আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা জোরদার, নিহত ৩৪
হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা জোরদার হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রির) রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত পৃথক কয়েকটি হামলায় ইরানে ৩৪ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
সোমবার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় তেহরান প্রদেশে ছয় শিশুসহ অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন।
তেহরানের দক্ষিণে কোম শহরের একটি আবাসিক এলাকায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণের বান্দর লেঙ্গেহ-তে পৃথক আরেক হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলার পর গভীর রাত পর্যন্ত তেহরানজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আজাদি স্কয়ারের কাছে ধোঁয়া কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়।
ইসরাইলের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশের মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা অব্যাহর রেখেছে ইরানও। উত্তর ইসরাইলের হাইফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই ইসরাইলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া মধ্য ইসরাইল ও তেল আবিবে আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। এসব হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে।
কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন।
এদিকে ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটি ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সময় রোববার তিনি এ হুমকি দেন।
একইদিন ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে মঙ্গলবার ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যাান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ ও ‘ব্রিজ ডে’ সব একসঙ্গে ঘটবে। ‘মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা!’
আন্তর্জাতিক
ভূমধ্যসাগরে নৌযানডুবিতে ৭০ জন নিখোঁজ, বাংলাদেশিসহ উদ্ধার ৩২
ইউরোপে যাওয়ার পথে লিবিয়ার উপকূলে ভয়াবহ নৌযানডুবির ঘটনায় অন্তত ৭০ জন অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশিসহ ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এবং দু’জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।
ইতালির কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র রবার্তো ডি’আরিগো জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মিশরের নাগরিক।
জার্মান উদ্ধার সংস্থা সি ওয়াচ জানায়, শনিবার তাদের একটি বিমান ভূমধ্যসাগরের কেন্দ্রে বিপদগ্রস্ত একটি নৌযানের সন্ধান পায়। পরে সেখানে একটি উল্টে যাওয়া কাঠের নৌযান দেখা যায়, যেখানে কয়েকজন সেটি আঁকড়ে ধরে ছিলেন এবং অনেকে পানিতে ভাসছিলেন।
ইউএনএইচসিআর ও ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, নৌযানটি লিবিয়ার তাজৌরা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। এতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও উঁচু ঢেউয়ের কারণে যাত্রার কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌযানটিতে পানি ঢুকে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তা ডুবে যায়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের ল্যাম্পেডুসা দ্বীপে নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরেই ভূমধ্যসাগরের মধ্যাঞ্চলে শত শত অভিবাসী নিখোঁজ হয়েছেন, যা এই রুটের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
আন্তর্জাতিক
হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহারে ইরানকে নতুন ডেডলাইন ট্রাম্পের
গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য ইরানকে নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান যদি এই সময়সীমা মেনে নেয়, তাহলে আগামী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৮টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি সব দেশের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গতকাল রোববার একটি পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেছেন, “মঙ্গলবার, রাত ৮টা পূর্বাঞ্চলীয় সময়!” পোস্টে এর বেশি আর কিছু লেখেননি তিনি।
পরে একই দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “তারা যদি (ইরান) এগিয়ে না আসে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধই রাখতে চায়, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বলতে আর কিছু থাকবে না তাদের। পুরো ইরানে যত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে— সব ধ্বংস করা হবে।”
আগের দিন শনিবারও হরমুজ ইস্যুতে হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, “মঙ্গলবার হবে ইরানের জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র আর সেতু দিবস, সব কিছু গুঁড়িয়ে এক করে দেওয়া হবে, এরকম আর হয়নি। এখনই (হরমুজ) প্রণালি খুলে দাও, পাগল বেজম্মারা, না হলে তোমাদের জাহান্নামে পড়তে হবে। শুধু দেখো, আল্লাহর কাছে দোয়া করো।”
