ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
শিক্ষার উন্নয়নে ‘পোল ভল্ট জাম্প’ দিতে হবে
শিক্ষাকে জাতি গঠনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে নতুন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষার উন্নয়নে হাইজাম্প নয়—পোল ভল্ট জাম্প দিতে হবে।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথমদিনে গতকাল বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে হাইজাম্প নয়; আরও বড় জাম্প দিতে হবে। পোল ভল্ট জাম্প দিয়ে শিক্ষায় পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের যুগোপযোগী শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এর আগে আমি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে অনেক ভালোবাসেন। তিনি শিক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেবেন।
শিক্ষা খাতে দুর্নীতি ও নিয়োগ সিন্ডিকেট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ২০০১-২০০৬ মেয়াদে যেমন স্বচ্ছতা ছিল, এবারও কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আমরা দুর্নীতি বন্ধ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দুর্নীতি অনিয়ম বন্ধে আমরা জনগণ ও মিডিয়ার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে প্রস্তুত।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে: শিক্ষামন্ত্রী
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিভাবে চলবে সেই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে। অনলাইনেও ক্লাস নেওয়া হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত হবে সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে। এর আগে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব দেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সম্ভবত অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পর মন্ত্রিসভার বৈঠকে যাবে। মন্ত্রিসভার বৈঠক হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংবাদ সম্মেলন করবে। এর মাঝে তাদের বলার কিছু থাকবে না।
সাধারণত প্রতি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠক হয়। সেই হিসাবে পরবর্তী মন্ত্রিসভা বৈঠক আগামী ৯ এপ্রিল।
গত বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) মন্ত্রিসভা বৈঠকে জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। যা আজ রোববার থেকে কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধেরও সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের গাড়ি কিনতে ঋণ প্রদান বন্ধ, জ্বালানি বরাদ্দের ৩০ শতাংশ কমানোসহ আরো কিছু সিদ্ধান্ত হয়।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী রোববার থেকে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান–সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেওয়া শুরু করবে। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।
পরের দিন শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয়। সেখানে বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
এর আগে গত ৩১ মার্চ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সব মহানগরীর স্কুলের ক্লাস অনলাইন ও অফলাইনে দুই মাধ্যমেই নেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, তারা আলোচনা করছেন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোকে উৎসাহিত করার। যেহেতু বিশ্বব্যাপী সংকট (জ্বালানি সংকট), তার মানে বাংলাদেশও। তারা কেউ জানেন না, কতদিন এই সংকট চলবে। সে কারণে তারা দেশের স্কুলব্যবস্থাকে অনলাইন ও সশরীর—এই মিশ্র পদ্ধতিতে আনার কথা ভাবছেন।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইবি কর্মকর্তা সমিতি নির্বাচনে বিজয়ী বাবুল-তোজাম পরিষদ
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্মকর্তা সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে সম্মিলিত কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ তথা মঈদ বাবুল ও তোজাম পরিষদ। এতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আব্দুল মঈদ বাবুল ২৮৫টি ভোট পেয়ে সভাপতি পদে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার অফিসের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান তোজাম্মেল হক তোজাম ৩২৬টি ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ ভবন প্রাঙ্গণে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য ইছরাফুল হক।
এ মঈদ বাবুল-তোজাম পরিষদের অন্যান্য নির্বাচিত সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি পদে মেডিক্যাল সেন্টারে উপ-রেজিস্ট্রার ইয়ারুল ইসলাম (২৯৭) ও এস্টেট অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার ড. ওয়াহীদুজ্জামান (২২০)। যুগ্ম-সম্পাদক পদে ট্রেজারার অফিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ (২৫১), কোষাধ্যক্ষ পদে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের উপ-রেজিস্ট্রার জাহিদুল ইসলাম (২৪৮), প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক পদে পরিবহন অফিসের উপ-রেজিস্ট্রার আরিফ হোসেন তুহিন (২৩১), সাংস্কৃতিক সাহিত্য-পত্রিকা ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের জুনিয়র লাইব্রেরিয়ান আব্দুর রাজ্জাক (২৭৭) এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক পদে অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপ-পরিচালক সুলতানা পারভীন (২৭৭)। এছাড়া সদস্য পদে থাকছেন শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৩৩), আবু জাফর আদম (২০৮), জাহাঙ্গীর আলম (২৬৩), সাইদুর রহমান (২৫০), ও আমিরুল ইসলাম (২৬৫)। তবে, লতিফ-রিপু পরিষদের পরিবহন অফিসের শাখা কর্মকর্তা জাকির হোসেন ২২৫টি ভোট পেয়ে সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
