রাজধানী
তেজগাঁও লিংক রোড অবরোধে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন
রাজধানীর তেজগাঁও লিংক রোড অবরোধ করে আন্দোলন করেছেন পোশাক শ্রমিকরা। এতে ওই এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে অবরোধ তুলে নেওয়ায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রোববার (০৫ এপ্রিল) ঢাকা মহানগরীর গুলশান জোনের ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সকাল ১০টার পর মহাখালী-নাবিস্কোর মাঝামাঝি তেজগাঁও লিংক রোডের মুখে নাসা গ্রুপের আনুমানিক ৭০০/৮০০ পোশাককর্মী বেতনের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করা শুরু করেন। এতে তেজগাঁও টু মহাখালী- উত্তরা রুটে এবং উত্তরা টু মহাখালী- তেজগাঁও রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা ১১টার দিকে সড়ক ছেড়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
অবরোধের সময় ট্রাফিক পুলিশের পক্ষে ভোগান্তি এড়াতে ডাইভারশন অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়। তখন তারা জানায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে উত্তরা- মহাখালী রুটে চলাচল করা যাবে। মহাখালী ফ্লাইওভার ব্যবহার করে উত্তরা/গুলশান/বনানী থেকে তেজগাঁওয়ের দিকে চলাচল করা যাবে।
এ ছাড়া কাকলী বামে মোড়-কামাল আতাতুর্ক সড়ক-গুলশান-২ হয়ে নতুন বাজার/ গুলশান-১ হয়ে রামপুরা, হাতির ঝিলগামী গন্তব্যে যাওয়া যাচ্ছে। অনুরুপভাবে বিপরীত দিক থেকে চলাচল করা যাবে।
রাজধানী
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জেই উধাও ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ, বছরে ক্ষতি ৪ হাজার কোটি
দেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে বিপুল বিদ্যুৎ অপচয় থামানো যাচ্ছে না। দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশই খরচ হয়ে যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জে, যার বেশিরভাগই হচ্ছে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। সিপিডি’র তথ্য বলছে- প্রতিদিন অন্তত জাতীয় গ্রিড থেকে ৭৫০ থেকে ৮শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতেই। এতে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলছে, বর্তমানে সারা দেশে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এর মধ্যে রাজধানীতেই ১২ থেকে ১৫ লাখ অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এসব অটোরিকশার কোনোটিতে ৪টি, কোনোটিতে আবার ৬টি করে ব্যাটারি লাগানো রয়েছে। এসব ব্যাটারি সাধারণত ১২ ভোল্টের হয়ে থাকে। দিনে যা চার্জ হতে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।
প্রতিটি রিকশার ব্যাটারি চার্জের জন্য দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। সে হিসেবে প্রতিদিন শুধু ঢাকা শহরেই ১২ থেকে ১৫ লাখ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে জাতীয় গ্রিড থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয়ে যাচ্ছে। আর এসব অবৈধ অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করার জন্য খোদ মন্ত্রণালয় থেকেই ৩ হাজার ৩০০ চার্জিং স্টেশনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডিপিডিসি’রই ২ হাজার ২০১টি বৈধ চার্জিং স্টেশন রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন গড়ে ডিপিডিসি’র মোট চাহিদার প্রায় ২৬ দশমিক ১৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। তবে মন্ত্রাণলয়ের এই বৈধ চার্জিং স্টেশনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রয়েছে অবৈধ রিকশার ব্যাটারি চার্জিং স্টেশন। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১০টি অপরাধ বিভাগের ৮টিতে ব্যাটারিচালিত বৈধ চার্জিং স্টেশন থাকলেও প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও ৯৯২টি গ্যারেজ রয়েছে।
এর মধ্যে মিরপুর ডিভিশনের ৭ থানায় আছে ৩ হাজার ৯৮৩টি চার্জিং পয়েন্ট ও ২৫৯টি গ্যারেজ। ওয়ারী ডিভিশনে রয়েছে ৩ হাজার ৫১৬ চার্জিং পয়েন্ট ও ১৩৬টি গ্যারেজ। গুলশান ডিভিশনে রয়েছে ২ হাজার ৬৪৩ চার্জিং পয়েন্ট ও ১২৮টি গ্যারেজ। উত্তরা ডিভিশনে ১ হাজার ৩০৫ চার্জিং পয়েন্ট ও ৭২টি গ্যারেজ। মতিঝিল ডিভিশনে ১ হাজার ৩৯০ চার্জিং পয়েন্ট ও ৬০টি গ্যারেজ। লালবাগ ডিভিশনে ১৯৯ চার্জিং পয়েন্ট ও ৭৭টি গ্যারেজ। তেজগাঁও ডিভিশনে মোট ২৩৪ এবং রমনা ডিভিশনে অন্তত ২৬টি অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে। এসব গ্যারেজের প্রতিটিতে দিনে অন্তত ৮০ থেকে ১৫০টি রিকশা রাখা হয়। আর নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে এসব গ্যারেজেই রয়েছে রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেয়ার সুবিধা। কোনো গ্যারেজ মালিক প্রতিদিন জমার টাকার সঙ্গেই চার্জের টাকা নেন, কেউ আবার গ্যারেজ না থাকায় ব্যক্তিগত অটোরিকশাগুলো টাকার বিনিময়ে অন্যের গ্যারেজে চার্জ করাচ্ছেন।
