রাজনীতি
যেসব আসনে এনসিপিকে ছাড় দিলো জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলো সংসদে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট, নতুন কিংবা সমমনা দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন কিংবা আসন সমঝোতার মাধ্যমে কৌশলে প্রার্থী দাড় করানোর চেষ্টা করছে।
এ প্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিসহ কয়েকটি দলকে কাছে পেতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
তবে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির বড় একটা অংশ চাইলেও একটা অংশ চাচ্ছে তাদের দল জামায়াতের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় না যাক। বিষয়টি বর্তমানে টক অব দ্য কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।
এত আলোচনার মাঝেই দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থাকা অধিকাংশ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে অবশেষে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট গঠন ও আসন সমঝোতার দিকেই এগোচ্ছে এনসিপি।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হতে পারে।
জামায়াত ও এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, দল দুটির জোট নিয়ে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। জোট হলে তারা কীভাবে কাজ করবে এবং কোন আসনে কে বা কারা প্রার্থী হবেন, কোন দলের কতজন প্রার্থী থাকবে, সে সব বিষয়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে আজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াত এনসিপির জন্য অন্তত ২০টি আসন ছেড়ে দিতে পারে।
এর মধ্যে এনসিপির আহ্বায়ক মো: নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্যান্য জনপ্রিয় কয়েকজন নেতার আসন উল্লেখযোগ্য।
এর আগে, জামায়াতের সঙ্গে জোটের আলোচনা ওঠার পরপরই প্রতিবাদে গত ২৫ ডিসেম্বর এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য মীর আরশাদুল হক পদত্যাগ করেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির মনোনয়ন পেলেও নির্বাচন করবেন না বলে জানান।
এরপর গত ২৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব পদে থাকা ডা. তাসনিম জারা। তার সঙ্গে সম্মতি জানিয়ে জোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ সদস্য সচিব নাহিদ সারোয়ার নিভা, যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবীন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব নুসরাত তাবাসসুমসহ কয়েক জন কেন্দ্রীয় সদস্য।
শুধু তাই নয়, জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতায় আপত্তি জানিয়ে দলের ৩০ জন নেতা গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দেন।
তাদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, যুগ্ম সদস্য সচিব মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মো. মুরসালীন, সংগঠক রফিকুল ইসলাম আইনীসহ অনেকেই রয়েছেন।
এর বিপরীতে শনিবারই আবার দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ১৭০ জন নেতা জামায়াতের সঙ্গে জোট করা বা সমঝোতার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে নাহিদ ইসলামকে চিঠি দেন। চিঠিদাতাদের মধ্যে সারোয়ার তুষার, ড. আতিক মুজাহিদ, আরিফুল ইসলাম আদীব, জাভেদ রাসীন, আরিফুর রহমান তুহিন, সাইফুল্লাহ হায়দার, আলাউদ্দিন মোহাম্মদসহ অনেকেই রয়েছেন।
এদিকে, সমঝোতা বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় সদস্য সচিব আখতার বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির সাথেই অন্য দলগুলোর মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হতো। সেখানে সংস্কারের পয়েন্টগুলোতে ন্যাচারালি (স্বাভাবিকভাবেই) এনসিপি, জামায়াত এবং অন্য দলগুলো একমত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সেক্ষেত্রে সংস্কারের বিষয়, দেশটাকে নতুন করে গড়া, নতুনভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে গড়ে তোলার জন্য যে রাজনীতি, সে রাজনীতির প্রতি যে কমিটমেন্ট সেটাকেই নির্বাচনী রাজনীতিতে জোটের বা সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রধানতম বিবেচ্য বিষয় হিসেবে এটাকে মূল্যায়ন করছি।’
গত ২৫ ডিসেম্বর এ বিষয়ে আখতার হোসেন বলেছেন, আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী জোট, আসন ও সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছি। সেই ধারাবাহিকতায় জামায়াতের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেছিলেন, আমাদের চেষ্টা রয়েছে, সংস্কারপন্থি বা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যারা তাদের সঙ্গে বোঝাপড়া করার। আমরা সে বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।
একই দিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সহকারী জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছিলেন, আমাদের শরীক ৮ দলের বাইরেও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় এনসিপির সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাব।
এমকে
রাজনীতি
গুম-খুন ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এদেশে সকল গুম-খুন, হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদি গোষ্ঠী ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে সন্দেহ প্রকাশ করে এ সমস্ত হত্যার বিচার করা হবে কিনা। আমি এ বিষয়ে আরেকটি অনুষ্ঠানে বলেছিলাম, তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে রাজাকার হত্যার দায়ে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে অভ্যুত্থানকারী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে যারা ঝাপিয়ে পড়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ হয়তো প্রাণ হারিয়েছে, আহত হয়েছে। সেটা কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে। তবে সকল মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। বিচার করার দায়িত্ব বিচার বিভাগের। বিচার হবেই ইনশাআল্লাহ।
সালাহউদ্দিন বলেন, জুলাইযোদ্ধাদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, সে অধ্যাদেশকে গ্রহণ করার জন্য আমরা সর্বসম্মত হয়েছি। সুতরাং আমরা মনে হয়, এ বিষয়ে মাননীয় সদস্য (আখতার হোসেন) আশ্বস্ত হতে পারেন, এ বিষয়ে সারা জাতি একমত।
রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার বৈঠক, সংসদে সৌজন্যের নজির
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়া আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সচিবালয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার নিজ কক্ষে বিরোধীদলীয় নেতাকে স্বাগত জানান।
জানা গেছে, প্রায় ২০ মিনিটের বৈঠকে দুই নেতা সংক্ষিপ্ত আলাপ করেন। আলাপ শেষে বিরোধীদলীয় নেতাকে তার সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয়ের দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্যতা ও শিষ্টাচার দেখে উপস্থিত সবাই প্রশংসা করেন।
