আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের হুমকির পর বিশ্ববাজারে বৃদ্ধি পেয়েছে তেলের দাম
ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দেয়, তবে দেশটির অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেওয়ার পরপরই বৈশ্বিক তেলের দাম আবার ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের উপরে উঠে গেছে।
সোমবার সকালে এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.৬% বেড়ে ১১০.৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম ০.৮% বেড়ে ১১২.৪০ ডলারে পৌঁছেছে।
গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) সোশাল মিডিয়ায় অশালীন ভাষায় করা এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলা চালাবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার শুরুর দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান হুমকি দিচ্ছে—কোনো জাহাজ যদি এই প্রণালি ব্যবহার করতে চায়, তাদের ওপর আক্রমণ চালানো হবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
এই সরু জলপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবহন হয়। সেখানে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প গত সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি বাড়ানোর পর তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে যায়। তিনি সতর্ক করেছিলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নেবে। এদিকে রোববারও উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন দেশের তেল স্থাপনায় ইরানের হামলা অব্যাহত ছিল।
তেহরান রবিবার কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় একাধিক হামলার কথা স্বীকার করে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার সতর্ক করে বলেছে, তাদের দেশের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে হামলা আরও বাড়ানো হবে।
সৌদি আরব ও রাশিয়ার মতো বড় তেল উৎপাদক দেশের জোট ওপেকপ্লাস রোববার মে মাসের উৎপাদন সামান্য বাড়াতে সম্মত হয়েছে।
তবে বিবিসি লিখেছে, প্রতিদিন দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর নাও হতে পারে, কারণ সংঘাতের কারণে জোটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ উৎপাদন বাড়াতে পারছে না।
ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়ে সময় বেঁধে দেওয়ার পর কয়েক দফা তা পিছিয়ে দিয়েছেন।
রবিবার ট্রুথ সোশালে তিনি লিখেছেন, “মঙ্গলবার হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস এবং সেতু দিবস সব একসাথে, ইরানে। এর মতো কিছু আর হবে না!!! ওই অভিশপ্ত প্রণালি খুলে দাও পাগল বেজন্মার দল, নইলে নরকে বাস করতে হবে দেখে নিও! আল্লাহ মহান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প।”
কয়েক ঘণ্টা পরে একই প্লাটফর্মে তিনি লেখেন, “মঙ্গলবার, রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম)!”
ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, সোমবার একটি চুক্তি হওয়ার ‘ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে। তবে দ্রুত সমঝোতা না হলে তিনি ‘সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে তেলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার’ বিষয় বিবেচনা করছেন।
ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল আলি আব্দুল্লাহি আলিয়াবাদি ট্রাম্পের আগের সময়সীমাকে প্রত্যাখ্যান করে একে ‘অসহায়, অস্থির, ভারসাম্যহীন, ফালতু কথাবার্তা’ বলে উড়িয়ে দেন। তার ভাষায়, “যুক্তরাষ্ট্রের নেতার জন্য নরকের দরজা খুলে যাবে।”
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি খোলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, পাকিস্তানের শান্তি পরিকল্পনা স্থগিত
সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ফের খোলার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
তেহরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত নয় বলে মনে করছে ইরান। তাই কেবল সাময়িক কোনো চুক্তির ভিত্তিতে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের অবরোধ তুলে নেবে না।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তান একটি দুই ধাপের শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত শত্রুতা বন্ধ করা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুট সচল রাখা। প্রথম ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং দ্বিতীয় ধাপে পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর কার্যক্রম রয়েছে।
পাকিস্তানের এই প্রস্তাব ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, আজই চুক্তির প্রাথমিক বিষয়গুলো চূড়ান্ত করে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা ছিল। পাকিস্তান এই আলোচনায় একমাত্র মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে তারা প্রস্তাবটি পেয়েছেন এবং তা পর্যালোচনা করছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বা চাপের মুখে তারা সিদ্ধান্ত নিতে রাজি নয়। সম্ভাব্য চুক্তির মূল ভিত্তি হওয়ার কথা ছিল— ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত থাকবে এবং বিনিময়ে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠানো হবে, বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত হবে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী সমাধানের চেয়ে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত রাখতে বেশি আগ্রহী। ওয়াশিংটনের স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নেওয়ার সদিচ্ছার অভাবের কারণে হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ।
বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা জোরদার, নিহত ৩৪
হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা জোরদার হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রির) রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত পৃথক কয়েকটি হামলায় ইরানে ৩৪ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সোমবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তেহরান প্রদেশে ছয় শিশুসহ অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন।
তেহরানের দক্ষিণে কোম শহরের একটি আবাসিক এলাকায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণের বান্দর লেঙ্গেহ-তে পৃথক আরেক হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার পর গভীর রাত পর্যন্ত তেহরানজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আজাদি স্কয়ারের কাছে ধোঁয়া কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশের মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা অব্যাহর রেখেছে ইরানও। উত্তর ইসরাইলের হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই ইসরাইলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মধ্য ইসরাইল ও তেল আবিবে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এসব হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে।
কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন।
এদিকে ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটি ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সময় রোববার তিনি এ হুমকি দেন।
একইদিন ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে মঙ্গলবার ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যাান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ ও ‘ব্রিজ ডে’ সব একসঙ্গে ঘটবে। ‘মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা!’