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকার বিএসটিআই মূল সড়কের দুই পাশের ফুটপাথ জুড়ে গড়ে উঠেছে রিকশার ব্যাটারি চার্জিংয়ের একাধিক স্টেশন। বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে হুক বাঁধিয়ে সরাসরি লাইন টেনে শত শত রিকশার ব্যাটারি দিনে-রাতে চার্জ করা হয়। শুধু বিএসটিআই রোড নয় আশেপাশের প্রায় প্রতিটি গলি রোডেরই একই অবস্থা। রিকশার এসব অবৈধ চার্জিং ব্যবসার কাজে জড়িত সাইফুল নামে এক যুবক বলেন, আমরা তো বৈধ উপায়ে ব্যবসা করতে চাই কিন্তু ফুটপাথে এক একটি মিটার নিতেই ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। তাই অবৈধভাবে চার্জ করাচ্ছি। তিনি বলেন, মাঝে মধ্যেই আমাদের এখানে অভিযান চলে। ডিপিডিসি, সিটি করপোরেশনের লোকজন সব নিয়ে চলে যায়। কিন্তু কি করবো, বাধ্য হয়ে আবারো চলে আসি। তিনি বলেন, শুধু আমি না এই এলাকার প্রতিটি রাস্তার পাশেই এভাবে তার টেনে ফুটপাথে রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হয়।
রাজধানীর পশ্চিম ধানমণ্ডির রায়ের বাজার এলাকার এক রিকশা গ্যারেজে গিয়েও দেখা মেলে একই চিত্র। রাস্তার পাশেই সুকৌশলে বিদ্যুতের মেইন লাইন থেকে হুক বাঁধিয়ে মোটা তার নামিয়ে দেদারছে রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে। গ্যারেজটির মালিক বলেন, বৈধভাবে মিটার নিলে খরচ পোষানো সম্ভব নয়। তাই এই পথ নিয়েছি। তিনি বলেন, আমার এখানে দিন-রাত মিলিয়ে অন্তত ১৮০টি রিকশা চার্জ করা হয়। এক-একটি রিকশার ব্যাটারি ফুল চার্জ হতে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগে। আমরা জমার টাকার সঙ্গেই নিয়ে নিই। ৪০০ টাকা জমা। ওর মধ্যেই সব।
তিনি বলেন, হাজারীবাগ, বেড়িবাঁধ, বালুরমাঠ, বসিলা, ঢাকা উদ্যান, চাঁদ উদ্যান, মোহাম্মদপুর, কামরাঙ্গীরচর, লাগবাগসহ আশপাশের সব এলাকাতেই একইভাবে রিকশার ব্যাটারি চার্জ করা হয়। মো. আমিনুল নামে খিলগাঁও এলাকার এক অটোরিকশার মালিক বলেন, আমার ১৫টি রিকশা আছে। কিন্তু জায়গা না থাকায় কোনো গ্যারেজ নেই। আরেক জনের গ্যারেজে চার্জ করায়। প্রতিমাসে আমার ৩৬শ’ টাকা গ্যারেজ ভাড়া দেয়া লাগে।
মো. সাগর নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, প্রতিদিনই রাজধানীর সড়কে অটোরিকশা যোগ হচ্ছে। এ ছাড়াও হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, কমলাপুর, সবুজবাগ, মাণ্ডা, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, টঙ্গীতে অন্তত ১ হাজার অটোরিকশা কারখানা গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন এসব কারখানাগুলোতে শত শত রিকশা তৈরি হচ্ছে। ধার-কর্য করে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা হলেই মানুষ রিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে। চার্জেরও সমস্যা নেই। কারোর গ্যারেজে দিনপ্রতি টাকা দিলেই ব্যাটারি চার্জ করানো যায়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, আমরা যতটুকু জানি ঢাকা শহরে দৈনিক ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০০ থেকে ৭০০ ওয়াট বিদ্যুৎ যদি অটোরিকশা খেয়ে ফেলে তাহলে সামনের গরমে লোডশেডিং ছাড়া সরকারের আর কোনো উপায় থাকবে না। একইসঙ্গে যেসব হাজার হাজার অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট থেকে এগুলো চার্জ করা হচ্ছে তা আমাদের জাতীয় গ্রিডের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করছে। এ বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব সরকারের নজর দেয়া উচিত।
বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, রাজধানীর ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে। এ ক্যান্সার এখন সর্বশেষ স্টেজে রয়েছে। যেকোনো সময় বিপদ ঘটাতে পারে। এটা নিয়ে সরকারকে দ্রুত কাজ করতে হবে। না হলে ঢাকাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। এ রিকশা রাস্তায় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধভাবে তৈরি হওয়া কারখানা ও চার্জিং স্টেশনগুলো বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাটারি আমদানি নিয়ন্ত্রণ, কারখানা এবং চার্জিং স্টেশনগুলো বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বন্ধ করে দেয়াসহ সরকারকে কঠোর হতে হবে।
