জাতীয়
হাদি পরিবার থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না কেউ
ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা ও মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির পরিবারের কেউ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন না। ওসমান হাদির শাহাদাতের পরে তার আসন থেকে কে নির্বাচন করবেন সে নিয়ে জল্পনাকল্পনা চলছিল। হাদি পরিবার থেকে ওসমান হাদির বড় বোনের নাম শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু এবার পারিবারিক সিদ্ধান্তে কেউ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে। শহীদ ওসমান হাদির শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি হাদি পরিবার।
ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর হাদি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি।
বিএনপির মির্জা আব্বাস এবং জামায়াতের হেলালুদ্দিনের বিপরীতে ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। সে লক্ষ্যে কাজও করছিলেন। প্রতিদিন নির্বাচনী এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করতেন তিনি। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন ওসমান হাদি। নির্বাচনী এলাকার জনগণও ওসমান হাদিকে আপন করে নিয়েছিলেন। আপামর সাধারণ জনতা টাকা, সাহস ও সমর্থন দিয়ে সহযোগিতা করছিলেন। কেউ কেউ বাসা থেকে ময়লা পানি ফেললে ওসমান হাদি তাদেরকেও আপন করে নিয়েছিলেন।
ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর হাদি বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবারের নির্বাচনে আমরা পরিবার থেকে কেউ অংশগ্রহণ করছি না।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পরে পল্টন এলাকায় গুলিকাঘাতে আক্রান্ত হন শহীদ শরিফ ওসমান হাদি। এরপর দেশে চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু দেশে সম্ভব না হওয়ায় পরবর্তীতে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর শাহাদাত বরণ করেন ওসমান হাদি। ১৯ ডিসেম্বর তার লাশ ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ২০ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে ওসমান হাদিকে সমাহিত করা হয়।
জাতীয়
নির্বাচনের পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর: রাশিয়ার সিইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সামগ্রিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর ছিল বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়ান ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস।
দূতাবাস জানায়, ১১-১২ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) একটি প্রতিনিধি দল কমিশনার পাভেল আন্দ্রেয়েভের নেতৃত্বে ঢাকা সফর করে। তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিরা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের আটটি কেন্দ্রের ৪০টির বেশি ভোটকক্ষ পরিদর্শন করেন। ভোটগ্রহণের শুরু থেকে গণনার প্রস্তুতি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া তারা পর্যবেক্ষণ করেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ভোটার জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারের পতনের পর এটি ছিল তাদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি নির্বাচন। কেউ কেউ সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আসেন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেবল ব্যালটের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিল।
রাশিয়ান পর্যবেক্ষকরা জানান, যৌথ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া পরিচালনায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি ছিল সুদৃঢ়। প্রতিটি কেন্দ্রে জাতীয় আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং সামগ্রিক পরিবেশ ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও দলীয় পোলিং এজেন্টদের সমন্বিত উপস্থিতি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেছে বলে তারা মন্তব্য করেন।
রাশিয়ার পর্যবেক্ষকদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল জোরদার। নির্বাচনে ৯ লাখের বেশি পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন ছিল। আয়োজকরা শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও তা সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেনি।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে পাভেল আন্দ্রেয়েভ নির্বাচনের মানদণ্ড ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি রাশিয়ার সিইসির চেয়ারম্যান এলা পামফিলোভার পক্ষ থেকে আসন্ন স্টেট ডুমা নির্বাচনের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানান।
এমএন
জাতীয়
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন ১৩ দেশের সরকারপ্রধান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্র সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
প্রসঙ্গত, আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পায় বিএনপি জোট।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন। ওই দিন সকালে তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
এমএন
জাতীয়
চীন-ভারত সম্পর্কে যা বললেন তারেক রহমান
চীন-ভারত-পাকিস্তান সবার সঙ্গে দেশের স্বার্থ রক্ষা করে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে বিএনপি। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে আপনার পররাষ্ট্রনীতি কেমন হবে—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এবং এ দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থকে রক্ষা করে আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করব।
সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মূলত কী কী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে আপনাকে—এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের অর্থনীতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ আছে। আমাদের অবশ্যই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিগত সরকার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানকে রাজনীতিকরণ করেছে। সুতরাং আমাদের সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের উন্নয়ন কেমন হবে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করব। যদি এমন কিছু থাকে, যা বাংলাদেশের পক্ষে হবে না, স্বাভাবিকভাবেই আমরা তা করতে পারি না। আমি নিশ্চিত, পারস্পরিক স্বার্থই প্রথম অগ্রাধিকার, যা আমরা অনুসরণ করব।
বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি তা বাংলাদেশের উপকারে আসে, অর্থনীতির সহায়ক হয়, আমরা তখন সিদ্ধান্ত নেব।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে তরুণদের সঙ্গে আলোচনা করবেন কি না—জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, মানুষ আমাদের সমর্থন দিয়েছে, আমরা অবশ্যই তরুণদের কথা শুনব। কিন্তু এই সমাজে আরো মানুষ তো আছে। সবারই কোনো না কোনো ইস্যু আছে, আমাদের সবার কথা শুনতে হবে।
সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে বিএনপির সরকার কাজ করবে কি না—জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, আপনি জানেন, সার্ক প্রতিষ্ঠা করা কিন্তু বাংলাদেশের উদ্যোগ ছিল। আমরা চাই, এটি সচল হোক। আমরা আমাদের বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা করব, আমরা চেষ্টা করব সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে।
শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছ থেকে প্রত্যর্পণ চাইবে কি না বিএনপি এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সেটা আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। চীন প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, তারা বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী। আমরা আশা করি, একসঙ্গে কাজ করার মতো জায়গা আমরা অবশ্যই তৈরি করব।
ভঙ্গুর অর্থনীতি, নিম্ন পর্যায়ে বিনিয়োগ ও মূল্যস্ফীতি কমাতে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা নতুন নতুন বিনিয়োগ নিয়ে আসব এবং কর্মসংস্থান তৈরি করব।
এমএন
জাতীয়
নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে যুক্তরাজ্য
অভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তর (এফসিডিও) এক বিবৃতিতে এ আগ্রহের কথা জানায়।
বিবৃতিতে এফসিডিওর একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনকে স্বাগত জানাই। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া চূড়ান্ত ফলাফল দিয়েছে। এটি বাংলাদেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রতিনিধিত্ব করে।
তিনি বলেন, আমরা নতুন সরকারের গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের অপেক্ষায় রয়েছি। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অভিবাসন, জলবায়ু ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারে আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব।
এমএন
জাতীয়
বেতন ছাড়াও যেসব সুযোগ-সুবিধা পান সংসদ সদস্যরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বিভিন্ন ধরনের বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময়ের সঙ্গে একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এই আইনের সংশোধন হয়।
প্রচলিত আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্যের মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নির্বাচনী এলাকা পরিচালনার জন্য ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। আপ্যায়ন ভাতা হিসেবে মাসে ৫ হাজার টাকা এবং পরিবহন বাবদ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এই পরিবহন ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া অফিস পরিচালনার খরচ হিসেবে মাসিক ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খরচের জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ বেতনের বাইরে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খরচের জন্য আলাদা ভাতা নির্ধারিত আছে।
যানবাহনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা শুল্ক, ভ্যাট ও করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানির সুযোগ পান।
দায়িত্বকাল পাঁচ বছর পূর্ণ হলে একই সুবিধায় আবারও নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে।
ভ্রমণসংক্রান্ত সুবিধাও রয়েছে। বিমান, রেল বা নৌপথে যাতায়াত করলে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পাওয়া যায়। সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হয়। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা বিকল্প হিসেবে ট্রাভেল পাসের সুবিধা রয়েছে।
দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। সংসদ অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকলে দৈনিক ভাতা ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা প্রাপ্য হয়।
চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সুবিধা রয়েছে। সংসদ সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। এ ছাড়া মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসাভাতা দেওয়া হয়।
দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার সরকারি বীমা সুবিধা প্রযোজ্য। পাশাপাশি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। মাসিক টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে।
সবশেষে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো— সংসদ সদস্যরা যে ভাতাগুলো পান, সেগুলো আয়করমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, সংসদ সদস্যদের বেতন ছাড়াও দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে বিভিন্ন খাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত একাধিক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।
এমএন