প্রসঙ্গত, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিশ্বে যত তেল ও তরল গ্যাসবাহী জাহাজ চলাচল করে, সেসবের ২০ শতাংশই এই রুট ব্যবহার করে।
হরমুজ প্রণালিকে ‘জ্বালানির বৈশ্বিক দরজা’-ও বলা হয়, কারণ মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এই পথ ব্যবহার করেই তাদের তেল রপ্তানি করে। হরমুজ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সহজে পশ্চিমা বিশ্বে সরবরাহ করা যেতো না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ঘোষণা দেয়— হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদেশগুলোর জাহাজ চলাচল করলে সেসব জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ হরমুজে ১২টিরও বেশি জাহাজে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা।
নিরাপত্তা সংকটের কারণে স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে এবং তার প্রভাবে বাজারে বাড়ছে জ্বালানি তেল-গ্যাসের দাম। ফলে ট্রাম্পের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর চাপ বাড়ছে।
সূত্র : এএফপি, ইন্ডিয়া টিভি
অন্যান্য
পাকিস্তানে ভারী বৃষ্টিতে ৪৫ জনের মৃত্যু, আহত শতাধিক
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে প্রবল বর্ষণে ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। গত ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) জানিয়েছে, বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রদেশটিতে আহত হয়েছেন ১০০ জনেরও বেশি মানুষ।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিহতের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা শোকের ছায়া ফেলেছে পুরো এলাকায়। নিহত ৪৫ জনের মধ্যে ২৩ জন শিশু, ১৭ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী রয়েছেন। আহতদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক, যাদের মধ্যে ৪৪ জন শিশু রয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি জেলাগুলোতে বহু ঘরবাড়ির ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়েছে। পিডিএমএ-র তথ্যমতে, প্রদেশে অন্তত ৪৪০টি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েক ডজন বাড়ি পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো।
পিডিএমএ আরো জানিয়েছে, আগামী ৬ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রদেশে পুনরায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ জনসাধারণকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল পর্যটন এলাকাগুলোতে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে পর্যটকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র : জিনহুয়া
আন্তর্জাতিক
মার্কিন বাহিনীর গতিবিধির তথ্য ইরানের কাছে বিক্রি করছে চীনা কোম্পানি?
ইরান যুদ্ধে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে বহু সংখ্যক ড্রোন ও সামরিক হেলিকপ্টার। একই সঙ্গে মার্কিন রণতরীতেও হামলার দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।
সর্বশেষ ইরানের আকাশে যুদ্ধবিমান ভূপাতিত ও পাইলটকে উদ্ধারে অংশ নেওয়া হেলিকপ্টার ও বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান।
এই পরিস্থিতিতে প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনা কোম্পানি মার্কিন বাহিনীর গতিবিধির তথ্য ইরানের কাছে বিক্রি করছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পাঁচ সপ্তাহের মাথায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে একাধিক ভাইরাল পোস্ট- যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির সরঞ্জাম, বিমানবাহী রণতরী বহরের চলাচল এবং তেহরানে হামলার প্রস্তুতিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের মোতায়েন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উঠে আসে।
এই তথ্যগুলোর উৎস হিসেবে উঠে এসেছে চীনের দ্রুত বিকাশমান একটি নতুন মার্কেট- যেখানে বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও উন্মুক্ত তথ্য (ওপেন-সোর্স ডেটা) ব্যবহার করে এমন গোয়েন্দা তথ্য তৈরি ও বিক্রি করছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী মার্কিন বাহিনীর গতিবিধি ‘উন্মোচন’ করতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চীনের সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মির সঙ্গে যুক্ত।
যদিও বেইজিং ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে, তবুও গত পাঁচ বছরে সরকারের ‘সিভিল-মিলিটারি ইন্টিগ্রেশন’ কৌশলের আওতায় গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিভক্ত মত পোষণ করছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, এসব টুল বাস্তব হুমকি হয়ে উঠতে পারে; আবার অন্যরা বলছেন, এগুলোর কার্যকারিতা অতিরঞ্জিত। তবে সবাই একমত—বেসরকারি খাতের এই প্রবণতা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ওয়াশিংটনের আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক রায়ান ফেডাসিউক বলেন, “চীনে ক্রমবর্ধমান বেসরকারি ভূ-স্থানিক বিশ্লেষণ কোম্পানিগুলো দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াবে এবং সংকটের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা জোরদার করবে।”
হাংঝৌভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মিজারভিশন, যা ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত, পশ্চিমা ও চীনা ডেটা একত্র করে এআই দিয়ে বিশ্লেষণ চালায়। প্রতিষ্ঠানটি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির কার্যক্রম, নৌবাহিনীর চলাচল এবং নির্দিষ্ট বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অবস্থান শনাক্ত করার দাবি করে।
তাদের প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর বড় ধরনের সমাবেশ, যেমন বড় দুই মার্কিন রণতরী বহরের অগ্রযাত্রা শনাক্ত করা হয়েছিল।
এছাড়া তারা ইসরায়েলের অভদা এয়ার বেস, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেস এবং কাতারের আল উইদেদ এয়ার বেস-এ মার্কিন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ও ধরন নিয়েও বিশদ তথ্য প্রকাশ করে।
প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা অস্ত্র ও সরঞ্জামের অবস্থান দ্রুত শনাক্ত করেছে এবং মার্কিন রণতরীর জ্বালানি সরবরাহের ধরন পর্যন্ত বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, একই ধরনের আরেকটি চীনা প্রতিষ্ঠান জিং’আন টেকনোলজি দাবি করেছে, তারা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর সময় দু’টি মার্কিন বি-২এ স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমানের মধ্যে যোগাযোগ রেকর্ড করেছে। যদিও পরে তারা সেই রেকর্ড মুছে ফেলে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের অনেকে এই দাবিগুলো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে এখনও যুক্তরাষ্ট্রের স্টেলথ যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রবেশ করা সম্ভব নয়।
ডেনিস ওয়াইল্ডার, যিনি আগে সিআইএ-এর দায়িত্বে ছিলেন, বলেন, “চীনের গোয়েন্দা ব্যবস্থার ওপর চাপ রয়েছে। তাই এসব কোম্পানি নিজেদের সক্ষমতা অতিরঞ্জিত করে দেখাতে পারে।”
তবে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, চীনের প্রযুক্তি খাত বাণিজ্যিক প্রযুক্তিকে সামরিক নজরদারির অস্ত্রে রূপান্তর করছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চীনের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি করছে—যেখানে সরকার সরাসরি জড়িত না থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করতে পারে এবং প্রয়োজনে দায় এড়াতে পারে।
উল্লেখ্য, ইরান চীনের দীর্ঘদিনের মিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী হলেও বেইজিং এখনও সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। বরং সম্প্রতি পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষরা ইরানকে কিছু গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
আন্তর্জাতিক
ইরানে নিখোঁজ থাকা ক্রুকে উদ্ধার করল মার্কিন স্পেশাল ফোর্স
মারাত্মক সংঘর্ষের পর ইরানের হামলায় বিধ্বস্ত মার্কিন এফ-১৫ই বিমানের ক্রুকে উদ্ধারের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, ভয়াবহ সংঘর্ষের পর তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (০৫ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, ‘প্রচণ্ড গোলাগুলির’ পর বিধ্বস্ত এফ-১৫ই বিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। দবে ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের উদ্ধারে অভিযান এখনো চলমান রয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া তথ্যে ওই কর্মকর্তা জানান, নিখোঁজ মার্কিন বিমান সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তিনি এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নন। উদ্ধারকারী দলকে এখনো সফলভাবে ইরান থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে ফিরতে হবে।
এদিকে ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বিমানটি ভূপাতিত করতে পারলেও এর পাইলট নিরাপদ বের হয়েছেন। তাকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে মার্কিন স্পেপাল ফোর্স। অভিযোগ উঠেছে, ইরানে ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে হত্যা করতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এক সাক্ষাৎকারে ওই সূত্র জানায়, দুই দিন আগে ইরানি বাহিনী একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর পাইলটকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে এখন তাকে হত্যা করার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্রটির দাবি, সম্ভাব্য অবস্থান সন্দেহে কোহগিলুয়েহ ও বয়ের-আহমাদ প্রদেশের কোহগিলুয়েহ শহরের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের ধারণা ছিল, পাইলট ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র তাদের আরেকজন ফ্লাইট ক্রু সদস্যকেও খুঁজছে বলে দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তিকে খুঁজে না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।



