আইন-আদালত
১৯৩ নন-ক্যাডারকে সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা পদে নিয়োগের নির্দেশ
৪১তম বিসিএসে উত্তীর্ণ ১৯৩ জন নন-ক্যাডার প্রার্থীকে সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এ নিয়োগের জন্য সুপারিশ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সরোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট বায়েজীদ হোসাইন, অ্যাডভোকেট নাঈম সরদার, ব্যারিস্টার সোলায়মান তুষার ও অ্যাডভোকেট লোকমান হাকিম।
গত বছরের ১৯ মার্চ হুমায়ন কবির পল্লব নন-ক্যাডার প্রার্থী সানজানা কবীর ঈশা, মো. তারেকুর রহমানসহ ১৯০ জনের পক্ষে সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন। পরবর্তীতে আরও তিনজন ওই রিট মামলায় আবেদনকারী হিসেবে সংযুক্ত হন। ২০ মার্চ হাইকোর্ট রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেন। সেই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ রায় দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, হাইকোর্ট ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডারের অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে ১৯৩ জনকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা পদে নিয়োগের সুপারিশ করতে রায় দিয়েছেন। আশা করছি তিন নম্বর বিবাদী তথা বাংলাদেশ কর্ম কমিশন রায়ের কপি প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যেই আবেদনকারীদের উক্ত পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে এবং আবেদনকারী চাকরিপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাবেন।
আবেদনকারীদের নিয়োগের সুপারিশ করতে গত বছরের ১৪ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পিএসসির চেয়ারম্যান, সচিব ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে ইমেইলে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের নন-ক্যাডার দ্বিতীয় শ্রেণির ‘সহকারী সমাজসেবা অফিসার’ পদে সুপারিশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় রিট করা হয়।
রিটে বলা হয়, ৪১তম বিসিএস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর প্রকাশিত হয়। ওই বিসিএসে সর্বমোট ১২ হাজার ৩৪১ জন পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী শূন্যপদে ক্যাডার সার্ভিসে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে ৯ হাজার ৮২১ জন প্রার্থীকে ক্যাডার পদের সুপারিশ করা সম্ভব হয়নি। প্রিলিমিনারি, লিখিত, মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কিন্তু পদ স্বল্পতার কারণে বঞ্চিত এসব নন-ক্যাডার প্রার্থীকে পিএসসি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে চাহিদার ভিত্তিতে সুপারিশ করে থাকে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০২৩ সালের ২৫ জুন ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তার (দশম গ্রেড) ১৯৫টি পদে সুপারিশের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানায়। পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পদগুলোতে সুপারিশ করতে বাংলাদেশ কর্ম কমিশনকে অনুরোধ জানায়। কিন্তু পিএসসি উক্ত পদে ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে সুপারিশ করেনি। অথচ সুপারিশ পেতে নোটিশদাতাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিদ্যমান ছিল। কিন্তু পদগুলোতে তাদের সুপারিশ করা হয়নি।
এতে আরও বলা হয়েছে, সমাজসেবা অধিদপ্তর (গেজেটেড এবং নন গেজেটেড কর্মকর্তা) নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩, (সংশোধিত বিধিমালা, ২০২০) মতে, সহকারী সমাজসেবা কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেতে হলে একজন প্রার্থীকে নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান হতে কম্পিউটার চালনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। রিট আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বিধিতে উল্লিখিত কম্পিউটার চালনায় প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও পিএসসি তাদের উক্ত পদে আবেদনেরই কোনো সুযোগ দেয়নি। ফলে সুপারিশ করেনি যা আইনের দৃষ্টিতে অন্যায় এবং ন্যায়বিচার-বহির্ভূত। অথচ বিধি পাস হওয়ার আরও পরে ২০২২ সালের ২৯ মার্চ, ৩৮তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রার্থীদের উক্ত পদে সাধারণভাবে সুপারিশ ও নিয়োগ দেওয়া হয়। এর দ্বারা রিট আবেদনকারীদের প্রতি চরম বৈষম্য করা হয়।
রিটে আরও বলা হয়েছে, ‘নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ (বিশেষ) বিধিমালা ২০১০, সংশোধিত বিধিমালা ২০১৪’ অনুযায়ী ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার সুপারিশের জন্য অপেক্ষমাণ প্রার্থীরা ওসব পদে সুপারিশ ও নিয়োগ পেতে আইনগতভাবে উপযুক্ত।
আইন-আদালত
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নিরন্তর কাজ করে যাব: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
নবনির্বাচিত সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জানান, জনগণের পাহাড়সমান প্রত্যাশা পূরণে তিনি নিরন্তর কাজ করে যাবেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যারা ১৭ বছর ধরে জীবন দিয়েছেন, তাদের কথা স্মরণে রেখেই কাজ করব। চ্যালেঞ্জ আছে। মানুষের পাহাড় সমান যে প্রত্যাশা, তা পূরণে নিরন্তর কাজ করে যাব।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারকে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য যাঁরা গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে জীবন দিয়েছেন, বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবে যারা জীবন দিয়েছেন এবং দেশ গড়ার জন্য ১৯৭১ সালে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের চেতনাকে ধারণ করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
মানবতাবিরোধী অপরাধ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। একই সঙ্গে আইনের যদি কোনো অপব্যবহার হয়ে থাকে, তবে সেটি আমরা দেখব।
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নেওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা যে শপথ নিইনি এবং কেন নেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে আমাদের দলের মুখপাত্র ব্যাখ্যা দিয়েছেন। নতুন করে এখানে আমার ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।
