সারাদেশ
মাধবপুরে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুতের ১৯ ঘণ্টা পর রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক
হবিগঞ্জের মাধবপুরে জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ১৯ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। এতে বন্ধ থাকা ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকাল ৪টার দিকে এ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এরপর সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস দুর্ঘটনাকবলিত স্থান অতিক্রম করে যাত্রা পুনরায় শুরু করে।
এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশন অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী জ্বালানি তেলবাহী একটি মালবাহী ট্রেনের ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে একটি বগি পাশের খালে পড়ে যায়। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার পর আখাউড়া থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। টানা প্রায় ১৯ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় লাইনচ্যুত বগিগুলো সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এরপর বিকাল ৪টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের একাধিক যাত্রীবাহী ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে বিকালে ট্রেনগুলো ধীরে ধীরে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার লিটন চন্দ্র দে জানান, সিলেট থেকে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস সকাল ৬টায় ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বিলম্বে সকাল ৯টায় ছেড়ে শায়েস্তাগঞ্জ জংশনে এসে আটকে ছিল। অপরদিকে ঢাকাগামী পারাবত এক্সপ্রেস হরষপুর স্টেশনে থেমে ছিল, যা পরবর্তীতে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়।
দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া ট্যাংকার থেকে ডিজেল ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তা সংগ্রহের জন্য ভিড় করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
এ ঘটনায় দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে মেহেদী হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে আরও একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ বিন কাসেম তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সারাদেশ
৬ কোটি টাকার হীরাসহ ভারতীয় নাগরিক আটক
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ হীরা (হীরক) ও বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রাসহ এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ টহল দল যশোর-ঝিকরগাছা মহাসড়কের নতুনহাট বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে তার কাছ থেকে আনুমানিক ১৫৫.৭৬ গ্রাম ওজনের হীরা উদ্ধার করা হয়।
আটককৃত ব্যক্তি ভারতের তামিলনাড়ুর বাসিন্দা সুজাউদ্দিন (৫২)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঢাকা থেকে ডায়মন্ড সংগ্রহ করে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে কলকাতায় পাচারের উদ্দেশ্যে তিনি যাত্রা করেছিলেন। গত এক মাসে তিনি থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একাধিকবার যাতায়াত করেছেন বলেও জানা গেছে।
উদ্ধারকৃত হীরা যশোরের একটি স্বর্ণ ও হীরা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। হীরা ছাড়াও তার কাছ থেকে বাংলাদেশি টাকা, ভারতীয় রুপি, মার্কিন ডলার, থাই বাথ, একটি মোবাইল ফোন ও একটি ডিজিটাল ঘড়ি উদ্ধার করা হয়।
সব মিলিয়ে জব্দকৃত মালামালের মোট সিজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ কোটি ৬২ লাখ ৬৫ হাজার ১৬১ টাকা।
আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তাকে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জব্দকৃত মালামাল যশোর ট্রেজারিতে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সারাদেশ
‘জঙ্গি এমপি’ বলার তদন্ত দাবি হানজালার, নোটিশ দিতে বললেন স্পিকার
মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালাকে ‘জঙ্গি এমপি’ সম্বোধন করায় জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানানো হলে স্পিকার তাকে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপণ পর্বে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আমার পোশাক, আমার পাগড়ি- এসবের কারণেই আমাকে জঙ্গি শুনতে হয়েছে।’
সংসদ ভবন এলাকার ভেতর একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে ‘জঙ্গি এমপি’ সম্বোধন বিষয়ে সিসি ক্যামেরা দেখে ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
পরে স্পিকার এ বিষয়ে এমপি হানজালাকে নোটিশ দেয়ার পরামর্শ দেন।
একই সময় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও অভিযোগ করেন, আমাকেসহ নারী এমপিদের বিরুদ্ধে কুৎসিত বক্তব্য দেয়া হয়েছে, তার প্রতিকার চাই।
সারাদেশ
সিলেটে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, ১১ ঘণ্টা বন্ধ রেল যোগাযোগ