বিষয়টি নিয়ে রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসি’র নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মো. রবিউল হাসান বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিং স্টেশনে বিদ্যুৎ দেয়া ঠিক নয়। কিন্তু বৈধ সংযোগ না দিলে তারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ চুরি করে চার্জ করে। তাই আমাদের নর্থ জোনে ২৫৯টি, সেন্ট্রাল জোনে ৩৫১টি এবং সাউথ জোনে ১৫৯১টি বৈধ অটোরিকশা চার্জিং স্টেশনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া যেখানে যেখানে আমরা খবর পাচ্ছি অবৈধভাবে রিকশার ব্যাটারি চার্জিং করা হচ্ছে, সেসব জায়গায় আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। অ্যারিয়াল ক্যাবল দিয়ে পুরনো ক্যাবল পরিবর্তন করে দিচ্ছি। যেন আর হুকিং করতে না পারে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআরটিএ’র পরিচালক (রোড সেফটি) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, একটি বৈদ্যুতিক যানবাহন নীতি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তিন চাকার যানবাহনের জন্য পৃথক নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে।
রাজধানী
কদমতলীতে কারখানায় আগুন: ৫ মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কদমতলীর গ্যাস লাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা পৌনে ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এ লাশ উদ্ধার করেন। এছাড়া এ ঘটনায় একজন পুরুষকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত ৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
এর আগে দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিটের প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, আজ দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে কদমতলীর ওই গ্যাসলাইটার কারখানায় আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় একে একে মোট ৭টি ইউনিট কাজে যোগ দেয়।
রাজধানী
আজ রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ
প্রতিদিনই কেনাকাটা করতে আমরা কোথাও না কোথাও গিয়ে থাকি। অনেক ভোগান্তি শেষে কোথাও গিয়ে দেখলেন, সেখানকার কার্যক্রম বন্ধ, তখন কাজ তো হলোই না বরং সময় নষ্ট।
তাই বাইরে বের হওয়ার আগে দেখে নিন শনিবার (০৪ মার্চ) রাজধানীর কোন কোন এলাকার মার্কেট, দোকান ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ।
যেসব এলাকার দোকানপাট অর্ধদিবস বন্ধ থাকে
বাংলাবাজার, শ্যামবাজার, পাটুয়াটুলী, ফরাশগঞ্জ, জুরাইন, করিমউল্লাহবাগ, পোস্তগোলা, শ্যামপুর, মীরহাজারীবাগ, দোলাইপাড়, টিপু সুলতান রোড, ধূপখোলা, গেণ্ডারিয়া, দয়াগঞ্জ, স্বামীবাগ, ধোলাইখাল, জয়কালী মন্দির, যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, গুলিস্তানের দক্ষিণ অংশ, ওয়ারী, আহসান মঞ্জিল, লালবাগ, কোতোয়ালি থানা, বংশাল, নবাবপুর, সদরঘাট, তাঁতীবাজার, শাঁখারী বাজার, চাঙ্খারপুল ও লক্ষ্মীবাজার।
যেসব মার্কেট অর্ধদিবস বন্ধ থাকে
গুলিস্তান হকার্স মার্কেট, ফরাশগঞ্জ টিম্বার মার্কেট, আজিমপুর সুপার মার্কেট, ফুলবাড়িয়া মার্কেট, সান্দ্রা সুপার মার্কেট, শ্যামবাজার পাইকারি দোকান, সামাদ সুপার মার্কেট, রহমানিয়া সুপার মার্কেট, ইদ্রিস সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ বাজার, ধূপখোলা মাঠবাজার, চকবাজার, বাবুবাজার, নয়াবাজার, কাপ্তান বাজার, রাজধানী সুপার মার্কেট, দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট, ছোট কাটরা, বড় কাটরা হোলসেল মার্কেট, শারিফ ম্যানসন ও ইসলামপুর কাপড়ের দোকান।
যেসব দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকে
শুক্র এবং শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বন্ধ থাকে শিশু একাডেমি ও জাদুঘর। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে।
রাজধানী
রাজধানীর ফুটপাতে ব্যবসা করা যাবে না, বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে : ডিএনসিসি প্রশাসক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘ফুটপাতে বা রাস্তায় আর ব্যবসা করা যাবে না। তবে ক্ষুদ্র ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প ব্যবসার ব্যবস্থা করা হবে।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরপুরে মুকুল ফৌজ মাঠে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১ পর্যন্ত সড়কের ফুটপাত দখলমুক্ত করার লক্ষ্যে ভাসমান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, ‘আমরা বিকল্প স্থানে ব্যবসার ব্যবস্থা করে দেব।
ফুটপাতে বা রাস্তায় আর ব্যবসা করা যাবে না—এটাকে মাথায় রেখে আপনাদের কাজ করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পূর্বে যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ফুটপাতে ব্যবসা করতে সহযোগিতা করত, তারা আর সহযোগিতা করতে পারবে না। ব্যবসায়ীদের সমস্যা রয়েছে- সেসব সমস্যা কিভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবে।’
