খেলাধুলা
আসছে বিশ্বকাপে নতুন যে ৫ নিয়ম আনল ফিফা
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আর মাত্র বাকি আড়াই মাস। মহামরণের লড়াইয়ে নামার আগে দলগুলো নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার ৪৮ দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে হতে যাচ্ছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’খ্যাত এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট। বিশ্বকাপকে আরো গতিশীল করতে ফুটবলের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ফিফা।
ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদসংস্থা ইএসপিএন সকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের বিশ্বকাপ সামনে রেখে ফিফা ঘোষণা দিয়েছে ৫ নিয়ম পরিবর্তনের। ম্যাচের গতি ধরে রাখা, সময় অপচয় রোধ করা এবং মাঠের রেফারিদের ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর হবে বলে মনে করছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ফিফার ঘোষিত নতুন ৫ নিয়ম হলো-
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বদলি খেলোয়াড়ের মাঠে প্রবেশ
যেকোনো ম্যাচেই খেলোয়াড় পরিবর্তনের সময় দলগুলো অযথা সময় নষ্ট করে। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে এমন যেন না হয়, সে জন্য খেলোয়াড় বদলের নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ফিফা।
পরিবর্তন হওয়া খেলোয়াড়কে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ডের মধ্যে মাঠ থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। এর বেশি সময় নিলে বদলি খেলোয়াড়কে মাঠে প্রবেশের আগে এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। ওই সময়টা তার দলকে খেলতে হবে ১০ জন নিয়ে।
দ্রুততম সময়ে খেলা শুরুর বাধ্যবাধকতা
গোলকিক এবং থ্রো-ইনেও সময়ক্ষেপণ খুব সাধারণ একটি বিষয়, বিশেষ করে ম্যাচে এগিয়ে থাকা দল প্রায়ই এই কাজটা করে থাকে।
বিশ্বকাপে এমন কিছু যাতে না হয়, তাই গোলকিক ও থ্রো-ইন নিতে হবে পাঁচ সেকেন্ডের মধ্যে। এর বেশি সময় নিলে বলের দখল চলে যাবে প্রতিপক্ষের কাছে।
মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের চিকিৎসা
ম্যাচের সময় খেলোয়াড়েরা চোট পেলে প্রাথমিক চিকিৎসা মাঠেই দেওয়া হয়। ফলে খেলা বন্ধ রাখা হয় সেই সময়ে। বিশ্বকাপে অবশ্য এমন কিছুর সুযোগ থাকছে না।
নতুন নিয়মে চোট পাওয়া কোনো খেলোয়াড় চিকিৎসা চাইলে তাকে এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় যদি ফাউল করে হলুদ বা লাল কার্ড দেখেন, সে ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।
রেফারির সঙ্গে কথা বলবেন শুধু অধিনায়ক
রেফারির দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বিপক্ষে গেলেই তাকে ঘিরে খেলোয়াড়দের জটলা চলে। খেলোয়াড়েরা তর্ক করতে থাকেন রেফারির সঙ্গে। এতে সময়ের অপচয় হয়। খেলার পরিবেশও নষ্ট হয়। রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা আপত্তি জানানোর এখতিয়ার থাকবে শুধু অধিনায়কেরই। তিনি ছাড়া অন্য কেউ রেফারির দিকে এগিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে হলুদ কার্ড দেখানো হবে।
ভিএআরের বর্ধিত ক্ষমতা
ক্রমেই ফুটবলে বাড়ছে ভিডিও সহকারী রেফারি বা ভিএআরের ভূমিকা। সেই ধারায় ২০২৬ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড বা লাল কার্ডের সিদ্ধান্তও পর্যালোচনা করা হবে এই প্রযুক্তি দিয়ে। পাশাপাশি রেফারি যদি কোনো কর্নারের সিদ্ধান্ত ভুল দিয়েছেন বলে সন্দেহ থাকে, তাহলে সেটিও ভিএআরের মাধ্যমে শোধরানো হবে।
ফুটবলবোদ্ধাদের মতে, ফিফার এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হলে খেলায় নাটুকেপনা ও সময় নষ্ট করার প্রবণতা অনেকাংশেই কমে আসবে।
খেলাধুলা
বাংলাদেশ-চীন মুখোমুখি আজ
এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে দুই গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত স্বাগতিক থাইল্যান্ডের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এই হারের হতাশা ভুলে আজ নতুন আরেকটি ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে নারী দল। ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশের মেয়েরা। সব দিক থেকে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে ম্যাচটি খুবই কঠিন হবে। তবে জয়ের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে কোচ পিটার বাটলারের দল। ব্যাংককের ননথাবুরি প্রভিন্স স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় দুদলের ম্যাচটি শুরু হবে।
সম্প্রতি সিনিয়র এশিয়ান কাপে চীনের বিপক্ষে খেলা অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশের। ওই ম্যাচে চীনের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে খেলা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় অনূর্ধ্ব-২০ দলেও আছেন। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, আজকের ম্যাচ ভালো কিছু করে দেখাতে পারে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। চীন ম্যাচ সামনে রেখে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস বলেছেন, গত ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে কাজ করেছেন তারা। চীন ম্যাচের জন্য প্রস্তুত দল। জয়ে চোখ রেখেই খেলবে বাংলাদেশ। গোলরক্ষক কোচ মাসুদ আহমেদ বলেছেন, ‘আপনারা জানেন, চীন বিশ্ব ফুটবলে অনেক ভালো অবস্থানে। তাদের বিপক্ষে আমরা সেটপিচ নিয়ে কাজ করেছি। সেটপিচে কিংবা ডিফেন্সের সিলি কোনো মিস্টেক এ যেন আর গোল কনসিড না করি আমরা, সেদিকেই বেশি জোর দিচ্ছি। আমি আশাবাদী, ভালো কিছুই হবে।’
প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপেও খেলছে বাংলাদেশ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। পাশাপাশি তিন গ্রুপের সেরা তৃতীয় হওয়া দুটি দলও নকআউট পর্বে খেলার টিকিট পাবে। পরবর্তী পর্বে খেলতে চীনের বিপক্ষে ভালো করার বিকল্প নেই বাংলাদেশের।
খেলাধুলা
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যের জন্য খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গৃহীত সকল পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তরুণদের এই সাফল্য দেশের ক্রীড়ামোদী জনগণকে উজ্জীবিত করবে।
দেশপ্রেম আর টিম স্পিরিটে উজ্জীবিত আমাদের সাহসী তরুণরা প্রমাণ করেছে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকলে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের বিজয়ের রথ এভাবেই অব্যাহত থাকবে, ইন শা-আল্লাহ।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারত অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নেয় বাংলাদেশ।
খেলায় নির্ধারিত সময়ের মতো টাইব্রেকারেও অনেক নাটকীয়তা হয়। টসে জিতে ভারতের অধিনায়ক প্রথমে শট নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিন প্রথম শট সেভ করেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।
বাংলাদেশের চতুর্থ শট নিতে আসেন স্যামুয়েল। এ সময় ভারতের গোলরক্ষক চোটের কারণে সময়ক্ষেপণ করেন। চিকিৎসা নেয়ার পর পোস্টে দাঁড়ালে স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লাগে। তখন চার শট শেষে স্কোরলাইন ৩-৩।
খেলাধুলা
ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। শুক্রবার রাতে মালদ্বীপের মালেতে হওয়া ফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে ভারতকে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ।
গত বছর ভারতের অরুণাচলে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল শেষে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন বাংলাদেশের যুবারা। মুর্শেদ-ফয়সালরা স্বাগতিক ভারতের কাছে হেরেছিল টাইব্রেকারে। এবার বাংলাদেশ সেই প্রতিশোধ নিলো অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে।
নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ছিল। শুরু থেকে দুই দলই রক্ষণ ঠিক করে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত গোল করতে পারেনি কোনো দলই। বয়সভিত্তিক খেলা বলে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়নি ম্যাচ। সরাসরি টাইব্রেকারে ভাগ্য নির্ধারণ হয়।
টাইব্রেকারে ভারতের ঋষির নেওয়া শট ঠেকিয়ে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল মাহিন। শুরুতেই সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ। মুর্শেদ আলী প্রথম শটে গোল করলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। ভারতের মোহাম্মদ আরবাশ লক্ষ্যভেদ করে স্কোর ১-১ করেন। এরপর চন্দন রায়ের গোলে বাংলাদেশ ২-১ স্কোর করে। ভারতের স্যামসন স্কোর করেন ২-২। ফাহিমের নেওয়া তৃতীয় শট লক্ষ্যভেদ হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায় ৩-২ গোলে। এরপর বিশাল যাদব স্কোর করেন ৩-৩। বাংলাদেশের স্যামুয়েল ক্রসবারে বল মারলে ভারত দারুণভাবে ফিরে আসে ম্যাচে। তবে পরের শটে ওমাং দোদং ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল মারলে আবার ব্যাকফুটে চলে যায় ভারত।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান সুলিভান নিয়েছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শটটি। লক্ষ্যভেদ হলে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন এবং মিস করলে ভারত ফিরে আসবে ম্যাচে। ডান পায়ের নিখুঁত শট ভারতের গোলরক্ষকের ডান দিক দিয়ে কাঁপিয়ে দেয় জাল। মালের জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে কয়েক হাজার বাংলাদেশি সমর্থক যখন উল্লাসে মেতে ওঠেন।
এর আগে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশ ভালো দুটি সুযোগ পেয়েছিল এবং দুটি সুযোগের উৎসই ছিলেন রোনান সুলিভান। ১৪ মিনিটে তার ফ্রি কিকে মিঠুন যে হেড নিয়েছিলেন তা চলে যায় দ্বিতীয় পোস্ট ঘেঁষে বাইরে। বল পোস্টে রাখতে পারলে ভারতীয় গোলরক্ষকের ঠেকানোর উপায় ছিল না। বিরতির আগে সুলিভান বাইসাইকেল কিক নিয়েছিলেন। তবে অল্পের জন্য বল জালের দেখা পায়নি।
বাংলাদেশ এ নিয়ে দ্বিতীয়বার সাফ অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগের শিরোপা জিতলো। ২০২৪ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশ স্বাগতিকদের ৪-১ গোলে হারিয়েছিল।
খেলাধুলা
স্থগিত বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিল বিসিবি
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে চলা অস্থিরতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়ন কাটাতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিসিবি।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস একটি প্রতিবেদনে এমনটিই নিশ্চিত করেছে।
চলতি বছরের শুরুতে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মুস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি বাতিল এবং কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার জেরে দুই বোর্ডের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এর প্রতিক্রিয়ায় নিরাপত্তা অজুহাত দেখিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় বিসিবি। হাইব্রিড মডেলের দাবি পূরণ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর এখন বাস্তবমুখী অবস্থানে ফিরতে চাইছে বিসিবি। বিসিসিআইকে পাঠানো চিঠিতে তারা মূলত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল (৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি), যা বিসিসিআই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছিল। বিসিবি এখন সেই সিরিজটি পুনরায় চালুর প্রস্তাব দিয়েছে।
আবার আগামী বছর ভারতের সম্ভাব্য সফর নিয়ে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে চায় বাংলাদেশ। আর আগামী বছর এশিয়া কাপ আয়োজনের স্বত্ব বাংলাদেশের কাছে থাকায়, ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও বিসিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিসিবি বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেও বিসিসিআই এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভারতীয় বোর্ড জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা সফরের ভেন্যু চূড়ান্ত করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সরকারের ইতিবাচক সংকেত না পাওয়া পর্যন্ত তারা কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না।
