অর্থনীতি
এনবিআরের ডিজিটাল অডিটে ৬০০ প্রতিষ্ঠান, ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তন
ভ্যাট অডিট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল চালু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। স্বয়ংক্রিয় এই পদ্ধতিতে প্রথম দফায় অডিটের আওতায় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ৬০০টি প্রতিষ্ঠান এসেছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ৪০৫টি, সেবাপ্রদানকারী ৯৮টি, খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতা ৬৫টি এবং আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ক্যাটাগরিতে ৩২টি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সদস্য পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা বলেন, এখন থেকে আর কোনো কর্মকর্তা চাইলেই নিজের ইচ্ছামতো কোনো প্রতিষ্ঠানকে অডিটের জন্য পছন্দ করতে পারবেন না। সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে প্রথম দফায় অডিটের জন্য দেশের ৬০০টি বড় প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করেছে এনবিআর। এর মাধ্যমে অডিটের নামে ব্যবসায়ী বা শিল্প প্রতিষ্ঠানের হয়রানি বন্ধে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হয়েছে।
অন্যদিকে এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এ বিষয়ে বলেন, করদাতা এবং সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অডিট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতেই এই ডিজিটাল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অডিটযোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে এখন থেকে কোনো ম্যানুয়াল বা মানুষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
যেভাবে কাজ করে ‘ডিজিটাল জাল’
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, সাধারণত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি), পস মেশিন বা সফটওয়্যার থেকে বিক্রির তথ্য সরাসরি এনবিআর সার্ভারে যায়। ভ্যাট রিটার্নের অনলাইনে জমা দেওয়ার তথ্য এবং আমদানির তথ্যও এ্যাসাইকুডা সিস্টেম থেকে যুক্ত হয়। অর্থাৎ সব তথ্য ডিজিটালভাবে এক জায়গায় জমা হয়; যেখানে বিক্রয়, ক্রয়, ইনপুট ভ্যাট ও আউটপুট ভ্যাটের সব তথ্য একসাথে মিলানো হয়। কোনো গরমিল থাকলে সিস্টেম তা ধরে ফেলে। এক্ষেত্রে সফটওয়্যার অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ করদাতা চিহ্নিত করা হয়। যেমন: হঠাৎ কম বিক্রি দেখানো, অস্বাভাবিক ইনপুট ভ্যাট ক্লেইম বা পূর্বের তুলনায় বড় পার্থক্য। যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের অডিটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
এনবিআর বলছে, ই-ভ্যাট সিস্টেমে একটি বিশেষ ‘অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল’ যুক্ত করা হয়েছে। এই সিস্টেমে ২০টি সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির সূচক সেট করে দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে কি না বা তাদের তথ্যে গরমিল আছে কি না, তা এই ২০টি সূচকের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হবে। সিস্টেমটি নিজেই অডিটের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করবে। এতে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ থাকবে না।
এনবিআর মনে করে, স্বচ্ছ এই ব্যবস্থার ফলে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় এক নতুন যুগের সূচনা হবে। অডিট কার্যক্রম শেষে যদি দেখা যায় কোনো প্রতিষ্ঠান তথ্য গোপন করেছে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই পদ্ধতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে ঝুঁকির সূচকগুলো আরও শক্তিশালী করা হবে। মূলত কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও দক্ষ করার অংশ হিসেবেই এই ‘ট্রেড ফেসিলিটেশন’ বা ব্যবসা সহজীকরণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।
এনবিআর আশা করছে, এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর ফলে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভ্যাট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হয়রানি কমবে, অন্যদিকে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করাও সহজ হবে।
ভ্যাট প্রশাসনকে আধুনিক, করদাতা বান্ধব এবং ডিজিটাল করার অংশ হিসেবে এই অটোমেশন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে এনবিআর।
অর্থনীতি
দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে স্বস্তির খবর, আসছে বড় চালান
দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে বিরাজমান অস্থিরতা ও মজুত সংকটের শঙ্কা কাটাতে বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিচ্ছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। চলতি মাসেই ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের বেশ কয়েকটি বড় চালান দেশে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সাময়িক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, নতুন উৎস থেকে তেল আমদানি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্যমতে, শুক্রবারেই (৩ এপ্রিল) ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া পুরো এপ্রিল মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল আসার শিডিউল চূড়ান্ত হয়েছে।