হবিগঞ্জের মাধবপুরে চট্টগ্রাম থেকে আসা সিলেটগামী জ্বালানি তেলবাহী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে কয়েকটি বগি উল্টে গেছে। তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় ১১ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। দীর্ঘ সময় রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ১৬ বগির একটি ডিজেলবাহী ট্রেন মনতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে অন্তত ৫টি ওয়েল ট্যাংকার বগি লাইনচ্যুত হয়। এর মধ্যে একটি বগি পাশের একটি সেতু থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ট্যাংকারগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল বের হতে থাকে। এ সময় স্থানীয় কিছু মানুষ জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। পরে পুলিশ, বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলাম ডালিম জানান, রাতে বিকট শব্দে কয়েকটি তেলবাহী বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ট্রেনের গতি ও রেললাইনের ত্রুটিসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলোতে প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেল ছিল, যার মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জ্বালানি নষ্ট হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি বগি উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে সিলেট-ঢাকা রুটের উপবন এক্সপ্রেস, সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের উদয়ন এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার কাজ শেষ করে রেললাইন স্বাভাবিক করতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
সারাদেশ
চালু হচ্ছে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) জন্য অপেক্ষাধীন থাকতে থাকতে শিশুদের মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসার পর অবশেষে তিন বছর ধরে খালি পড়ে থাকা শিশু হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এ কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যসচিব বলেন, ‘আমরা তিন মাসের মধ্যে আংশিকভাবে রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালু করব। সেখানে প্রথমে আউটডোর সেবা শুরু হবে এবং আগামী অর্থবছরে অন্য সেবাগুলোও চালু হবে।’
প্রায় আট বছর আগে নগরের বন্ধগেট এলাকায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট রাজশাহী শিশু হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়। তিন বছর আগেই এর কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ হাসপাতালটি বুঝে না নেওয়ায় সেবা কার্যক্রম শুরু হয়নি। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে।
শিশু হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগে রোগীর চাপ প্রচণ্ড। রাজশাহী ছাড়াও রংপুর ও খুলনা বিভাগের শিশুরা এই হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। হাসপাতালের ২০০ শয্যার বিপরীতে প্রায় ৭০০ রোগী ভর্তি থাকে। ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় কর্তৃপক্ষ। রামেক হাসপাতালে শিশুদের জন্য মাত্র ১২টি আইসিইউ শয্যা আছে। এই শয্যার জন্য সব সময় দীর্ঘ লাইন থাকে। সিরিয়াল দিলে ৩০ থেকে ৫০ জনের পর ডাক পড়ে।
বর্তমানে শিশুদের মধ্যে অন্যান্য অসুখের পাশাপাশি ছোঁয়াচে রোগ হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এতে আইসিইউর চাহিদা আরও বেড়েছে। এমনি পরিস্থিতিতে এখন আবার শিশু হাসপাতাল চালুর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। কেননা, নবনির্মিত শিশু হাসপাতালেও ১২টি আইসিইউ বেড থাকার কথা।
আজ রামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। এ সময় তিনি আগামী তিন মাসের মধ্যে শিশু হাসপাতালটি আংশিক চালু করা হবে বলে জানান। এ ছাড়া সদর হাসপাতাল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালসহ যেসব হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি আছে, সেগুলো সচল করার উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান সচিব।
সারাদেশ
পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি, আমি সাংবাদিক নই : ভাইরাল তাইজুল
আমার বাবা-মা অসুস্থ, তারা শ্রবণপ্রতিবন্ধী। আমি ঢাকায় রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেল্পার) হিসেবে কাজ করি। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না। কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম (৩০)।
সম্প্রতি তাইজুল ইসলামের জিলাপির দাম নিয়ে তৈরি করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তাইজুল স্থানীয় একটি দোকানে গিয়ে জিলাপি বিক্রি নিয়ে সরল ভাষায় কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক এখানে দোকানপাট, অনেক জিলাপি ভাজতেছে। তার কাছে আমি প্রশ্ন করবো— জিলাপি কত করে বিক্রি করছেন? সাদাডা কত, লালডা কত?’
পরে তিনি দোকানিকে প্রশ্ন করেন, ‘জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? যদি জনগণকে বলতেন তাহলে অনেক খুশি হইতাম।’ তার এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ দর্শক তার সরলতা ও উপস্থাপনাকে বিনোদন হিসেবে দেখছেন এবং প্রশংসা করছেন। অন্যদিকে, কেউ কেউ তাকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্যও করছেন।
তাইজুল ইসলাম তাজু নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তার মায়ের নাম তাহেরা বেগম। ৬ ভাই বোনের মধ্যে সবার বড়। তাইজুল পেশায় রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেল্পার) হিসেবে ঢাকায় কাজ করেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজমিস্ত্রির কাজের ফাঁকে ফাঁকে মজার ছলে ভিডিও করেন তিনি।
তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘সাংবাদিকরা আমাদের এলাকার খবর করে না। এ জন্য আমি ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। আপনারা আমাকে নিয়ে ট্রোল করেন। এতে আমার কষ্ট নেই। আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।’
নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ওই ছেলের বাড়ি আমার পরিষদের সামনে। তবে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আজ শুনলাম সে নাকি ভিডিও করে ভাইরাল হয়েছে।’
এমএন



