স্বাস্থ্য
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে পালিত হলো বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস
বন্দরনগরীর সর্ববৃহৎ হাসপাতাল, এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম-এ বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস,২০২৫ উপলক্ষ্যে হেলথ টকস ও পেশেন্ট ফোরাম আয়োজন করেছে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং রোগীরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম-এর মেডিকেল সার্ভিসেস বিভাগের ডিরেক্টর ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটোলজি বিভাগের অ্যাটেন্ডিং কনসালটেন্ট ডা. এমরান উর রশিদ চৌধুরী, এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. শায়লা কবির, এবং ডায়েটেটিকস অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের চিফ ডায়েটিশিয়ান আহাসফি মোহাম্মদ।
স্বাগত বক্তব্যে ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের ক্রমবর্ধমান হার নিঃসন্দেহে উদ্বেগের, তবে তার চেয়েও বেশি উদ্বেগের জনমনে প্রাথমিক সচেতনতার অভাব। ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হয় সঠিক শিক্ষা থেকে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে আমরা মানুষকে সেই শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করতে চাই।
ডা. শায়লা কবির বলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উন্নত চিকিৎসা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং আধুনিক থেরাপির ভূমিকা ব্যাপক। একইসাথে মানসিক ও শারীরিকভাবে লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনতে পারলে রোগীরা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে পারবেন।
ডা. এমরান উর রশীদ চৌধুরী বলেন, ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণ, ঝুঁকি ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে সবাইকে জানতে হবে। ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি হল দ্রুত শনাক্তকরণ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ। রোগী সচেতন হলে এবং সময়মতো সঠিক সহায়তা পেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন কিছুই নয়।
অনুষ্ঠানে পুষ্টিবিষয়ক সেশন পরিচালনা করেন আহাসফি মোহাম্মদ। সেসময় তিনি বলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পুষ্টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোগীরা যখন তাদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হন, তখন তারা স্বাস্থ্যের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে পারেন। তাই শারীরিক পরিশ্রম, দুশ্চিন্তামুক্তির পাশাপাশি কি খাবেন আর কি খাওয়া যাবে না, সেসব বিষয়ে বাড়তি নজর দিতে হবে।
বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষ্যে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের এই আয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, রোগীদের সম্পৃক্ততা ও দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস চিকিৎসায় হাসপাতালের প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করেছে।
স্বাস্থ্য
৩৫ জেলায় শনাক্ত নিপাহ ভাইরাস, আক্রান্ত হলেই মৃত্যু
দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তন হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছর রেকর্ড করা চারটি কেসের সব কটিতেই ১০০ শতাংশ মৃত্যুর পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একটি ‘অ-মৌসুমি কেস’ পাওয়া গেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে আইইডিসিআরের মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি বিষয়ে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে সংস্থাটির বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা এসব তথ্য জানান।
উপস্থাপিত প্রবন্ধে দেখা যায়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী- এই চার জেলায় চার নিপাহ রোগী শনাক্ত হন এবং প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করেন। এদের মধ্যে নওগাঁর ৮ বছরের এক শিশুর ঘটনাটি ছিল দেশে প্রথম ‘অ-মৌসুমি নিপাহ কেস’, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস ছিল বাদুড়ের আধা-খাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়া, যা নিপাহ ছড়ানোর একটি নতুন ও অ্যালার্মিং হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রবন্ধে নিপাহ ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটছে উল্লেখ করে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫টিতেই নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। গত বছর শনাক্ত চারজনের সবাই মারা গেছেন (মৃত্যুর হার শতভাগ)। এছাড়া বিশ্বজুড়ে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের গড় মৃত্যুহার প্রায় ৭২ শতাংশ।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে খেজুরের কাঁচা রসকে প্রধান উৎস মনে করা হলেও ২০২৫ সালে নওগাঁর কেস প্রমাণ করে, বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত যে কোনো আধা-খাওয়া ফল সরাসরি খাওয়ার মাধ্যমেও সংক্রমণ ঘটতে পারে এবং সারা বছরই তা সম্ভব। মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ ঘটে উল্লেখ করে আরও বলা হয়, প্রায় ২৮ শতাংশ ক্ষেত্রে নিপাহ আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সরাসরি অন্য ব্যক্তিতে সংক্রমণ ছড়ায়, যা স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি তৈরি করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস ও নতুন সংক্রমণ আমাদের জন্য একটি বড় ওয়ার্নিং সিগন্যাল। নিপাহ এখন শুধু শীত বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটা একটি সারা বছরের ও বহুমুখী সংক্রমণের হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।
নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, ২০২৪ সালে দেশে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের সবারই মৃত্যু হয়েছিল।
এমকে
স্বাস্থ্য
এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসা নিতে গেলে খরচ কেমন হয়?