বর্তমানে দেশে ডিজেলের যে মজুত রয়েছে, তার সঙ্গে নতুন আমদানিকৃত তেল যুক্ত হলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এপ্রিলে ডিজেলের মোট চাহিদার বিপরীতে বিপিসি ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরের ইউনিপ্যাক এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি কোম্পানি থেকে বড় অংকের তেল আমদানির নিশ্চয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমেও ডিজেল আসার প্রক্রিয়া সচল রয়েছে।
শুধু ডিজেল নয়, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত নিয়েও এই মুহূর্তে কোনো দুশ্চিন্তা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। বেসরকারি শোধনাগার এবং আমদানিকৃত অকটেন দিয়ে বর্তমান চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘাটতি মেটাতে কিছু পরিমাণ অকটেন পেট্রোলে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সফল কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী ছয়টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেলবাহী জাহাজগুলোর বাংলাদেশে আসার পথ সুগম হয়েছে।
এছাড়া এমটি নরডিক পলুকস নামক জাহাজে আটকে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল ছাড়িয়ে আনতেও বিশেষ আলোচনা চলছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দর থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল কেনা হয়েছে, যা আগামী মাসের শুরুতে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে নিজস্ব মজুত দিয়ে উৎপাদন চালু রাখলেও নতুন আসা অপরিশোধিত তেল থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও ফার্নেস অয়েল পাওয়া যাবে। জ্বালানি তেলের উৎস বহুমুখীকরণ করতে সরকার এখন কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর না থেকে নাইজেরিয়া, কাজাখস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো থেকে তেল সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এমনকি রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ায় দেশটি থেকে বড় অংকের ডিজেল আমদানির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ এবং দ্রুত আমদানির ফলে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা দূর হচ্ছে এবং তিন মাসের অগ্রিম মজুত তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ।
জানা গেছে, চাহিদা অনুসারে আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেল আগে থেকেই কেনা আছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর সময়মতো জাহাজ আসতে না পারায় কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গত মাসে ৬টি ডিজেলের জাহাজ আসতে না পারায় দেড় লাখ টন ডিজেলের মজুত কমেছে। এর মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে আতঙ্কের কারণে বাড়তি জ্বালানি কেনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। গত বছরের মার্চের তুলনায় এবার মার্চে ডিজেল ও পেট্রোল সরবরাহ কিছুটা কমানো হলেও অকটেনের সরবরাহ হয়েছে আগের চেয়ে বেশি।
জ্বালানি বিভাগ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ অ্যান্ড এ এনার্জি অয়েল অ্যান্ড গ্যাস এলএলসি থেকে ২ লাখ টন ডিজেল, পেট্রোগ্যাস ইন্টারন্যাশনাল থেকে ১ লাখ টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি। এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকরপোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে এক লাখ টন ডিজেল ও ইন্দোনেশিয়ার পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন নামের কোম্পানি থেকে ৬০ হাজার টন ডিজেল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ‘আবীর ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটসের’ কাছ থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। এগুলো সবই নতুন উৎস। জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তাদের কাছ থেকে তেল কেনা হচ্ছে। তবে তারা এখনো তেল সরবরাহের সময়সূচি নিশ্চিত করেনি। দ্রুত সরবরাহে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।
বিপিসি বলছে, এপ্রিলে পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে দুশ্চিন্তা নেই। এ মাসে অকটেনের চাহিদা ৩৭ হাজার টন। এর মধ্যে দেশের বেসরকারি শোধনাগার থেকে ৩০ হাজার টন অকটেন আসার কথা। এ ছাড়া ৫০ হাজার টন আমদানি হচ্ছে এ মাসেই। ৬ এপ্রিল ২৫ হাজার টন নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ আসার কথা।
এপ্রিলে পেট্রোলের চাহিদা ৪৪ হাজার টন। এর মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে ৩৫ হাজার টন আসার কথা রয়েছে। বাকি ঘাটতি মেটাতে কিছু অকটেন পেট্রোলে রূপান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাঝেও মার্চ মাসে এলপিজি, এলএনজি, ক্রুড অয়েল, ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানির জন্য অন্তত ৩৯টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে। অধিকাংশ জ্বালানি বিকল্প দেশ থেকে কেনা হয়েছে।
অর্থনীতি
সব ব্যাংকে বাংলা কিউআর অ্যাপ চালুর নির্দেশ দিলেন গভর্নর
রাজস্ব বৃদ্ধি ও ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণে দেশের সব ব্যাংককে বাংলা কিউআর (QR) অ্যাপস ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তিনি জানান, চলতি বছরের জুনের মধ্যেই সব ব্যাংককে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিজনেস এডিটরদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব বড় বাধা হিসেবে কাজ করেছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
