অর্থনীতি
১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরায় হবে ১৪ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সাতক্ষীরা জেলায় ১৪টি নতুন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং প্রায় ২১ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪০ কোটি ১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সাতক্ষীরা জেলায় ১৪টি নতুন ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং মোট ২০.৮৭২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১০টি সংযোগ সড়ক নির্মাণের পূর্ত কাজ ক্রয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।
জানা গেছে, ‘ক্লাইমেট রেসিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই প্রকল্পের নির্মাণের পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৫টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। ৫টি প্রস্তাবই আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হয়।
দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি’র সুপারিশে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের নিকট থেকে ১৪০ কোটি ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৭ টাকায় পূর্ত কাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রকল্পটি একনেক থেকে অনুমোদিত হয় ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ‘খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় ১০তলা বিশিষ্ট ইনস্টিটিউট ভবন নির্মাণের পূর্ত কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১০৫ কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। দ্য ইউনাইটেড কনস্ট্রাকশন কো. লিমিটেড এবং শেলটেক ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এই কাজ করবে।
‘কুমিল্লা-লালমাই-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ এবং বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী-রামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউপি-০১ এর পূর্ত কাজের জন্য ১৭৫ কোটি ২ লাখ ৮৮ হাজার ২ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের তাহের ব্রাদার্স লিমিটেড এই কাজ করবে।
‘ভুলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-শিবপুর রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউপি-০২ ক্রয় প্রস্তাব পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৩০ কোটি টাকা। ন্যাশনাল ডেভলপার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এই কাজ করবে।
‘কুমিল্লা-লালমাই-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ এবং বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী-রামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক ৪-লেনে উন্নয়ন প্রকল্পের প্যাকেজ নং-পিডব্লিউ-০৩ এর পূর্ত কাজের জন্য ১১১ কোটি ৩৩ লাখ ২৯ হাজার ৪৫৭ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঢাকার রিলায়েবল বিল্ডার্স লিমিটেড এই কাজ পেয়েছে।
বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ‘বাপবিবো’র বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগ) (বিশেষ সংশোধন) প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউ-৪, লট-১ এর পূর্ত কাজের জন্য ১৩০ কোটি ৭০ হাজার ৭৬ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঢাকার আইডিয়াল ইলেকট্রিক্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড এই কাজ পেয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের অপর একটি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বৈঠকে, ‘বাপবিবো’র বৈদ্যুতিক বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্ষমতাবর্ধন (ঢাকা-ময়মনসিংহ বিভাগ) (বিশেষ সংশোধন) প্রকল্পের প্যাকেজ নং-ডব্লিউ-৪, লট-২ এর পূর্ত কাজের জন্য ১১৩ কোটি ৮১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৬৬ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঢাকার আইডিয়াল ইলেকট্রিক্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড এই কাজ পেয়েছে।
বৈঠকে একই প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর-ডব্লিউ-৫, লট-১ এর পূর্ত কাজের জন্য ২২০ কোটি ৯০ লাখ ২২ হাজার ৭৮৬ টাকা এবং প্যাকেজ নম্বর-ডব্লিউ-৫, লট-২ এর পূর্ত কাজের জন্য ২০৭ কোটি ৯১ লাখ ৪৩ হাজার ৪১১ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই দুটি প্যাকেজের কাজও ঢাকার আইডিয়াল ইলেকট্রিক্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড পেয়েছে।
অর্থনীতি
তেলের দাম বাড়বে কি না, জানালেন জ্বালানিমন্ত্র
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় নিয়ে প্রতি মাসে পর্যালোচনা করা হয় বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আগামী মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে কি না-সে বিষয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বর্তমানে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সম্ভাব্য সব উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে। অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি ঠেকাতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংসদে দেয়া তথ্যে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৪ মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে। এছাড়া এপ্রিলের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ডিজেল, ৭১ হাজার ৪৪৩ টন অকটেন এবং ৩৬ হাজার টন পেট্রোল আমদানি করা হবে।
অর্থনীতি
টানা ৪ দফা বাড়ার পর ফের কমলো স্বর্ণের দাম