এমএন
আইন-আদালত
গণভোটের ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ। একই সঙ্গে ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফল বাতিলেরও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন তিনি। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।
এদিকে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত এই গণভোটে মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার ‘হাঁ’ ভোট দিয়েছেন। বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯১ আসনে প্রার্থী দেয় সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তবে তাদের কোনো প্রার্থীকেই জামানত হারাতে হয়নি। অন্যদিকে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৯টি আসনে প্রার্থী দেয়। তাদের মধ্যে তিন প্রার্থী নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান। বিগত সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবার ১৯৮ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। দলটির প্রার্থীদের মধ্যে কেবলমাত্র পাঁচজন তাদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন। নির্দিষ্টসংখ্যক ভোট না পাওয়ায় বাকি সবাই জামানত হারিয়েছেন। জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। তাদের মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বাসদ, নাগরিক ঐক্যসহ বাকি দলগুলোর বেশিরভাগ প্রার্থীই তাদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি।
এমএন
আইন-আদালত
মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-সাদ্দামসহ শীর্ষ ৭ নেতার বিচার শুরু আজ
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে আজ থেকে শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক বিচার। প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যসহ হতে পারে সাক্ষ্যগ্রহণও।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আইনানুযায়ী আজ ওপেনিং স্টেটমেন্ট বা সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করবেন প্রসিকিউশন। এরপর প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচারের দিকে এগোবে মামলাটি। যদিও এ মামলায় কেউই গ্রেপ্তার নেই। তাদের অনুপস্থিতিতেই চলবে বিচারকাজ।
পলাতক অন্যরা হলেন— আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
গত ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা। সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহানও ছিলেন।
এর আগে, ১৮ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ। ৮ জানুয়ারি পলাতক আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। পাশাপাশি সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ অনুযায়ী আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য।
এমএন
আইন-আদালত
রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ
পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে পবিত্র রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই নোটিশ পাঠান তিনি।
নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ নাগরিক মুসলমান। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে— এটিই আইন, প্রথা ও নীতি এবং ওইভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রমজান মাসে বন্ধ থাকে। সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আইন ছাড়া কিছুই করা যাবে না, অনুচ্ছেদ ১৫২(১) অনুযায়ী আইন অর্থ বাংলাদেশে আইনের ক্ষমতা সম্পন্ন যেকোনো প্রথা ও রীতি। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রমজান মাসে খোলা রাখার সরকারের তর্কিত সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক।
নোটিশে আরও বলা হয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের কোমলমতি শিশু-কিশোররা সারাদিন স্কুলে যাতায়াত করে, ক্লাস করে ক্লান্ত হয়ে রোজা রাখতে কষ্টের সম্মুখীন হয়ে রোজা রাখার অভ্যাস থেকে দূরে থাকার সম্ভাব্না দেখা দেয়। যা ধর্মীয় আচার চর্চার অন্তরায়। এ ছাড়া রমজান মাসে স্কুল চালু রাখলে শহরগুলোতে তীব্র জানযটের সৃষ্টি হয়, যাতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, যা কারও কাম্য নয়। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এ রিট দায়ের করা হয়।
আইন-আদালত
নির্বাচন করতে বাধা নেই বিএনপির ৩ প্রার্থীর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকা-১১, কুমিল্লা-৩ ও বগুড়া-১ আসনের জন্য বিএনপির মনোনীত তিন প্রার্থীর নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত হয়ে গেছে। ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে দায়ের করা লিভ টু আপিলের শুনানি শেষে আদালত তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো বাধা রাখেনি।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে এই বিষয়টি নিয়ে শুনানি সম্পন্ন হয়।
ঢাকা-১১ আসনের জন্য বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব গোপনের অভিযোগে রিট দায়ের করেছিলেন এনসিপির প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। হাইকোর্ট গত ৩ ফেব্রুয়ারি সরাসরি রিট খারিজ করেছিল। এ আদেশের বিরুদ্ধে নাহিদ ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল করেন। আপিলের শুনানি নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত হবে।
কুমিল্লা-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল নির্বাচনী আপিল করেছিলেন। আপিল খারিজ হওয়ায় হাইকোর্টে লিভ টু আপিল করলে মঙ্গলবার তা আদালত খারিজ করে দিয়েছেন।
বগুড়া-১ আসনে বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ঋণখেলাপি অভিযোগে প্রার্থী আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপিল প্রত্যাহার করলে, জামায়াত প্রার্থী সাহাবুদ্দিন আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। হাইকোর্ট রিট খারিজ করে দিয়েছেন, তবে লিভ টু আপিলের শুনানি নির্বাচনের পরে অনুষ্ঠিত হবে।
ফলস্বরূপ, ঢাকা-১১, কুমিল্লা-৩ ও বগুড়া-১ আসনের বিএনপির তিন প্রার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো আইনি বাধার সম্মুখীন হবেন না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি।
এমএন