দেশে অনেকেই অসুস্থ হয়ে বিদেশে চিকিৎসার কথা ভাবেন। আপনি যদি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কোন দেশে চিকিৎসা নিতে চান তাহলে যে দেশে যাবেন সে দেশের বিমান বাংলাদেশে আসা এবং যাওয়া আপ ডাউন ভাড়া আপনাকে গুনতে হবে। এর ভাড়া নির্ভর করে বিভিন্ন দেশের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের খঁরচের উপর।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী, গুলিবিদ্ধ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টায় সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।
হাদিকে বহন করা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটির ভাড়া ৫২ লক্ষ টাকা। আপনি যদি এটি ভাড়া করতে চান তাহলে আপনাকে ঘন্টায় গুনতে হবে ৩-৫ লাখ টাকা।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত সাধারণ চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া শুরু হতে পারে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা থেকে। তবে রোগীর অবস্থা জটিল হলে এবং আইসিইউ সুবিধা, ভেন্টিলেটর, চিকিৎসক ও নার্সসহ পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল টিম প্রয়োজন হলে এই ব্যয় ৪০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা বা তারও বেশি হতে পারে। যা হাদির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নির্ধারণে বিমানের ধরন, চিকিৎসা সরঞ্জাম, মেডিকেল টিম, অক্সিজেন সুবিধা, ফ্লাইট দূরত্ব এবং জরুরি অনুমতির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি ভিসা, বিদেশি হাসপাতালের বুকিং ও গ্রাউন্ড অ্যাম্বুলেন্সের খরচও আলাদাভাবে যোগ হয়।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে কোন ধরনের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হবে, সেটি চূড়ান্ত হলে খরচের সঠিক হিসাব পাওয়া যাবে।
এমকে
স্বাস্থ্য
ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৩ জনের মৃত্যু
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১১ জন।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ১৬৯ জন এবং বাকিরা ঢাকা সিটির বাইরের।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৯ হাজার ৪৯৩ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬৫৩ জন। মারা গেছেন ৪০৪ জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু এখন সারা বছরই হচ্ছে। বৃষ্টি শুরু হলে এটা বাড়ছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশা নিরোধক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি সব জায়গায় প্রচার চালাতে হবে। একইসঙ্গে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
কীটতত্ত্ববিদ ড. মনজুর চৌধুরী বলছেন, মশানিধনে শুধু জেল-জরিমানা আর জনসচেতনতা বাড়িয়ে কাজ হবে না। সঠিকভাবে জরিপ চালিয়ে দক্ষ জনবল দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী আক্রান্ত এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য
ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪২১
সারাদেশে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জন মারা গেছেন। এসময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২১ জন ডেঙ্গুরোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২ জন ও বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১ জন রয়েছেন।
এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪০১ জন এবং শনাক্ত রোগী বেড়ে ৯৮ হাজার ৭০৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৩ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭২ জন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩১ জন, রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১২ জন ও রংপুর বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১ জন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫২৮ জন ডেঙ্গুরোগী। এ নিয়ে চলতি বছর আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৭৬০ জন।
২০২৪ সালে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান সর্বোচ্চ এক হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
এমকে
স্বাস্থ্য
ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫৫
সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজন মারা গেছেন। এসময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫৫ জন। এ তথ্য রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, গত একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪৫৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৫৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৫৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১০৬ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৫৫ জন, খুলনা বিভাগে ৪৪ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), ময়মনসিংহ বিভাগে ৩২ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), রাজশাহী বিভাগে ৪৮ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে), রংপুর বিভাগে ৩ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ও সিলেট বিভাগে ৬ জন (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে গত একদিনে সারা দেশে ৪৮৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৬ হাজার ২৩২ জন।
এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে ৯৮ হাজার ২৮৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩৯৮ জনের।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।
এমকে