বর্তমানে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। পরস্পরের বিপক্ষে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুদল। চেলতি মাসের ১৭ তারিখে প্রথম ওয়ানডের মাধ্যমে শুরু হবে সিরিজটি।
খেলাধুলা
বলিভিয়াকে হারিয়ে ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ইরাক
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় শেষে বাকি ছিল এই একটি জায়গা। ফুটবল দুনিয়ার নজর ছিল এই আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে। সেই লড়াইয়ে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে এবারের বিশবকাপে জায়গা নিশ্চিত করল ইরাক।
আগে একবারই বিশ্বকাপ খেলতে পেরেছিল তারা, ১৯৮৬ আসরে মেক্সিকোয়। এবার সেই মেক্সিকোতেই বাছাইয়ের শেষ ধাপ জিতে ৪০ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফিরছে ‘লায়ন্স অব মেসোপটেমিয়া’ নামে খ্যাত দলটি।
মেক্সিকোর মন্তেরেইতে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালের ম্যাচটিতে দশম মিনিটে ইরাক এগিয়ে যায় আলি আল-মাহাদির গোলে। বলিভিয়া সমতায় ফেরে প্রথমার্ধেই। ৫৩তম মিনিটে আয়মেন হুসেইন আবার এগিয়ে দেন ইরাককে। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত দলকে নিয়ে যায় বিশ্ব আসরে।
ইরাককে দিয়ে চূড়ান্ত হলো এবারের বিশ্বকাপের ৪৮ দল। সেখানে এশিয়ার প্রতিনিধি থাকছে ৯টি।
বিশ্বকাপে ‘আই’ গ্রুপে ইরাকের সঙ্গী ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে।
এই ম্যাচটি খুব আকর্ষণীয় কিছু নয়। ম্যাচ জিতলেও খুব চোখাধাঁধানো ফুটবল খেলতে পারেনি ইরাক। তবে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলের মানসিকতা। প্রথম থেকেই ইরাকের ফুটবলারদের মনে হয়েছে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, বলের প্রতিটি লড়াইয়ে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন তারা। এমনভাবে নিজেদের মেলে ধরছিলেন তারা, যেন প্রতিটি বলই তাদের শেষ সুযোগ। অসাধারণ ফুটবল না দেখিয়েও দৃঢ়তা, তাড়না এবং কার্যকারিতা প্রদর্শন করেছে এবং অল্প তৈরি করেই সেগুলোকে কাজে লাগিয়েছে।
লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইয়ে শেষ ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে আন্তমহাদশীয় প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছিল বলিভিয়া। প্লে-অফ সেমি-ফাইনালে সুরিনামকে হারিয়ে শেষ ধাপে এলেও আসল ম্যাচটিতে তারা ছিলেন মলিন। ম্যাচজুড়ে খুব বেশি সুযোগ তারা তৈরি করতে পারেনি। শেষ দিকে কয়েকটি কর্নার আদায় করলেও বড় হুমকি গড়ে তুলতে পারেনি।
ম্যাচের পর ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ডও প্রশংসা করলেন দলের মানসিকতার। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অস্থিরতার সময়ে দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরেও দারুণ তৃপ্ত কোচ।
“ফুটবলারদের অবশ্যই অভিনন্দন জানাই, তারা সত্যিকারের ইরাকি মানসিকতা নিয়ে খেলেছে, লড়াই করেছে এবং জীবন বাজি রেখেছে। এ কারণেই আমরা ম্যাচটি জিতেছি। বলিভিয়াকে পুরো কৃতিত্ব দিতেই হবে, কারণ তারা ভালো খেলেছে। আমাদের জয় সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র দুর্দান্ত রক্ষণভাগের কারণে, যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিল, যেমনটা আমি আগেই বলেছি এবং আমরা ক্রসগুলোও খুব ভালোভাবে প্রতিহত করেছি।” “আমি খুশি যে আমরা ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষকে আনন্দ দিতে পেরেছি, বিশেষ করে এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে যা ঘটছে তার পরিপ্রেক্ষিতে…।”



