অর্থনীতি
নাফিস সরাফাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা
পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে সিআইডি। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম পরিচালিত প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখ যায়– চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার সহযোগী ডক্টর হাসান তাহের ইমামকে সঙ্গে নিয়ে ২০০৮ সালে রেইস ম্যানেজমেন্ট পিসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির লাইসেন্স গ্রহণ করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০১৩ সালের মধ্যেই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অধীনে ১৩টি ফান্ড রয়েছে। মূলত এ মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে অবৈধ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন চৌধুরী নাফিস সরাফাত ও তার সহযোগীরা। চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ডক্টর হাসান তাহের ইমামের সঙ্গে মিলে ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকটির পর্ষদের পরিচালক পদ লাভ করেন। এমনকি কৌশলে চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকেরও পরিচালক বানান।
তিনি বলেন, এরপর অভিযুক্তরা চতুরতার সঙ্গে ফান্ডের টাকায় মাল্টি সিকিউরিটিজ নামক একটি ব্রোকার হাউজ ক্রয় করে তার ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রতারণাপূর্বক ফান্ডের অর্থ হাতিয়ে নেন। এছাড়াও চৌধুরী নাফিস সরাফাত পদ্মা ব্যাংকের টাকা দিয়ে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজসহ তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি নামীয় ফান্ড ক্রয়/বিনিয়োগ করেন, যার অধীন একাধিক ফান্ড রয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাল-জালিয়াতির ব্যাপ্তি এতই বিস্তৃত ছিল যে, হিসাব বিও ও অন্যান্য ব্যাংক হিসাব খোলা ও পরিচালনাসহ রাজউক থেকে একাধিক প্লট হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্ন নামীয় প্রতিষ্ঠান/বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে বিদেশে অর্থ পাচারের পথ সুগম করেছিলেন অভিযুক্তরা।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে চৌধুরী নাফিস সরাফাত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং একাধিক বাড়ি–ফ্ল্যাট কেনাসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতেই সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানকালে চৌধুরী নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ, ছেলে রাহীব সাফওয়ান সারাফাত চৌধুরী এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে তফসিলি ব্যাংকসমূহে মোট ৭৮টি হিসাব পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ঐ হিসাবগুলোতে মোট প্রায় ১৮০৯.৭৫ কোটি টাকা জমা এবং প্রায় ১৮০৫.৫৮ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তন্মধ্যে, চৌধুরী নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ এবং ছেলে রাহীব সাফওয়ান সারাফাত চৌধুরীর নামে মোট ২১টি হিসাব চলমান রয়েছে, যার বর্তমান স্থিতি মাত্র ২৯.২১ লাখ টাকা। এ সব হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা লেনদেন হওয়ায় ঐ হিসাবগুলোর তথ্য/দলিলাদি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সিআইডির মুখপাত্র বলেন, অনুসন্ধানকালে চৌধুরী নাফিস সরাফাত ও তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদের মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠানের ১৫টি যৌথ হিসাব রয়েছে। যেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া নাফিস সরাফতের ছেলে রাহীব সাফওয়ান সারাফাত চৌধুরীর নামে বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব যেমন– মোট ৭৬টি হিসাব পরিচালনা করার তথ্য পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, চৌধুরী নাফিস সরাফাত এর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এ ৩ রুমের একটি ফ্ল্যাট ও ৫ রুমের ১টি ভিলা রয়েছে। সিঙ্গাপুরে হাসান তাহের ইমামের মালিকানাধীন একটি কোম্পানিরও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে বাংলাদেশে তাদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পেয়েছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ১ হাজার ৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা পাচারের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) গুলশান থানায় তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করে সিআইডি।
অর্থনীতি
চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৪.৬ শতাংশ: বিশ্বব্যাংক
চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হবে- এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস জানুয়ারি সংস্করণে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, মানুষের ভোগ ব্যয় বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে। এছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে। এর পাশাপাশি নতুন সরকার এসে কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে। এতে শিল্পখাত শক্তিশালী করবে। এসব প্রত্যাশা করে বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।