টানা ৪ দফা বাড়ানোর পর অবশেষে দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮১৯ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১ হাজার ১৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫১ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৩০ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২১ দফা।
এর আগে, সবশেষ ১ এপ্রিল সকালে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে টপকে গেল বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর শীর্ষ অবস্থান থেকে ছিটকে গেছে দেশটি।
শনিবার এই তথ্য প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষে উঠে এসেছে ভিয়েতনাম। দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা চীন এখন তৃতীয়।
অটেক্সার পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। অবশ্য গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বাংলাদেশের এই রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষস্থান দখল করেছে ভিয়েতনাম। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তাদের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।
তবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে চীন। বছরের প্রথম দুই মাসে তাদের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এই সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করতে পেরেছে।
সার্বিকভাবে বিশ্ববাজার থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে। আলোচ্য দুই মাসে দেশটি মোট ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ কম।
অর্থনীতি
মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশ
২০২৬ সালের মার্চে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের ৯.১৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতি থেকে কমে মার্চে দাঁড়িয়েছে ৮.৭১ শতাংশে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য থেকে মূল্যস্ফীতি কমার বিষয়টি জানা গেছে। গত বছরের মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৩৫ শতাংশ।
বিবিএস তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.৩০ শতাংশ।
অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে এ বছরের মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯.০৯ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.০১ শতাংশ।
অর্থনীতি
বিনিয়োগে গতি ফেরাতে বিডার ১৮০ দিনের পরিকল্পনা
দেশে বিনিয়োগপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন করে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে অগ্রাধিকার তালিকায় এনে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
বিডা জানিয়েছে, নতুন করে বিনিয়োগ আকর্ষণে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী, কৃষিপণ্য, চামড়াজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অচল ও রুগ্ন কারখানা পুনরায় সচল করা এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নেও নজর দিচ্ছে সরকার।
তবে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, প্রথমেই প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে কাঠামোগত সংস্কার।
অনেক কথা বলা হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রত্যাশিত বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, স্বল্পমেয়াদি সরকারব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে ২০২৫ সালে বিদেশি বিনিয়োগ নেমে আসে জিডিপির মাত্র ০.৪ শতাংশে। যেখানে ভিয়েতনামে এ হার প্রায় ৪ শতাংশ এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে ১ থেকে ২ শতাংশের মধ্যে।
তবে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে বিভিন্ন বিদেশি কম্পানি। এ প্রেক্ষাপটে সঠিক খাত নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থ সরবরাহ—যদি বলি যে ফাইনান্সিয়াল মার্কেটস-এর এই তিনটা জায়গাতেই আসলে স্টেবিলিটি দরকার, সাপ্লাই চেইন ফোকাস দরকার—এটা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের সবকটি খাতকেই সাহায্য করবে।’
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএর দ্রুত কাজ করা এটার ওপরে।
আর এনবিআর এর বেশ কিছু জায়গায় রিফর্মের প্রয়োজন আছে।’
এদিকে, গত সাত মাস ধরে রপ্তানি খাতে কিছুটা মন্দাভাব চলছে। এ অবস্থায় প্রচলিত খাতের পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান হাসান আরিফ বলেন, ‘আমাদের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি প্রোডাক্টস ও ফার্মাসিউটিক্যাল—এরা কিন্তু আমাদের রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে এবং রপ্তানি বৈচিত্রায়নে সামনের দিনে আরো সহায়তা করবে।’
১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় সব খাতকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনা হবে বলে জানিয়েছে বিডা।
আন্তর্জাতিকভাবে বিনিয়োগের হিট ম্যাপও তৈরি করেছে তারা। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট, অচল ও রুগ্ন কারখানা ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানায় তারা।
বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, ‘চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান—এই হটস্পটটা আমাদের জন্য অনেক বেশি সম্ভাবনাময়। আইসিটি বা অ্যাগ্রো প্রসেসিং এবং এখানকার অন্যান্য যে ইন্ডাস্ট্রিগুলো আছে, মেডিক্যাল ডিভাইস ফার্মাসিউটিক্যালস—এগুলোই মূলত তাদের জন্য অগ্রাধিকার খাত।’
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যে বিনিয়োগ কিছুদিন ধীরগতিতে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে চীন, তুরস্ক ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলো থেকে বড় বিনিয়োগ আসার আশা করছে বিডা।