এর আগে বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলার হাফিজের জানাজায় পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা। জানাজা শেষে দুই নেতা একসঙ্গে হেঁটে সংসদ ভবনের দিকে এগোচ্ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন বিরোধীদলী নেতা। সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে ডা. শফিকুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সাক্ষাৎটি ছিল সংক্ষিপ্ত। দুই নেতা প্রায় ২০ মিনিট কথা বলেন। সংক্ষিপ্ত আলাচারিতা শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ে দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে যথাযথ সম্মান ও সৌজন্যতা দেখান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যতা দেখে সাধারণ মানুষ মুগ্ধ হয়েছেন। আজ বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে তার স্বাভাবিক সৌজন্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকের সময়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বিকেল তিনটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই সংসদ নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতা অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন।
এমএন
রাজনীতি
সংসদে ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ১৫টিতেই দ্বিমত জামায়াতের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে গণভোটসহ অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব বিষয়ে দলটি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত প্রদান করেছে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
রোববার (২৯ মার্চ) সংসদের বিশেষ বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে দলের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৈঠকে প্রায় ২২টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ থেকে ১৫টি বিষয়ে তারা একমত হতে পারেননি। আমরা এসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছি। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কিছু বিষয় পাস করার চেষ্টা করছেন ওনারা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে আবারও দলীয় প্রভাবের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগ চলছে।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগে বাছাই কমিটি—সংস্কারের মাধ্যমে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো বাতিল করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্বের উদ্যোগেও আপত্তি জানিয়েছে দলটি।
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, গণভোটের সঙ্গে গোটা জাতি সম্পৃক্ত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তাহলে একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে।
তিনি জানান, যেসব বিষয়ে কমিটিতে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদে উত্থাপন করা হবে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কিছু বিষয়ে সংশোধনীসহ আংশিক ঐকমত্য হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে আপস করবে না দলটি।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যেসব বিষয়ে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেগুলোতে আমরা কোনো ছাড় দেব না। সংসদে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও প্রয়োজন হলে ভোটাভুটি হবে।
রাজনীতি
বিএনপি তরুণদের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে : ছাত্রশিবির সেক্রেটারি
বিএনপি তরুণদের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। তিনি বলেন, ‘শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তারা (বিএনপি) আজ সেই শহীদদের রক্তের সঙ্গেই বেঈমানি করছে। জুলাই সনদ নিয়ে যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’
রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া জেলা শাখার উদ্যোগে স্থানীয় শহীদ টিটু মিলনায়তনে আয়োজিত জনশক্তি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ছাত্রশিবির সেক্রেটারি বলেন, ‘প্রায় চৌদ্দ শ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়া আমাদের দায়িত্ব। শহীদদের আকাঙ্ক্ষার আলোকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে জুলাই সনদ তৈরি করা হয়েছে, আজ সেই জুলাই সনদকে নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছে বিএনপি।’
সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ‘গোটা জাতি যখন নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর, ঠিক সেই মুহূর্তে বর্তমান সরকার গণভোট, গুম এবং কমিশন সংস্কার অধ্যাদেশ বাতিলের জন্য জাতীয় সংসদে প্রস্তাব এনেছে। এটা জুলাই শহীদদের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।
দেশের তরুণসমাজ এটা মেনে নেবে না। জুলাই সনদ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ছাত্রসমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের যেকোনো ভালো কাজের প্রশংসা করব।
দেশ ও জাতির স্বার্থে সরকার ভালো যা কিছু করবে ছাত্রশিবির তাকে সাধুবাদ জানাবে। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির প্রত্যাশার বিরুদ্ধে সরকারের যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতেও আমরা পিছপা হবো না।’
সিবগাতুল্লাহ সিবগা উল্লেখ করেন, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়া সব সময় ইসলামী আন্দোলনের উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত। এখান থেকেই আগামী দিনের নেতৃত্বের পরিবর্তন আসবে।
ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকারের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল, জেলা আমির মাওলানা আব্দুল হক সরকার, শিবিরের কেন্দ্রীয় প্লানিং ও ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম প্রমুখ।
রাজনীতি
সংসদে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা হলে দেশেও হবে ন্যায়বিচার: শফিকুর রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে দেশের সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদে ইনসাফ কায়েম করা গেলে দেশেও সেটা প্রতিষ্ঠা পাবে।
রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘সংসদ সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হোক। সংসদে ইনসাফ কায়েম করা গেলে দেশেও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা পাবে।’
পরে স্পিকারের স্ত্রী ও যশোর-৬ আসনের এমপির মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয় সংসদে।
এর আগে বিকেল ৩টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদ অধিবেশন পরিচালনা করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
গত ১৫ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৯ মার্চ বিকেল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছিল। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ মুলতবি ঘোষণা করেন।



