কর্পোরেট সংবাদ
অর্থনীতির সবুজ রূপান্তর এগিয়ে নিচ্ছে বিকাশ
জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ঠ বা এসডিজি-তে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গ্রিনহাউজ গ্যাস বিশেষত কার্বন ডাই অক্সাইডের নিঃসরণ কমানো। ‘নেট জিরো’ বা ‘শুন্য কার্বন’ একটি বৈশ্বিক এজেন্ডা, যা বাংলাদেশও বাস্তবায়ন করতে চায়। কারণ বেশি মাত্রায় কার্বন নির্গমন হলে তা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়িয়ে নানা ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মাঝে অন্যতম।
এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক চর্চা অনেক আগেই শুরু হয়েছে, আর এই সবুজ রূপান্তরের অন্যতম অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশে বিকাশ–এর মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠান ক্যাশবিহীন ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা নিত্যনতুন উদ্ভাবনী পণ্য ও সেবা আনছে, যা পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক রূপান্তরে সহায়তা করছে।
প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই শীর্ষ এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ দেশের ব্যাংক লেনেদেন সম্পৃক্ত না থাকা এবং পর্যাপ্ত ব্যাংকিং সুবিধা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে মনোনিবেশ করেছে, যাতে তারা প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবা খুব সহজে পেতে পারেন। এমনকি খুব সাধারণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই আর্থিক সেবা নেওয়ার সুবিধা এনে বিকাশ কার্যকরভাবে ক্যাশ টাকা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে এনেছে, যা দৈনন্দিন লেনদেনে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক হয়েছে।
গত কয়েক বছরে বিকাশ–এর মতো প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের মধ্যে ‘ক্যাশলেস’ জীবনের দিকে একটি আচরণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। তারা নিরাপদ, সুবিধাজনক এবং ব্যবহারবান্ধব পণ্য ও সেবা এনেছে। ঘরে বসে সহজেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আর্থিক সেবা নেওয়ার সুযোগের কারণে মানুষের যাতায়াত অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে। কেননা মানুষের ‘মোবিলিটি’ চলাচল জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ায়। এমএফএস-এ লেনদেন কাগজের ব্যবহার কমাতেও সহায়ক হয়েছে। সার্বিকভাবে তাদের সেবার পদ্ধতি কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে এনেছে।
ডিজিটাল লেনদেনে এমএফএস খাতের অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান থেকে এর পরিবেশবান্ধব প্রভাবের একটি ধারণা পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫-এর আগষ্ট মাসে ‘ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি’ পর্যায়ে এমএফএসের মাধ্যমে ১০ কোটিরও বেশি লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। একই মাসে প্রায় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ব্যবসায়িক লেনদেন (মার্চেন্ট পেমেন্ট) হয়েছে, যার সঙ্গে জড়িত টাকার পরিমাণ ৬ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। একই মাসে এমএফএস-এর মাধ্যমে ৬০ লাখ মানুষের বেতন দেওয়া হয়েছে, যেখানে পরিশোধ করা হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। ওই মাসে ২ কোটি ৪০ লাখ সংখ্যক বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির মতো ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা হয় এমএফএসের মাধ্যমে, যাতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের জন্য এমএফএস মাধ্যমে ১২ লাখের বেশি লেনদেন হয়েছে একই সময়ে। আর এখানে টাকার পরিমাণ ১১০০ কোটি টাকা। এসব লেনদেনের উল্লেখযোগ্য অংশ হয়েছে বিকাশ–এর মাধ্যমে।
বিশ্বব্যাপী ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখছে। ইউরোপিয়ান ডিজিটাল পেমেন্ট ইন্ডাষ্ট্রি অ্যালায়েন্সের পক্ষে ‘অক্সফোর্ড ইকোনমিক্স’ পরিবেশের ওপর ডিজিটাল পেমেন্টের প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে গত জুন মাসে। এতে দেখা যায়, ইউরোপে ২০১৬ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ক্যাশবিহীন পেমেন্টের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে এবং এই অগ্রগতি বিভিন্ন দেশে কার্বন নিঃসরণ কমাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যে দেশ যত বেশি ডিজিটাল অবকাঠামোতে এগিয়ে যাবে, সেই দেশ পরিবেশের জন্য তত বেশি উপকার বয়ে আনতে পারবে।
যেভাবে ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে ভূমিকা রাখছে বিকাশ
‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ বলতে কোনো ব্যক্তি, ব্যবসা অথবা পণ্যের মাধ্যমে যে পরিমাণ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ হয়, তার পরিমাণকে বুঝায়। বিকাশ–এর মতো শীর্ষস্থানীয় ফিনটেক প্রতিষ্ঠান তিন ক্ষেত্রেই ডিজিটাল সমাধান দিচ্ছে। ফলে এর ব্যবসার ধরণই ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে ভূমিকা রাখছে। গ্রাহকরাও সবুজ প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। দিন যত যাচ্ছে, ততই সবুজ এবং টেকসই পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ বাড়াচ্ছে বিকাশ।
সবুজ রূপান্তর বলতে এমন নীতি ও কৌশল প্রয়োগকে বোঝানো হয়, যা পরিবেশ, সমাজ এবং অর্থনীতিকে টেকসই অগ্রগতির দিকে নিয়ে যায়। এর ফলে জ্বালানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ে, কার্বন নির্গমন কমে, সম্পদের সংরক্ষণ হয় এবং একই সাথে সার্বিকভাবে পরিবেশের অবক্ষয় কমে ও সমাজে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। বিকাশ বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ইউটিলিটি সেবা প্রদানকারী সংস্থা, টেলিকম অপারেটরসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিজিটাল লেনদেনের ইকোসিস্টেম তৈরি করছে। এই ইকোসিস্টেম দেশের আর্থিক খাতের সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিত করছে। কারণ বিকাশ–এর বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য ভ্রমণ এবং কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়না।
বিকাশ নিজস্ব পণ্য ও সেবা ছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সেবাদাতার আর্থিক পণ্য ও সেবা এক প্ল্যাটফর্মে সমন্বিত করে গ্রাহকদের ডিজিটাল জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত করেছে। বৈশ্বিক ‘নেট জিরো’ এজেন্ডার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিকাশের পুরো কার্যক্রমে ‘কার্বন ফুটপ্রিন্ট’ কমাতে সহায়ক। বিকাশ অ্যাপে ডিজিটাল ঋণ, পে লেটার এবং সাপ্তাহিক ও মাসিক ডিপিএস–এর মতো আর্থিক পণ্য চালু করেছে, যে সেবা নিতে কোনো কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। ক্যাশ টাকা পরিবহণের কোনো ঝামেলা নেই। এ ধরণের লেনদেন দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং স্বচ্ছ, যা গ্রাহকদের পরিবেশ সংরক্ষণে অংশ নিতে সক্ষম করে। প্রতি লেনদেনের জন্য গ্রাহকরা কাগজের রসিদের পরিবর্তে ডিজিটাল রসিদ পেয়ে যাচ্ছেন।
ডিজিটাল পেমেন্ট ধারণাকে টেকসই করার জন্য বিকাশ দেশজুড়ে প্রায় ১০ লাখ ব্যবসায়িক স্থানে কিউআর কোড স্ক্যান ও এনএফসি ট্যাপ-এর মাধ্যমে কাগজবিহীন এবং যোগাযোগহীন (কন্ট্যাক্টলেস) পেমেন্ট গ্রহণের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা ডিজিটাল পেমেন্ট খাতের সবুজ রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করছে। একই সাথে বিকাশ-এর আছে দেশজুড়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার এজেন্টের বিশাল নেটওয়ার্ক। ক্যাশ টাকার দরকার হলে বা বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা নিতে হলে খুব সহজেই হাঁটা দুরত্বে অবস্থিত এজেন্ট পয়েন্ট থেকে গ্রাহকরা ‘ক্যাশ ইন’ বা ‘ক্যাশ আউট’ করতে পারছেন।
একই সাথে, বাংলাদেশে ইস্যু করা ভিসা, অ্যামেক্স বা মাস্টারকার্ড থেকে বিকাশ-এর ৮ কোটি ২০ লাখ গ্রাহক কোনো চার্জ ছাড়াই তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে যেকোনো সময় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে টাকা আনতে পারছেন ‘অ্যাড মানি’ সেবার মাধ্যমে। কার্ড থেকে বিকাশে তাৎক্ষণিক টাকা এনে সেন্ড মানি, মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল, কেনাকাটার পেমেন্ট, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফি দেওয়া, বাস-ট্রেন-বিমান-এর টিকেট কাটা, বিভিন্ন ধরণের সরকারি ফি পরিশোধ, সঞ্চয়, বীমাসহ বহু সেবা খুব সহজেই নেয়া যাচ্ছে।
সবশেষে বলা যায়, বিকাশ–এর মতো ফিনটেক প্রতিষ্ঠান দৈনন্দিন কার্যক্রমে সবুজ ও টেকসই পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বৈশ্বিক লক্ষ্যে সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উদ্ভাবনী আর্থিক সমাধান প্রদান, টেকসই ব্যবহার উৎসাহিত করা, এবং উন্নত দক্ষতার মাধ্যমে এধরণের প্রতিষ্ঠান একটি টেকসই এবং পরিবেশ-বান্ধব ভবিষ্যত নির্মাণে আরও অবদান রাখতে পারে।
কর্পোরেট সংবাদ
ইসলামী ব্যাংকের ত্রৈমাসিক ব্যবসায় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৯টি জোন ও ৪টি কর্পোরেট শাখার ত্রৈমাসিক ব্যবসায় পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ের ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।
ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (চলতি দায়িত্ব) মোঃ আলতাফ হুসাইন সভায় সভাপতিত্ব করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার ও ড. এম কামাল উদ্দীন জসীম।
এছাড়া ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টরবৃন্দ, প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা, ৯টি জোনের জোনপ্রধান এবং ৪টি কর্পোরেট শাখার প্রধানরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় ব্যাংকের ব্যবসায়িক অগ্রগতি, লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কার্যপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কর্পোরেট সংবাদ
সরকারি ভাতা বিতরণে শীর্ষে নগদ, দেড় কোটি সুবিধাভোগীর পছন্দ
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন ধরনের ভাতা বিতরণে আগের মতোই সমান জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে মোবাইল আর্থিক সেবা নগদ। গত কয়েক বছরের নিরবছিন্ন সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতায় উন্মুক্ত ভাতা বিতরণ কার্যক্রমেও উপকারভোগীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে নগদ।
চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে মোট এক কোটি ৪৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭৯ জন সুবিধাভোগী স্বাচ্ছন্দ্যে সরকারি ভাতা ও উপবৃত্তি পাওয়ার জন্য নগদকে তাদের পছন্দ প্রথম তালিকায় রেখেছেন। আগের মতোই তারা নগদের মাধ্যমেই সরকারি এই সুবিধা পেতে চেয়েছেন। এই প্রান্তিকে সুবিধাভোগীরা বেশ কয়েকটি ভাগে নগদের মাধ্যমে মোট তিন হাজার ৪৯ কোটি ২২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০৯ টাকার সরকারি সহায়তা পেয়েছেন।
এরমধ্যে (জানুয়ারি-মার্চ) নগদের মাধ্যমে বিতরণ হওয়া সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা এবং টাকার পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি। এই প্রান্তিকে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার মোট উপকারভোগী ছিল এক কোটি ৩১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৪৮ জন। তারা নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মোট দুই হাজার ৮৭৮ কোটি ৩৪ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ টাকা পেয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় টাকার এই অঙ্ক ৩০০ কোটি বেশি।
এ ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তির মোট চার লাখ ১২ হাজার ৬৯৭ জন উপকারভোগীর কাছে এই তিন মাসে মোট ৩২ কোটি ৬৭ লাখ ৮৫ হাজার ১৯২ টাকা সফলভাবে পৌঁছে দিয়েছে নগদ। একই সময়ে সেলাই ও এমব্রয়ডারি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পাঁচ হাজার ৭৮৫ জন শিক্ষার্থীর কাছে দুই কোটি ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ২৭২ টাকা বিতরণ করেছে নগদ। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশ খানিকটা বেশি।
কারিগরি শিক্ষা উপবৃত্তির এক লাখ ২২ হাজার ৯৩৭ জন শিক্ষার্থীর কাছে নগদের মাধ্যমে পৌঁছে যায় ৪৫ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮০ টাকা। যা গতবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ কোটি টাকা বেশি। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি মোট ৩৮ হাজার ৫৫ জন উপকারভোগীর কাছে ৩ কোটি ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ৬২১ টাকা বিতরণ করেছে ডাক বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই প্রতিষ্ঠানটি। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১০ লাখ ১১ হাজার ৫৫৭ জনের কাছে ৮৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯৫ হাজার ২১৭ টাকা পৌঁছে দিয়েছে নগদ।
এসব অঙ্কের বাইরেও একই সময়ে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় পরীক্ষামূলকভাবে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির অর্থ বিতরণও নগদের মাধ্যমে করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নগদের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মো. সামসুল ইসলাম বলেন, “ভাতা, উপবৃত্তি ও সরকারি অনুদান বিতরণে নগদ সব সময়েই গ্রাহকের পছন্দের ওপরের দিকে থাকে। নগদের ওপর আস্থা রাখায় আমরা গ্রাহক এবং সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আমরা মনে করি, গুণগত গ্রাহক সেবার কারণেই নগদের ওপর সবাই আস্থা রাখছেন। ফলে প্রতি প্রান্তিকেই নগদের মাধ্যমে ভাতাভোগীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে টাকার অঙ্কও।”