ইবি কর্মকর্তা সমিতির নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজাম বলেন, আজকে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন-সহ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পিছনে দায়িত্বশীল সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আজকে ৪৮৩ জন কর্মকর্তাবৃন্দ যে দায়িত্বভার আমাদের কাঁধে তুলে দিয়েছেন তা অবশ্যই অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। এই আমানত আমরা খেয়ানত করব না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসনের কাছ থেকে আমাদের অনেক দাবি আছে। সেই ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের পাশে এই কর্মকর্তা সমিতি অবশ্যই থাকবে।
ইবি কর্মকর্তা সমিতির নব-নির্বাচিত সভাপতি মঈদ বাবুল বলেন, অনেকদিন কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচন হয় নাই। কর্মকর্তারা তাদের অধিকার ও ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত ছিল। নব-নির্বাচিত কর্মকর্তা সমিতির সদস্যবৃন্দ তাদের অধিকার বাস্তবায়ন করবে। যারা আমাদেরকে এই দায়িত্ব দিয়েছে তাদের সকলের অর্থাৎ ৪৮৩ জন কর্মকর্তারা যে কোন সমস্যায় পড়লে কর্মকর্তা সমিতির বর্তমান নেতৃবৃন্দ অবশ্যই তাদের পাশে ঢাল হিসেবে দাঁড়াবে।
তিনি আরও বলেন, এই পরিষদ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা দেবে, কর্মকর্তাদের মধ্যে কোন দলীয়করণ করবে না। দুর্নীতি দমনে সচেষ্ট থাকবে। এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির পিছনে যারা থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কর্মকর্তা সমিতি রুখে দাঁড়াবে।
উল্লেখ্য, এবার দুই প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। একটি সাধারণ সম্মিলিত কর্মকর্তা পরিষদের প্যানেল যা সম্মিলিত কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ নামে পরিচিত। অন্যটি জাতীয়তাবাদী বিএনপি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পরিষদের প্যানেল যা রিপু-লতিফ প্যানেল নামে ঘোষিত।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ভুয়া প্রবেশপত্র নিয়ে ইবি কেন্দ্রে শিক্ষার্থী, মুচলেকা দিয়ে মুক্তি
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছভুক্ত (জিএসটি) ভর্তি পরীক্ষার ‘বি’ ইউনিটে ভুয়া প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। পরে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মুচলেকা নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বিস্তারিত যাচাই শেষে প্রবেশপত্রটি টেম্পারিং (জাল) বলে নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, সকাল ১১টা থেকে পরীক্ষা শুরু হলেও ২ মিনিট দেরিতে ইবনে সিনা বিজ্ঞান ভবনে সানজানা ইসলাম নামের এক ভর্তিচ্ছু প্রবেশের চেষ্টা করেন। তার প্রবেশপত্রে উল্লিখিত কেন্দ্র, কক্ষ নম্বর ও ছবিতে অসামঞ্জস্য দেখা গেলে দায়িত্বরত শিক্ষক, বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটস সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে তাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আটক পরীক্ষার্থী সানজানা ইসলাম জানান, “আমি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার জন্য নিজে অনলাইনে আবেদন করিনি। স্থানীয় একটি কম্পিউটার দোকানের মাধ্যমে আবেদন করেছিলাম।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মেয়েটির এডমিট কার্ড-সহ অন্যান্য কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রট এগুলো যাচাই-বাছাই করে ঘটনার সত্য উদঘাটন করবে তারপর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আর মেয়েটি’র মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহিদ হাসান জানান, এসএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র যাচাই করে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে অন্য কোনো পরীক্ষার্থীর হয়ে প্রক্সি দিতে আসার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার ছবি ও পরিচয় মিল থাকায় এবং প্রাথমিকভাবে প্রতারণার শিকার মনে হওয়ায়, বাংলাদেশ পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮২ অনুযায়ী তাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার শর্তে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এমএন/এমএসএ
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
অসুস্থ হয়েও থামেননি, ২৫ মিনিট পর পরীক্ষায় ফিরলেন অদম্য নুরুল্লা