এসব কারণে সরকারি খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগও বাড়বে—মনে করছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে এখন লক্ষ্যের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করা হয়েছে। বাংলাদেশে ঋণের প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভুটানে। দেশটিতে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এর পরের স্থানে আছে ভারত। চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এছাড়া শ্রীলঙ্কায় সাড়ে ৩ শতাংশ, নেপালে ২ দশমিক ১ শতাংশ, মালদ্বীপে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধির কোনো পূর্বাভাস দেয়নি বিশ্বব্যাংক।
এদিকে, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব দিয়েছে। বিবিএসের হিসাব অনুসারে, চলতি অর্থবছর প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
সংস্থাটি জানায়, আগামী দুই বছর ধরে বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধি ব্যাপকভাবে স্থিতিশীল থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে তা কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশ হবে এবং ২০২৭ সালে তা হবে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুসারে, বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতির স্বস্তি এবং বেশ কয়েকটি বৃহৎ অর্থনীতির আর্থিক সম্প্রসারণ মন্দা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। ২০২৬ সালে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা নরম শ্রমবাজার ও নিম্ন জ্বালানির দামের প্রতিফলন। বাণিজ্যপ্রবাহ সামঞ্জস্য ও নীতিগত অনিশ্চয়তা হ্রাস পাওয়ায় ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনীতি
অপচয় ও ঝুঁকির পথে সিটি ব্যাংক, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ
পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারী ও আমানতকারীদের স্বার্থ বিবেচনা না করে বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি দামে জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি ব্যাংক। এই সিদ্ধান্তে বিপুল অপচয় ও দুর্নীতির গুঞ্জন উঠেছে। ব্যাংকটির গ্রাহকের আমানত থেকে খরচ করার কারণে আমানতের ঝুঁকি বাড়বে। ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় বাড়বে। এতে ব্যাংকের মুনাফার অংশ কমে যাবে। এ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
এই সিদ্ধান্তে ব্যাংকটির ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কাঙ্ক্ষিত লভ্যাংশ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। শুধু তা-ই নয়, অপচয়ের কারণে ব্যাংকটির মুনাফা কমে গিয়ে খরচ বেশি হওয়ার কারণে সরকারকে দেওয়া করের অংশও কমে যাবে। ফলে সরকার কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। এমনই হটকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে এগোচ্ছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, সিটি ব্যাংক রাজধানীর গুলশানে ৪০ কাঠা জমির ওপর ২৮ তলা নিজস্ব ভবন তৈরি করার জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েছে। ভবন বানাতে গুলশান অ্যাভিনিউয়ে আগের ২০ কাঠার জমির সঙ্গে পার্শ্ববর্তী আরো ২০ কাঠা জমিও কেনা হচ্ছে। নতুন জমি কেনাসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ব্যয় মিলিয়ে খরচ হবে ৩৪৫ কোটি টাকা। কিন্তু গুঞ্জন উঠেছে, বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে কেনা হচ্ছে এ জমি।
নতুন করে যে ২০ কাঠা জমি কিনতে যাচ্ছে ব্যাংকটি, তাতে কাঠাপ্রতি খরচ হচ্ছে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ কোটি টাকা, যা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত। স্থানীয়রা জানায়, এখানে যে জমির কথা বলা হয়েছে, তার দাম এত হওয়ার কথা নয়। জমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ধারণা এই উচ্চমূল্যে জমি কেনাবেচা হলে পার্শ্ববর্তী জমি ও ভবন মালিকদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু এত দাম দিয়ে সিটি ব্যাংক কেন জমি কিনছে তা নিয়ে এরই মধ্যে সমালোচনা ও বির্তক শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুলশান এভিনিউতে প্রতি কাঠা কমার্শিয়াল জমি এখন কম বেশি আট কোটি টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। কিন্তু সিটি ব্যাংক সেখানে জমি কিনছে প্রতি কাঠা ১৭ কোটি ২৫ লাখ টাকায়।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘যদি বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দরে জমি কেনা হয় তাহলে সেখানে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্ট হয়েছে কি না সেটা দেখার অবকাশ থাকে। বিক্রেতা সেই টাকা পেয়েছি কি? সেই জমির দাম প্রকৃতপক্ষে কত হওয়া উচিত এবং কোনো দুর্নীতি হয়েছে কি না এসব বিষয়ে তদন্তের অবকাশ থাকে।’
এদিকে আগের ২০ কাঠা ও নতুন কেনা ২০ কাঠা মিলিয়ে মোট ৪০ কাঠা জমির ওপর নিজস্ব ২৮তলা ভবন নির্মাণে খরচ ধরা হয়েছে ৮৫৫ কোটি টাকা। তাতে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণে আপাতত খরচ ধরা হয়েছে এক হাজার ২০০ কোটি টাকা। এরই মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পেয়েছে ব্যাংকটি।
সর্বশেষ গত বুধবার সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় ব্যাংকের নিজস্ব ভবন নির্মাণ ও এ জন্য নতুন করে আরো ২০ কাঠা জমি কেনার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
