রয়াদেশ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং এতে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। যার প্রভাবে বাংলাদেশেও ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে, ফলে কারখানায় উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটিও আমাদের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”
সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “শিল্পে জ্বালানি তেল সরবরাহে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে খুব দ্রুত নীতিগত সহায়তা দিবার ব্যবস্থা করা দরকার।”