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছভুক্ত (GST) স্নাতক প্রথম বর্ষের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নূরুল্লা নামের ভর্তিচ্ছু পরিক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্র হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই অসুস্থতা তার স্বপ্নকে দমিয়ে দিতে পারিনি। অবশেষে ২৫ মিনিট পর পরীক্ষা দিতে সক্ষম হন অদম্য নুরুল্লা।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কেন্দ্রে ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে উপস্থিত হন তিনি।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন ভবনে পরীক্ষা শুরু হওয়ার পূর্বে পরীক্ষা কেন্দ্রে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন নূরুল্লা। অজ্ঞান অবস্থায় বিএনসিসি টিমের সহায়তায় মেডিকেল সেন্টারে আনা হয় নূরুল্লাকে। পরবর্তীতে, মেডিকেল টিমের চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
মেডিকেল টিমের চিকিৎসকরা জানান, তাকে অসুস্থ অবস্থায় মেডিকেলে আনা হয়। অতিরিক্ত টেনশনের কারণে এমন হতে পারে। পূর্বেও তার সাথে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি সুস্থতাবোধ করলে সে পরীক্ষা দিতে পারবে।
মেডিকেল সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর সে কিছুটা সুস্থতা অনুভব করে। পরবর্তীতে পরীক্ষাকেন্দ্র পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে তাকে আবার মেডিকেলে আনা হয়। সার্বিক দিক বিবেচনা করে নিউরোলজিস্টের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বলা হয় নুরুল্লাকে।
পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বরতরা জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে হঠাৎ ছেলেটা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত টেনশনের ফলে এমনটা ঘটেছে বলে জানতে পারি। পরবর্তীতে কিছুটা সুস্থ হলে ২৫ মিনিট পর কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কতৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ‘বি’ ইউনিট পরীক্ষায় কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহসহ পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও রাজবাড়ী জেলা থেকে ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হকসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
এমএন/এমএসএ
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ইবি শিক্ষিকা হত্যার বিচার দাবিতে এসপির কার্যালয় ঘেরাও
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ ও পুলিশ সুপার কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেইটে এ কর্মসূচি পালন করে তারা। পরে কুষ্টিয়া মহাসড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করার পর পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় নিহত রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার সন্তানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তরা বলেন, আসামি বিশ্বজিৎ ও শ্যাম সুন্দর হাইকোর্টে ঘোরাঘুরি করছেন কিন্তু প্রশাসন তাদের আজ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারতেছে না। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপকের যদি ন্যূনতম কোনো নিরাপত্তা না থাকে, তার চারটা অবুঝ বাচ্চা, এই বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকায়ে আপনাদের তো মোটামুটি প্রশাসনের উচিত ছিল এত দিনে তাদের গ্রেপ্তার করা। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের যদি নিরাপত্তা না থাকে সেখানে একজন সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?
নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, ‘আমার স্ত্রী মৃত্যুর পূর্বে যে ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলেন, আর মৃত্যুর পরে সেই ষড়যন্ত্রটা এখনো বাস্তবায়ন চলছে। প্রশাসন দেখবে যে এই ফজলুকে দিয়ে একক সিদ্ধান্তের একটা নীলনকশা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে। তারা বিশ্বজিৎ, শ্যাম সরকারসহ যাদের বিরুদ্ধে আমার লিখিত অভিযোগ আছে যে, তারা বিভাগের অর্থ তছরুপ করেছে। সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’
পরে পরিবার ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়ে প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শওকত মো. হাসান ইমামের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা।
বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে সোহান জানান, রুনা হত্যার এক মাস পেরোলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমরা কথা বলি। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, মূল আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে বাকি আসামিদের সংশ্লিষ্টতার ভিত্তিতে রিমান্ডে নিয়ে মূল ঘটনার উন্মোচন করবেন।
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যত কোনো সহযোগিতা আমরা পাইনি। প্রশাসন যদি আগামীতেও এমন করে আমরা ভিসি কার্যালয় ঘেরাও করব।’
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় পরদিন ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নিহতের পরিবার। পরদিন আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করে ইবি থানা পুলিশ। বর্তমানে ফজলু কারাগারে আছে।
অন্য আসামিরা হলেন, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।