১৯৮৩ সালে দেশের তৎকালীন ১২ জন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মিলে ব্যাংকটি গড়ে তোলেন। ১৯৮৬ সালে ব্যাংকটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম নিজস্ব ভবনে প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে ২০০৯ সালে। গুলশান-২-সংলগ্ন গুলশান এভিনিউয়ে ২০ কাঠার জমির ওপর আটতলা ভবনে ছিল প্রধান কার্যালয়। কিন্তু সেখানে সব জনবলের জায়গা না হওয়ায় পুরনো ভবনটি ভেঙে ২৮তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সিটি ব্যাংক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানি। সেই হিসাবে বিপুল অর্থ ব্যয়ে জমি কেনা ও ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্তের বিষয়টি মূল্য সংবেদনশীল। এ তথ্যটির কারণে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ও পুঁজিবাজারে শেয়ারের দামে প্রভাব পড়তে পারে। যদিও ব্যাংকটি এ তথ্যটি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে এ অপচয়ের কারণে ব্যাংকের মুনাফার অংশ কমে গেলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না।
সূত্র জানায়, গত ৬ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি ব্যাংককে ভবন নির্মাণ ও জমি কেনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়ার পর গত বুধবার ব্যাংকটির পর্ষদ সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজউক থেকে ২৮তলা সুউচ্চ ভবন নির্মাণের অনুমোদনও এর মধ্যে হয়ে গেছে। এই ২৮তলা ভবনের মধ্যে পাঁচতলা বরাদ্দ থাকবে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য। বাকি ২৩ তলাজুড়ে থাকবে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের কার্যক্রম। সেভাবেই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন জমির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ভবনের উচ্চতা ও পরিসর বৃদ্ধির আরো সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন গণমাধ্যমকে বলেন, পৃথিবীজুড়ে ব্যাংকের ভবন ও কার্যালয় খুবই নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন হয়ে থাকে। আমরাও দেশের ব্যাংক খাতে সে রকম একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই। এ জন্য আমাদের পরিকল্পনা ও উদ্যোগে সম্মতি দেওয়ার জন্য ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞ। খুব দ্রুততম সময়ে আমরা আমাদের নিজস্ব ভবন তৈরি ও সেখানে কার্যক্রম শুরুর চেষ্টা করব।
এমকে
অর্থনীতি
কর্মসংস্থান-রেমিট্যান্স বাড়াতে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার
কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ জোরদার করার লক্ষ্যে ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন এবং ২০ হাজার বিদ্যামান চালক রয়েছেন। এতে ব্যয় হবে ২৩০ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪০ হাজার নতুন চালককে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং বিদ্যমান ২০ হাজার চালককে উন্নত দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপগ্রেড করা হবে।
তিনি বলেন, ২০ হাজার নতুন মানে তাদের বেশিরভাগ লাইট ভিকেল ড্রাইভ করেন এবং বিদেশে ওদের চাহিদা নেই। বিশেষ করে ২০ হাজার বিদেশির কর্মসংস্থানের জন্য যারা আছেন তাদের হেভি যেমন- ক্রেন, এক্সকাভেটর এগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির জন্য যোগ্য হয়ে উঠবেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা। যার মধ্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) রয়েছে। প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান ও লাইসেন্স ইস্যু করা হবে নির্ধারিত নিয়ম ও মানদণ্ড অনুসরণ করে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান কৌশলের অংশ এবং এর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। বিদেশে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এই উদ্যোগ দেশের অভ্যন্তরেও পেশাদার চালকদের মান ও সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বেকারত্বের চাপ কমবে ও শ্রমিকদের জন্য উচ্চ আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দক্ষ চালক ও ভারী যন্ত্রপাতি অপারেটরের চাহিদাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ শীর্ষক প্রকল্পের বিআরটিএ অংশের একটি প্যাকেজের আওতায় ‘নন-কনসালটেন্সি সার্ভিস ফর ডেলিভারি অব কমার্সিয়াল ড্রাইভার ট্রেনিং’ শীর্ষক ভৌত সেবার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে ব্যয় হবে ২৩০ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা। প্রস্তাবটি নিয়ে আসে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
এই প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার জন নতুন পেশাদার দক্ষ চালক তৈরির জন্য ৪ মাসে ৮০ দিন এবং বর্তমান পেশাদার ২০ হাজার জন চালককে ৫ দিন মেয়াদে প্রশক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া ৬০ হাজার জন চালকের চোখ পরীক্ষা এবং ২০ হাজার জন চালককে চশমা দেওয়া হবে। প্রকল্পটি একনেক থেকে অনুমোদিত হয় ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল। প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের ১ মে থেকে ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