আন্তর্জাতিক
ভূমধ্যসাগরে নৌযানডুবিতে ৭০ জন নিখোঁজ, বাংলাদেশিসহ উদ্ধার ৩২
ইউরোপে যাওয়ার পথে লিবিয়ার উপকূলে ভয়াবহ নৌযানডুবির ঘটনায় অন্তত ৭০ জন অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশিসহ ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং দু’জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
ইতালির কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র রবার্তো ডি’আরিগো জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক।
জার্মান উদ্ধার সংস্থা সি ওয়াচ জানায়, শনিবার তাদের একটি বিমান ভূমধ্যসাগরের কেন্দ্রে বিপদগ্রস্ত একটি নৌযানের সন্ধান পায়। পরে সেখানে একটি উল্টে যাওয়া কাঠের নৌযান দেখা যায়, যেখানে কয়েকজন সেটি আঁকড়ে ধরে ছিলেন এবং অনেকে পানিতে ভাসছিলেন।
ইউএনএইচসিআর ও ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটি লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। এতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও উঁচু ঢেউয়ের কারণে যাত্রার কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌযানটিতে পানি ঢুকে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তা ডুবে যায়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের ল্যাম্পেডুসা দ্বীপে নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরেই ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলে শত শত অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন, যা এই রুটের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
আন্তর্জাতিক
হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহারে ইরানকে নতুন ডেডলাইন ট্রাম্পের
গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য ইরানকে নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যদি এই সময়সীমা মেনে নেয়, তাহলে আগামী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি সব দেশের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গতকাল রোববার একটি পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেছেন, “মঙ্গলবার, রাত ৮টা পূর্বাঞ্চলীয় সময়!” পোস্টে এর বেশি আর কিছু লেখেননি তিনি।
পরে একই দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “তারা যদি (ইরান) এগিয়ে না আসে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধই রাখতে চায়, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বলতে আর কিছু থাকবে না তাদের। পুরো ইরানে যত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে— সব ধ্বংস করা হবে।”
আগের দিন শনিবারও হরমুজ ইস্যুতে হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, “মঙ্গলবার হবে ইরানের জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র আর সেতু দিবস, সব কিছু গুঁড়িয়ে এক করে দেওয়া হবে, এরকম আর হয়নি। এখনই (হরমুজ) প্রণালি খুলে দাও, পাগল বেজম্মারা, না হলে তোমাদের জাহান্নামে পড়তে হবে। শুধু দেখো, আল্লাহর কাছে দোয়া করো।”
প্রসঙ্গত, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।
হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়— হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদেশগুলোর জাহাজ চলাচল করলে সেসব জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ হরমুজে ১২টিরও বেশি জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা।
নিরাপত্তা সংকটের কারণে স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে এবং তার প্রভাবে বাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম। ফলে ট্রাম্পের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর চাপ বাড়ছে।
সূত্র : এএফপি, ইন্ডিয়া টিভি
অন্যান্য
পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টিতে ৪৫ জনের মৃত্যু, আহত শতাধিক
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে প্রবল বর্ষণে ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। গত ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) জানিয়েছে, বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রদেশটিতে আহত হয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি মানুষ।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা শোকের ছায়া ফেলেছে পুরো এলাকায়। নিহত ৪৫ জনের মধ্যে ২৩ জন শিশু, ১৭ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী রয়েছেন। আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক, যাদের মধ্যে ৪৪ জন শিশু রয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি জেলাগুলোতে বহু ঘরবাড়ির ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়েছে। পিডিএমএ-র তথ্যমতে, প্রদেশে অন্তত ৪৪০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েক ডজন বাড়ি পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো।
পিডিএমএ আরো জানিয়েছে, আগামী ৬ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রদেশে পুনরায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল পর্যটন এলাকাগুলোতে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে পর্যটকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র : জিনহুয়া