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সরকার ৯ হাজার কোটি টাকার সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা নগদের মাধ্যমে বিতরণ করে। চলতি অর্থবছরে এই অঙ্ক আরো অনেক বড় হবে। সহজে যেকোনো জায়গায় নগদের ক্যাশ আউট করার সুবিধা ও সর্বনিম্ন ক্যাশ আউট চার্জের জন্য শুরু থেকেই ভাতাভোগীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে নগদ।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষ ১০ পুরস্কার পেল রূপালী ব্যাংক
রূপালী ব্যাংক পিএলসি ২০২৫ সালে রেমিট্যান্স সংগ্রহে দেশের সেরা ১০ ব্যাংকের স্বীকৃতি পেয়ে “শীর্ষ ১০ পুরস্কার” লাভ করেছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর এনআরবি’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক
সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপার্সন এম. এস. সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিভিন্ন খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রূপালী ব্যাংকের পক্ষে এই সম্মাননা গ্রহণ করেন ব্যাংকের রেমিট্যান্স বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক এ. কে. এম. জাকির হোসেন।
রেমিট্যান্স আহরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে এই অর্জন রূপালী ব্যাংকের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
কর্পোরেট সংবাদ
বিমানের নতুন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এভিয়েশন শিল্পে অভিজ্ঞ সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদ। এই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আজ ০৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বিমানে কাজে যোগদান করেছেন।
সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদের এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে ২২ বছরের এবং একাউন্টস, ম্যানেজমেন্ট ও কাস্টমার সাপোর্ট-এ ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অতীতে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফেব্রুয়ারী ২০০৪ থেকে জুলাই ২০০৭ পর্যন্ত তিনি বিমানের লন্ডন স্টেশনে কান্ট্রি ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিমানে ম্যানেজার (কার্গো সেলস) এবং অর্গানাইজেশন অ্যান্ড মেথড (O&M) অফিসার ও সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিমানের কর্মরত অবস্থায় তিনি বিমানের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিকল্পনা, বিক্রয় বৃদ্ধি, স্টেশন কার্যক্রম সমন্বয়, কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতার পরিচয় দেন। পরবর্তী পেশাগত জীবনে যুক্তরাজ্যে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেসরকারি ট্রাভেল ও এভিয়েশন খাতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সাইকোলজি ও এডভান্স স্ট্যাটেস্টিক্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিপ্লোমা ও বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মইন উদ্দিন আহমেদ-কে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো যাচ্ছে। তাঁর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে বলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রত্যাশা করে।
কর্পোরেট সংবাদ
প্রাইম ব্যাংকের এএমডি হলেন জিয়াউর রহমান
প্রাইম ব্যাংক পিএলসি-এর এডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্যাংকের বোর্ড সভায় তাকে এ পদোন্নতি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ব্যাংকটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ব্যাংকিং খাতে ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মো. জিয়াউর রহমান বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বৈচিত্রময় কর্ম জীবনে তিনি ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, হেড অব ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, হেড অব সিন্ডিকেট অ্যান্ড স্ট্রাকচারড ফাইন্যান্সিং ও হেড অব করপোরেট বিজনেস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ব্যাংকের কমপ্লায়েন্স বিষয়ে তিনি অত্যন্ত অভিজ্ঞ। প্রাইম ব্যাংকে ডিএমডি হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি ঢাকা ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক ও ইস্টার্ন ব্যাংকের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় পদে কর্মরত ছিলেন।
পদোন্নতির আগে তিনি ২০২১ সাল থেকে ব্যাংকটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বর্তমানে তিনি প্রাইম ব্যাংকের চিফ অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কমপ্লায়েন্স অফিসার এবং চিফ রিস্ক অফিসার (সিআরও) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।