তিনি বলেন, ‘মানবিক কারণে আমরা আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি।
চাইলে আমরা ফোর্স নিয়ে উচ্ছেদ করতে পারতাম, কিন্তু তা করিনি। আমরা চাই আমাদের এলাকার মানুষ ব্যবসা করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করুক।’
সভায় হকার ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের পক্ষে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়। তারা পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, পর্যাপ্ত সময় প্রদান এবং এমন স্থানে পুনর্বাসনের দাবি জানান, যেখানে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বহু বছর ধরে তারা ফুটপাতে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হঠাৎ উচ্ছেদ করা হলে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে সংকটে পড়তে হবে। তারা পুনর্বাসনের আগে নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ এবং পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় প্রশাসক বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি কার্যকর সমাধান বের করা হবে এবং এ বিষয়ে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা সিটি করপোরেশন থেকে ব্যবসায়ীদের একটি টোকেন প্রদান করব, যাতে কোনো চাঁদাবাজ আপনাদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করতে না পারে।
টোকেন দেওয়ার পর কেউ চাঁদা চাইলে আপনারা দেবেন না, আমাদের জানাবেন—আমরা আপনাদের পাশে আছি।’
মতবিনিময়সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান, ডিএমপি মিরপুর জোনের ডিসি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
রাজধানী
দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসে কী কাজ করেছেন জানালেন ডিএসসিসি প্রশাসক
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যে নগরবাসীর সেবা ও উন্নয়নে নেওয়া নানা উদ্যোগ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, সীমিত বাজেটের মধ্যেও নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নগর ভবনের অডিটরিয়ামে গত মার্চ মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।
প্রশাসক বলেন, ২৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তার লক্ষ্য—নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং ঢাকা দক্ষিণকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করা।
তিনি জানান, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল নগর গঠনের লক্ষ্যে ২০টি পার্ক ও উদ্যান এবং ১৩টি খেলার মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ডিএসসিসির নিজস্ব নার্সারি স্থাপনের উদ্যোগও চলছে। রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে অঞ্চলভিত্তিক ড্রেনেজ উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন আউটলেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে সেগুনবাগিচা বক্স কালভার্ট পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা এক মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৩টি জলাবদ্ধ হটস্পট চিহ্নিত করে পাম্প স্টেশন ব্যবহার, জরুরি সাড়া দল গঠন এবং ছয়টি পোর্টেবল পাম্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নাগরিক সেবা সহজ করতে কবরস্থান ও শ্মশানঘাটের রেজিস্ট্রেশন ফি কমিয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্দিক বাজারে একটি কমিউনিটি সেন্টার উদ্বোধন এবং মহান স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রশাসক আরও জানান, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে “ঢাকা রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক” নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০০ একর এলাকা থেকে ল্যান্ডফিল গ্যাস আহরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন সংগ্রহ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরশক্তি ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া মশক নিয়ন্ত্রণে ঝুঁকিপূর্ণ ১০টি ওয়ার্ডে বিশেষ কার্যক্রম, আধুনিক যানবাহন সংগ্রহ, চালক ও মেকানিকদের প্রশিক্ষণ, নিউমার্কেট এলাকায় আধুনিক ফুটওভার ব্রিজ উদ্বোধন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে শৃঙ্খলা ফেরাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব খাতে জোর দিয়ে তিনি জানান, ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ, মোবাইল টাওয়ার থেকে রাজস্ব আদায়, ফ্লাইওভার সংক্রান্ত পাওনা আদায় এবং কেবল লাইন আন্ডারগ্রাউন্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়, পাবলিক হিয়ারিং ডে চালু এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এমএন