এছাড়া বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ও ওপেক ফান্ডের যৌথ অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘বরিশাল (দিনেরারপুল)-লক্ষ্মীপাশা-দুমকি সড়ক (জেড-৮০৪৪) এর ২৭ কিলোমিটারের পান্ডব-পায়রা নদীর উপর নলুয়া-বাহেরচর সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের প্যাকেজ নম্বর পিডব্লিউ-০১ আওতায় ‘কনস্ট্রাকশন অব দ্য নালুয়া–বাহেরচর ব্রিজ ওভার দ্য রিভার পান্ডব-পায়রা, ইনক্লুডিং অ্যাপ্রোচ রোড, সার্ভিস রোড, রিভার ট্রেনিং ওয়ার্কস, টোল প্লাজা, ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল অ্যান্ড অ্যানসিলারি ওয়ার্কস অ্যাট দ্য টোয়েন্টি সেভেন্থ কিলোমিটার অব দ্য বরিশাল (দিনেরারপুল)–লক্ষ্মীপাশা-দুমকি রোড (জেড-৮০৪৪)’ শীর্ষক পূর্ত কাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৮৯৯ কোটি ৬২ লাখ ৭৪ হাজার ৩৪৬ টাকা।
এই প্যাকেজের আওতায় পটুয়াখালী প্রান্তে ২১০ মিটার মূল সেতু, ৪৮০ মিটার ভায়াডাক্ট, ২ হাজার ৪২০ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক, ২ হাজার ৮৬০ মিটার সার্ভিস রোড, ৬টি কালভার্ট/ আন্ডারপাস নির্মাণ, বরিশাল প্রান্তে ২১০ মিটার মূল সেতু নির্মাণ, ৪৮০ মিটার ভায়াডাক্ট, ৫২৬ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক, ২ হাজার ৩৩০ মিটার সার্ভিস রোড, ৪টি কালভার্ট/ আন্ডারপাস নির্মাণ, ব্রিজ হেলথ মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন, একটি রাউন্ড অ্যাবাউট ইন্টারসেকশন স্থাপন, পটুয়াখালী প্রান্তে ১টি ওয়ে-স্কেল এবং ১টি টোল-প্লাজা নির্মাণ, নদীর তীর রক্ষাপ্রদ কাজ হবে।
অর্থনীতি
এক কোটি লিটার সয়াবিন ও ৪০ হাজার টন সার কিনবে সরকার
টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। একই সঙ্গে সৌদি আরব থেকে ১৯১ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকায় কেনা হবে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সয়াবিন তেল ও সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেয়।
জানা গেছে, এই ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কিনতে অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৪টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। প্রতিটি প্রস্তাবই আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।
দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ঢাকার সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেড থেকে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল (২ লিটার পেট বোতলে) কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি লিটার ১৮০ টাকা ৮৫ পয়সা হিসাবে এই তেল কিনতে মোট ব্যয় হবে ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোজ্যতেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ কোটি লিটার। এ পর্যন্ত ক্রয়চুক্তি সম্পাদন হয়েছে এক কোটি ৫৫ লাখ লিটারের।
এদিকে, বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে এক কোটি ৫৬ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৯১ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে তিন লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন এবং আপদকালীন ও জরুরি পরিস্থিতি এবং দেশীয় কারখানায় সারের ঘাটতি মোকাবিলায় আরও তিন লাখ মেট্রিক টনসহ মোট ছয় লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়।
চুক্তি মোতাবেক সারের মূল্য নির্ধারণ করে প্রতি মেট্রিক টন ৩৯০ ডলার হিসেবে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমকে
অর্থনীতি
মোবাইল আমদানিতে শুল্ক কমালো এনবিআর, কমবে ফোনের দাম
মোবাইল ফোনের দাম ক্রেতা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার উদ্দেশ্যে মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। একইসঙ্গে দেশীয় মোবাইল উৎপাদনকারীদের জন্য উপকরণ আমদানিতে ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এনবিআর থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আল আমিন শেখ বিষয়টি জানিয়েছেন।
এনবিআর জানায়, মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক কমার ফলে শুল্ক ৬০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে কাস্টমস ডিউটি হ্রাসের কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠান যাতে বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ধার্য করে আরো একটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক উপকরণ আমদানিতে প্রযোজ্য বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমেছে।
এনবিআর আরও জানায়, এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের আমদানি হওয়া প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ৫ হাজার ৫০০ টাকা হ্রাস পাবে; ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা হ্রাস পাবে।
মোবাইল ফোন আমদানি এবং মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্পের উপকরণ আমদানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক হ্রাসের ফলে সব ধরনের মোবাইল ফোনের মূল্য সর্বসাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং দেশের নাগরিকদের পক্ষে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ সহজতর হবে বলে সরকার আশা করছে। মোবাইল ফোনের মূল্য জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
এমকে