গভর্নর আরও জানান, খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলোকে প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ বিতরণে সতর্ক থাকার তাগিদ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় উদ্যোক্তা, রেস্টুরেন্ট, মুদির দোকান বা যেকোনো ধরনের খুচরা বিক্রেতা এবং নিম্ন, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত, সব রকমের ক্রেতাদের জন্য স্পর্শবিহীন এই আধুনিক পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়। এর মাধ্যমে ক্রেতারা ক্যাশ অথবা কার্ড স্পর্শ না করে সহজ এবং সুবিধাজনকভাবে ডিজিটাল পেমেন্ট করতে পারবেন। যেসব ব্যাংক তাদের মোবাইল অ্যাপে বাংলা কিউআর সংযোজন করেছে এবং ভিসা দ্বারা স্বীকৃত হয়েছে, সেসব ব্যাংকের ভিসা কার্ড দিয়ে এখন থেকে ক্রেতারা বাংলা কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত দেশের জাতীয় কিউআর হচ্ছে বাংলা কিউআর। এর মাধ্যমে স্মার্টফোন দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে ব্যাংকের অ্যাপের মাধ্যমে ক্রেতারা ডিজিটালি পেমেন্ট করতে পারবেন। এই লেনদেনে টাকা স্পর্শ করার কোন প্রয়োজন নেই, তাই এটিকে বলা হচ্ছে স্পর্শবিহীন প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে লেনদেন হবে দ্রুত এবং সুরক্ষিত। বাংলা কিউআর-এর এই সুবিধা নিতে উদ্যোক্তা, দোকানদার বা খুচরা বিক্রেতাদের কোনো ধরণের মেশিন বা যন্ত্রের প্রয়োজন নেই।
এছাড়া বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে দোকানদার বা ক্যাশিয়ারের মোবাইলে পেমেন্ট কনফার্মেশনের এসএমএস চলে আসবে এবং একটি মার্চেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে দোকানের মালিক তার দিনের সব লেনদেন দেখতে পারবেন। এই অ্যাপে উদ্যোক্তা, দোকানদার বা খুচরা বিক্রেতাদের জন্য থাকবে আরও অনেক ধরনের সেবা গ্রহণের সুবিধা যেমন— ডিজিটাল হালখাতা, ডিজিটাল সেবা বিক্রয় এবং সরবরাহকারী, পাইকারি বা পরিবেশকের পেমেন্ট ইত্যাদি।
এমএন
অর্থনীতি
বিনিয়োগ বাড়ানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য : অর্থমন্ত্রী
আমরা ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চাই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ।
বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা টাকা ছাপাতে চাই না। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। দেশি ও বিদেশি এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জিডিপির আকারের সঙ্গে কর-জিডিপি রেশিও—সবই সম্পর্কিত। অর্থনীতিকে যদি আমরা চাঙ্গা করতে না পারি, দিনের শেষে ট্যাক্স-জিডিপি বাড়ানো কঠিন। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি। আমরা টাকা ছাপাতে চাই না। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে—দেশি ও বিদেশি—এবং এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।’
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সেটা মাথায় রেখেই বাজেট করা হবে। যাতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের ওপর আস্থা রাখতে পারে। আমাদের বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা নীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে পারি না। নীতি পরিবর্তন হলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যায়।’
অর্থনীতি
দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, কত দামে বিক্রি হচ্ছে আজ
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দর কার্যকর হয়েছে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা।
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মূল্যবান ধাতু দুটির দাম পুনরায় নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
নতুন দাম অনুযায়ী, এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৩ হাজার ১৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ২ হাজার ৬৮২ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা।
সবশেষ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। তার আগে ২৮ মার্চ দু’দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। অর্থাৎ টানা চার দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়লো ১৩ হাজার ১২২ টাকা।
অর্থনীতি
মার্চের একদিন বাকি থাকতেই রেমিট্যান্স ছাড়ালো সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার
দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ছে। চলতি মার্চের প্রথম ৩০ দিনে দেশে প্রবাসীরা ৩৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৩ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের মার্চে একক মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য আমাদের প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস। যুদ্ধের কারণে এসব দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আতঙ্কে রয়েছেন। ফলে কেউ কেউ জমানো অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকতে পারেন। আবার প্রবাসীরা রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের খরচ মেটাতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। এসব কারণেই প্রবাসী আয় বাড়ছে। রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ৩০ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৩৬২ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২৭ কোটি ২০ লাখ ডলার।
এছাড়া চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৬০৭ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৭৬ কোটি ডলার।



